কান্ট্রি সংগীতের কিংবদন্তি ডলি পার্টন ৮০ বছর বয়সে মারা গেছেন। তাঁর পরিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় মৃত্যুর খবর জানিয়েছে।
পার্টনের ভাতিজা ব্রায়ান সিভার ভিডিও বার্তায় বলেন, “দুঃখ আমাদের, ডলির নয়।” তাঁর এই বক্তব্যে প্রিয় শিল্পীকে হারানোর গভীর বেদনার পাশাপাশি ডলি পার্টনের জীবনকে উদযাপনের একটি আবেগঘন বার্তাও উঠে এসেছে।
সাত দশকের সংগীতজীবন
ডলি পার্টনের সংগীতজীবন বিস্তৃত ছিল প্রায় সাত দশকজুড়ে। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি বিশ্বজুড়ে ১০ কোটির বেশি রেকর্ড বিক্রি করেন এবং লিখেছেন তিন হাজারেরও বেশি গান। তাঁর ঝুলিতে রয়েছে ১০টি গ্র্যামি পুরস্কার।

তবে বিপুল সাফল্যের পরও পার্টনের কাছে গান লেখাই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি নিজেকে মূলত একজন গীতিকার হিসেবেই দেখতেন। নিজের অনুভূতি প্রকাশের সবচেয়ে বড় মাধ্যম হিসেবে গানকে বেছে নিয়েছিলেন তিনি। তাঁর ভাষায়, গান লেখা ছিল তাঁর নিজের সঙ্গে কথা বলার এবং মানসিক ভার লাঘবের এক ধরনের পথ।
গান থেকে ব্যবসা—সবখানেই সাফল্য
ডলি পার্টন শুধু একজন গায়িকা বা গীতিকার ছিলেন না, তিনি ছিলেন বিচক্ষণ ব্যবসায়ীও। বিনোদন জগতে ছয় দশকের বেশি সময় ধরে নিজের ক্যারিয়ারের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতেই রেখেছিলেন।
দক্ষিণাঞ্চলীয় সহজ-সরল ব্যক্তিত্ব, তীক্ষ্ণ রসবোধ এবং দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছিল। কঠিন সিদ্ধান্ত নিতেও তিনি কখনো পিছপা হননি।
বিশ্বসংগীতে অনন্য উত্তরাধিকার
ডলি পার্টনের জীবন ছিল সংগ্রাম, প্রতিভা, সৃজনশীলতা ও সাফল্যের এক অসাধারণ গল্প। সংগীতের পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিত্ব ও ব্যবসায়িক দূরদর্শিতাও তাঁকে বিশ্বজুড়ে একটি অনন্য সাংস্কৃতিক প্রতীকে পরিণত করে।
তাঁর লেখা অসংখ্য গান প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মানুষের কাছে পৌঁছেছে। মৃত্যুর মধ্য দিয়ে তাঁর জীবনের অধ্যায় শেষ হলেও তাঁর গান ও সংগীতের উত্তরাধিকার দীর্ঘদিন ধরে বেঁচে থাকবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















