তিন সপ্তাহ আগে বিবাহবিচ্ছেদের কাগজে স্বাক্ষর করেছিলেন তিনি। মানসিকভাবে তখন ভেঙে পড়েছিলেন। এক ভোরে বাড়ির উঠানে গিয়ে হঠাৎ জুতা খুলে ভেজা মাটিতে খালি পায়ে দাঁড়ান। সেই মুহূর্ত থেকেই যেন শুরু হয় তাঁর নিজের সঙ্গে এবং প্রকৃতির সঙ্গে নতুন করে যোগাযোগের যাত্রা।
পরের ৯০ দিন তিনি প্রতিদিন ভোরে খালি পায়ে মাটিতে হাঁটেন। তাঁর দাবি, এই অভ্যাস তাঁকে মানসিকভাবে নতুন করে দাঁড়াতে সাহায্য করেছে।
মাটির সঙ্গে সরাসরি সংযোগ
মাটি, ঘাস বা বালুর ওপর খালি পায়ে দাঁড়ানো বা হাঁটার অভ্যাসকে ‘আর্থিং’ বা ‘গ্রাউন্ডিং’ বলা হয়। ধারণাটি হলো, মানুষের শরীর যখন সরাসরি মাটির সংস্পর্শে আসে, তখন পৃথিবীর পৃষ্ঠে থাকা মুক্ত ইলেকট্রনের সঙ্গে শরীরের বৈদ্যুতিক সংযোগ তৈরি হতে পারে।
এই ধারণার সমর্থকেরা মনে করেন, মাটির সংস্পর্শ শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মতো কাজ করতে পারে এবং প্রদাহের সঙ্গে সম্পর্কিত ক্ষতিকর মুক্ত মৌলকে নিরপেক্ষ করতে সাহায্য করতে পারে।
কিছু গবেষণায় মাটির সঙ্গে সরাসরি সংযোগের সঙ্গে ঘুমের মান, মানসিক চাপ, ব্যথা ও মেজাজের উন্নতির সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। তবে এ বিষয়ে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনো সীমিত এবং আরও শক্তিশালী গবেষণা প্রয়োজন।
জুতা আমাদের মাটি থেকে দূরে সরিয়েছে
আধুনিক জীবনে রাবারের তলা দেওয়া জুতা আমাদের পায়ের সঙ্গে মাটির সরাসরি যোগাযোগ প্রায় সব সময়ই বিচ্ছিন্ন করে রাখে। ফলে প্রকৃতির সঙ্গে শারীরিক সংযোগের যে অভিজ্ঞতা মানুষের দীর্ঘদিনের জীবনযাত্রার অংশ ছিল, তা অনেকটাই হারিয়ে গেছে।
বিশ্বের বিভিন্ন আদিবাসী সংস্কৃতিতে অবশ্য প্রকৃতির সঙ্গে এই সরাসরি সম্পর্ক এখনো গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের অনেক ঐতিহ্যে ভূমিকে শুধু বসবাসের জায়গা হিসেবে নয়, বরং জীবন্ত ও পবিত্র সত্তা হিসেবে দেখা হয়।
পাঁচ মিনিটের সহজ অনুশীলন
ভোরে বা দিনের শান্ত কোনো সময়ে জুতা খুলে প্রাকৃতিক মাটিতে দাঁড়ানো দিয়ে শুরু করা যায়। চোখ বন্ধ করে কয়েকবার ধীরে শ্বাস নিতে হবে। শ্বাস নেওয়ার সময় শরীরের ভেতর প্রশান্তি প্রবেশ করছে—এমন অনুভূতি তৈরি করা যেতে পারে। শ্বাস ছাড়ার সময় মানসিক চাপ ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবা যায়।

এরপর হৃদয়ের ওপর হাত রেখে কৃতজ্ঞতা, সুস্থতা বা আত্মসমর্পণের মতো কোনো ইতিবাচক অনুভূতির কথা মনে করা যেতে পারে। কয়েকবার গভীর শ্বাস নিয়ে ধীরে ধীরে হাঁটলে পুরো অনুশীলনটি আরও মনোযোগী ও শান্তিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
ভাঙা মনকে মাটি কী শেখায়
খালি পায়ে ৯০ দিনের এই যাত্রা তাঁর হারানো সম্পর্ক ফিরিয়ে দেয়নি, দুঃখও পুরোপুরি দূর করেনি। কিন্তু তাঁর নিজের ভাষায়, এটি তাঁকে এমন এক গভীর অনুভূতির সঙ্গে যুক্ত করেছে, যা কোনো ব্যক্তিগত ক্ষতির চেয়েও দীর্ঘস্থায়ী।
প্রকৃতি মানুষের বিচার করে না, প্রত্যাখ্যান করে না। নীরবে মাটি শুধু শরীরকে ধারণ করে। আর সেই সরল স্পর্শ অনেকের কাছে হয়ে উঠতে পারে মানসিক প্রশান্তি, আত্মমন্থন ও প্রকৃতির সঙ্গে পুনরায় সংযোগের একটি উপায়।
তবে খালি পায়ে হাঁটার সময় কাচ, ধারালো বস্তু, পোকামাকড়, দূষিত মাটি বা অতিরিক্ত গরম পৃষ্ঠ থেকে সতর্ক থাকা জরুরি। এটি চিকিৎসার বিকল্প নয়; বরং নিরাপদ পরিস্থিতিতে মানসিক প্রশান্তি ও প্রকৃতির সংস্পর্শের একটি সহজ অভ্যাস হিসেবে দেখা ভালো।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















