রাশিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দিনে দেশটির ভোটব্যবস্থা ও যোগাযোগ অবকাঠামোয় অনলাইন হামলার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার রুশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মস্কোর অনলাইন ভোটিং ব্যবস্থা এবং দেশটির সুদূর পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ লাইন হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। তবে এসব হামলা প্রতিহত করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।
১৮ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী এই পার্লামেন্ট নির্বাচনকে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের প্রতি রুশ জনগণের সমর্থনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখছে মস্কো। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর এটিই রাশিয়ার প্রথম স্টেট ডুমা নির্বাচন।
রুশ রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ক্ষমতাসীন ও প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ ‘ইউনাইটেড রাশিয়া’ দলের আধিপত্য এবারও বজায় থাকবে বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। দেশটির রাজনৈতিক পরিবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় বিরোধী ও যুদ্ধবিরোধী অনেক প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাননি।
শনিবার রুশ কর্মকর্তারা জানান, রাতের দিকে মস্কোর অনলাইন ভোটিং ব্যবস্থায় শক্তিশালী সাইবার হামলা চালানো হয়। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের (সিইসি) চেয়ারম্যান এলা পামফিলোভা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে বলেন, হামলার চেষ্টা অব্যাহত থাকলেও সেগুলো সফলভাবে প্রতিহত করা হচ্ছে।
রাশিয়ার ডিজিটাল উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, দেশটির সুদূর পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ লাইনে নাশকতার একটি চেষ্টা শনাক্ত করা হয়েছিল। কর্তৃপক্ষের দাবি, হামলাটি ঠেকানো হয়েছে এবং যোগাযোগব্যবস্থা আবার স্বাভাবিক করা হয়েছে।
এর আগে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অভিযোগ করেছিলেন, ইউক্রেন রাশিয়ার নির্বাচনে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।
এদিকে নির্বাচনে ভোট পড়ার হার শনিবার দুপুর ২টা পর্যন্ত ৩২ দশমিক ৫৮ শতাংশে পৌঁছেছে বলে রুশ কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্যের বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।
রাশিয়ার এই নির্বাচন ১১টি সময় অঞ্চলের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ স্টেট ডুমায় মোট ৪৫০টি আসন রয়েছে। এর অর্ধেক অর্থাৎ ২২৫টি আসন একক নির্বাচনী এলাকার মাধ্যমে নির্বাচিত হবে।
যুদ্ধবিরতির পক্ষে অবস্থান নেওয়া উদারপন্থী ইয়াব্লোকো পার্টির বিরুদ্ধে নির্বাচনী নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ তুলে গত মাসে রাশিয়ার সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়। দলটি অবশ্য ওই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এরপরও ইয়াব্লোকোর কয়েকজন প্রার্থী একক নির্বাচনী আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দলটি ঐতিহাসিকভাবে জাতীয় নির্বাচনে এক অঙ্কের ভোট পেয়ে আসছে।
রাশিয়ার নির্বাচনে বিদেশের মাটিতেও রাজনৈতিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। মলদোভার বিচ্ছিন্নতাবাদী ও রুশপন্থী ট্রান্সনিস্ট্রিয়া অঞ্চলে রুশ নাগরিকদের জন্য ভোটকেন্দ্র খোলার মস্কোর পরিকল্পনা নিয়ে কিশিনাউয়ের সঙ্গে কূটনৈতিক বিরোধ তৈরি হয়েছে।
মস্কোর দাবি, ট্রান্সনিস্ট্রিয়ার প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার বাসিন্দার রুশ পাসপোর্ট রয়েছে এবং তারা রাশিয়ার নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার রাখেন। মলদোভার ভূখণ্ডের একটি সরু অংশ ট্রান্সনিস্ট্রিয়া ১৯৯০ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের সময় মলদোভা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ প্রভাবের মধ্যে রয়েছে।
রাশিয়ার এবারের পার্লামেন্ট নির্বাচন তাই শুধু দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতির জন্য নয়, ইউক্রেন যুদ্ধ, বিরোধী রাজনীতির ভবিষ্যৎ এবং মস্কোর সঙ্গে পশ্চিমা বিশ্বের টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটেও বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















