০৬:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
কুমিল্লায় পারিবারিক বিরোধে বড় ভাইয়ের মারধরে প্রাণ গেল ভাইয়ের বৃহস্পতিবার বসছে সংসদের তৃতীয় অধিবেশন পাঁচ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আশঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্কতা ঢাকায় ভুটানের রাজার যাত্রাবিরতি, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ডিএসই কর্মকর্তার চাকরিচ্যুতি নিয়ে হাইকোর্টের রুল, সংসদ অধিবেশন ঘিরে ঢাকায় নিষেধাজ্ঞা ডিআরএসে সেরা কে, বাঁহাতিরাই কি ভালো ব্যাটার—ক্রিকেটের নানা প্রশ্নের উত্তর ঈদে মিলাদুন্নবী পালিত, শান্তি-ন্যায় ও মানবতার আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জিয়া ইউসুফের বিতর্কিত আচরণ: আবেগ নয়, রিফর্ম ইউকের কৌশলগত রাজনীতি? হামে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, দেশে সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা ৯৫০ ডলি পার্টন: শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত কাজ করে যাওয়ার প্রতিশ্রুতিই সত্যি হলো

ডলি পার্টন: শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত কাজ করে যাওয়ার প্রতিশ্রুতিই সত্যি হলো

মার্চ ২০২৫-এ সাক্ষাৎকার নেওয়ার সময় ডলি পার্টন বলেছিলেন, অসুস্থ না হলে তিনি জীবনের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত কাজ করে যেতে চান। নব্বই বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে থাকলেও উঁচু হিল পরে গান লিখবেন, গান গাইবেন—এমন দৃঢ় প্রত্যয় ছিল তাঁর কণ্ঠে। শেষ পর্যন্ত নব্বইয়ে পৌঁছানো হয়নি; তবে কাজ থামেনি জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত।

৮০ বছর বয়সে ডলি পার্টনের মৃত্যুতে তাঁর সেই কথাই নতুন করে মনে পড়ছে। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি শুধু কান্ট্রি সংগীতের কিংবদন্তি হননি, নিজের স্বাতন্ত্র্য, রসবোধ ও আত্মবিশ্বাস দিয়েও তৈরি করেছিলেন অনন্য এক পরিচয়।

সাক্ষাৎকারে ভিন্ন রকম ডলি

ডলি পার্টনকে সাক্ষাৎকার নেওয়ার আগে সাংবাদিক জর্জিনা রবার্টসের মনে ছিল কিছুটা সংশয়। এত বড় তারকা হয়তো দূরত্ব বজায় রাখবেন, কঠিন হবেন কিংবা নিজেকে ঘিরে আলাদা ধরনের আনুষ্ঠানিকতা রাখবেন—এমন আশঙ্কা ছিল। কিন্তু সাক্ষাৎকারের শুরুতেই সেই ধারণা বদলে যায়।

ডলি ছিলেন উষ্ণ, খোলামেলা ও হাস্যোজ্জ্বল। কথোপকথনে এমন একটা স্বাচ্ছন্দ্য তৈরি করেছিলেন, যেন কোনো বিষয়ই আলোচনার বাইরে নয়। তাঁর রসবোধও সাংবাদিককে বিস্মিত করেছিল।

নিজের চেহারা ও সাজসজ্জা নিয়ে অকপট ডলি

৭৯ বছর বয়সে সাক্ষাৎকারে ডলিকে দেখা যায় টাইট জিনস, গিটার, শ্যাগ স্টাইলের স্বর্ণালি চুল, লাল লিপস্টিক ও ভারী মেকআপে। চলতি সময়ের ‘ক্লিন গার্ল’ সৌন্দর্যধারার সঙ্গে তাঁর এই সাজ ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত।

তবে নিজের স্টাইল নিয়ে অন্যের মতামতকে কখনোই খুব গুরুত্ব দেননি ডলি। তিনি স্পষ্ট করে বলেছিলেন, কীভাবে মেকআপ করবেন বা কী পরবেন, তা নিয়ে অন্যরা কী ভাবছে, তাতে তাঁর কিছু যায় আসে না। ফ্যাশন অনুসরণ করাও তাঁর কাছে ছিল অপ্রয়োজনীয় ঝামেলা।

এমনকি মেকআপ নিয়ে তাঁর রসিকতাও ছিল অনন্য। ক্যালিফোর্নিয়ায় ভূমিকম্পের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেছিলেন, বেশিরভাগ সময় মেকআপ নিয়েই ঘুমান, কারণ হঠাৎ বাইরে বের হতে হলে টেলিভিশনের খবরে তাঁকে যেন খারাপ না দেখায়।

পুরুষতান্ত্রিক বাধার সামনেও আপসহীন

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে পুরুষেরা তাঁকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেছেন কি না জানতে চাইলে ডলির উত্তর ছিল আত্মবিশ্বাসী। তাঁকে খুব বেশি নিয়ন্ত্রণ করা সহজ নয়—এমনটাই জানিয়েছিলেন তিনি।

পুরুষদের স্বভাব সম্পর্কে ছোটবেলা থেকেই তাঁর ধারণা ছিল, কারণ তিনি বড় হয়েছেন অনেক পুরুষ সদস্যের পরিবারে। ঘরেই নিজের অবস্থান ধরে রাখতে শিখেছিলেন বলে কর্মজীবনেও নিজের পক্ষে দাঁড়াতে কখনো ভয় পাননি।

প্রজন্ম পেরিয়ে জনপ্রিয়তা

ডলির জনপ্রিয়তার আরেকটি বড় দিক ছিল তাঁর বৈচিত্র্যময় ভক্তগোষ্ঠী। ড্র্যাগ কুইনদের তাঁর সাজ ও চেহারা অনুকরণ করতে দেখলে তিনি আনন্দ পেতেন। বিশেষ করে লন্ডনে কনসার্টের সময় দর্শকদের মধ্যে একাধিক ‘ডলি’ দেখতে পাওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁকে আনন্দ দিত।

তাঁর গানও প্রজন্মের ব্যবধান মুছে দিয়েছে। ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত ‘Jolene’ তাঁর মৃত্যুর বহু দশক পরও তরুণ প্রজন্মের কাছে সমান পরিচিত ও জনপ্রিয়। নিজের সময়কে ছাড়িয়ে যাওয়া এই সাংস্কৃতিক প্রভাবই ডলি পার্টনকে কেবল একজন সংগীতশিল্পী নয়, এক অনন্য সাংস্কৃতিক আইকনে পরিণত করেছে।

ডলি পার্টন চলে গেলেও তাঁর গান, ব্যক্তিত্ব এবং নিজের মতো করে বেঁচে থাকার সাহস বহু প্রজন্মের শ্রোতার কাছে তাঁকে জীবন্ত করে রাখবে।

ডলি পার্টনের মৃত্যুতে শেষ হলো এক কিংবদন্তির অধ্যায়; তবে তাঁর গান ও স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্ব প্রজন্মের পর প্রজন্মে বেঁচে থাকবে।

ডলি পার্টন

ডলি পার্টনের মৃত্যু ও শেষ সময় পর্যন্ত কাজ করে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি, তাঁর কিংবদন্তি ক্যারিয়ার, অনন্য ব্যক্তিত্ব এবং প্রজন্ম পেরিয়ে জনপ্রিয় গান ‘Jolene’ নিয়ে এই প্রতিবেদন।

ডলি পার্টনের মৃত্যুতে কান্ট্রি সংগীত হারাল এক কিংবদন্তিকে। শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত কাজ করে যাওয়ার যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন, সেটিই হয়ে উঠেছিল তাঁর জীবনদর্শনের প্রতিচ্ছবি। তাঁর গান ও স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্ব কেন আজও প্রজন্মের কাছে এত জনপ্রিয়, জানুন প্রতিবেদনে।

#DollyParton #ডলিপার্টন #DollyPartonDeath #CountryMusic #Jolene #MusicLegend #কান্ট্রিমিউজিক #সারাক্ষণ

জনপ্রিয় সংবাদ

কুমিল্লায় পারিবারিক বিরোধে বড় ভাইয়ের মারধরে প্রাণ গেল ভাইয়ের

ডলি পার্টন: শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত কাজ করে যাওয়ার প্রতিশ্রুতিই সত্যি হলো

০৪:৪২:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

মার্চ ২০২৫-এ সাক্ষাৎকার নেওয়ার সময় ডলি পার্টন বলেছিলেন, অসুস্থ না হলে তিনি জীবনের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত কাজ করে যেতে চান। নব্বই বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে থাকলেও উঁচু হিল পরে গান লিখবেন, গান গাইবেন—এমন দৃঢ় প্রত্যয় ছিল তাঁর কণ্ঠে। শেষ পর্যন্ত নব্বইয়ে পৌঁছানো হয়নি; তবে কাজ থামেনি জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত।

৮০ বছর বয়সে ডলি পার্টনের মৃত্যুতে তাঁর সেই কথাই নতুন করে মনে পড়ছে। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি শুধু কান্ট্রি সংগীতের কিংবদন্তি হননি, নিজের স্বাতন্ত্র্য, রসবোধ ও আত্মবিশ্বাস দিয়েও তৈরি করেছিলেন অনন্য এক পরিচয়।

সাক্ষাৎকারে ভিন্ন রকম ডলি

ডলি পার্টনকে সাক্ষাৎকার নেওয়ার আগে সাংবাদিক জর্জিনা রবার্টসের মনে ছিল কিছুটা সংশয়। এত বড় তারকা হয়তো দূরত্ব বজায় রাখবেন, কঠিন হবেন কিংবা নিজেকে ঘিরে আলাদা ধরনের আনুষ্ঠানিকতা রাখবেন—এমন আশঙ্কা ছিল। কিন্তু সাক্ষাৎকারের শুরুতেই সেই ধারণা বদলে যায়।

ডলি ছিলেন উষ্ণ, খোলামেলা ও হাস্যোজ্জ্বল। কথোপকথনে এমন একটা স্বাচ্ছন্দ্য তৈরি করেছিলেন, যেন কোনো বিষয়ই আলোচনার বাইরে নয়। তাঁর রসবোধও সাংবাদিককে বিস্মিত করেছিল।

নিজের চেহারা ও সাজসজ্জা নিয়ে অকপট ডলি

৭৯ বছর বয়সে সাক্ষাৎকারে ডলিকে দেখা যায় টাইট জিনস, গিটার, শ্যাগ স্টাইলের স্বর্ণালি চুল, লাল লিপস্টিক ও ভারী মেকআপে। চলতি সময়ের ‘ক্লিন গার্ল’ সৌন্দর্যধারার সঙ্গে তাঁর এই সাজ ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত।

তবে নিজের স্টাইল নিয়ে অন্যের মতামতকে কখনোই খুব গুরুত্ব দেননি ডলি। তিনি স্পষ্ট করে বলেছিলেন, কীভাবে মেকআপ করবেন বা কী পরবেন, তা নিয়ে অন্যরা কী ভাবছে, তাতে তাঁর কিছু যায় আসে না। ফ্যাশন অনুসরণ করাও তাঁর কাছে ছিল অপ্রয়োজনীয় ঝামেলা।

এমনকি মেকআপ নিয়ে তাঁর রসিকতাও ছিল অনন্য। ক্যালিফোর্নিয়ায় ভূমিকম্পের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেছিলেন, বেশিরভাগ সময় মেকআপ নিয়েই ঘুমান, কারণ হঠাৎ বাইরে বের হতে হলে টেলিভিশনের খবরে তাঁকে যেন খারাপ না দেখায়।

পুরুষতান্ত্রিক বাধার সামনেও আপসহীন

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে পুরুষেরা তাঁকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেছেন কি না জানতে চাইলে ডলির উত্তর ছিল আত্মবিশ্বাসী। তাঁকে খুব বেশি নিয়ন্ত্রণ করা সহজ নয়—এমনটাই জানিয়েছিলেন তিনি।

পুরুষদের স্বভাব সম্পর্কে ছোটবেলা থেকেই তাঁর ধারণা ছিল, কারণ তিনি বড় হয়েছেন অনেক পুরুষ সদস্যের পরিবারে। ঘরেই নিজের অবস্থান ধরে রাখতে শিখেছিলেন বলে কর্মজীবনেও নিজের পক্ষে দাঁড়াতে কখনো ভয় পাননি।

প্রজন্ম পেরিয়ে জনপ্রিয়তা

ডলির জনপ্রিয়তার আরেকটি বড় দিক ছিল তাঁর বৈচিত্র্যময় ভক্তগোষ্ঠী। ড্র্যাগ কুইনদের তাঁর সাজ ও চেহারা অনুকরণ করতে দেখলে তিনি আনন্দ পেতেন। বিশেষ করে লন্ডনে কনসার্টের সময় দর্শকদের মধ্যে একাধিক ‘ডলি’ দেখতে পাওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁকে আনন্দ দিত।

তাঁর গানও প্রজন্মের ব্যবধান মুছে দিয়েছে। ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত ‘Jolene’ তাঁর মৃত্যুর বহু দশক পরও তরুণ প্রজন্মের কাছে সমান পরিচিত ও জনপ্রিয়। নিজের সময়কে ছাড়িয়ে যাওয়া এই সাংস্কৃতিক প্রভাবই ডলি পার্টনকে কেবল একজন সংগীতশিল্পী নয়, এক অনন্য সাংস্কৃতিক আইকনে পরিণত করেছে।

ডলি পার্টন চলে গেলেও তাঁর গান, ব্যক্তিত্ব এবং নিজের মতো করে বেঁচে থাকার সাহস বহু প্রজন্মের শ্রোতার কাছে তাঁকে জীবন্ত করে রাখবে।

ডলি পার্টনের মৃত্যুতে শেষ হলো এক কিংবদন্তির অধ্যায়; তবে তাঁর গান ও স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্ব প্রজন্মের পর প্রজন্মে বেঁচে থাকবে।

ডলি পার্টন

ডলি পার্টনের মৃত্যু ও শেষ সময় পর্যন্ত কাজ করে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি, তাঁর কিংবদন্তি ক্যারিয়ার, অনন্য ব্যক্তিত্ব এবং প্রজন্ম পেরিয়ে জনপ্রিয় গান ‘Jolene’ নিয়ে এই প্রতিবেদন।

ডলি পার্টনের মৃত্যুতে কান্ট্রি সংগীত হারাল এক কিংবদন্তিকে। শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত কাজ করে যাওয়ার যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন, সেটিই হয়ে উঠেছিল তাঁর জীবনদর্শনের প্রতিচ্ছবি। তাঁর গান ও স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্ব কেন আজও প্রজন্মের কাছে এত জনপ্রিয়, জানুন প্রতিবেদনে।

#DollyParton #ডলিপার্টন #DollyPartonDeath #CountryMusic #Jolene #MusicLegend #কান্ট্রিমিউজিক #সারাক্ষণ