০১:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
বাবাকে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়ে নরওয়ের নতুন রাজা হাকনের প্রথম ভাষণ কুসরায় ফিলিস্তিনি বাড়িতে আবারও বসতি স্থাপনকারীদের হামলা, ঘরে আটকা ৭ জন সকালে অ্যালার্ম বন্ধ করে আবার ঘুম? প্রতিদিনের এই অভ্যাস কতটা ভালো স্ট্রোকের লক্ষণ চিনুন, সময়মতো জীবন বাঁচান পেটের ভেতরের ক্ষতিকর চর্বি কমাতে ৩০ দিনের প্রদাহরোধী খাবারের পরিকল্পনা পাকিস্তানের সামনে এখন প্রশ্নটা ‘কে’ নয়, ‘কীভাবে’ হিনা জাভেদ হত্যা মামলায় স্বামী ও গৃহকর্মীর রিমান্ড বাড়ল বিলাওয়াল ভুট্টোর বিয়ে নিয়ে জোর গুঞ্জন, পাত্রী  লিশটেনস্টাইনের ভাদুজের ? স্কুলের বাগানে বীজের সঙ্গে বেড়ে উঠছে শিশুদের কৌতূহল, আত্মবিশ্বাস ও প্রকৃতিপ্রেম শিশুদের সুস্থতা ও পৃথিবীর সুরক্ষা—ছোট অভ্যাসেই তৈরি হোক সবুজ ভবিষ্যৎ

নেপালে বন্যায় শনাক্তহীন মরদেহ দাফন, ডিএনএ মিললে পরে তোলা হবে

ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বাড়তে থাকায় শনাক্তহীন ও দাবিদারহীন মরদেহ দাফনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নেপাল। মরদেহ দ্রুত পচে যাওয়ায় সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হওয়া এবং হাসপাতাল ও অস্থায়ী সংরক্ষণকেন্দ্রে জায়গার সংকটের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের সুযোগ রাখতে প্রতিটি মরদেহের ডিএনএ নমুনা ও বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছে।

বন্যায় এখন পর্যন্ত ৬৭৫ মরদেহ উদ্ধার

বুধবার সকালে নেপালের বিভিন্ন এলাকা দিয়ে পানি ও কাদার ভয়াবহ স্রোত বয়ে যাওয়ার পর উদ্ধার অভিযান চালিয়ে এ পর্যন্ত অন্তত ৬৭৫টি মরদেহ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ভারতের সীমান্তবর্তী দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা চিতওয়ানে উদ্ধার হয়েছে সবচেয়ে বেশি, ২৩৩টি মরদেহ।

চিতওয়ানে উদ্ধার হওয়া মরদেহ সংরক্ষণে বড় ধরনের সংকট দেখা দেয়। হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত জায়গা ও প্রয়োজনীয় সুবিধা না থাকায় একটি বাড়িকে অস্থায়ী শীতল সংরক্ষণকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। কিন্তু সেখানেও মরদেহ রাখার জায়গা শেষ হয়ে যায়। একই সঙ্গে মরদেহের পচন ও দুর্গন্ধ বাড়তে থাকায় স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেন বিশেষজ্ঞরা।

এই পরিস্থিতিতে শনিবার কর্তৃপক্ষ মরদেহগুলো দাফনের সিদ্ধান্ত নেয়।

Nepal to bury 229 unidentified bodies recovered after devastating floods -  Newswav

ডিএনএ নমুনা ও আলাদা পরিচয় নম্বর

দাফনের আগে প্রতিটি মরদেহ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করছেন কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে মরদেহের জন্য আলাদা শনাক্তকরণ নম্বর দেওয়া হচ্ছে এবং কোথা থেকে মরদেহ উদ্ধার হয়েছে, সেই তথ্যও নথিভুক্ত করা হচ্ছে।

শনিবার বিকেল পর্যন্ত শতাধিক মরদেহের ডিএনএ প্রোফাইলিং সম্পন্ন হয়েছিল এবং সেগুলো দাফনের জন্য প্রস্তুত ছিল। কর্মকর্তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে কোনো স্বজনের ডিএনএ পরীক্ষার সঙ্গে মরদেহের নমুনার মিল পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট মরদেহের নম্বর শনাক্ত করা হবে।

দাফনের স্থানও থাকবে নথিভুক্ত

দাফনের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে মরদেহ তোলার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। প্রতিটি গর্ত প্রায় দেড় মিটার গভীর করে খোঁড়া হচ্ছে। পাশাপাশি মরদেহগুলোর মধ্যে প্রায় ৪০ সেন্টিমিটার দূরত্ব রাখা হচ্ছে, যাতে ডিএনএ পরীক্ষায় শনাক্ত হওয়া নির্দিষ্ট মরদেহটি অন্যগুলোকে বিরক্ত না করে তোলা যায়।

Nepal Flash Floods: Nepal To Bury Unidentified Flood Victims. How They Will  Be Identified Later

মরদেহগুলো নম্বরযুক্ত ব্যাগে রাখা হচ্ছে। প্রতিটি দাফনস্থলে কংক্রিটের প্ল্যাটফর্ম ও সাইনবোর্ড স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে সংশ্লিষ্ট মরদেহের পরিচয় নম্বর উল্লেখ থাকবে। দাফনের পুরো প্রক্রিয়া ছবি ও ভিডিওতে নথিভুক্ত করার পাশাপাশি স্থানগুলো জিও-ট্যাগ করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

স্বজনদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ

নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজতে পরিবারের সদস্যদের দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডিএনএ নমুনা দিতে হবে। পরীক্ষার ফল পাওয়ার পর নেপালের স্বাস্থ্য বিভাগ তা দাফন করা মরদেহগুলোর সংরক্ষিত ডিএনএর সঙ্গে মিলিয়ে দেখবে। মিল পাওয়া গেলে মরদেহের পরিচয় নম্বরের ভিত্তিতে পুলিশ নথি দেখে তার দাফনস্থল নির্ধারণ করবে। এরপর মরদেহটি কবর থেকে তুলে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

নেপাল পুলিশ শনাক্তহীন ও দাবিদারহীন মরদেহের তথ্য অনলাইনেও প্রকাশ করেছে। কর্মকর্তাদের হিসাবে, দেশটিতে এখনো ২ হাজার ৪২৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকশ বিদেশিও রয়েছেন।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

বাবাকে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়ে নরওয়ের নতুন রাজা হাকনের প্রথম ভাষণ

নেপালে বন্যায় শনাক্তহীন মরদেহ দাফন, ডিএনএ মিললে পরে তোলা হবে

১১:৫৪:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বাড়তে থাকায় শনাক্তহীন ও দাবিদারহীন মরদেহ দাফনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নেপাল। মরদেহ দ্রুত পচে যাওয়ায় সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হওয়া এবং হাসপাতাল ও অস্থায়ী সংরক্ষণকেন্দ্রে জায়গার সংকটের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের সুযোগ রাখতে প্রতিটি মরদেহের ডিএনএ নমুনা ও বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছে।

বন্যায় এখন পর্যন্ত ৬৭৫ মরদেহ উদ্ধার

বুধবার সকালে নেপালের বিভিন্ন এলাকা দিয়ে পানি ও কাদার ভয়াবহ স্রোত বয়ে যাওয়ার পর উদ্ধার অভিযান চালিয়ে এ পর্যন্ত অন্তত ৬৭৫টি মরদেহ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ভারতের সীমান্তবর্তী দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা চিতওয়ানে উদ্ধার হয়েছে সবচেয়ে বেশি, ২৩৩টি মরদেহ।

চিতওয়ানে উদ্ধার হওয়া মরদেহ সংরক্ষণে বড় ধরনের সংকট দেখা দেয়। হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত জায়গা ও প্রয়োজনীয় সুবিধা না থাকায় একটি বাড়িকে অস্থায়ী শীতল সংরক্ষণকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। কিন্তু সেখানেও মরদেহ রাখার জায়গা শেষ হয়ে যায়। একই সঙ্গে মরদেহের পচন ও দুর্গন্ধ বাড়তে থাকায় স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেন বিশেষজ্ঞরা।

এই পরিস্থিতিতে শনিবার কর্তৃপক্ষ মরদেহগুলো দাফনের সিদ্ধান্ত নেয়।

Nepal to bury 229 unidentified bodies recovered after devastating floods -  Newswav

ডিএনএ নমুনা ও আলাদা পরিচয় নম্বর

দাফনের আগে প্রতিটি মরদেহ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করছেন কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে মরদেহের জন্য আলাদা শনাক্তকরণ নম্বর দেওয়া হচ্ছে এবং কোথা থেকে মরদেহ উদ্ধার হয়েছে, সেই তথ্যও নথিভুক্ত করা হচ্ছে।

শনিবার বিকেল পর্যন্ত শতাধিক মরদেহের ডিএনএ প্রোফাইলিং সম্পন্ন হয়েছিল এবং সেগুলো দাফনের জন্য প্রস্তুত ছিল। কর্মকর্তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে কোনো স্বজনের ডিএনএ পরীক্ষার সঙ্গে মরদেহের নমুনার মিল পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট মরদেহের নম্বর শনাক্ত করা হবে।

দাফনের স্থানও থাকবে নথিভুক্ত

দাফনের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে মরদেহ তোলার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। প্রতিটি গর্ত প্রায় দেড় মিটার গভীর করে খোঁড়া হচ্ছে। পাশাপাশি মরদেহগুলোর মধ্যে প্রায় ৪০ সেন্টিমিটার দূরত্ব রাখা হচ্ছে, যাতে ডিএনএ পরীক্ষায় শনাক্ত হওয়া নির্দিষ্ট মরদেহটি অন্যগুলোকে বিরক্ত না করে তোলা যায়।

Nepal Flash Floods: Nepal To Bury Unidentified Flood Victims. How They Will  Be Identified Later

মরদেহগুলো নম্বরযুক্ত ব্যাগে রাখা হচ্ছে। প্রতিটি দাফনস্থলে কংক্রিটের প্ল্যাটফর্ম ও সাইনবোর্ড স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে সংশ্লিষ্ট মরদেহের পরিচয় নম্বর উল্লেখ থাকবে। দাফনের পুরো প্রক্রিয়া ছবি ও ভিডিওতে নথিভুক্ত করার পাশাপাশি স্থানগুলো জিও-ট্যাগ করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

স্বজনদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ

নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজতে পরিবারের সদস্যদের দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডিএনএ নমুনা দিতে হবে। পরীক্ষার ফল পাওয়ার পর নেপালের স্বাস্থ্য বিভাগ তা দাফন করা মরদেহগুলোর সংরক্ষিত ডিএনএর সঙ্গে মিলিয়ে দেখবে। মিল পাওয়া গেলে মরদেহের পরিচয় নম্বরের ভিত্তিতে পুলিশ নথি দেখে তার দাফনস্থল নির্ধারণ করবে। এরপর মরদেহটি কবর থেকে তুলে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

নেপাল পুলিশ শনাক্তহীন ও দাবিদারহীন মরদেহের তথ্য অনলাইনেও প্রকাশ করেছে। কর্মকর্তাদের হিসাবে, দেশটিতে এখনো ২ হাজার ৪২৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকশ বিদেশিও রয়েছেন।