যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার একটি নতুন নিষেধাজ্ঞা আইনে স্বাক্ষর করেছেন। আইনটির নাম লিন্ডসে ও. গ্রাহাম রাশিয়া ও ইরান নিষেধাজ্ঞা আইন ২০২৬। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা আইন রাশিয়ার ওপর বিধিবদ্ধ নিষেধাজ্ঞা, শুল্ক ও বিধিনিষেধ অনুমোদন ও সম্প্রসারণ করে। ইরানের ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞাও বাড়ানো হয়েছে। আইনটি এসেছে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ওয়াশিংটন সফরের মাত্র কয়েক দিন আগে।
আইনটি প্রেসিডেন্টকে রুশ জ্বালানির পাঁচ বৃহত্তম ক্রেতার ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক বসানোর ক্ষমতা দিয়েছে। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট চীন ও ভারতকে রাশিয়ার প্রধান জ্বালানি ক্রেতা হিসেবে উল্লেখ করেছে। ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইনের লক্ষ্যে রয়েছে রুশ কর্মকর্তা, ব্যাংক এবং রুশ জ্বালানি বহনকারী ছায়া ট্যাংকারের বহর। প্রতিনিধি পরিষদে বুধবার আইনটি ২৬২ ভোটে পাস হয়, বিপক্ষে ছিল ১৫৯ ভোট। শুল্কের সর্বোচ্চ সীমা ১০০ শতাংশ হলেও কোন দেশের ওপর কত শুল্ক বসবে, তা এই প্রতিবেদনে স্পষ্ট নয়। এর আগে গত মাসে সিনেটে ভোট হয় ৮৬ পক্ষে, ১১ বিপক্ষে। ডয়চে ভেলে আইনটিকে ব্যাপক রুশ নিষেধাজ্ঞা বিল বলে বর্ণনা করেছে। রয়টার্সও একই দিনে স্বাক্ষরের খবর প্রকাশ করেছে।
আইনটির নামকরণ হয়েছে রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নামে, যিনি রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের জন্য পরিচিত। দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারত জানিয়েছে তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। নিজেদের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেছে দেশটি। চীনের প্রতিক্রিয়া প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত আমাদের হাতে আসেনি। ফলে দুই দেশ ঠিক কী পাল্টা পদক্ষেপ নেবে, তা এখনো অনিশ্চিত। ভারতের এই সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া দেশটির সতর্ক অবস্থানই তুলে ধরে। ভারতের বক্তব্যে কোনো পাল্টা শুল্ক বা নির্দিষ্ট পদক্ষেপের ঘোষণা নেই, শুধু স্বার্থ রক্ষার অঙ্গীকার আছে।
এই রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা আইন ট্রাম্পের হাতে কূটনৈতিক দর-কষাকষির নতুন একটি হাতিয়ার তুলে দিয়েছে। তিনি শুল্ককে বিদেশনীতির অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন। শির সফরের আগে আইনে স্বাক্ষর করায় বেইজিংয়ের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে বলে ধরা যায়। তবে আইনের ক্ষমতা ওয়াশিংটন কবে, কীভাবে ব্যবহার করবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। শুল্ক আরোপ এখানে অনুমতি, বাধ্যবাধকতা নয়। তাই এই ক্ষমতা কার্যকর হলে কোন কোন দেশ প্রথম চাপে পড়বে, সে হিসাব এখন দিল্লি ও বেইজিংয়ের নীতিনির্ধারকদের করতে হবে।
বাংলাদেশ সরাসরি এই রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা আইনের লক্ষ্য নয়, তবে প্রভাবের বাইরেও নয়। ভারত ও চীন বাংলাদেশের দুই বড় বাণিজ্য অংশীদার, আর যুক্তরাষ্ট্র পোশাক রপ্তানির বৃহত্তম একক বাজার। শুল্কযুদ্ধ বাড়লে সরবরাহ শৃঙ্খল ও জ্বালানির দামে চাপ পড়তে পারে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো রুশ সহযোগিতার প্রকল্পে লেনদেনের ওপর রুশ ব্যাংকবিষয়ক বিধিনিষেধের ছায়া পড়ে কি না, সেটাও ঢাকার জন্য খতিয়ে দেখার বিষয়। ভারতের ওপর শুল্ক বাড়লে সেই প্রভাব উপমহাদেশের সরবরাহ ব্যবস্থায় বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানির খরচেও পড়তে পারে। জ্বালানি আমদানির উৎস বহুমুখী করার আলোচনাও এই প্রেক্ষাপটে নতুন গুরুত্ব পেতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















