০৪:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২০ বছর পরও শেষ হয়নি বিতর্ক, প্লুটো কি আবার গ্রহের মর্যাদা ফিরে পাবে? কুকুর-বিড়ালের জন্য আশার ঠিকানা ‘বেস্ট ফ্রেন্ডস’ ম্যাগাজিন লেইসলা ডি অলিভেইরা: কঠিন চরিত্র পেরিয়ে ফ্যাশনের মঞ্চে নতুন আত্মবিশ্বাস আবুধাবিতে হোটেল শ্রেণিবিন্যাসে বড় পরিবর্তন, যুক্ত হচ্ছে ৭ নতুন স্বীকৃতি সৌদি আরবের রিয়াদ-জেদ্দাসহ বড় শহরে জারি করা সতর্কতা প্রত্যাহার পাকিস্তানকে আফগানিস্তানে হামলার হুঁশিয়ারি তালেবানের, মধ্যস্থতায় সৌদিকে চায় কাবুল ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে ইরানে এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর যুদ্ধের আসল জ্বালানি: ধ্বংসের অর্থনীতি ভাঙা ছাড়া শান্তি অসম্ভব বরিশালে পুকুরে বাস, নিহত ১ স্ত্রী বিদেশে যাওয়ার চার দিনের মাথায় সুনামগঞ্জে তিন সন্তানের মৃত্যু, বাবার বিরুদ্ধে বিষ খাওয়ানোর অভিযোগ

লেইসলা ডি অলিভেইরা: কঠিন চরিত্র পেরিয়ে ফ্যাশনের মঞ্চে নতুন আত্মবিশ্বাস

কানাডিয়ান অভিনেত্রী লেইসলা ডি অলিভেইরার ক্যারিয়ার যেন ধীরে ধীরে তৈরি হওয়া এক আত্মবিশ্বাসের গল্প। কঠিন ও মানসিকভাবে ভারী চরিত্র, দীর্ঘ শুটিং, শারীরিক প্রশিক্ষণ, অনিশ্চয়তা এবং ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের একের পর এক প্রত্যাখ্যান পেরিয়ে এখন তিনি হলিউডের পরিচিত মুখ। এবার অক্টোবর সংখ্যার প্রচ্ছদ তারকা হিসেবে নতুন এক পরিচয়ে সামনে এলেন তিনি—অভিনেত্রীর পাশাপাশি একজন আত্মবিশ্বাসী ফ্যাশনপ্রেমী নারী হিসেবে।

নিউইয়র্কের একটি হোটেলে জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ৩৪ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী বলেন, বছরের তার সবচেয়ে প্রিয় সময় যেন শেষ পর্যন্ত ফিরে এসেছে। কারণ দীর্ঘদিনের সামরিক পোশাক, ভারী সরঞ্জাম আর কঠিন অ্যাকশন দৃশ্যের পর এবার তিনি নিজের স্বাভাবিক রূপে ফিরতে পারছেন।

লেইসলা বলেন, তিনি অবশেষে সামরিক পোশাকের ভার থেকে বেরিয়ে নিজের ‘ফ্যাশনপ্রেমী’ সত্তায় ফিরতে পারছেন। তার কথায়, অভিনয়ের জন্য যে ঘাম, মানসিক চাপ, শারীরিক ক্লান্তি ও কান্নার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, সেগুলোও শিল্প তৈরিরই অংশ।

‘স্পেশাল অপস: লায়নেস’-এর কঠিন অভিজ্ঞতা

লেইসলা বর্তমানে লস অ্যাঞ্জেলেসে থাকেন। নিউইয়র্কে তিনি গিয়েছিলেন ‘স্পেশাল অপস: লায়নেস’ সিরিজের তৃতীয় মৌসুমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে। টেলিভিশন সিরিজটিতে তিনি ক্রুজ নামের এক তরুণীকে অভিনয় করছেন, যার জীবনে বিপর্যয় নেমে আসার পর সে গোপন সিআইএ অভিযানে যুক্ত হয়।

চরিত্রটির জন্য তাকে দীর্ঘ সময় ধরে কঠিন শারীরিক প্রশিক্ষণ নিতে হয়েছে। টেক্সাসের ফোর্ট ওর্থে ছয় মাস ধরে শুটিংয়ের সময় প্রতিদিন প্রায় তিন ঘণ্টা প্রশিক্ষণ নিতে হতো। শুধু অভিনয় নয়, অস্ত্র ব্যবহার, দৌড়ানো এবং বিভিন্ন অ্যাকশন দৃশ্যও স্বাভাবিকভাবে ফুটিয়ে তুলতে তাকে প্রস্তুত করা হয়।

Lioness" star Laysla De Oliveira on her acting career and Hollywood - Los  Angeles TimesLaysla De Oliveira | D.I.T. Website Wiki | Fandom

লেইসলা জানান, এর আগে তিনি এতটা কঠোরভাবে শরীরচর্চা করতেন না। কিন্তু এই সিরিজের জন্য হঠাৎ করেই তাকে নেভি সিলদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিতে হয়। সামরিক পোশাক, ভারী বর্ম, যুদ্ধের জুতা ও শক্ত হেলমেট পরে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে দৌড়ানো ছিল তার জন্য বড় শারীরিক পরীক্ষা।

তবে শারীরিক কষ্টের চেয়েও চরিত্রটির মানসিক ভার তাকে বেশি নাড়া দিয়েছে।

ক্রুজ এমন একজন নারী, যিনি গভীর ট্রমা ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যান। লেইসলা বলেন, চরিত্রটির মানসিক অবস্থার মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে থাকতে গিয়ে তার নিজের ওপরও এর প্রভাব পড়েছিল। ছয় মাস ধরে প্রতিদিন এমন আবেগের ভেতর কাজ করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত তার মনে হয়েছিল, যেন তিনি সদ্য সন্তান জন্ম দেওয়ার পরের মানসিক অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।

শুটিং শেষ হওয়ার পর সবাই যখন জানতে চাইত কেমন হয়েছে, তখনও তিনি ঠিকভাবে উত্তর দিতে পারতেন না। কারণ তখনও তিনি নিজের অভিজ্ঞতাগুলোকে মানসিকভাবে প্রক্রিয়াজাত করছিলেন।

সাফল্যের মাঝেও এসেছিল শূন্যতা

‘লায়নেস’-এ একসঙ্গে জো সালদানা, নিকোল কিডম্যান ও মরগ্যান ফ্রিম্যানের মতো তারকাদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন লেইসলা। তিনি বলেন, এত বড় অভিনেতাদের সঙ্গে কাজ করার স্বপ্নও তিনি কখনো এতটা দ্রুত পূরণ হবে বলে ভাবেননি।

জো সালদানাকে তিনি নিজের পথ তৈরি করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখেন। নিকোল কিডম্যানের সঙ্গে অভিনয়ের আগে তাকে দূর থেকে পর্যবেক্ষণ করাও লেইসলার জন্য ছিল এক ধরনের মানসিক প্রস্তুতি। আর মরগ্যান ফ্রিম্যানের সঙ্গে কাজ করাকে তিনি নিজের ক্যারিয়ারের বিশেষ অর্জন হিসেবে দেখেন।

কিন্তু এসব সাফল্যের মাঝেও তিনি গভীর বিষণ্নতার সময় পার করেছেন।

তার মনে প্রশ্ন জেগেছিল—শৈশবের স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে, এত বড় শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করছেন, তাহলে নিজেকে এতটা শূন্য লাগছে কেন?

এই অভিজ্ঞতা তাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শিখিয়েছে—অভিনয়ের পাশাপাশি নিজের যত্ন নেওয়াও জরুরি। বিশেষ করে এমন চরিত্রে দীর্ঘ সময় ডুবে থাকলে চরিত্রের আবেগ নিজের ভেতরেও স্থায়ী ছাপ ফেলতে পারে।

এখন তাই নিজের চরিত্রগুলোর সঙ্গে ব্যক্তিগত জীবনের সীমারেখা আরও সচেতনভাবে ধরে রাখেন তিনি। তার বন্ধুরাও মজা করে তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত চরিত্র বাদ দিয়ে একটি রোমান্টিক কমেডিতে অভিনয় করতে বলছেন।

ক্রুজের আত্মবিশ্বাস বদলেছে লেইসলাকেও

‘লায়নেস’-এ ক্রুজের চরিত্রটি সময়ের সঙ্গে বদলে যায়। শুরুতে অনিশ্চিত ও ভঙ্গুর এক তরুণী ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাসী, দৃঢ় এবং বিপজ্জনক একজন নারীতে পরিণত হয়।

লেইসলা মনে করেন, চরিত্রটির এই পরিবর্তনের প্রভাব তার নিজের মধ্যেও এসেছে। তিন মৌসুম ধরে ক্রুজকে অভিনয় করতে গিয়ে তার আত্মবিশ্বাসও বেড়েছে।

এখন তিনি বুঝতে পারছেন, কোনো চরিত্র শুধু পর্দার ভেতরেই থাকে না। দীর্ঘ সময় ধরে একটি চরিত্রের সঙ্গে বসবাস করলে সেটি একজন অভিনেতার চিন্তা, আচরণ ও আত্মবিশ্বাসের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

Acting is tough, emotionally deep work. Laysla De Oliveira has been on a  journey

১৪ বছর বয়সেই শুরু মডেলিং

টরন্টোর রোজডেল হাইটস স্কুল অব দ্য আর্টসে নাচ ও নাটক নিয়ে পড়াশোনা করেছেন লেইসলা। সেখানেই তার সহপাঠী ছিলেন কানাডিয়ান আলোকচিত্রী পেট্রা কলিন্স।

মাত্র ১৪ বছর বয়সে মডেলিং শুরু করেন তিনি। সেই সময়ই নিজের চেহারা ও শরীর নিয়ে নানা ধরনের অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হতে হয় তাকে। তবে পরবর্তীতে মডেলিংয়ের অভিজ্ঞতাই তাকে অভিনয়ের অডিশনে প্রত্যাখ্যান সামলানোর মানসিক শক্তি দেয়।

কারণ মডেলিংয়ে শত শত আবেদন করে একটি কাজ পাওয়া তার কাছে অস্বাভাবিক ছিল না। তাই অভিনয়ের ক্ষেত্রেও বারবার অডিশন দিয়ে ব্যর্থ হওয়ার বিষয়টি তিনি ধীরে ধীরে মেনে নিতে শেখেন।

পরে টরন্টো মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটিতে থিয়েটার নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। কিন্তু মঞ্চে অভিনয় তার জন্য সহজ ছিল না। মঞ্চভীতি ছিল প্রবল। পারফরম্যান্সের আগে কাঁদতেন তিনি। গান গাওয়ার প্রয়োজন হলে আরও অস্বস্তিতে পড়তেন।

তখনই তিনি বুঝতে পারেন, তার জন্য ক্যামেরার সামনে অভিনয় করাই বেশি স্বাভাবিক।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী বাইরের অডিশনে অংশ নেওয়া পড়াশোনায় সমস্যা তৈরি করতে পারে—এমন সতর্কতা ছিল। কিন্তু লেইসলা মনে করতেন, পড়াশোনা শেষ করে যদি তার অভিনয়ের কোনো কাজের অভিজ্ঞতা না থাকে, তাহলে পরবর্তীতে পথ আরও কঠিন হবে।

তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার পাশাপাশি অডিশন দিতে শুরু করেন।

২০ বছর বয়সে প্রথম টেলিভিশন কাজ

প্রায় ২০ বছর বয়সে লস অ্যাঞ্জেলেসে প্রথম টেলিভিশন চরিত্র পান লেইসলা। সেই সাফল্য তাকে মনে করায়, অভিনয়ই হয়তো তার জন্য সঠিক পথ।

তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

কিন্তু সিদ্ধান্তটি সহজ ছিল না। তার মা ব্রাজিল থেকে কানাডায় এসে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করেছিলেন। অভিবাসী পরিবারের সন্তান হিসেবে মায়ের ত্যাগকে সাফল্যে পরিণত করার একটা নৈতিক দায় তিনি নিজের মধ্যে অনুভব করতেন।

লেইসলা ছোটবেলায় মায়ের সঙ্গে টেলিনোভেলা দেখতেন। সেই নাটকীয় গল্প ও আবেগ পরবর্তীতে তার অভিনয়ের নিজস্ব শক্তির একটি অংশ হয়ে ওঠে।

তবে প্রথম টেলিভিশন চরিত্রটি শেষ পর্যন্ত বাদ পড়ে যায়। তখন মনে হয়েছিল, হয়তো পড়াশোনা ছেড়ে তিনি ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

কিন্তু পরের সেপ্টেম্বরেই নতুন একটি চরিত্র পান, যার শুটিংয়ের জন্য তাকে আমস্টারডামে যেতে হয়। এরপর আরও কিছু অতিথি চরিত্র আসে। এমনকি ক্যারিয়ারে দুই বছরের একটি দীর্ঘ বিরতিও ছিল। তারপরও তিনি নিজের ওপর বিশ্বাস হারাননি।

শেষ পর্যন্ত লস অ্যাঞ্জেলেসে চলে গিয়ে নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে ঝুঁকি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

Laysla De Oliveira Caught Outside On Editorial Stock Photo - Stock Image |  Shutterstock Editorial

‘ইন দ্য টল গ্রাস’ বদলে দেয় ক্যারিয়ার

২৬ বছর বয়সে লস অ্যাঞ্জেলেসে স্থায়ী হওয়ার পর তিনি অভিনয় করেন ভিনসেনজো নাতালির ‘ইন দ্য টল গ্রাস’ ছবিতে। স্টিফেন কিংয়ের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ২০১৯ সালের এই কানাডিয়ান ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করে তিনি নতুন পরিচিতি পান।

এর আগে তিনি অতিথি চরিত্র ও সফল না হওয়া নানা পাইলট প্রকল্পে কাজ করছিলেন। কিন্তু এই ছবির মাধ্যমে তার সামনে বড় সুযোগের দরজা খুলে যায়।

এরপর কানাডার খ্যাতিমান নির্মাতা অ্যাটম এগোয়ান তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। লেইসলা তখন টরন্টোতে ছবিটির শুটিং করছিলেন। দুজন নিয়মিত দেখা করতে শুরু করেন। এগোয়ান তাকে বিভিন্ন সংবাদপত্র ও সাময়িকীর কাটা লেখা দেখাতেন, যেগুলো তিনি তার নতুন চরিত্র তৈরির ক্ষেত্রে ব্যবহার করছিলেন।

শেষ পর্যন্ত এগোয়ানের ‘গেস্ট অব অনার’ ছবিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান লেইসলা।

মজার বিষয় হলো, চরিত্রটি পাওয়ার খবর শুনেও তিনি উচ্ছ্বসিত হওয়ার বদলে ভেবেছিলেন, হয়তো তাকে বাদ দেওয়া হবে।

কারণ এর আগে বহুবার তাকে অন্য অভিনেতা দিয়ে পরিবর্তন করা হয়েছে, অনেক পাইলট প্রকল্পও শেষ পর্যন্ত এগোয়নি। ফলে একসঙ্গে দুটি বড় চরিত্র পাওয়ার বিষয়টি তার কাছে প্রায় অবিশ্বাস্য মনে হয়েছিল।

স্বামীও অভিনয় জগতের মানুষ

লেইসলার ব্যক্তিগত জীবনে বড় সমর্থন তার স্বামী ও অভিনেতা জোনাথন কেল্টজ। দুজনের সম্পর্ক প্রায় ১৪ বছরের। অভিনয় জগতের মানুষের সঙ্গে সম্পর্কের কিছু জটিলতা থাকলেও দুজন একে অপরের কাজ ও জীবনযাত্রা খুব ভালোভাবে বোঝেন।

তারা একসঙ্গে অডিশনের প্রস্তুতি নেন এবং পরস্পরের অভিনয় নিয়ে মতামত দেন। কোনো চরিত্রের চিত্রনাট্য নিয়ে সমস্যা হলে একে অপরের সঙ্গে আলোচনা করেন।

লেইসলা মজা করে বলেন, কখনো কখনো তাদের মনে হয়, তারা যেন দুজন মিলে একটি ছোট প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছেন।

অভিনয় জীবনের ব্যস্ততা, ভ্রমণ, অডিশনের ব্যর্থতা কিংবা শুটিংয়ের কঠিন দিন—সবকিছুর পরও একে অপরকে স্থির থাকতে সাহায্য করেন তারা।

সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ

‘লায়নেস’-এর সামরিক অ্যাকশন জগতের পর লেইসলার সামনে এসেছে একেবারে ভিন্ন ধরনের চরিত্র। ক্যামেরন ডাডির পরিচালনায় নির্মিত ‘কাউবয়’ নামের একটি রোডিওভিত্তিক ছবিতে তাকে বেন ফস্টারের সাবেক প্রেমিকা ও সন্তানের মা চরিত্রে দেখা যাবে।

অস্ত্র হাতে নেওয়ার অভিজ্ঞতা এখন তার কাছে পরিচিত। কিন্তু জীবন্ত শিশুকে সামলানো নিয়ে বরং বেশি চিন্তিত ছিলেন তিনি। কারণ কঠিন ও প্রাণবন্ত দৃশ্যের মাঝখানে শিশুটি কাঁদতে শুরু করলে কী করবেন—সেটাই ছিল তার নতুন ভয়।

আরেকটি হকি-ভিত্তিক থ্রিলার ‘গুড ইন দ্য রুম’-এও অভিনয় করছেন তিনি। সেখানে তার চরিত্রকে তিনি কানাডার ভিক্টোরিয়া বেকহামের সঙ্গে তুলনা করেছেন—অত্যন্ত প্রাণবন্ত, তীব্র ও ঝড়ের মতো এক নারী।

Lioness" star Laysla De Oliveira on her acting career and Hollywood - Los  Angeles TimesLioness" star Laysla De Oliveira on her acting career and Hollywood - Los  Angeles TimesLaysla De Oliveira Discusses Her Character Cruz Manuelos on Paramount+  Series 'Special Ops: Lioness' - V13 Media

মায়ের ত্যাগই সবচেয়ে বড় প্রেরণা

ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে লেইসলা তার মায়ের ত্যাগের কথা বিশেষভাবে স্মরণ করেন। তিনি মনে করেন, নিজের স্বপ্ন পূরণ করা শুধু তার ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা নয়; মায়ের ত্যাগের প্রতিও এটি এক ধরনের সম্মান।

তার বিশ্বাস, জীবনের ভেতর থেকে যে ডাক আসে, সেটিকে অনুসরণ করতে হয়। বিশেষ করে ক্যারিয়ারের শুরুতে নিজের ওপর বিশ্বাস রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তখন অন্য কেউ হয়তো আপনার সম্ভাবনায় বিশ্বাস করবে না।

সাফল্য আসার পর সবাই প্রশংসা করবে, কিন্তু তখন বুঝতে হবে কোনটি সত্যিকারের মূল্যায়ন আর কোনটি শুধু প্রশংসার ভাষা।

অভিনয়ের জগতে বহু চরিত্রের জীবন নিজের মধ্যে ধারণ করেও লেইসলা এখন শিখেছেন—পর্দার কল্পনার জগত আর বাস্তব জীবনের মধ্যে একটি ভারসাম্য থাকা দরকার।

তার গল্প তাই শুধু একজন অভিনেত্রীর সাফল্যের গল্প নয়। এটি নিজের স্বপ্নে বিশ্বাস রাখা, ব্যর্থতার পর আবার দাঁড়ানো, পরিবারের ত্যাগকে সম্মান করা এবং সাফল্যের মাঝেও নিজের ভেতরের মানুষটিকে ধরে রাখার গল্প।

অক্টোবর সংখ্যার প্রচ্ছদে তার ঝলমলে উপস্থিতি যেন সেই যাত্রারই নতুন অধ্যায়—যেখানে কঠিন সামরিক পোশাকের জায়গায় এবার ফ্যাশনের আলো, আর অনিশ্চয়তার জায়গায় আরও দৃঢ় আত্মবিশ্বাস।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

২০ বছর পরও শেষ হয়নি বিতর্ক, প্লুটো কি আবার গ্রহের মর্যাদা ফিরে পাবে?

লেইসলা ডি অলিভেইরা: কঠিন চরিত্র পেরিয়ে ফ্যাশনের মঞ্চে নতুন আত্মবিশ্বাস

০৪:১৩:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কানাডিয়ান অভিনেত্রী লেইসলা ডি অলিভেইরার ক্যারিয়ার যেন ধীরে ধীরে তৈরি হওয়া এক আত্মবিশ্বাসের গল্প। কঠিন ও মানসিকভাবে ভারী চরিত্র, দীর্ঘ শুটিং, শারীরিক প্রশিক্ষণ, অনিশ্চয়তা এবং ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের একের পর এক প্রত্যাখ্যান পেরিয়ে এখন তিনি হলিউডের পরিচিত মুখ। এবার অক্টোবর সংখ্যার প্রচ্ছদ তারকা হিসেবে নতুন এক পরিচয়ে সামনে এলেন তিনি—অভিনেত্রীর পাশাপাশি একজন আত্মবিশ্বাসী ফ্যাশনপ্রেমী নারী হিসেবে।

নিউইয়র্কের একটি হোটেলে জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ৩৪ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী বলেন, বছরের তার সবচেয়ে প্রিয় সময় যেন শেষ পর্যন্ত ফিরে এসেছে। কারণ দীর্ঘদিনের সামরিক পোশাক, ভারী সরঞ্জাম আর কঠিন অ্যাকশন দৃশ্যের পর এবার তিনি নিজের স্বাভাবিক রূপে ফিরতে পারছেন।

লেইসলা বলেন, তিনি অবশেষে সামরিক পোশাকের ভার থেকে বেরিয়ে নিজের ‘ফ্যাশনপ্রেমী’ সত্তায় ফিরতে পারছেন। তার কথায়, অভিনয়ের জন্য যে ঘাম, মানসিক চাপ, শারীরিক ক্লান্তি ও কান্নার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, সেগুলোও শিল্প তৈরিরই অংশ।

‘স্পেশাল অপস: লায়নেস’-এর কঠিন অভিজ্ঞতা

লেইসলা বর্তমানে লস অ্যাঞ্জেলেসে থাকেন। নিউইয়র্কে তিনি গিয়েছিলেন ‘স্পেশাল অপস: লায়নেস’ সিরিজের তৃতীয় মৌসুমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে। টেলিভিশন সিরিজটিতে তিনি ক্রুজ নামের এক তরুণীকে অভিনয় করছেন, যার জীবনে বিপর্যয় নেমে আসার পর সে গোপন সিআইএ অভিযানে যুক্ত হয়।

চরিত্রটির জন্য তাকে দীর্ঘ সময় ধরে কঠিন শারীরিক প্রশিক্ষণ নিতে হয়েছে। টেক্সাসের ফোর্ট ওর্থে ছয় মাস ধরে শুটিংয়ের সময় প্রতিদিন প্রায় তিন ঘণ্টা প্রশিক্ষণ নিতে হতো। শুধু অভিনয় নয়, অস্ত্র ব্যবহার, দৌড়ানো এবং বিভিন্ন অ্যাকশন দৃশ্যও স্বাভাবিকভাবে ফুটিয়ে তুলতে তাকে প্রস্তুত করা হয়।

Lioness" star Laysla De Oliveira on her acting career and Hollywood - Los  Angeles TimesLaysla De Oliveira | D.I.T. Website Wiki | Fandom

লেইসলা জানান, এর আগে তিনি এতটা কঠোরভাবে শরীরচর্চা করতেন না। কিন্তু এই সিরিজের জন্য হঠাৎ করেই তাকে নেভি সিলদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিতে হয়। সামরিক পোশাক, ভারী বর্ম, যুদ্ধের জুতা ও শক্ত হেলমেট পরে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে দৌড়ানো ছিল তার জন্য বড় শারীরিক পরীক্ষা।

তবে শারীরিক কষ্টের চেয়েও চরিত্রটির মানসিক ভার তাকে বেশি নাড়া দিয়েছে।

ক্রুজ এমন একজন নারী, যিনি গভীর ট্রমা ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যান। লেইসলা বলেন, চরিত্রটির মানসিক অবস্থার মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে থাকতে গিয়ে তার নিজের ওপরও এর প্রভাব পড়েছিল। ছয় মাস ধরে প্রতিদিন এমন আবেগের ভেতর কাজ করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত তার মনে হয়েছিল, যেন তিনি সদ্য সন্তান জন্ম দেওয়ার পরের মানসিক অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।

শুটিং শেষ হওয়ার পর সবাই যখন জানতে চাইত কেমন হয়েছে, তখনও তিনি ঠিকভাবে উত্তর দিতে পারতেন না। কারণ তখনও তিনি নিজের অভিজ্ঞতাগুলোকে মানসিকভাবে প্রক্রিয়াজাত করছিলেন।

সাফল্যের মাঝেও এসেছিল শূন্যতা

‘লায়নেস’-এ একসঙ্গে জো সালদানা, নিকোল কিডম্যান ও মরগ্যান ফ্রিম্যানের মতো তারকাদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন লেইসলা। তিনি বলেন, এত বড় অভিনেতাদের সঙ্গে কাজ করার স্বপ্নও তিনি কখনো এতটা দ্রুত পূরণ হবে বলে ভাবেননি।

জো সালদানাকে তিনি নিজের পথ তৈরি করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখেন। নিকোল কিডম্যানের সঙ্গে অভিনয়ের আগে তাকে দূর থেকে পর্যবেক্ষণ করাও লেইসলার জন্য ছিল এক ধরনের মানসিক প্রস্তুতি। আর মরগ্যান ফ্রিম্যানের সঙ্গে কাজ করাকে তিনি নিজের ক্যারিয়ারের বিশেষ অর্জন হিসেবে দেখেন।

কিন্তু এসব সাফল্যের মাঝেও তিনি গভীর বিষণ্নতার সময় পার করেছেন।

তার মনে প্রশ্ন জেগেছিল—শৈশবের স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে, এত বড় শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করছেন, তাহলে নিজেকে এতটা শূন্য লাগছে কেন?

এই অভিজ্ঞতা তাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শিখিয়েছে—অভিনয়ের পাশাপাশি নিজের যত্ন নেওয়াও জরুরি। বিশেষ করে এমন চরিত্রে দীর্ঘ সময় ডুবে থাকলে চরিত্রের আবেগ নিজের ভেতরেও স্থায়ী ছাপ ফেলতে পারে।

এখন তাই নিজের চরিত্রগুলোর সঙ্গে ব্যক্তিগত জীবনের সীমারেখা আরও সচেতনভাবে ধরে রাখেন তিনি। তার বন্ধুরাও মজা করে তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত চরিত্র বাদ দিয়ে একটি রোমান্টিক কমেডিতে অভিনয় করতে বলছেন।

ক্রুজের আত্মবিশ্বাস বদলেছে লেইসলাকেও

‘লায়নেস’-এ ক্রুজের চরিত্রটি সময়ের সঙ্গে বদলে যায়। শুরুতে অনিশ্চিত ও ভঙ্গুর এক তরুণী ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাসী, দৃঢ় এবং বিপজ্জনক একজন নারীতে পরিণত হয়।

লেইসলা মনে করেন, চরিত্রটির এই পরিবর্তনের প্রভাব তার নিজের মধ্যেও এসেছে। তিন মৌসুম ধরে ক্রুজকে অভিনয় করতে গিয়ে তার আত্মবিশ্বাসও বেড়েছে।

এখন তিনি বুঝতে পারছেন, কোনো চরিত্র শুধু পর্দার ভেতরেই থাকে না। দীর্ঘ সময় ধরে একটি চরিত্রের সঙ্গে বসবাস করলে সেটি একজন অভিনেতার চিন্তা, আচরণ ও আত্মবিশ্বাসের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

Acting is tough, emotionally deep work. Laysla De Oliveira has been on a  journey

১৪ বছর বয়সেই শুরু মডেলিং

টরন্টোর রোজডেল হাইটস স্কুল অব দ্য আর্টসে নাচ ও নাটক নিয়ে পড়াশোনা করেছেন লেইসলা। সেখানেই তার সহপাঠী ছিলেন কানাডিয়ান আলোকচিত্রী পেট্রা কলিন্স।

মাত্র ১৪ বছর বয়সে মডেলিং শুরু করেন তিনি। সেই সময়ই নিজের চেহারা ও শরীর নিয়ে নানা ধরনের অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হতে হয় তাকে। তবে পরবর্তীতে মডেলিংয়ের অভিজ্ঞতাই তাকে অভিনয়ের অডিশনে প্রত্যাখ্যান সামলানোর মানসিক শক্তি দেয়।

কারণ মডেলিংয়ে শত শত আবেদন করে একটি কাজ পাওয়া তার কাছে অস্বাভাবিক ছিল না। তাই অভিনয়ের ক্ষেত্রেও বারবার অডিশন দিয়ে ব্যর্থ হওয়ার বিষয়টি তিনি ধীরে ধীরে মেনে নিতে শেখেন।

পরে টরন্টো মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটিতে থিয়েটার নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। কিন্তু মঞ্চে অভিনয় তার জন্য সহজ ছিল না। মঞ্চভীতি ছিল প্রবল। পারফরম্যান্সের আগে কাঁদতেন তিনি। গান গাওয়ার প্রয়োজন হলে আরও অস্বস্তিতে পড়তেন।

তখনই তিনি বুঝতে পারেন, তার জন্য ক্যামেরার সামনে অভিনয় করাই বেশি স্বাভাবিক।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী বাইরের অডিশনে অংশ নেওয়া পড়াশোনায় সমস্যা তৈরি করতে পারে—এমন সতর্কতা ছিল। কিন্তু লেইসলা মনে করতেন, পড়াশোনা শেষ করে যদি তার অভিনয়ের কোনো কাজের অভিজ্ঞতা না থাকে, তাহলে পরবর্তীতে পথ আরও কঠিন হবে।

তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার পাশাপাশি অডিশন দিতে শুরু করেন।

২০ বছর বয়সে প্রথম টেলিভিশন কাজ

প্রায় ২০ বছর বয়সে লস অ্যাঞ্জেলেসে প্রথম টেলিভিশন চরিত্র পান লেইসলা। সেই সাফল্য তাকে মনে করায়, অভিনয়ই হয়তো তার জন্য সঠিক পথ।

তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

কিন্তু সিদ্ধান্তটি সহজ ছিল না। তার মা ব্রাজিল থেকে কানাডায় এসে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করেছিলেন। অভিবাসী পরিবারের সন্তান হিসেবে মায়ের ত্যাগকে সাফল্যে পরিণত করার একটা নৈতিক দায় তিনি নিজের মধ্যে অনুভব করতেন।

লেইসলা ছোটবেলায় মায়ের সঙ্গে টেলিনোভেলা দেখতেন। সেই নাটকীয় গল্প ও আবেগ পরবর্তীতে তার অভিনয়ের নিজস্ব শক্তির একটি অংশ হয়ে ওঠে।

তবে প্রথম টেলিভিশন চরিত্রটি শেষ পর্যন্ত বাদ পড়ে যায়। তখন মনে হয়েছিল, হয়তো পড়াশোনা ছেড়ে তিনি ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

কিন্তু পরের সেপ্টেম্বরেই নতুন একটি চরিত্র পান, যার শুটিংয়ের জন্য তাকে আমস্টারডামে যেতে হয়। এরপর আরও কিছু অতিথি চরিত্র আসে। এমনকি ক্যারিয়ারে দুই বছরের একটি দীর্ঘ বিরতিও ছিল। তারপরও তিনি নিজের ওপর বিশ্বাস হারাননি।

শেষ পর্যন্ত লস অ্যাঞ্জেলেসে চলে গিয়ে নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে ঝুঁকি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

Laysla De Oliveira Caught Outside On Editorial Stock Photo - Stock Image |  Shutterstock Editorial

‘ইন দ্য টল গ্রাস’ বদলে দেয় ক্যারিয়ার

২৬ বছর বয়সে লস অ্যাঞ্জেলেসে স্থায়ী হওয়ার পর তিনি অভিনয় করেন ভিনসেনজো নাতালির ‘ইন দ্য টল গ্রাস’ ছবিতে। স্টিফেন কিংয়ের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ২০১৯ সালের এই কানাডিয়ান ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করে তিনি নতুন পরিচিতি পান।

এর আগে তিনি অতিথি চরিত্র ও সফল না হওয়া নানা পাইলট প্রকল্পে কাজ করছিলেন। কিন্তু এই ছবির মাধ্যমে তার সামনে বড় সুযোগের দরজা খুলে যায়।

এরপর কানাডার খ্যাতিমান নির্মাতা অ্যাটম এগোয়ান তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। লেইসলা তখন টরন্টোতে ছবিটির শুটিং করছিলেন। দুজন নিয়মিত দেখা করতে শুরু করেন। এগোয়ান তাকে বিভিন্ন সংবাদপত্র ও সাময়িকীর কাটা লেখা দেখাতেন, যেগুলো তিনি তার নতুন চরিত্র তৈরির ক্ষেত্রে ব্যবহার করছিলেন।

শেষ পর্যন্ত এগোয়ানের ‘গেস্ট অব অনার’ ছবিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান লেইসলা।

মজার বিষয় হলো, চরিত্রটি পাওয়ার খবর শুনেও তিনি উচ্ছ্বসিত হওয়ার বদলে ভেবেছিলেন, হয়তো তাকে বাদ দেওয়া হবে।

কারণ এর আগে বহুবার তাকে অন্য অভিনেতা দিয়ে পরিবর্তন করা হয়েছে, অনেক পাইলট প্রকল্পও শেষ পর্যন্ত এগোয়নি। ফলে একসঙ্গে দুটি বড় চরিত্র পাওয়ার বিষয়টি তার কাছে প্রায় অবিশ্বাস্য মনে হয়েছিল।

স্বামীও অভিনয় জগতের মানুষ

লেইসলার ব্যক্তিগত জীবনে বড় সমর্থন তার স্বামী ও অভিনেতা জোনাথন কেল্টজ। দুজনের সম্পর্ক প্রায় ১৪ বছরের। অভিনয় জগতের মানুষের সঙ্গে সম্পর্কের কিছু জটিলতা থাকলেও দুজন একে অপরের কাজ ও জীবনযাত্রা খুব ভালোভাবে বোঝেন।

তারা একসঙ্গে অডিশনের প্রস্তুতি নেন এবং পরস্পরের অভিনয় নিয়ে মতামত দেন। কোনো চরিত্রের চিত্রনাট্য নিয়ে সমস্যা হলে একে অপরের সঙ্গে আলোচনা করেন।

লেইসলা মজা করে বলেন, কখনো কখনো তাদের মনে হয়, তারা যেন দুজন মিলে একটি ছোট প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছেন।

অভিনয় জীবনের ব্যস্ততা, ভ্রমণ, অডিশনের ব্যর্থতা কিংবা শুটিংয়ের কঠিন দিন—সবকিছুর পরও একে অপরকে স্থির থাকতে সাহায্য করেন তারা।

সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ

‘লায়নেস’-এর সামরিক অ্যাকশন জগতের পর লেইসলার সামনে এসেছে একেবারে ভিন্ন ধরনের চরিত্র। ক্যামেরন ডাডির পরিচালনায় নির্মিত ‘কাউবয়’ নামের একটি রোডিওভিত্তিক ছবিতে তাকে বেন ফস্টারের সাবেক প্রেমিকা ও সন্তানের মা চরিত্রে দেখা যাবে।

অস্ত্র হাতে নেওয়ার অভিজ্ঞতা এখন তার কাছে পরিচিত। কিন্তু জীবন্ত শিশুকে সামলানো নিয়ে বরং বেশি চিন্তিত ছিলেন তিনি। কারণ কঠিন ও প্রাণবন্ত দৃশ্যের মাঝখানে শিশুটি কাঁদতে শুরু করলে কী করবেন—সেটাই ছিল তার নতুন ভয়।

আরেকটি হকি-ভিত্তিক থ্রিলার ‘গুড ইন দ্য রুম’-এও অভিনয় করছেন তিনি। সেখানে তার চরিত্রকে তিনি কানাডার ভিক্টোরিয়া বেকহামের সঙ্গে তুলনা করেছেন—অত্যন্ত প্রাণবন্ত, তীব্র ও ঝড়ের মতো এক নারী।

Lioness" star Laysla De Oliveira on her acting career and Hollywood - Los  Angeles TimesLioness" star Laysla De Oliveira on her acting career and Hollywood - Los  Angeles TimesLaysla De Oliveira Discusses Her Character Cruz Manuelos on Paramount+  Series 'Special Ops: Lioness' - V13 Media

মায়ের ত্যাগই সবচেয়ে বড় প্রেরণা

ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে লেইসলা তার মায়ের ত্যাগের কথা বিশেষভাবে স্মরণ করেন। তিনি মনে করেন, নিজের স্বপ্ন পূরণ করা শুধু তার ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা নয়; মায়ের ত্যাগের প্রতিও এটি এক ধরনের সম্মান।

তার বিশ্বাস, জীবনের ভেতর থেকে যে ডাক আসে, সেটিকে অনুসরণ করতে হয়। বিশেষ করে ক্যারিয়ারের শুরুতে নিজের ওপর বিশ্বাস রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তখন অন্য কেউ হয়তো আপনার সম্ভাবনায় বিশ্বাস করবে না।

সাফল্য আসার পর সবাই প্রশংসা করবে, কিন্তু তখন বুঝতে হবে কোনটি সত্যিকারের মূল্যায়ন আর কোনটি শুধু প্রশংসার ভাষা।

অভিনয়ের জগতে বহু চরিত্রের জীবন নিজের মধ্যে ধারণ করেও লেইসলা এখন শিখেছেন—পর্দার কল্পনার জগত আর বাস্তব জীবনের মধ্যে একটি ভারসাম্য থাকা দরকার।

তার গল্প তাই শুধু একজন অভিনেত্রীর সাফল্যের গল্প নয়। এটি নিজের স্বপ্নে বিশ্বাস রাখা, ব্যর্থতার পর আবার দাঁড়ানো, পরিবারের ত্যাগকে সম্মান করা এবং সাফল্যের মাঝেও নিজের ভেতরের মানুষটিকে ধরে রাখার গল্প।

অক্টোবর সংখ্যার প্রচ্ছদে তার ঝলমলে উপস্থিতি যেন সেই যাত্রারই নতুন অধ্যায়—যেখানে কঠিন সামরিক পোশাকের জায়গায় এবার ফ্যাশনের আলো, আর অনিশ্চয়তার জায়গায় আরও দৃঢ় আত্মবিশ্বাস।