পশ্চিম আফ্রিকার গবেষক ও পরীক্ষাগার বিজ্ঞানীরা রোগের প্রাদুর্ভাব দ্রুত শনাক্ত করার সক্ষমতা বাড়াতে সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের সতর্কবার্তা, দীর্ঘ সময় বড় ধরনের মহামারি না থাকায় অঞ্চলটির স্বাস্থ্যব্যবস্থার কিছু অংশ দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে নতুন কোনো বড় মহামারি দেখা দিলে তা মোকাবিলায় পশ্চিম আফ্রিকা যথেষ্ট প্রস্তুত নাও থাকতে পারে।
টোগোর রাজধানী লোমেতে শুক্রবার এ সতর্কতা দেন বিভিন্ন দেশের পরীক্ষাগার বিজ্ঞানীরা। রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় অঞ্চলটির প্রস্তুতি এবং পশ্চিমা দেশগুলো থেকে সরবরাহ করা টিকার ওপর নির্ভরতা নিয়ে আলোচনা করতে চলতি সপ্তাহে সেখানে তারা একত্রিত হন।
বিজ্ঞানীরা রোগ নজরদারি ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা এবং রোগ শনাক্ত করার পরীক্ষাগার সক্ষমতা বাড়াতে সরকারগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান। গত এক দশকে ইবোলা ও কোভিড-১৯ মহামারি থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতাকে তারা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হিসেবে উল্লেখ করেন।
২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে পশ্চিম আফ্রিকায় ভয়াবহ ইবোলা প্রাদুর্ভাবে অন্তত ১১ হাজার মানুষ মারা যান। নিহতদের অধিকাংশই ছিলেন গিনি, লাইবেরিয়া ও সিয়েরা লিওনের বাসিন্দা।
টোগোর মেডিকেল বায়োলজিস্টদের সংগঠনের প্রধান এবং সম্মেলনের অন্যতম সহসভাপতি কোসি কাবো বলেন, রোগের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার আগেই তা মোকাবিলার প্রস্তুতি নিতে হবে।
তার ভাষায়, কোনো এলাকায় মহামারি ছড়িয়ে পড়ার পর প্রতিক্রিয়া জানানোর অপেক্ষায় থাকলে অনেক দেরি হয়ে যেতে পারে। তাই রোগের সম্ভাব্য বিস্তার আগে থেকেই শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
আফ্রিকা এখনো বিভিন্ন সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকিতে রয়েছে। কঙ্গোতে গত মে মাসের মাঝামাঝি কর্তৃপক্ষ নতুন একটি প্রাণঘাতী ইবোলা প্রাদুর্ভাবের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে বিরল বান্দিবুগিও ভাইরাসে প্রায় ৭ হাজার ৫০০ শনাক্ত রোগীর মধ্যে ৩ হাজার ৬০০-এর বেশি মানুষ মারা গেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আফ্রিকা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন জানিয়েছে, সরকারি হিসাবের তুলনায় প্রকৃত আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা তিন গুণ পর্যন্ত বেশি হতে পারে। সংস্থাটি আরও বলেছে, কয়েক সপ্তাহ ধরে অশনাক্ত অবস্থায় ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ার পর এবারের প্রাদুর্ভাবটি ইবোলার ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া প্রাদুর্ভাবে পরিণত হয়েছে।
এর বাইরে, গত মে মাসে কেপ ভার্দের উপকূলে নোঙর করা একটি প্রমোদতরীতেও হ্যান্টাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোর রোগ শনাক্তকরণ ও নজরদারি ব্যবস্থার সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, বড় কোনো রোগের প্রাদুর্ভাব না থাকায় স্বাস্থ্যব্যবস্থার অবকাঠামো, রোগ শনাক্তকরণ ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সক্ষমতার প্রতি আগের মতো গুরুত্ব ও বিনিয়োগ নাও থাকতে পারে। ফলে ভবিষ্যতে হঠাৎ কোনো মহামারি দেখা দিলে দ্রুত সাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে অঞ্চলটি সমস্যায় পড়তে পারে।
সিয়েরা লিওন অ্যাসোসিয়েশন অব মেডিকেল ল্যাবরেটরি সায়েন্টিস্টসের সভাপতি আর্থার বোদুরি ক্যালভিন গারবার বলেন, শুধু হাসপাতাল ও পরীক্ষাগারের অবকাঠামো তৈরি করলেই হবে না। দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবল তৈরিতেও সরকারগুলোকে বিনিয়োগ করতে হবে।
বিজ্ঞানীদের মতে, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, কার্যকর রোগ নজরদারি, পর্যাপ্ত পরীক্ষাগার, প্রশিক্ষিত কর্মী এবং দেশগুলোর মধ্যে তথ্য বিনিময়—এই সবকিছুর সমন্বয়ই ভবিষ্যৎ মহামারি মোকাবিলায় পশ্চিম আফ্রিকার প্রস্তুতি শক্তিশালী করতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















