আবুধাবি তাদের হোটেল শ্রেণিবিন্যাসের নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। অতিথিদের অভিজ্ঞতা, সেবার মান ও পরিবেশগত টেকসই ব্যবস্থাপনাকে আরও গুরুত্ব দিয়ে নতুন হোটেল শ্রেণিবিন্যাস মানদণ্ড চালু করেছে আমিরাতটি। একই সঙ্গে বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে হোটেলগুলোর উৎকর্ষ তুলে ধরতে যুক্ত করা হয়েছে সাতটি নতুন স্বীকৃতি।
আবুধাবির পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিপার্টমেন্ট অব কালচার অ্যান্ড ট্যুরিজম—আবুধাবি (ডিসিটি আবুধাবি) নতুন আবুধাবি হোটেল শ্রেণিবিন্যাস ম্যানুয়াল চালু করেছে। আরবিয়ান ট্রাভেল মার্কেটকে কেন্দ্র করে এই হালনাগাদ ব্যবস্থা প্রকাশ করা হয়।
নতুন ব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক আতিথেয়তা খাতের প্রচলিত মানদণ্ডের সঙ্গে আরও বেশি সামঞ্জস্য রাখা হয়েছে। পাশাপাশি হোটেলের সেবা, সুযোগ-সুবিধা, নিরাপত্তা এবং পরিবেশগত টেকসই ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে মানদণ্ড আরও বিস্তৃত করা হয়েছে।
হোটেলগুলোর বিশেষ দক্ষতা ও সেবার মানকে আলাদা করে তুলে ধরতে নতুন সাতটি স্বীকৃতির ব্যবস্থাও করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এমিরাতি দিয়াফা, গ্রিন এক্সেলেন্স, ওয়েলনেস এবং হসপিটালিটি ইনোভেশন। বাকি স্বীকৃতিগুলোও আতিথেয়তা খাতের নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে উৎকর্ষকে চিহ্নিত করবে।
অতিথির অভিজ্ঞতায় বাড়তি গুরুত্ব
আবুধাবির হোটেল শ্রেণিবিন্যাস ম্যানুয়াল মূলত হোটেলগুলোর শ্রেণি নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন মানদণ্ড ঠিক করে। এর আওতায় সেবার উৎকর্ষ, অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা এবং পরিবেশগত টেকসই ব্যবস্থাপনার মতো বিষয় রয়েছে।
২০০৭ সালে প্রথম এই শ্রেণিবিন্যাস ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। পরে ২০১৮ সালে এতে পরিবর্তন আনা হয়। এবার বৈশ্বিক পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতে পরিবর্তিত প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্যবস্থাটিকে নতুন করে সাজানো হয়েছে।
ডিসিটি আবুধাবির সাপোর্ট সার্ভিসেস বিভাগের নির্বাহী পরিচালক হামাদ মোহাম্মদ সুদাইন বলেন, আবুধাবির পর্যটন খাত যত দ্রুত বাড়ছে, ততই সেবা, মান এবং অতিথির অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মান ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন হোটেল শ্রেণিবিন্যাস ম্যানুয়াল আবুধাবির আতিথেয়তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্যকে তুলে ধরার পাশাপাশি পুরো খাতে আরও স্পষ্ট ও অভিন্ন মানদণ্ড তৈরি করবে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে আবুধাবির প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য রয়েছে।
হোটেলগুলোর জন্য বিশেষায়িত স্বীকৃতি
সংশোধিত ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সাতটি নতুন স্বীকৃতি। এগুলোর মাধ্যমে কোনো হোটেল তার নির্দিষ্ট সেবা বা বিশেষ দক্ষতার ক্ষেত্রটি অতিথিদের কাছে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে পারবে।
‘এমিরাতি দিয়াফা’ আবুধাবির নিজস্ব আতিথেয়তা ও সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যকে সামনে আনার সুযোগ দেবে। ‘গ্রিন এক্সেলেন্স’ পরিবেশবান্ধব ও টেকসই ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেবে। ‘ওয়েলনেস’ স্বাস্থ্য ও সুস্থতাকেন্দ্রিক সেবাকে এবং ‘হসপিটালিটি ইনোভেশন’ আতিথেয়তা খাতে নতুন ধারণা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগকে স্বীকৃতি দেবে।

ডিসিটি আবুধাবির আশা, নতুন ব্যবস্থা চালুর ফলে পর্যটকেরা বিভিন্ন হোটেলে আরও ধারাবাহিক ও মানসম্মত অভিজ্ঞতা পাবেন। একই সঙ্গে হোটেলগুলোও নিজেদের বিশেষত্ব অনুযায়ী বাজারে আলাদা অবস্থান তৈরি করার সুযোগ পাবে।
বিনিয়োগকারীদের জন্যও পরিবর্তন
নতুন শ্রেণিবিন্যাস ব্যবস্থায় হোটেল প্রকল্পের অবকাঠামোগত কিছু শর্তও পরিবর্তন করা হয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে হোটেল খাতে বিনিয়োগ ও নতুন প্রকল্প পরিকল্পনার ক্ষেত্রেও সংশোধিত মানদণ্ড বিবেচনায় নিতে হবে।
ডিসিটি আবুধাবি জানিয়েছে, নতুন নিয়ম তৈরির আগে আমিরাতের আতিথেয়তা খাতের বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। অর্থাৎ নতুন ম্যানুয়াল তৈরিতে হোটেল ও পর্যটন শিল্পের বাস্তব অভিজ্ঞতাকেও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
তবে পুরোনো হোটেলগুলোর জন্য নতুন নিয়ম একসঙ্গে কার্যকর করা হচ্ছে না। বিদ্যমান হোটেলগুলোকে নতুন মানদণ্ড বাস্তবায়নের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় বা ছাড়ের মেয়াদ দেওয়া হবে। এই পরিবর্তনের বাস্তবায়ন ও নিয়ম মেনে চলার বিষয়টি তদারক করবে লাইসেন্সিং অ্যান্ড রেগুলেটরি কমপ্লায়েন্স বিভাগ।
আবুধাবি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। নতুন হোটেল শ্রেণিবিন্যাস ব্যবস্থা সেই বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবে অতিথির অভিজ্ঞতা, সেবার মান, পরিবেশগত দায়িত্ব এবং নতুন ধরনের আতিথেয়তাকে একই কাঠামোর মধ্যে আনতে চায়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















