০৩:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬
ভ্যান্সের তোপের মুখে এল-সায়েদ, ‘এটা আমার দাদার ডেমোক্রেটিক পার্টি নয়’ ২২ ক্যারেট সোনার ভরি ২ লাখ ৪৬ হাজার ১১০ টাকা, আবারও দাম বাড়াল বাজুস নাটোর-রাজশাহী মহাসড়কে বাসের ধাক্কায় মানবহলার দুমড়েমুচড়ে, নিহত ২ টিকটকের খাবারের ভিডিওতেই বদলে যাচ্ছে কিশোরদের খাওয়ার অভ্যাস মেগানের অভিনয়ে ফেরার জল্পনা, নেটফ্লিক্সের ‘দ্য জেন্টলমেন’-এ বড় চরিত্রে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রে পকেটে টান, তবু শখের কেনাকাটায় নেই লাগাম—বদলে যাচ্ছে ক্রেতাদের খরচের ধরন বৈদ্যুতিক দরজার হাতল নিয়ে বড় বিপদ, চীনে ৪৩ লাখ গাড়ি প্রত্যাহার উৎসবের আগে চিনির দাম সামলাতে আমদানির পথে ভারত যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা বাণিজ্যচুক্তি ভেস্তে গেল, ট্রাম্পের নতুন শুল্ক কার্যকর চাঁদের মাটিতেও বেঁচে থাকতে পারে পৃথিবীর কিছু জীবাণু, নাসার গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য

কঙ্গোতে ভয়াবহ ইবোলা সংক্রমণ, মৃতের সংখ্যা ছাড়াল ২,৫০০

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে ইবোলা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। জাতিসংঘের ইবোলা সমন্বয়ক জুলিয়েন হারনেইস জানিয়েছেন, দেশটিতে এই রোগে মৃতের সংখ্যা ইতোমধ্যে ২ হাজার ৫০০ ছাড়িয়েছে। তাঁর আশঙ্কা, সংক্রমণ দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে এবং নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টার তুলনায় মহামারির বিস্তার আরও দ্রুত হচ্ছে।

ফ্রান্সের চেয়েও বড় এলাকায় ছড়িয়েছে সংক্রমণ

শুক্রবার দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বুনিয়া শহর থেকে ভিডিও কলে হারনেইস বলেন, ইবোলার সংক্রমণ এখন এমন একটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে, যার আয়তন ফ্রান্সের চেয়েও বড়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে আরও অর্থ ও সহায়তা প্রয়োজন। বর্তমানে যে তহবিল থেকে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, সেটিও কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কঙ্গোর এবারের ইবোলা প্রাদুর্ভাব দেশটির ইতিহাসে ১৭তম। জুলাইয়ের শেষ দিকে আক্রান্তের সংখ্যার দিক থেকে এটি ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবকেও ছাড়িয়ে যায়।

এবারের সংক্রমণের জন্য দায়ী বান্দিবুগিও প্রজাতির ইবোলা ভাইরাস। এই ধরনের ইবোলার বিরুদ্ধে বর্তমানে অনুমোদিত কোনো টিকা বা চিকিৎসা নেই।

Ebola outbreak 'growing faster, ⁠⁠wider' as DRC death toll passes 2,500: UN

আক্রান্ত হচ্ছেন চিকিৎসাকর্মীরাও

সংক্রমণ মোকাবিলায় কাজ করতে গিয়ে প্রায় ১৬০ জন স্বাস্থ্যকর্মী ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৪৩ জন মারা গেছেন।

হারনেইস জানান, রোগের আতঙ্ক ও নানা গুজবের কারণে স্থানীয় মানুষের ক্ষোভও চিকিৎসাকর্মীদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে। গত ছয় মাসে স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর ২৬০টিরও বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছে। আটজন স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হয়েছেন।

অনেক জায়গায় ক্ষুব্ধ তরুণেরা অ্যাম্বুলেন্সে পাথর ছুড়েছে, অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দেওয়া হয়েছে এবং চিকিৎসাকেন্দ্রেও হামলা হয়েছে। রোগটি নিয়ে নানা ষড়যন্ত্রতত্ত্ব ছড়িয়ে পড়ায় কেউ কেউ ইবোলার প্রাদুর্ভাবকে ভুয়া বলেও মনে করছেন।

শেষকৃত্য ঘিরেও বাড়ছে উত্তেজনা

Ebola death toll exceeds 1,000 in DR Congo as cases continue to rise

ইবোলা সংক্রমণ ঠেকাতে মৃতদের দাফনের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি ও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এতে স্বজনেরা নিজের হাতে প্রিয়জনের শেষকৃত্য করতে না পারায় ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে।

দীর্ঘদিনের সংঘাতের কারণে কঙ্গোর এই অঞ্চলে মানবিক সংকট এমনিতেই গভীর। এর সঙ্গে নতুন করে ইবোলার বিস্তার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

অর্থসংকটে ব্যাহত হচ্ছে প্রতিরোধ কার্যক্রম

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় মানবিক সংস্থাগুলোর সক্ষমতাও হ্রাস পেয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের সমন্বয়ক।

আরেকটি বড় সমস্যা হলো, ইবোলা মোকাবিলায় যুক্ত কয়েক দশ হাজার মানুষকে নিয়মিত অর্থ পরিশোধ করা। সরকারি সিদ্ধান্তে বাণিজ্যিক বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোতে নগদ অর্থ পৌঁছানোর ব্যবস্থাও ব্যাহত হয়েছে। ফলে মাঠপর্যায়ে কর্মরতদের অর্থ পরিশোধ আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, দ্রুত অর্থ ও মানবিক সহায়তা না বাড়ানো গেলে কঙ্গোর ইবোলা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ভ্যান্সের তোপের মুখে এল-সায়েদ, ‘এটা আমার দাদার ডেমোক্রেটিক পার্টি নয়’

কঙ্গোতে ভয়াবহ ইবোলা সংক্রমণ, মৃতের সংখ্যা ছাড়াল ২,৫০০

০১:৫৮:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে ইবোলা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। জাতিসংঘের ইবোলা সমন্বয়ক জুলিয়েন হারনেইস জানিয়েছেন, দেশটিতে এই রোগে মৃতের সংখ্যা ইতোমধ্যে ২ হাজার ৫০০ ছাড়িয়েছে। তাঁর আশঙ্কা, সংক্রমণ দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে এবং নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টার তুলনায় মহামারির বিস্তার আরও দ্রুত হচ্ছে।

ফ্রান্সের চেয়েও বড় এলাকায় ছড়িয়েছে সংক্রমণ

শুক্রবার দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বুনিয়া শহর থেকে ভিডিও কলে হারনেইস বলেন, ইবোলার সংক্রমণ এখন এমন একটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে, যার আয়তন ফ্রান্সের চেয়েও বড়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে আরও অর্থ ও সহায়তা প্রয়োজন। বর্তমানে যে তহবিল থেকে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, সেটিও কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কঙ্গোর এবারের ইবোলা প্রাদুর্ভাব দেশটির ইতিহাসে ১৭তম। জুলাইয়ের শেষ দিকে আক্রান্তের সংখ্যার দিক থেকে এটি ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবকেও ছাড়িয়ে যায়।

এবারের সংক্রমণের জন্য দায়ী বান্দিবুগিও প্রজাতির ইবোলা ভাইরাস। এই ধরনের ইবোলার বিরুদ্ধে বর্তমানে অনুমোদিত কোনো টিকা বা চিকিৎসা নেই।

Ebola outbreak 'growing faster, ⁠⁠wider' as DRC death toll passes 2,500: UN

আক্রান্ত হচ্ছেন চিকিৎসাকর্মীরাও

সংক্রমণ মোকাবিলায় কাজ করতে গিয়ে প্রায় ১৬০ জন স্বাস্থ্যকর্মী ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৪৩ জন মারা গেছেন।

হারনেইস জানান, রোগের আতঙ্ক ও নানা গুজবের কারণে স্থানীয় মানুষের ক্ষোভও চিকিৎসাকর্মীদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে। গত ছয় মাসে স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর ২৬০টিরও বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছে। আটজন স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হয়েছেন।

অনেক জায়গায় ক্ষুব্ধ তরুণেরা অ্যাম্বুলেন্সে পাথর ছুড়েছে, অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দেওয়া হয়েছে এবং চিকিৎসাকেন্দ্রেও হামলা হয়েছে। রোগটি নিয়ে নানা ষড়যন্ত্রতত্ত্ব ছড়িয়ে পড়ায় কেউ কেউ ইবোলার প্রাদুর্ভাবকে ভুয়া বলেও মনে করছেন।

শেষকৃত্য ঘিরেও বাড়ছে উত্তেজনা

Ebola death toll exceeds 1,000 in DR Congo as cases continue to rise

ইবোলা সংক্রমণ ঠেকাতে মৃতদের দাফনের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি ও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এতে স্বজনেরা নিজের হাতে প্রিয়জনের শেষকৃত্য করতে না পারায় ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে।

দীর্ঘদিনের সংঘাতের কারণে কঙ্গোর এই অঞ্চলে মানবিক সংকট এমনিতেই গভীর। এর সঙ্গে নতুন করে ইবোলার বিস্তার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

অর্থসংকটে ব্যাহত হচ্ছে প্রতিরোধ কার্যক্রম

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় মানবিক সংস্থাগুলোর সক্ষমতাও হ্রাস পেয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের সমন্বয়ক।

আরেকটি বড় সমস্যা হলো, ইবোলা মোকাবিলায় যুক্ত কয়েক দশ হাজার মানুষকে নিয়মিত অর্থ পরিশোধ করা। সরকারি সিদ্ধান্তে বাণিজ্যিক বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোতে নগদ অর্থ পৌঁছানোর ব্যবস্থাও ব্যাহত হয়েছে। ফলে মাঠপর্যায়ে কর্মরতদের অর্থ পরিশোধ আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, দ্রুত অর্থ ও মানবিক সহায়তা না বাড়ানো গেলে কঙ্গোর ইবোলা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।