০২:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রুশ পার্লামেন্টে কি ফের পুতিনপন্থীদের দখল থাকবে? শি জিনপিংয়ের নৈশভোজে জায়গা পাওয়া ‘কঠিন টিকিট’, অতিথির সংখ্যা সীমিত রাখছে হোয়াইট হাউস ট্রাম্প-মেলানিয়ার ‘ডাবল ডেট’—হোয়াইট হাউসে শি-পেংকে ঘিরে নজিরবিহীন আয়োজন চীনের বিরুদ্ধে মার্কিন কংগ্রেসে চাপ বাড়ছে, শি জিনপিংয়ের সফরের আগে ট্রাম্পের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ একা থাকা কি আত্মভালোবাসা, নাকি নিঃসঙ্গতার আড়াল? চিকিৎসকের কাছে গিয়েও কেন শোনা হচ্ছে না নারীর কথা, স্বাস্থ্য সমস্যার প্রভাব কর্মজীবন থেকে পরিবারে এআই নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-চীন কি একসঙ্গে কাজ করতে পারে? ডায়ানার মৃত্যুর পর চার্লসের প্রতিক্রিয়া নিয়ে বিস্ফোরক দাবি, ভাইয়ের বই ঘিরে রাজপরিবারে তোলপাড় ডলি পার্টনের সঙ্গে শেষ কথোপকথন, আবেগে ভেঙে পড়লেন মাইলি সাইরাস ভোট দিতে দেশে ফিরছেন হাজারো ইসরায়েলি, তাদের ঠেকাতে নেতানিয়াহুর দলের চেষ্টা

ডলি পার্টনের সঙ্গে শেষ কথোপকথন, আবেগে ভেঙে পড়লেন মাইলি সাইরাস

মাইলি সাইরাসের জীবনে ডলি পার্টন শুধু একজন কিংবদন্তি গায়িকা ছিলেন না, ছিলেন একজন অভিভাবকের মতো, পরামর্শদাতা এবং জীবনের কঠিন সময়ে নির্ভরতার জায়গা। তাই গত আগস্টে ডলি পার্টনের মৃত্যুর পর তাঁর শূন্যতা যে মাইলির জন্য কতটা গভীর, তা নতুন করে ফুটে উঠেছে গায়িকার সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে।

ডলি পার্টন গত ২৫ আগস্ট ৮০ বছর বয়সে মারা যান। দীর্ঘ সংগীতজীবনে তিনি হয়ে উঠেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের কান্ট্রি সংগীতের অন্যতম বড় প্রতীক। মৃত্যুর আগে অল্প সময়ের জন্য ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করেছিলেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে সংগীতাঙ্গনে নেমে আসে গভীর শোক। মাইলি সম্প্রতি ডিজে ও সংগীত প্রযোজক জেইন লোয়ের অ্যাপল মিউজিক অনুষ্ঠানে কথা বলতে গিয়ে ডলির সঙ্গে তাঁর শেষ কথোপকথনের কথা স্মরণ করেন। সেখানে নিজের নতুন অ্যালবাম ‘Bass Persuades’ নিয়েই ডলির সঙ্গে তাঁর শেষবার কথা হয়েছিল বলে জানান তিনি।

কথা বলতে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারছিলেন না মাইলি। তিনি জানান, নতুন কোনো ভিনাইল রেকর্ড তৈরি হলে সেটি সবার আগে ডলির কাছেই পাঠানো ছিল তাঁর দীর্ঘদিনের অভ্যাস। নতুন অ্যালবামের ক্ষেত্রেও সেই অভ্যাস বদলাতে চান না তিনি।

Miley Cyrus opens up about her final conversation with godmother Dolly  Parton

মাইলি বলেন, এবারও তিনি ডলির জন্য একটি ভিনাইল পাঠাবেন—কারণ তিনি সবসময়ই তা করতেন। কথাটি বলতে গিয়ে কিছুক্ষণ থেমে যান তিনি। বোঝা যাচ্ছিল, প্রিয় মানুষটির অনুপস্থিতি এখনো তাঁর কাছে বাস্তব হয়ে ওঠেনি।

শেষ কথোপকথনের প্রসঙ্গে মাইলি জানান, সেই সময় তিনি ডলিকে তাঁর নতুন রেকর্ড সম্পর্কে বলছিলেন। সংগীত নিয়ে তাঁদের আলোচনা ছিল স্বাভাবিক ও আন্তরিক। কিন্তু পরে সেটিই যে তাঁদের শেষ আলাপ হয়ে থাকবে, তখন তা কেউ জানতেন না।

মাইলির কাছে তাঁদের সম্পর্কের সবচেয়ে বিশেষ দিক ছিল—তাঁরা দুজন একে অপরের থেকে অনেকটাই আলাদা হয়েও একে অন্যকে গভীরভাবে বুঝতেন। ডলির ঝলমলে চেহারা, সাজসজ্জা, চুল, মেকআপ এবং মঞ্চের বিশাল উপস্থিতির আড়ালে যে অত্যন্ত বাস্তব ও খাঁটি একজন মানুষ ছিলেন, সেটিই মাইলিকে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করত।

মাইলির ভাষায়, ডলির বাহ্যিক চাকচিক্য ছিল তাঁর প্রকাশ্য পরিচয়ের একটি অংশ। কিন্তু মানুষ তাঁর প্রতি আকৃষ্ট হতো মূলত তাঁর সত্যিকারের স্বভাবের জন্য। এই দ্বৈততা—একদিকে তারকা-পরিচয়, অন্যদিকে একেবারে স্বাভাবিক ও খাঁটি মানুষ হয়ে থাকা—মাইলির নিজের জীবনেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।

বিশেষ করে ‘হান্না মন্টানা’ পর্বে এই শিক্ষা মাইলির জন্য বড় ভূমিকা রাখে। ছোট বয়সেই বিশ্বজোড়া খ্যাতি পাওয়া মাইলিকে নিজের ব্যক্তিগত পরিচয় ও মঞ্চের চরিত্রের মধ্যে ভারসাম্য খুঁজে নিতে হয়েছিল। ডলিকে পাশে দেখে তিনি বুঝেছিলেন, একজন মানুষ একই সঙ্গে একটি ‘চরিত্র’ বা জনসম্মুখের পরিচয় ধারণ করতে পারেন, আবার নিজের সত্যিকারের সত্তাকেও ধরে রাখতে পারেন।

ডলি পার্টন মাইলির জীবনে শুধু পারিবারিক সম্পর্কের কারণে গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন না, বরং খ্যাতির চাপ সামলানোর ক্ষেত্রেও তিনি ছিলেন এক ধরনের পথপ্রদর্শক। মাইলি বলেন, তাঁর জীবনে আগের প্রজন্মের এমন কিছু মানুষ ছিলেন, যাঁরা তাঁকে স্থির থাকতে সাহায্য করেছেন। তাঁদের অভিজ্ঞতায় তৈরি পথ ধরেই পরবর্তী প্রজন্ম এগিয়ে যাচ্ছে।

কিন্তু সেই মানুষগুলো একদিন আর পাশে থাকবেন না—এ বাস্তবতাও এখন মাইলি উপলব্ধি করছেন। তিনি বলছিলেন, এমন একটা সময় ছিল যখন কোনো বিষয়ে দ্বিধায় পড়লে ডলিকে ফোন করে জিজ্ঞেস করতেন, ‘এখন আমি কী করব?’

Miley Cyrus Reveals Emotional Last Conversation With Late Godmother Dolly  Parton 3 Weeks After Her Death - Yahoo News Singapore

মাইলির কাছে ডলি ছিলেন এমন একজন মানুষ, যাঁর পরামর্শ নিয়ে খুব বেশি সন্দেহ করার প্রয়োজন হতো না। তাঁর ভাষায়, ডলি অনেক সময়ই ঠিক বলতেন।

বিশেষ করে মাইলি যখন মঞ্চে ফেরার ব্যাপারে দ্বিধায় থাকতেন বা কোনো কারণে আত্মবিশ্বাস হারাতেন, ডলি তাঁকে খুব সহজভাবে উৎসাহ দিতেন। তাঁর পরামর্শের ধরনও ছিল ডলির মতোই স্বতঃস্ফূর্ত—চুল একটু সাজিয়ে নিতে, নিজের পছন্দের একটি পোশাক পরতে এবং আবার মঞ্চে উঠে যেতে বলতেন তিনি।

এই ছোট ছোট কথাগুলোই মাইলির কাছে এখন বিশাল স্মৃতি হয়ে আছে।

মাইলির বাবা বিলি রে সাইরাসের সঙ্গে ডলি পার্টনের দীর্ঘ বন্ধুত্বের সূত্রেই মাইলির জীবনে ডলির প্রবেশ। পরে ডলি তাঁর ধর্মমা বা গডমাদার হন। ‘হান্না মন্টানা’ সিরিজেও ডলি মাইলির চরিত্রের ‘আন্টি ডলি’ হিসেবে হাজির হয়েছিলেন। পর্দার সেই সম্পর্ক বাস্তব জীবনেও গভীর বন্ধনে রূপ নেয়।

দুজনের সম্পর্ক সংগীতের ক্ষেত্রেও ছিল বিশেষ। তাঁরা একসঙ্গে মঞ্চে গান করেছেন, একে অপরের কাজকে সমর্থন করেছেন এবং বিভিন্ন সময়ে ব্যক্তিগতভাবেও পরামর্শ বিনিময় করেছেন। ২০২৩ সালের নববর্ষের অনুষ্ঠানে তাঁদের একসঙ্গে ‘I Will Always Love You’ পরিবেশনও ভক্তদের কাছে স্মরণীয় হয়ে আছে।

ডলির মৃত্যুর পর মাইলি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছিলেন, তাঁদের সবচেয়ে মূল্যবান মুহূর্তগুলো ছিল ব্যক্তিগত এবং সেগুলো তিনি ব্যক্তিগতই রাখতে চান। তিনি আরও বলেছিলেন, ডলি চাইতেন তিনি নিজের অনুভূতিকে অনুভব করুন, তা গান হয়ে প্রকাশ করুন এবং তারপরও শক্তভাবে সামনে এগিয়ে যান।

এখন নতুন অ্যালবাম প্রকাশের সময় ডলির অনুপস্থিতি মাইলির কাছে আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। কারণ জীবনের প্রতিটি নতুন সংগীতযাত্রায় যাঁর কাছে প্রথমে নিজের কাজ পাঠাতেন, এবার সেই মানুষটি আর ফোনের ওপারে নেই।

তবু মাইলির কথায় স্পষ্ট—ডলি তাঁর কাছ থেকে হারিয়ে গেলেও তাঁর দেওয়া শিক্ষা, সাহস এবং সংগীতের প্রতি ভালোবাসা হারিয়ে যায়নি। বরং ডলির স্মৃতি এখন মাইলির নিজের শিল্পীসত্তারই একটি অংশ।

ডলি পার্টনের চলে যাওয়ায় শুধু একজন কিংবদন্তি শিল্পীকে হারাননি মাইলি; হারিয়েছেন এমন একজন মানুষকে, যাঁকে প্রয়োজনের সময়ে ফোন করে বলতে পারতেন—‘এখন কী করব?’ সেই ফোনকলের সুযোগ আর নেই। কিন্তু ডলির দেওয়া উত্তরগুলোই হয়তো এখন থেকে মাইলির পথচলার নীরব সঙ্গী হয়ে থাকবে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

রুশ পার্লামেন্টে কি ফের পুতিনপন্থীদের দখল থাকবে?

ডলি পার্টনের সঙ্গে শেষ কথোপকথন, আবেগে ভেঙে পড়লেন মাইলি সাইরাস

০১:০২:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মাইলি সাইরাসের জীবনে ডলি পার্টন শুধু একজন কিংবদন্তি গায়িকা ছিলেন না, ছিলেন একজন অভিভাবকের মতো, পরামর্শদাতা এবং জীবনের কঠিন সময়ে নির্ভরতার জায়গা। তাই গত আগস্টে ডলি পার্টনের মৃত্যুর পর তাঁর শূন্যতা যে মাইলির জন্য কতটা গভীর, তা নতুন করে ফুটে উঠেছে গায়িকার সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে।

ডলি পার্টন গত ২৫ আগস্ট ৮০ বছর বয়সে মারা যান। দীর্ঘ সংগীতজীবনে তিনি হয়ে উঠেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের কান্ট্রি সংগীতের অন্যতম বড় প্রতীক। মৃত্যুর আগে অল্প সময়ের জন্য ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করেছিলেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে সংগীতাঙ্গনে নেমে আসে গভীর শোক। মাইলি সম্প্রতি ডিজে ও সংগীত প্রযোজক জেইন লোয়ের অ্যাপল মিউজিক অনুষ্ঠানে কথা বলতে গিয়ে ডলির সঙ্গে তাঁর শেষ কথোপকথনের কথা স্মরণ করেন। সেখানে নিজের নতুন অ্যালবাম ‘Bass Persuades’ নিয়েই ডলির সঙ্গে তাঁর শেষবার কথা হয়েছিল বলে জানান তিনি।

কথা বলতে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারছিলেন না মাইলি। তিনি জানান, নতুন কোনো ভিনাইল রেকর্ড তৈরি হলে সেটি সবার আগে ডলির কাছেই পাঠানো ছিল তাঁর দীর্ঘদিনের অভ্যাস। নতুন অ্যালবামের ক্ষেত্রেও সেই অভ্যাস বদলাতে চান না তিনি।

Miley Cyrus opens up about her final conversation with godmother Dolly  Parton

মাইলি বলেন, এবারও তিনি ডলির জন্য একটি ভিনাইল পাঠাবেন—কারণ তিনি সবসময়ই তা করতেন। কথাটি বলতে গিয়ে কিছুক্ষণ থেমে যান তিনি। বোঝা যাচ্ছিল, প্রিয় মানুষটির অনুপস্থিতি এখনো তাঁর কাছে বাস্তব হয়ে ওঠেনি।

শেষ কথোপকথনের প্রসঙ্গে মাইলি জানান, সেই সময় তিনি ডলিকে তাঁর নতুন রেকর্ড সম্পর্কে বলছিলেন। সংগীত নিয়ে তাঁদের আলোচনা ছিল স্বাভাবিক ও আন্তরিক। কিন্তু পরে সেটিই যে তাঁদের শেষ আলাপ হয়ে থাকবে, তখন তা কেউ জানতেন না।

মাইলির কাছে তাঁদের সম্পর্কের সবচেয়ে বিশেষ দিক ছিল—তাঁরা দুজন একে অপরের থেকে অনেকটাই আলাদা হয়েও একে অন্যকে গভীরভাবে বুঝতেন। ডলির ঝলমলে চেহারা, সাজসজ্জা, চুল, মেকআপ এবং মঞ্চের বিশাল উপস্থিতির আড়ালে যে অত্যন্ত বাস্তব ও খাঁটি একজন মানুষ ছিলেন, সেটিই মাইলিকে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করত।

মাইলির ভাষায়, ডলির বাহ্যিক চাকচিক্য ছিল তাঁর প্রকাশ্য পরিচয়ের একটি অংশ। কিন্তু মানুষ তাঁর প্রতি আকৃষ্ট হতো মূলত তাঁর সত্যিকারের স্বভাবের জন্য। এই দ্বৈততা—একদিকে তারকা-পরিচয়, অন্যদিকে একেবারে স্বাভাবিক ও খাঁটি মানুষ হয়ে থাকা—মাইলির নিজের জীবনেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।

বিশেষ করে ‘হান্না মন্টানা’ পর্বে এই শিক্ষা মাইলির জন্য বড় ভূমিকা রাখে। ছোট বয়সেই বিশ্বজোড়া খ্যাতি পাওয়া মাইলিকে নিজের ব্যক্তিগত পরিচয় ও মঞ্চের চরিত্রের মধ্যে ভারসাম্য খুঁজে নিতে হয়েছিল। ডলিকে পাশে দেখে তিনি বুঝেছিলেন, একজন মানুষ একই সঙ্গে একটি ‘চরিত্র’ বা জনসম্মুখের পরিচয় ধারণ করতে পারেন, আবার নিজের সত্যিকারের সত্তাকেও ধরে রাখতে পারেন।

ডলি পার্টন মাইলির জীবনে শুধু পারিবারিক সম্পর্কের কারণে গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন না, বরং খ্যাতির চাপ সামলানোর ক্ষেত্রেও তিনি ছিলেন এক ধরনের পথপ্রদর্শক। মাইলি বলেন, তাঁর জীবনে আগের প্রজন্মের এমন কিছু মানুষ ছিলেন, যাঁরা তাঁকে স্থির থাকতে সাহায্য করেছেন। তাঁদের অভিজ্ঞতায় তৈরি পথ ধরেই পরবর্তী প্রজন্ম এগিয়ে যাচ্ছে।

কিন্তু সেই মানুষগুলো একদিন আর পাশে থাকবেন না—এ বাস্তবতাও এখন মাইলি উপলব্ধি করছেন। তিনি বলছিলেন, এমন একটা সময় ছিল যখন কোনো বিষয়ে দ্বিধায় পড়লে ডলিকে ফোন করে জিজ্ঞেস করতেন, ‘এখন আমি কী করব?’

Miley Cyrus Reveals Emotional Last Conversation With Late Godmother Dolly  Parton 3 Weeks After Her Death - Yahoo News Singapore

মাইলির কাছে ডলি ছিলেন এমন একজন মানুষ, যাঁর পরামর্শ নিয়ে খুব বেশি সন্দেহ করার প্রয়োজন হতো না। তাঁর ভাষায়, ডলি অনেক সময়ই ঠিক বলতেন।

বিশেষ করে মাইলি যখন মঞ্চে ফেরার ব্যাপারে দ্বিধায় থাকতেন বা কোনো কারণে আত্মবিশ্বাস হারাতেন, ডলি তাঁকে খুব সহজভাবে উৎসাহ দিতেন। তাঁর পরামর্শের ধরনও ছিল ডলির মতোই স্বতঃস্ফূর্ত—চুল একটু সাজিয়ে নিতে, নিজের পছন্দের একটি পোশাক পরতে এবং আবার মঞ্চে উঠে যেতে বলতেন তিনি।

এই ছোট ছোট কথাগুলোই মাইলির কাছে এখন বিশাল স্মৃতি হয়ে আছে।

মাইলির বাবা বিলি রে সাইরাসের সঙ্গে ডলি পার্টনের দীর্ঘ বন্ধুত্বের সূত্রেই মাইলির জীবনে ডলির প্রবেশ। পরে ডলি তাঁর ধর্মমা বা গডমাদার হন। ‘হান্না মন্টানা’ সিরিজেও ডলি মাইলির চরিত্রের ‘আন্টি ডলি’ হিসেবে হাজির হয়েছিলেন। পর্দার সেই সম্পর্ক বাস্তব জীবনেও গভীর বন্ধনে রূপ নেয়।

দুজনের সম্পর্ক সংগীতের ক্ষেত্রেও ছিল বিশেষ। তাঁরা একসঙ্গে মঞ্চে গান করেছেন, একে অপরের কাজকে সমর্থন করেছেন এবং বিভিন্ন সময়ে ব্যক্তিগতভাবেও পরামর্শ বিনিময় করেছেন। ২০২৩ সালের নববর্ষের অনুষ্ঠানে তাঁদের একসঙ্গে ‘I Will Always Love You’ পরিবেশনও ভক্তদের কাছে স্মরণীয় হয়ে আছে।

ডলির মৃত্যুর পর মাইলি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছিলেন, তাঁদের সবচেয়ে মূল্যবান মুহূর্তগুলো ছিল ব্যক্তিগত এবং সেগুলো তিনি ব্যক্তিগতই রাখতে চান। তিনি আরও বলেছিলেন, ডলি চাইতেন তিনি নিজের অনুভূতিকে অনুভব করুন, তা গান হয়ে প্রকাশ করুন এবং তারপরও শক্তভাবে সামনে এগিয়ে যান।

এখন নতুন অ্যালবাম প্রকাশের সময় ডলির অনুপস্থিতি মাইলির কাছে আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। কারণ জীবনের প্রতিটি নতুন সংগীতযাত্রায় যাঁর কাছে প্রথমে নিজের কাজ পাঠাতেন, এবার সেই মানুষটি আর ফোনের ওপারে নেই।

তবু মাইলির কথায় স্পষ্ট—ডলি তাঁর কাছ থেকে হারিয়ে গেলেও তাঁর দেওয়া শিক্ষা, সাহস এবং সংগীতের প্রতি ভালোবাসা হারিয়ে যায়নি। বরং ডলির স্মৃতি এখন মাইলির নিজের শিল্পীসত্তারই একটি অংশ।

ডলি পার্টনের চলে যাওয়ায় শুধু একজন কিংবদন্তি শিল্পীকে হারাননি মাইলি; হারিয়েছেন এমন একজন মানুষকে, যাঁকে প্রয়োজনের সময়ে ফোন করে বলতে পারতেন—‘এখন কী করব?’ সেই ফোনকলের সুযোগ আর নেই। কিন্তু ডলির দেওয়া উত্তরগুলোই হয়তো এখন থেকে মাইলির পথচলার নীরব সঙ্গী হয়ে থাকবে।