০৮:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নতুন খোঁড়া পুকুরে খেলতে গিয়ে ডুবে গেল দুই ভাই-বোন জুবিন গার্গ: মৃত্যু যেখানে শেষ নয়, সুর যেখানে অমর মানিকগঞ্জে একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ উদ্ধার, শিশুকন্যাসহ স্ত্রীকে হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যার সন্দেহ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন হলে ৩০ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন শিক্ষার্থীরা, তীব্র গরমে ভোগান্তি মক্কা চুক্তির প্রথম বড় পরীক্ষা: সৌদি নিরাপত্তা, হুতিদের উত্থান ও পাকিস্তানের কঠিন সমীকরণ মিরপুরে চলন্ত বাসে আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস জেন জেডের একাংশ কেন সমাজতন্ত্র ও কমিউনিজমের দিকে ঝুঁকছে? ভারতের শুল্কনীতি নিয়ে ‘ট্যারিফ কিং’ তকমা কতটা সত্য? প্রিন্স নাসিমের উত্তরসূরি হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হলেন না ড্যানিয়েল টিসডেল সাঁতার কাটতে গিয়ে হাঙরের হামলায় নিহত গ্রেগ, পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় বিরল ‘মেরে ফেলার’ নির্দেশ

শখের ময়ূর পালনেই ২৮ লাখ টাকার খামার, ‘ময়ূর শাহ আলী’ এখন এলাকায় পরিচিত

ময়ূরের সৌন্দর্য আর পেখম মেলে নাচের দৃশ্য মুগ্ধ করেছিল কুমিল্লার হোমনা উপজেলার বাবরকান্দি গ্রামের মো. শাহ আলীকে। সেই মুগ্ধতা থেকেই ২০১৯ সালে শখ করে এক জোড়া ময়ূর কিনেছিলেন তিনি। পাঁচ বছর পর সেই শখই এখন পরিণত হয়েছে লাখ লাখ টাকার ব্যবসায়।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে নিজের জমানো ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা দিয়ে এক জোড়া ময়ূর কেনেন শাহ আলী। পরে আরও পাঁচটি ময়ূর কিনে তার সংগ্রহে পাখির সংখ্যা দাঁড়ায় সাতটিতে। সময়ের সঙ্গে ময়ূরের সংখ্যা বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে শখের সেই সংগ্রহই রূপ নেয় পূর্ণাঙ্গ ময়ূরের খামারে।

বর্তমানে শাহ আলীর খামারে রয়েছে ৮৫টি ময়ূর। এর মধ্যে ১২টি পূর্ণবয়স্ক। সব মিলিয়ে খামারে থাকা ময়ূরগুলোর আনুমানিক মূল্য প্রায় ২৮ লাখ টাকা। এরই মধ্যে তিনি প্রায় ২৪ লাখ টাকার ময়ূর বিক্রি করেছেন।

ময়ূরের পাশাপাশি শাহ আলী গরু, ছাগল, ভেড়া, গিনিফাউল ও কোয়েলও পালন করছেন। তবে এলাকায় তার সবচেয়ে বড় পরিচয় এখন ময়ূর পালনকারী হিসেবে। স্থানীয়রা কেউ কেউ তাকে ভালোবেসে ‘ময়ূর শাহ আলী’ নামেও ডাকেন।

সম্প্রতি তার খামারে গিয়ে দেখা যায়, ঘেরের ভেতর ময়ূরগুলো স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কোনো কোনো ময়ূর পেখম মেলে নাচছে। ময়ূরের এই সৌন্দর্য দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ নিয়মিত তার খামারে আসেন। অনেকে আবার পছন্দের ময়ূর কিনেও নিয়ে যান।শখের ময়ূর পালনে লাখপতি যুবক

মিরপুরে ময়ূর দেখে শুরু আগ্রহ

শাহ আলী অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। ঢাকার বাড্ডায় থাকার সময় তার বাবা গরুর খামার পরিচালনা করতেন। সেখানে বাবাকে গরুর জন্য ঘাস কাটাসহ বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করতেন তিনি। পাশাপাশি মিরপুর এলাকায় পাখি কেনাবেচার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।

মিরপুরেই প্রথম কাছ থেকে ময়ূর দেখেন শাহ আলী। রঙিন পেখম আর ময়ূরের সৌন্দর্য তাকে আকৃষ্ট করে। এরপর পাখি ও গবাদিপশু বিক্রি করে জমানো টাকা দিয়ে এক জোড়া ময়ূর কেনার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

শাহ আলী বলেন, মিরপুরে ময়ূর দেখে তার ভালো লেগেছিল। পরে পাখি ও গরু বিক্রি করে জমানো টাকা দিয়ে এক জোড়া ময়ূর কিনে ফেলেন।

শুরুতেই তার কেনা এক জোড়া ময়ূর ১৮টি ডিম দেয়। সেখান থেকে ১২টি বাচ্চা ফুটে বের হয়। এরপর গ্রামের বাড়িতে ফিরে ময়ূর পালনের পরিসর বাড়ানোর উদ্যোগ নেন তিনি।

পাখিগুলোর জন্য দুটি টিনের ঘর তৈরি করতে তিনি ব্যয় করেন ২ লাখ টাকা। পরে আরও চারটি মাদি ও একটি পুরুষ ময়ূর কিনতে খরচ করেন ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

এই সাতটি ময়ূর থেকে পরবর্তী সময়ে ১৪০টি ডিম পাওয়া যায়। সেখান থেকে ১২৮টি বাচ্চা ফুটে বের হয়। এভাবেই ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে তার খামারের ময়ূরের সংখ্যা।

১০ লাখ টাকা বিনিয়োগ, বিক্রি ২৪ লাখের ময়ূর

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে যাত্রা শুরু করার পর থেকে ময়ূর কেনা, খাবার, পরিচর্যা ও খামারের অবকাঠামো তৈরিতে এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয় করেছেন শাহ আলী।

তবে সেই বিনিয়োগ ইতোমধ্যেই বড় ধরনের আর্থিক ফল দিয়েছে। শাহ আলীর ভাষ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত প্রায় ২৪ লাখ টাকার ময়ূর বিক্রি করেছেন তিনি। খামারে থাকা ৮৫টি ময়ূরের আনুমানিক বর্তমান মূল্য প্রায় ২৮ লাখ টাকা।

ময়ূরের দাম নির্ভর করে বয়স ও আকারের ওপর। এক জোড়া ময়ূর সাধারণত ৫০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ টাকার বেশি দামে বিক্রি হয়। বড় আকারের একটি জোড়া ময়ূর তিনি সর্বোচ্চ ১ লাখ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেছেন।

শুধু ময়ূর বিক্রিই নয়, এর পালক ও ডিম থেকেও আয় হয়। প্রতিটি ময়ূরের পালক ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। আর চারটি ময়ূরের ডিম বিক্রি হয় ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকায়।

ময়ূরের খাবার হিসেবে বাণিজ্যিক পোলট্রি খাদ্যের পাশাপাশি লালশাক, পালংশাক, বাঁধাকপি ও কলমিশাকসহ বিভিন্ন সবজি দেওয়া হয়।ময়ূরের খামার করে তাক লাগালেন যুবক

একা শুরু, এখন কর্মীও আছে

খামারের শুরুতে সব কাজ একাই করতেন শাহ আলী। ময়ূরের সংখ্যা বাড়তে থাকায় পরে একজন নারী শ্রমিক নিয়োগ দেন তিনি। ওই কর্মীকে মাসে ৫ হাজার টাকা বেতন দেন।

শাহ আলীর হিসাবে, কর্মীর বেতনসহ খামার পরিচালনায় প্রতি মাসে প্রায় ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়।

তবে ময়ূর পালনে আগ্রহীদের শুরুতেই বড় বিনিয়োগ করার পরামর্শ দিচ্ছেন না তিনি। বরং অল্পসংখ্যক ময়ূর দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে অভিজ্ঞতা অর্জনের পর খামার বড় করার পরামর্শ তার।

শাহ আলী বলেন, শুরুতেই বড় পরিসরে ময়ূরের খামার করা ঠিক হবে না। এক বা দুই জোড়া দিয়ে শুরু করে আগে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে। পরে পরিস্থিতি বুঝে খামার বড় করা যেতে পারে।

তার মতে, ময়ূর সব সময় দ্রুত বিক্রি করা যায় না। তাই ময়ূর পালনের পাশাপাশি অন্য কোনো আয়ের উৎস থাকাও জরুরি।

হোমনায় একমাত্র ময়ূর খামারি

হোমনা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শফিকুল আলম বলেন, বর্তমানে শাহ আলীই হোমনা উপজেলায় একমাত্র ময়ূর খামারি।

তিনি বলেন, প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা নিয়মিত শাহ আলীর খামার পরিদর্শন করেন এবং তাকে সম্ভব সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার চেষ্টা করেন।

একসময় নিছক শখ থেকে কেনা এক জোড়া ময়ূর আজ শাহ আলীর জীবনে তৈরি করেছে বড় এক সম্ভাবনার দরজা। ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকার শখের সেই শুরু এখন দাঁড়িয়েছে ২৮ লাখ টাকার খামারে। আর গ্রামের মানুষের কাছে তিনি হয়ে উঠেছেন পরিচিত এক নাম—‘ময়ূর শাহ আলী’।

জনপ্রিয় সংবাদ

নতুন খোঁড়া পুকুরে খেলতে গিয়ে ডুবে গেল দুই ভাই-বোন

শখের ময়ূর পালনেই ২৮ লাখ টাকার খামার, ‘ময়ূর শাহ আলী’ এখন এলাকায় পরিচিত

০৭:০২:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ময়ূরের সৌন্দর্য আর পেখম মেলে নাচের দৃশ্য মুগ্ধ করেছিল কুমিল্লার হোমনা উপজেলার বাবরকান্দি গ্রামের মো. শাহ আলীকে। সেই মুগ্ধতা থেকেই ২০১৯ সালে শখ করে এক জোড়া ময়ূর কিনেছিলেন তিনি। পাঁচ বছর পর সেই শখই এখন পরিণত হয়েছে লাখ লাখ টাকার ব্যবসায়।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে নিজের জমানো ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা দিয়ে এক জোড়া ময়ূর কেনেন শাহ আলী। পরে আরও পাঁচটি ময়ূর কিনে তার সংগ্রহে পাখির সংখ্যা দাঁড়ায় সাতটিতে। সময়ের সঙ্গে ময়ূরের সংখ্যা বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে শখের সেই সংগ্রহই রূপ নেয় পূর্ণাঙ্গ ময়ূরের খামারে।

বর্তমানে শাহ আলীর খামারে রয়েছে ৮৫টি ময়ূর। এর মধ্যে ১২টি পূর্ণবয়স্ক। সব মিলিয়ে খামারে থাকা ময়ূরগুলোর আনুমানিক মূল্য প্রায় ২৮ লাখ টাকা। এরই মধ্যে তিনি প্রায় ২৪ লাখ টাকার ময়ূর বিক্রি করেছেন।

ময়ূরের পাশাপাশি শাহ আলী গরু, ছাগল, ভেড়া, গিনিফাউল ও কোয়েলও পালন করছেন। তবে এলাকায় তার সবচেয়ে বড় পরিচয় এখন ময়ূর পালনকারী হিসেবে। স্থানীয়রা কেউ কেউ তাকে ভালোবেসে ‘ময়ূর শাহ আলী’ নামেও ডাকেন।

সম্প্রতি তার খামারে গিয়ে দেখা যায়, ঘেরের ভেতর ময়ূরগুলো স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কোনো কোনো ময়ূর পেখম মেলে নাচছে। ময়ূরের এই সৌন্দর্য দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ নিয়মিত তার খামারে আসেন। অনেকে আবার পছন্দের ময়ূর কিনেও নিয়ে যান।শখের ময়ূর পালনে লাখপতি যুবক

মিরপুরে ময়ূর দেখে শুরু আগ্রহ

শাহ আলী অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। ঢাকার বাড্ডায় থাকার সময় তার বাবা গরুর খামার পরিচালনা করতেন। সেখানে বাবাকে গরুর জন্য ঘাস কাটাসহ বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করতেন তিনি। পাশাপাশি মিরপুর এলাকায় পাখি কেনাবেচার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।

মিরপুরেই প্রথম কাছ থেকে ময়ূর দেখেন শাহ আলী। রঙিন পেখম আর ময়ূরের সৌন্দর্য তাকে আকৃষ্ট করে। এরপর পাখি ও গবাদিপশু বিক্রি করে জমানো টাকা দিয়ে এক জোড়া ময়ূর কেনার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

শাহ আলী বলেন, মিরপুরে ময়ূর দেখে তার ভালো লেগেছিল। পরে পাখি ও গরু বিক্রি করে জমানো টাকা দিয়ে এক জোড়া ময়ূর কিনে ফেলেন।

শুরুতেই তার কেনা এক জোড়া ময়ূর ১৮টি ডিম দেয়। সেখান থেকে ১২টি বাচ্চা ফুটে বের হয়। এরপর গ্রামের বাড়িতে ফিরে ময়ূর পালনের পরিসর বাড়ানোর উদ্যোগ নেন তিনি।

পাখিগুলোর জন্য দুটি টিনের ঘর তৈরি করতে তিনি ব্যয় করেন ২ লাখ টাকা। পরে আরও চারটি মাদি ও একটি পুরুষ ময়ূর কিনতে খরচ করেন ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

এই সাতটি ময়ূর থেকে পরবর্তী সময়ে ১৪০টি ডিম পাওয়া যায়। সেখান থেকে ১২৮টি বাচ্চা ফুটে বের হয়। এভাবেই ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে তার খামারের ময়ূরের সংখ্যা।

১০ লাখ টাকা বিনিয়োগ, বিক্রি ২৪ লাখের ময়ূর

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে যাত্রা শুরু করার পর থেকে ময়ূর কেনা, খাবার, পরিচর্যা ও খামারের অবকাঠামো তৈরিতে এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয় করেছেন শাহ আলী।

তবে সেই বিনিয়োগ ইতোমধ্যেই বড় ধরনের আর্থিক ফল দিয়েছে। শাহ আলীর ভাষ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত প্রায় ২৪ লাখ টাকার ময়ূর বিক্রি করেছেন তিনি। খামারে থাকা ৮৫টি ময়ূরের আনুমানিক বর্তমান মূল্য প্রায় ২৮ লাখ টাকা।

ময়ূরের দাম নির্ভর করে বয়স ও আকারের ওপর। এক জোড়া ময়ূর সাধারণত ৫০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ টাকার বেশি দামে বিক্রি হয়। বড় আকারের একটি জোড়া ময়ূর তিনি সর্বোচ্চ ১ লাখ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেছেন।

শুধু ময়ূর বিক্রিই নয়, এর পালক ও ডিম থেকেও আয় হয়। প্রতিটি ময়ূরের পালক ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। আর চারটি ময়ূরের ডিম বিক্রি হয় ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকায়।

ময়ূরের খাবার হিসেবে বাণিজ্যিক পোলট্রি খাদ্যের পাশাপাশি লালশাক, পালংশাক, বাঁধাকপি ও কলমিশাকসহ বিভিন্ন সবজি দেওয়া হয়।ময়ূরের খামার করে তাক লাগালেন যুবক

একা শুরু, এখন কর্মীও আছে

খামারের শুরুতে সব কাজ একাই করতেন শাহ আলী। ময়ূরের সংখ্যা বাড়তে থাকায় পরে একজন নারী শ্রমিক নিয়োগ দেন তিনি। ওই কর্মীকে মাসে ৫ হাজার টাকা বেতন দেন।

শাহ আলীর হিসাবে, কর্মীর বেতনসহ খামার পরিচালনায় প্রতি মাসে প্রায় ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়।

তবে ময়ূর পালনে আগ্রহীদের শুরুতেই বড় বিনিয়োগ করার পরামর্শ দিচ্ছেন না তিনি। বরং অল্পসংখ্যক ময়ূর দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে অভিজ্ঞতা অর্জনের পর খামার বড় করার পরামর্শ তার।

শাহ আলী বলেন, শুরুতেই বড় পরিসরে ময়ূরের খামার করা ঠিক হবে না। এক বা দুই জোড়া দিয়ে শুরু করে আগে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে। পরে পরিস্থিতি বুঝে খামার বড় করা যেতে পারে।

তার মতে, ময়ূর সব সময় দ্রুত বিক্রি করা যায় না। তাই ময়ূর পালনের পাশাপাশি অন্য কোনো আয়ের উৎস থাকাও জরুরি।

হোমনায় একমাত্র ময়ূর খামারি

হোমনা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শফিকুল আলম বলেন, বর্তমানে শাহ আলীই হোমনা উপজেলায় একমাত্র ময়ূর খামারি।

তিনি বলেন, প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা নিয়মিত শাহ আলীর খামার পরিদর্শন করেন এবং তাকে সম্ভব সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার চেষ্টা করেন।

একসময় নিছক শখ থেকে কেনা এক জোড়া ময়ূর আজ শাহ আলীর জীবনে তৈরি করেছে বড় এক সম্ভাবনার দরজা। ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকার শখের সেই শুরু এখন দাঁড়িয়েছে ২৮ লাখ টাকার খামারে। আর গ্রামের মানুষের কাছে তিনি হয়ে উঠেছেন পরিচিত এক নাম—‘ময়ূর শাহ আলী’।