ব্রিটিশ ডানপন্থী উসকানিদাতা ও সাবেক ইয়েজি নির্বাহী মিলো ইয়ান্নোপোলোসকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে যুক্তরাজ্যে ফেরত পাঠানো হয়েছে। মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ শনিবার এ তথ্য জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার লুই আর্মস্ট্রং নিউ অরলিন্স আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইয়ান্নোপোলোসকে আটক করে মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার (আইস) কর্মকর্তারা। স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের এক মুখপাত্রের বিবৃতিতে তাকে যুক্তরাজ্যের একজন ‘অবৈধ অভিবাসী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
অভিবাসন আইনে অবস্থানের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অভিযোগ
বিভাগটি জানায়, ইয়ান্নোপোলোস ২০১৯ সালে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। তবে পরে তার অনুমোদিত অবস্থানের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তিনি দেশটিতে অবস্থান করেন। গত ২২ জুলাই একটি অভিবাসন আদালত তাকে অপসারণের চূড়ান্ত আদেশ দেয়। কারণ, নির্ধারিত অভিবাসন শুনানিতে তিনি উপস্থিত হননি।
ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিদেশিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা জোরদার করছে বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়। প্রশাসনের লক্ষ্য, এ ধরনের ব্যক্তিরা যেন যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে আর বিমানে ভ্রমণ করতে না পারেন, বরং দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার পথেই বিমানে উঠতে পারেন।
ইয়ান্নোপোলোসের প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগের তাৎক্ষণিক চেষ্টা সফল হয়নি।
মার্কিন রাজনীতিতে বিতর্কিত উত্থান

ইংল্যান্ডে জন্ম নেওয়া ইয়ান্নোপোলোস ২০১৬ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক উত্থানের সময় যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক পরিচিতি পান। সে সময় তিনি স্টিফেন কে. ব্যাননের ব্রেইটবার্টে সম্পাদক হিসেবে কাজ করতেন এবং অল্ট-রাইট আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।
তবে মূলধারার রক্ষণশীল রাজনীতিতে তিনি কখনোই গ্রহণযোগ্যতা পাননি। নারীবিদ্বেষী মন্তব্য, শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী ও ইহুদিবিদ্বেষীদের সঙ্গে তার যোগাযোগ এবং বিভিন্ন বিতর্কিত বক্তব্য তাকে রাজনৈতিকভাবে আরও বিতর্কিত করে তোলে। ১৩ বছর বয়সী এক কিশোর ও প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির সম্পর্ক সম্মতিপূর্ণ হতে পারে—এমন মন্তব্যের পর তিনি বই প্রকাশ ও বক্তৃতার বিভিন্ন সুযোগ হারান।
পরবর্তী সময়ে ডানপন্থী রাজনীতির আলোচনায় তার উপস্থিতি অনেকটাই কমে যায়। নিজেকে ‘সমকামিতা থেকে বেরিয়ে আসা ব্যক্তি’ হিসেবে নতুনভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেন এবং তৎকালীন প্রতিনিধি মার্জরি টেলর গ্রিনের জন্য অবৈতনিক ইন্টার্ন হিসেবেও কাজ করেন।
ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্কেও পরিবর্তন
ইয়ান্নোপোলোসের ট্রাম্প-সমর্থন সময়ের সঙ্গে দুর্বল হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি প্রেসিডেন্টের সমালোচনাও করেছেন। গত ডিসেম্বরে টাকার কার্লসনের অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন তিনি। কার্লসনের নতুন প্রকাশনা উদ্যোগ থেকে ইয়ান্নোপোলোসের একটি বই প্রকাশের পরিকল্পনাও ছিল।
এদিকে ট্রাম্পের আরেক সাবেক সমর্থক ক্যান্ডেস ওওয়েন্সের পডকাস্টেও গত বছর তাকে দেখা যায়।

লরা লুমারের অভিযোগ ও ইয়েজি অধ্যায়
ট্রাম্পপন্থী প্রভাবশালী ব্লগার লরা লুমার দাবি করেছেন, ২০২৪ সাল থেকে তিনি ইয়ান্নোপোলোসের অভিবাসন পরিস্থিতি নিয়ে আইস, স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ ও এফবিআইকে বারবার জানিয়েছেন। ইয়ান্নোপোলোস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে সহিংসতার আহ্বান জানিয়ে হুমকিমূলক পোস্ট দেওয়ার পর তিনি এফবিআইয়ের কাছেও অভিযোগ করেন।
ইয়ান্নোপোলোসের আটকের পেছনে নিজের ভূমিকার কৃতিত্বও দাবি করেছেন লুমার। তবে তার এই দাবির বিষয়ে স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
ইয়ান্নোপোলোস র্যাপার কানিয়ে ওয়েস্টের মালিকানাধীন ইয়েজিতে চিফ অব স্টাফ হিসেবেও কাজ করেছেন। ২০২২ সালে ওয়েস্ট ও ট্রাম্পের সঙ্গে এক নৈশভোজে শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী নিক ফুয়েন্তেসকে আমন্ত্রণ জানানোর দায়ও তিনি নিজে স্বীকার করেছিলেন। এ নিয়ে ট্রাম্প ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন। ২০২৪ সালে ওয়েস্টের প্রাপ্তবয়স্ক বিনোদন ব্যবসায় প্রবেশের প্রতিবেদনের প্রতিবাদে ইয়ান্নোপোলোস ইয়েজি থেকে পদত্যাগ করেন।
পরে আট কর্মী ইয়ান্নোপোলোস ও ওয়েস্টের বিরুদ্ধে কর্মক্ষেত্রে বৈরী পরিবেশ তৈরির অভিযোগে মামলা করেন। ইয়ান্নোপোলোস অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















