যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষের হাতে আটক আর্জেন্টাইন ফুটবলার মাতিয়াস পুররাইনকে কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা ছাড়াই ফ্লোরিডার আটককেন্দ্র থেকে টেক্সাসের একটি কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে। এর ফলে তাঁর জামিনের শুনানি বাতিল হয়ে গেছে এবং মুক্তির প্রক্রিয়াও কয়েক সপ্তাহ পিছিয়ে গেছে।
৩৪ বছর বয়সী পুররাইন যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি ইউনাইটেড ফুটবল ক্লাবের হয়ে খেলেন। বুধবার ফ্লোরিডার একটি আদালতে তাঁর জামিনের শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শুনানির আগেই তাঁকে টেক্সাসে নিয়ে যাওয়া হয়। ফলে মামলাটি নতুন একজন বিচারকের আওতায় চলে গেছে।
পুররাইন গত ৬ আগস্ট ফ্লোরিডায় আটক হন। সেখানেই তিনি বর্তমানে বসবাস করছিলেন। দলের হয়ে একটি ম্যাচ খেলতে লস অ্যাঞ্জেলেস যাওয়ার জন্য বিমানে ওঠার আগে তাঁকে আটক করা হয়।
২০১৯ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস
পুররাইন ২০১৯ সালে পর্যটন ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। পরে তিনি দেশটিতে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য আবেদন করেন। তবে সেই আবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়নি।

তাঁর আইনজীবী রেজিনা বোর্হেস বুধবারের শুনানিতে জামিন পাওয়ার আশা করছিলেন। কিন্তু হঠাৎ স্থানান্তরের কারণে সেই সুযোগ নষ্ট হয়েছে।
আইনজীবী জানিয়েছেন, নতুন শুনানির জন্য আবেদন করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ তাঁরা নিচ্ছেন। তবে এখন পর্যন্ত কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
তাঁর অভিযোগ, শুনানির ঠিক আগে পুররাইনকে অন্য রাজ্যে সরিয়ে দিয়ে কর্তৃপক্ষ তাঁর ন্যায্য জামিন শুনানির সুযোগ বাধাগ্রস্ত করেছে।
শিকল পরিয়ে স্থানান্তরের অভিযোগ
পুররাইনের ঘটনা আর্জেন্টাইন পরিচর্যাকারী ইলিয়ানা লিকের ঘটনার সঙ্গেও অনেকটা মিলে যায়। লিককেও সম্প্রতি অভিবাসন কর্তৃপক্ষ আটক করেছিল। পরে পরিবারের সদস্য ও তাঁর সঙ্গী অর্থ সংগ্রহ করে ১০ হাজার মার্কিন ডলারের জামিনের অর্থ পরিশোধ করলে তিনি মুক্তি পান।
লিক অভিযোগ করেছেন, তাঁকে কোনো অপরাধে অভিযুক্ত না করা হলেও বিভিন্ন আটককেন্দ্রে নেওয়ার সময় হাতকড়া, পায়ে শিকল এবং কোমরে শিকল পরানো হয়েছিল।
তিনি জানান, তাঁকে পেনসিলভানিয়া, লুইজিয়ানা, টেক্সাস ও নিউ মেক্সিকোর চারটি ভিন্ন আটককেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়। কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে তাঁকে আগে থেকে কিছু জানানো হয়নি।

একবার তাঁকে আট ঘণ্টা একটি গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তখন তিনি আশঙ্কা করেছিলেন, তাঁকে হয়তো সীমান্তে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে অথবা বহিষ্কার করা হবে।
আটককেন্দ্রে মানবেতর পরিবেশের অভিযোগ
লিক আরও অভিযোগ করেছেন, লুইজিয়ানার একটি আটককেন্দ্রে তাঁকে একসঙ্গে শতাধিক মানুষের সঙ্গে একটি কক্ষে থাকতে হয়েছে। টেক্সাসে আবার প্রায় ৫০ নারীর সঙ্গে তাঁকে তাঁবুর মধ্যে রাত কাটাতে হয়েছে। শৌচাগার ও গোসলের জায়গাতেও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার কোনো ব্যবস্থা ছিল না বলে তিনি দাবি করেন।
মুক্তির পর তাঁর পায়ে বৈদ্যুতিক নজরদারি যন্ত্র লাগানো হয়েছে। তাঁর কোনো পূর্ব অপরাধের রেকর্ড নেই। একই সঙ্গে তাঁর আশ্রয়ের আবেদনও এখনো প্রক্রিয়াধীন এবং নতুন শুনানির তারিখের জন্য তিনি আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন।
পুররাইনের ক্ষেত্রেও আকস্মিক স্থানান্তরের কারণে তাঁর পরিবার ও আইনজীবীদের সামনে এখন নতুন করে আদালতের শুনানির অপেক্ষা তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের আটক ও স্থানান্তর প্রক্রিয়া নিয়ে এমন অভিযোগের মধ্যেই আর্জেন্টাইন এই ফুটবলারের জামিনের বিষয়টি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















