যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে দুটি ক্রুজ জাহাজে শিশু যৌন নির্যাতনের উপকরণ রাখা ও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে ১১ জন বিদেশি কর্মীকে আটক করা হয়েছে। এ বছরের মধ্যে সমুদ্রযানে পরিচালিত এ ধরনের অভিযানে এটি তৃতীয় বড় ধরপাকড়ের ঘটনা।
১৪ থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত চালানো অভিযানে হল্যান্ড আমেরিকা লাইনের ‘ভোলেনডাম’ এবং নরওয়েজিয়ান ক্রুজ লাইনের ‘ব্রেকঅ্যাওয়ে’ জাহাজে কর্মরত এসব ব্যক্তিকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে নয়জন ফিলিপাইনের, একজন ইন্দোনেশিয়ার এবং একজন নিকারাগুয়ার নাগরিক।
বৈদ্যুতিন যন্ত্র ও কক্ষে তল্লাশি
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কর্মকর্তারা জানান, অভিযানের সময় সন্দেহভাজনদের বৈদ্যুতিন যন্ত্র এবং থাকার জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়। সেখান থেকে শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের সঙ্গে সম্পর্কিত বেআইনি উপকরণ উদ্ধারের চেষ্টা করা হয়।

আটক ব্যক্তিদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। কোন জাহাজ থেকে কতজনকে আটক করা হয়েছে, সে তথ্যও কর্তৃপক্ষ জানায়নি। তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ও সীমান্ত সুরক্ষা বিভাগের বোস্টন কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত মাঠ পরিচালনা পরিচালক জুলিও কারাভিয়া বলেন, শিশুদের শোষণ থেকে রক্ষা করা তাদের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। জননিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে এমন ব্যক্তিদের শনাক্ত ও আটক করতে সীমান্ত কর্মকর্তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
‘অপারেশন টাইডাল ওয়েভ’-এর তৃতীয় ধাপ
বোস্টনের এই অভিযান ‘অপারেশন টাইডাল ওয়েভ’-এর সর্বশেষ ধাপ। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ও সীমান্ত সুরক্ষা বিভাগ এবং স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের নেতৃত্বে পরিচালিত এই উদ্যোগের লক্ষ্য ক্রুজ জাহাজের এমন কর্মীদের শনাক্ত করা, যারা শিশু যৌন নির্যাতনের উপকরণ বিতরণের সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
এর আগে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে সান দিয়েগোতে অভিযানের প্রথম ধাপে ছয়টি জাহাজের ২৭ জন কর্মীর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তাদের সবাইকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়।
জুন ও জুলাইয়ে সান হুয়ানে পরিচালিত দ্বিতীয় ধাপে তিনটি জাহাজের আরও ১৪ জন কর্মীর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে ফৌজদারি মামলাও করা হয়।
নরওয়েজিয়ান ক্রুজ লাইন ও হল্যান্ড আমেরিকা লাইন এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















