শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালের এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে একটি সমঝোতা হয়েছে। তাঁর দাবি, এই গ্রিনল্যান্ড নিরাপত্তা চুক্তির মাধ্যমে আর্কটিকের দ্বীপটির নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রয়োজনে ওয়াশিংটন স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ পাবে। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প বলেছেন এই ব্যবস্থার কোনো শেষ তারিখ নেই। তিনি আরও দাবি করেছেন, এতে মার্কিন করদাতাদের কোনো খরচ হবে না। তাঁর পোস্টের ভাষায় ব্যবস্থাটি নিরাপত্তার পাশাপাশি গ্রিনল্যান্ডের অন্যান্য প্রয়োজনও ছুঁয়ে যায়। সেই প্রয়োজনের পরিধি কতদূর, তা পোস্টে খোলসা করা হয়নি।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত গ্রিনল্যান্ডে উল্লেখযোগ্য সামরিক উপস্থিতি গড়ে তুলবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিপক্ষ দেশ ওয়াশিংটনের লিখিত অনুমোদন ছাড়া সেখানে ঘাঁটি বসাতে, সেনা রাখতে বা স্পর্শকাতর খাতে বিনিয়োগ করতে পারবে না। ট্রাম্প নির্দিষ্ট করে কোনো দেশের নাম বলেননি। তবে নাম প্রকাশ না করা সূত্রের বরাতে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট জানিয়েছে, বাইরে রাখা দেশগুলোর মধ্যে চীন রয়েছে। রয়টার্স, আল জাজিরা ও ডয়চে ভেলেসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও ঘোষণাটি গুরুত্ব পেয়েছে। রয়টার্স ট্রাম্পের বরাতে জানিয়েছে, চুক্তির ফলে দ্বীপটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়বে। ফ্রান্স ২৪ ও জাপান টাইমসও একই দিনে খবরটি প্রকাশ করেছে। রয়টার্স খবরটিকে একচেটিয়া প্রতিবেদন হিসেবে প্রকাশ করেছে, আর ডয়চে ভেলেও এ নিয়ে আলাদা প্রতিবেদন করেছে।
গ্রিনল্যান্ড নিরাপত্তা চুক্তির খুঁটিনাটি এখনো পরিষ্কার নয়। বিবিসি লিখেছে, ট্রাম্পের দাবি করা স্থায়ী নিয়ন্ত্রণের নির্দিষ্ট বিষয়গুলো ডেনমার্কের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেননি। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনগুলোর একটির শিরোনামে দেখা যায়, ডেনমার্ক চুক্তিটিকে আইনগতভাবে বাধ্যকারী বলে স্বাগত জানিয়েছে। কোনো কোনো শিরোনামে বলা হয়েছে, ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত আগের দাবির চেয়ে কম নিয়ে সমঝোতা করেছেন। বিবিসি এটিকে গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকির পর হওয়া চুক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছে।
গ্রিনল্যান্ড নিরাপত্তা চুক্তি নিয়ে ট্রাম্পের দাবি সত্য হলে বড় শক্তির প্রতিযোগিতায় নতুন অধ্যায় শুরু হবে। আর্কটিকে সামরিক উপস্থিতি ও বিনিয়োগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়ার আগ্রহ আগেও আলোচনায় এসেছে। এবার নতুন বিষয় হলো, ওয়াশিংটন লিখিত অনুমোদনের শর্তে প্রতিপক্ষদের বাইরে রাখতে চাইছে। তবে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সরকার কী শর্তে রাজি হয়েছে, তা না জানা পর্যন্ত ঘোষণাটিকে পূর্ণ সমঝোতা বলা যাবে না। যুক্তরাষ্ট্রের আগে থেকেই দ্বীপটিতে একটি মহাকাশ ঘাঁটি রয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় সেই উপস্থিতি কতটা বাড়বে এবং কোথায় বাড়বে, তা ট্রাম্পের পোস্টে বলা হয়নি। গ্রিনল্যান্ডের স্থানীয় সরকার এই সিদ্ধান্তে কতটা ভূমিকা রেখেছে, সে প্রশ্নও এখনো খোলা।
বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি সরাসরি না হলেও শিক্ষণীয়। যুক্তরাষ্ট্র ও চীন দুই শক্তির সঙ্গেই সম্পর্ক রাখা একটি দেশ নিরাপত্তা ও বিনিয়োগের শর্ত নিয়ে কতটা দর-কষাকষি করতে পারে, গ্রিনল্যান্ড তার একটি পরীক্ষা। বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্র, আবার অবকাঠামোয় চীনের ভূমিকাও বড়। তাই বড় শক্তির শর্তভিত্তিক চুক্তির ধরন ঢাকার নীতিনির্ধারকদের নজরে থাকবে। ডেনমার্কের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যই ঠিক করবে, ট্রাম্পের স্থায়ী নিয়ন্ত্রণের কথাটি চুক্তির ভাষায় কতটা টিকে থাকে। কারণ ঘোষণা আর আইনি দলিলের ভাষা সব সময় এক হয় না, আর সেই ফারাকই এই ঘটনার মূল প্রশ্ন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















