দৌলতপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ নিচু এলাকা এখনো বন্যার পানিতে তলিয়ে আছে। এতে এক হাজার হেক্টরের বেশি জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ এখনো পানিবন্দি অবস্থায় দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছেন।
কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী, গত তিন দিনে পদ্মা নদীর পানি প্রায় ১৫ সেন্টিমিটার কমেছে। এতে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও দুর্গত মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফেরেনি। অনেক এলাকায় এখনো যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন এবং প্রয়োজনীয় সেবা পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
রামকৃষ্ণপুরের বাসিন্দা বৃদ্ধ আবদুল মজিদ বলেন, আশপাশের গ্রামগুলো পানিতে তলিয়ে থাকায় বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ করতে মানুষকে অনেক দূরে যেতে হচ্ছে। এতে নারী, শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
তিনি বলেন, “আমাদের এখনই শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসা প্রয়োজন।”
চিলমারী ইউনিয়নের উদয়নগর গ্রামের গৃহিণী রহিমা খাতুন জানান, পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে ডায়রিয়া, আমাশয় ও চর্মরোগের ঘটনা বাড়ছে। সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন শিশুদের নিয়ে।
তিনি বলেন, “আমরা সন্তানদের নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন। বিশুদ্ধ পানিও পাচ্ছি না।”
দুর্গত এলাকাগুলোতে দ্রুত স্বাস্থ্য শিবির স্থাপন এবং খাদ্য সহায়তা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।
সাম্প্রতিক বন্যায় পদ্মার তীরবর্তী বিস্তীর্ণ নিচু এলাকা প্লাবিত হয়ে এক হাজার হেক্টরের বেশি ফসলের ক্ষতি হয়েছে। চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ এখনো বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দুর্গত অনেক এলাকায় এখনো পর্যাপ্ত চিকিৎসা ও সরকারি ত্রাণ পৌঁছেনি। এতে বন্যার্তদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।
দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল হাসান তুহিন বলেন, বন্যার পানি কমে যাওয়ার সময় পানিবাহিত ও কীটপতঙ্গবাহিত রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এ পরিস্থিতিতে রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসা দিতে স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশাপাশি দুটি ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা দল চরাঞ্চলে কাজ করছে।
তিনি জানান, বন্যার পর সাপের উপদ্রব ও সাপের কামড়ের ঝুঁকি বিবেচনায় পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম মজুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, খাবার স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণও বাড়ানো হয়েছে।
দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনিন্দ্য গুহ বলেন, পদ্মা নদীর পানি কমতে শুরু করায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে বন্যার পানি নামার পর তৈরি হওয়া স্বাস্থ্যঝুঁকি ও মানুষের দুর্ভোগ মোকাবিলায় প্রশাসন সতর্ক রয়েছে।
তিনি বলেন, চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নসহ দুর্গম চরাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য ও পানি সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও চিকিৎসা দলগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছেন। দুর্গত এলাকায় স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করা, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করা এবং গবাদিপশুর জন্য খাদ্য সরবরাহ অব্যাহত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে স্থানীয়দের ভাষ্য, পানি কমে গেলেই দুর্ভোগ শেষ হচ্ছে না। বরং বন্যার পরবর্তী সময়ে নিরাপদ পানি, চিকিৎসা, খাদ্য ও স্যানিটেশনের সংকট মোকাবিলাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত সহায়তা না বাড়ালে দুর্গত এলাকায় পানিবাহিত রোগের বিস্তার আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















