আধুনিক ব্যস্ত জীবনে মানসিক চাপ যেন নিত্যদিনের সঙ্গী। কাজের ব্যস্ততা, নানা দায়িত্ব আর দ্রুতগতির জীবনযাত্রায় অনেক সময় শরীর ও মন দুটিই ক্লান্ত হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে স্বস্তি পেতে অনেকে প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি শরীরচর্চা ও পরিচর্যার বিভিন্ন পণ্যের দিকে ঝুঁকছেন।
মানসিক চাপ কমানোর উদ্দেশ্যে তৈরি এমনই কিছু পণ্যের মধ্যে রয়েছে ‘মেরি জেন অন মেইন স্ট্রিট’ নামের একটি পরিচর্যা পণ্যশ্রেণি। প্রাকৃতিক চিকিৎসাবিদ জিনেট উলফের উদ্যোগে তৈরি এই পণ্যগুলো শরীরের বাইরে থেকে পরিচর্যার মাধ্যমে স্নায়ুতন্ত্রকে স্বস্তি দেওয়ার ধারণাকে সামনে রেখে তৈরি করা হয়েছে।
তেলভিত্তিক রোল-অন পণ্য
এই পণ্যশ্রেণির অন্যতম আকর্ষণ তেলভিত্তিক রোল-অন সংগ্রহ। এতে চার ধরনের রোল-অন রয়েছে, যেগুলোতে বিভিন্ন সুগন্ধি ও উদ্ভিজ্জ তেলের সংমিশ্রণ ব্যবহার করা হয়েছে।
এক ধরনের রোল-অনে রয়েছে লোবান, গন্ধরস, লেবু, হলুদ, লবঙ্গ ও কোপাইবার সুগন্ধি তেল। এর ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে শণবীজের তেল, অ্যাভোকাডোর তেল ও নারকেল তেল। আরেকটিতে কোপাইবার তেল, শণবীজের তেল ও শুঙ্গাইট পাথরের উপাদান রয়েছে।
অ্যাম্বার ধরনের রোল-অনে অ্যাম্বারের মিশ্রণ, শণবীজের তেল ও টাইগার্স আই পাথরের কণা ব্যবহার করা হয়েছে। অন্যদিকে পালো সান্তো ধরনের পণ্যে রয়েছে শণবীজের তেল ও শুঙ্গাইটের কণা।
প্রস্তুতকারকের দাবি, এসব রোল-অন ত্বকে ব্যবহার করার পর দ্রুত শরীরে প্রবেশ করে এবং আরাম ও সতেজতার অনুভূতি দিতে সহায়তা করে। তবে এ ধরনের পণ্যের কার্যকারিতা সম্পর্কে চিকিৎসাবিজ্ঞানের নির্ভরযোগ্য প্রমাণ সীমিত।
দিনের মাঝখানে সতেজতার জন্য স্প্রে
এই সংগ্রহের আরেকটি পণ্য হলো সুগন্ধি ভেষজ স্প্রে। দিনের ব্যস্ততার মধ্যে নিজেকে সতেজ করতে এটি ব্যবহার করার কথা বলা হয়েছে।
স্প্রেটিতে লোবান, গন্ধরস, লেবু, হলুদ, লবঙ্গ, শণ, কোপাইবা, কমলার ফুলের জল এবং উইচ হ্যাজেলের মতো উপাদান রয়েছে। মুখের সাজসজ্জা সতেজ রাখার পাশাপাশি দিনের শুরুতেও এটি ব্যবহার করা যায় বলে পণ্যটির প্রচারে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রাকৃতিক পরিচর্যায় বাড়ছে আগ্রহ
ব্যস্ত জীবনযাত্রায় মানসিক স্বস্তি ও ব্যক্তিগত পরিচর্যার জন্য প্রাকৃতিক উপাদানভিত্তিক পণ্যের প্রতি মানুষের আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে। সুগন্ধি তেল, ভেষজ উপাদান ও ত্বকে ব্যবহারযোগ্য বিভিন্ন পরিচর্যা সামগ্রী অনেকের দৈনন্দিন স্ব-পরিচর্যার অংশ হয়ে উঠেছে।
তবে মানসিক চাপ দীর্ঘস্থায়ী হলে শুধু সুগন্ধি বা পরিচর্যার পণ্যের ওপর নির্ভর না করে পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শরীরচর্চা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















