০৩:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬
ছাত্রলীগ নেত্রীর ফেসবুক পোস্ট ঘিরে বিতর্ক, কড়া জবাব ছাত্রদল নেত্রীর ঝিনাইদহে গরু চুরির সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত ১, আহত ১ ১০ মিলিয়ন বছর আগে ২৩ ফুটের ‘দানব কুমির’ শাসন করত দৈত্যদের জলাভূমি ভ্যান্সের তোপের মুখে এল-সায়েদ, ‘এটা আমার দাদার ডেমোক্রেটিক পার্টি নয়’ ২২ ক্যারেট সোনার ভরি ২ লাখ ৪৬ হাজার ১১০ টাকা, আবারও দাম বাড়াল বাজুস নাটোর-রাজশাহী মহাসড়কে বাসের ধাক্কায় মানবহলার দুমড়েমুচড়ে, নিহত ২ টিকটকের খাবারের ভিডিওতেই বদলে যাচ্ছে কিশোরদের খাওয়ার অভ্যাস মেগানের অভিনয়ে ফেরার জল্পনা, নেটফ্লিক্সের ‘দ্য জেন্টলমেন’-এ বড় চরিত্রে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রে পকেটে টান, তবু শখের কেনাকাটায় নেই লাগাম—বদলে যাচ্ছে ক্রেতাদের খরচের ধরন বৈদ্যুতিক দরজার হাতল নিয়ে বড় বিপদ, চীনে ৪৩ লাখ গাড়ি প্রত্যাহার

উৎসবের আগে চিনির দাম সামলাতে আমদানির পথে ভারত

উৎসবের মৌসুম সামনে রেখে দেশে চিনির দাম দ্রুত বাড়তে থাকায় প্রায় এক দশক পর শুল্কমুক্ত কাঁচা চিনি আমদানির অনুমতি দিয়েছে ভারত সরকার। আগামী অক্টোবর পর্যন্ত এই আমদানি চলবে। সরকারের দাবি, বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা ও সম্ভাব্য আরও মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতেই সতর্কতামূলকভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এক মাসেই কেজিতে ৭ টাকা ৫২ পয়সা বৃদ্ধি

ভারত বিশ্বের সবচেয়ে বেশি চিনি ব্যবহারকারী দেশ। দেশটির সরকারি হিসাবে, গত ২০ জুলাই প্রতি কেজি চিনির দাম ছিল ৪৮ টাকা ১৮ পয়সা। এক মাসের ব্যবধানে ২০ আগস্ট তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫ টাকা ৭০ পয়সায়।

আসন্ন উৎসবের সময় মিষ্টি ও অন্যান্য খাদ্যপণ্যে চিনির ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে। ফলে এই সময়ে চাহিদা আরও বাড়ার আশঙ্কা থেকেই সরকার আগেভাগে আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ইথানল উৎপাদনকে দায়ী করছে না সরকার

বাংলাদেশে চিনির দাম ভারতের আড়াই গুণ

চিনির দাম বাড়ার জন্য ইথানল উৎপাদনে চিনি সরিয়ে নেওয়াকে দায়ী করার সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত সরকার। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ইথানল উৎপাদনে ব্যবহৃত চিনির অংশ ২০২২-২৩ মৌসুমের প্রায় ১২ শতাংশ থেকে কমে ২০২৫-২৬ মৌসুমে প্রায় ৯ শতাংশে নেমেছে।

এ ছাড়া বর্তমানে ভারতে উৎপাদিত ইথানলের প্রায় তিন-চতুর্থাংশই শস্য, বিশেষ করে ভুট্টা থেকে তৈরি হচ্ছে।

উৎপাদন কমেছে, বাড়ছে বাজারের চাপ

ভারতে সাধারণত বছরে প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ থেকে ৩ কোটি ৪০ লাখ টন চিনি উৎপাদিত হয়। বিপরীতে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ থেকে ২ কোটি ৯০ লাখ টন।

তবে চলতি মৌসুমে উৎপাদন কমে প্রায় ৩ কোটি ৬ লাখ টনে নেমে আসতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ আখ উৎপাদনকারী রাজ্যগুলোর প্রাথমিক পূর্বাভাস ছিল প্রায় ৩ কোটি ৪৩ লাখ টন।

আখের রোগ এবং অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে জমিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার।

বৈশ্বিক বাজারেও বেড়েছে চিনির দাম

শুধু ভারতের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিই নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও চিনির সরবরাহ সংকুচিত হয়েছে। গত ৩০ জুন প্রতি টন চিনির আন্তর্জাতিক দাম ছিল ৪৭৪ ডলার। ২০ আগস্ট তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫২ ডলারে। অর্থাৎ দুই মাসেরও কম সময়ে দাম বেড়েছে ১৬ শতাংশের বেশি।

সরকারের মতে, কম উৎপাদন, উৎসবের আগে বাড়তি চাহিদা, আবহাওয়াজনিত ক্ষতি, বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের পাশাপাশি কিছু ব্যবসায়ী ও চিনিকলের মজুতদারি এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির প্রবণতাও দাম বাড়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে।

পাঁচ দিনে চিনির দাম বেড়েছে ৭ টাকা

মজুত নিয়ন্ত্রণে নতুন পদক্ষেপ

চিনির দাম নিয়ন্ত্রণে গত ১ আগস্ট থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে ব্যবসায়ীদের সর্বোচ্চ ৪০০ টন চিনি মজুত রাখার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে রাজ্য সরকার ও চিনিকলগুলোকে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে নতুন মৌসুমের আখ মাড়াই শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সরকারের আশা, এতে অক্টোবরে চিনির উৎপাদন স্বাভাবিক ৩ লাখ টনের পরিবর্তে ১০ লাখ টনেরও বেশি হতে পারে।

সরকার বলছে, নতুন মৌসুম শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত চিনি মজুত রয়েছে। তবে উৎসবের মৌসুমে দাম আরও বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি ঠেকাতেই শুল্কমুক্ত আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

চাষি ও চিনিকলের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন

ভারতের চিনি উদ্বৃত্ত হলে তা চিনিকলগুলোর অর্থ আটকে দেয় এবং আখচাষিদের পাওনা পরিশোধে দেরি হতে পারে। অতিরিক্ত চিনি ইথানল উৎপাদনে ব্যবহার করায় এই দীর্ঘদিনের সমস্যা কিছুটা কমেছে বলে দাবি সরকারের।

সরকারি হিসাবে, ২০২৫-২৬ মৌসুমের আখচাষিদের পাওনার ৯৭ শতাংশই ২০ আগস্টের মধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে। চিনিকলগুলোর আর্থিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় সরকারি ভর্তুকির ওপরও তাদের নির্ভরতা কমেছে।

২০১৪ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে চিনি শিল্পকে প্রায় ১৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হলেও ২০২১-২২ মৌসুমের পর আর কোনো এ ধরনের ভর্তুকি ঘোষণা করা হয়নি।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ছাত্রলীগ নেত্রীর ফেসবুক পোস্ট ঘিরে বিতর্ক, কড়া জবাব ছাত্রদল নেত্রীর

উৎসবের আগে চিনির দাম সামলাতে আমদানির পথে ভারত

০২:৩৮:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

উৎসবের মৌসুম সামনে রেখে দেশে চিনির দাম দ্রুত বাড়তে থাকায় প্রায় এক দশক পর শুল্কমুক্ত কাঁচা চিনি আমদানির অনুমতি দিয়েছে ভারত সরকার। আগামী অক্টোবর পর্যন্ত এই আমদানি চলবে। সরকারের দাবি, বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা ও সম্ভাব্য আরও মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতেই সতর্কতামূলকভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এক মাসেই কেজিতে ৭ টাকা ৫২ পয়সা বৃদ্ধি

ভারত বিশ্বের সবচেয়ে বেশি চিনি ব্যবহারকারী দেশ। দেশটির সরকারি হিসাবে, গত ২০ জুলাই প্রতি কেজি চিনির দাম ছিল ৪৮ টাকা ১৮ পয়সা। এক মাসের ব্যবধানে ২০ আগস্ট তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫ টাকা ৭০ পয়সায়।

আসন্ন উৎসবের সময় মিষ্টি ও অন্যান্য খাদ্যপণ্যে চিনির ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে। ফলে এই সময়ে চাহিদা আরও বাড়ার আশঙ্কা থেকেই সরকার আগেভাগে আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ইথানল উৎপাদনকে দায়ী করছে না সরকার

বাংলাদেশে চিনির দাম ভারতের আড়াই গুণ

চিনির দাম বাড়ার জন্য ইথানল উৎপাদনে চিনি সরিয়ে নেওয়াকে দায়ী করার সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত সরকার। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ইথানল উৎপাদনে ব্যবহৃত চিনির অংশ ২০২২-২৩ মৌসুমের প্রায় ১২ শতাংশ থেকে কমে ২০২৫-২৬ মৌসুমে প্রায় ৯ শতাংশে নেমেছে।

এ ছাড়া বর্তমানে ভারতে উৎপাদিত ইথানলের প্রায় তিন-চতুর্থাংশই শস্য, বিশেষ করে ভুট্টা থেকে তৈরি হচ্ছে।

উৎপাদন কমেছে, বাড়ছে বাজারের চাপ

ভারতে সাধারণত বছরে প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ থেকে ৩ কোটি ৪০ লাখ টন চিনি উৎপাদিত হয়। বিপরীতে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ থেকে ২ কোটি ৯০ লাখ টন।

তবে চলতি মৌসুমে উৎপাদন কমে প্রায় ৩ কোটি ৬ লাখ টনে নেমে আসতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ আখ উৎপাদনকারী রাজ্যগুলোর প্রাথমিক পূর্বাভাস ছিল প্রায় ৩ কোটি ৪৩ লাখ টন।

আখের রোগ এবং অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে জমিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার।

বৈশ্বিক বাজারেও বেড়েছে চিনির দাম

শুধু ভারতের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিই নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও চিনির সরবরাহ সংকুচিত হয়েছে। গত ৩০ জুন প্রতি টন চিনির আন্তর্জাতিক দাম ছিল ৪৭৪ ডলার। ২০ আগস্ট তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫২ ডলারে। অর্থাৎ দুই মাসেরও কম সময়ে দাম বেড়েছে ১৬ শতাংশের বেশি।

সরকারের মতে, কম উৎপাদন, উৎসবের আগে বাড়তি চাহিদা, আবহাওয়াজনিত ক্ষতি, বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের পাশাপাশি কিছু ব্যবসায়ী ও চিনিকলের মজুতদারি এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির প্রবণতাও দাম বাড়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে।

পাঁচ দিনে চিনির দাম বেড়েছে ৭ টাকা

মজুত নিয়ন্ত্রণে নতুন পদক্ষেপ

চিনির দাম নিয়ন্ত্রণে গত ১ আগস্ট থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে ব্যবসায়ীদের সর্বোচ্চ ৪০০ টন চিনি মজুত রাখার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে রাজ্য সরকার ও চিনিকলগুলোকে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে নতুন মৌসুমের আখ মাড়াই শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সরকারের আশা, এতে অক্টোবরে চিনির উৎপাদন স্বাভাবিক ৩ লাখ টনের পরিবর্তে ১০ লাখ টনেরও বেশি হতে পারে।

সরকার বলছে, নতুন মৌসুম শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত চিনি মজুত রয়েছে। তবে উৎসবের মৌসুমে দাম আরও বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি ঠেকাতেই শুল্কমুক্ত আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

চাষি ও চিনিকলের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন

ভারতের চিনি উদ্বৃত্ত হলে তা চিনিকলগুলোর অর্থ আটকে দেয় এবং আখচাষিদের পাওনা পরিশোধে দেরি হতে পারে। অতিরিক্ত চিনি ইথানল উৎপাদনে ব্যবহার করায় এই দীর্ঘদিনের সমস্যা কিছুটা কমেছে বলে দাবি সরকারের।

সরকারি হিসাবে, ২০২৫-২৬ মৌসুমের আখচাষিদের পাওনার ৯৭ শতাংশই ২০ আগস্টের মধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে। চিনিকলগুলোর আর্থিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় সরকারি ভর্তুকির ওপরও তাদের নির্ভরতা কমেছে।

২০১৪ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে চিনি শিল্পকে প্রায় ১৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হলেও ২০২১-২২ মৌসুমের পর আর কোনো এ ধরনের ভর্তুকি ঘোষণা করা হয়নি।