সারা দেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও যথাযথ মর্যাদায় বুধবার পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী পালিত হচ্ছে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও ওফাত স্মরণে দিনটি উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
ইসলামি ঐতিহ্যে গুরুত্বপূর্ণ এই দিন
হিজরি বর্ষপঞ্জির ১২ রবিউল আউয়াল, ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে মক্কায় মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) জন্মগ্রহণ করেন। মানবজাতির জন্য শান্তি ও কল্যাণের বার্তা নিয়ে তাঁর আগমন ইসলামের ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। একই দিনে তাঁর ওফাতও ঘটে।
দিনটি উপলক্ষে দেশের সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও স্থানগুলো জাতীয় ও বর্ণিল পতাকা এবং কালিমা তাইয়্যিবার বাণীসংবলিত ব্যানারে সজ্জিত করা হয়েছে।
বিভিন্ন কর্মসূচিতে ধর্মীয় আবহ
ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশন কিরাত, নাত পরিবেশন, কবিতা পাঠ, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা এবং আরবি খুতবা লেখার প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচির আয়োজন করেছে। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ প্লাজায় মাসব্যাপী ইসলামি বইমেলারও আয়োজন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম এ উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করছে। সংবাদপত্রগুলোতেও বিশেষ আয়োজন প্রকাশের কথা রয়েছে। বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোও যথাযথ মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে দিনটি পালন করছে।
শান্তি ও মানবতার বার্তা
ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে দেওয়া পৃথক বাণীতে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশসহ বিশ্বের মুসলিমদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে মহানবী (সা.)-এর জীবন ও কর্মে সত্য, ন্যায়, ক্ষমা, সহমর্মিতা এবং মানবিক মর্যাদার অনন্য দৃষ্টান্তের কথা তুলে ধরেন। এতিম, দরিদ্র, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি নারী, শিশু, প্রতিবেশী ও শ্রমজীবী মানুষের অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে তাঁর নির্দেশনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে যুদ্ধ, সংঘাত, সহিংসতা, বৈষম্য ও অসহিষ্ণুতার প্রেক্ষাপটে মহানবী (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহনশীলতা, ভালোবাসা ও মানবতার শিক্ষা আরও বেশি প্রাসঙ্গিক বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি সহিংসতা, ঘৃণা, বিভাজন ও অন্যায় পরিহার করে শান্তি, সম্প্রীতি, সমতা ও মানবিকতার ভিত্তিতে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রীও মহানবী (সা.)-এর জীবন ও শিক্ষাকে অনুসরণের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। সততা, বিশ্বস্ততা, ন্যায়বিচার, ক্ষমা, সহনশীলতা, সহমর্মিতা ও দানের আদর্শ ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে ধারণ করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
মহানবী (সা.) জাতি, বর্ণ, গোত্র, ভাষা ও সামাজিক অবস্থানের বিভেদ অতিক্রম করে মানবিক মর্যাদা ও অধিকারের যে শিক্ষা দিয়েছেন, তা অনুসরণের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ ও বিশ্বে শান্তি, ন্যায়, সমতা, সমৃদ্ধি ও মানবতার জন্য প্রার্থনা করেন।
মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও শিক্ষা
শান্তি, ন্যায়, মানবতা ও সহনশীলতার শিক্ষা অনুসরণ করে সুন্দর সমাজ গড়ার আহ্বান
ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে সারাদেশের আয়োজন ও রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর বার্তা
#ঈদেমিলাদুন্নবী #মহানবী #হজরত_মুহাম্মদ #ইসলাম #বাংলাদেশ #বায়তুলমোকাররম #ইসলামিকফাউন্ডেশন #ধর্মীয়উৎসব #শান্তি #মানবতা
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















