যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের আসন্ন সিনেট নির্বাচনকে ঘিরে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের পুরোনো বক্তব্য নিয়ে তীব্র আক্রমণ করেছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। তিনি দাবি করেছেন, ডেমোক্রেটিক পার্টি এখন আর শ্রমজীবী মানুষের দল নেই; বরং তা উচ্চশিক্ষিত তরুণদের দল হয়ে উঠেছে।
ওহাইওর নিজের শহরে একটি ইস্পাত কারখানায় শুক্রবার দেওয়া বক্তব্যে ভ্যান্স এল-সায়েদের শরিয়া আইন নিয়ে করা মন্তব্যকে তার সমালোচনার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেন। মিশিগানে এল-সায়েদ রিপাবলিকান দলের সাবেক প্রতিনিধি মাইক রজার্সের মুখোমুখি হচ্ছেন। গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচন সিনেটে কোন দল নিয়ন্ত্রণ নেবে, তা নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে।
‘এটা আমার দাদার ডেমোক্রেটিক পার্টি নয়’
ভ্যান্স বলেন, তাঁর দাদা প্রায় ৪০ বছর ঝালাইকার হিসেবে কাজ করেছেন এবং ডেমোক্রেটিক পার্টিকে ভোট দিতেন। কারণ তিনি দলটিকে শ্রমিক ও শ্রমিক সংগঠনের মানুষের দল হিসেবে দেখতেন।
কিন্তু ভ্যান্সের দাবি, সেই ডেমোক্রেটিক পার্টি এখন অনেকটাই বদলে গেছে। তাঁর ভাষায়, বর্তমান দলটি কারখানায় কাজ করা শ্রমিকদের পরিবর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষিত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব করছে।

তিনি বলেন, বর্তমান ডেমোক্রেটিক পার্টি আসলে কী চায়, তা বোঝা কখনো কখনো কঠিন। তবে নেতাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শুনলে তাঁদের রাজনৈতিক অবস্থানের নানা ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
শরিয়া আইন নিয়ে পুরোনো বক্তব্য
এরপর ভ্যান্স সরাসরি এল-সায়েদের দিকে আঙুল তোলেন। তিনি বলেন, কয়েক বছর আগে এল-সায়েদ দাবি করেছিলেন যে শরিয়া আইনের সমালোচনার পেছনে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী চিন্তা কাজ করে।
ভ্যান্সের দাবি, এমন অবস্থান তাঁর দাদার পরিচিত ডেমোক্রেটিক পার্টির সঙ্গে কোনোভাবেই মেলে না। তিনি বলেন, শ্রমজীবী মানুষের প্রতিনিধিত্বের দাবি করা একজন রাজনীতিক যদি শরিয়া আইন নিয়ে এমন অবস্থান নেন এবং এর সমালোচনাকে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদের সঙ্গে যুক্ত করেন, তাহলে সেটি ডেমোক্রেটিক পার্টির পুরোনো পরিচয়ের সঙ্গে বড় ধরনের পরিবর্তনকে নির্দেশ করে।
কী বলেছিলেন এল-সায়েদ
এল-সায়েদ ২০২২ সালে একটি মুসলিম অধিকারভিত্তিক সংগঠনের বার্ষিক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় ওকলাহোমার একটি পুরোনো প্রস্তাবের সমালোচনা করেন। ওই প্রস্তাবে আদালতের সিদ্ধান্তে শরিয়া আইন বিবেচনা করা নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ভোটে প্রস্তাবটি ব্যাপক সমর্থন পেলেও পরে ফেডারেল আদালত তা আটকে দেয়।
সেই বক্তব্যে এল-সায়েদ যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে আদিবাসীদের উচ্ছেদ, কৃষ্ণাঙ্গদের ওপর সহিংসতা এবং মুসলিমদের বিরুদ্ধে বৈষম্যের ঘটনাগুলোকে একই ধারার রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তির সঙ্গে যুক্ত করেন।

তিনি বলেন, শরিয়া আইন নিষিদ্ধ করার উদ্যোগকে বুঝতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের অতীতের নানা বৈষম্যমূলক ঘটনার ইতিহাসও বুঝতে হবে। তাঁর মতে, শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যের প্রভাব এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি।
ইসরায়েল ও ইহুদি নিরাপত্তা নিয়েও বিতর্ক
এল-সায়েদের আরও কিছু বক্তব্য নিয়েও রিপাবলিকান ও রক্ষণশীল মহলে সমালোচনা রয়েছে। এর মধ্যে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ এবং দেশটিকে বর্ণবৈষম্যমূলক রাষ্ট্র হিসেবে বর্ণনা করার বিষয়ও রয়েছে।
তবে প্রাথমিক নির্বাচনে জয়ের পর এল-সায়েদ ইহুদি জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তার প্রতি নিজের অঙ্গীকারের কথা স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, নিজের সন্তানদের নিরাপত্তার মতোই ইহুদি জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তাকেও তিনি গুরুত্ব দেন এবং যেকোনো ধরনের ইহুদিবিদ্বেষের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া সবার দায়িত্ব।
মিশিগানের এই সিনেট নির্বাচন তাই শুধু দুই প্রার্থীর লড়াই নয়; ডেমোক্রেটিক পার্টির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিচয়, শ্রমজীবী ভোটারদের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক এবং প্রগতিশীল রাজনীতির সীমা নিয়েও বড় বিতর্কের ক্ষেত্র হয়ে উঠছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















