০৮:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
পাকিস্তানের ইতিহাসে প্রথমবার পাঁচ লাখ রুপির গণ্ডি ছাড়াল সোনার দাম অপুষ্ট শিশুদের চিকিৎসায় আইসিডিডিআরবির পাশে ইস্পাহানি গ্রুপ স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা, কেঁপে উঠল দেশ জুড়ে প্রশ্ন আর শোক পাকিস্তানের যুদ্ধপরীক্ষিত যুদ্ধবিমান ঘিরে আন্তর্জাতিক আগ্রহ, অস্ত্র রপ্তানিতে নতুন গতি না ফেরার দেশে বাংলা সিনেমার সোনালি যুগের নায়ক ইলিয়াস জাভেদ সংখ্যালঘু সনাতন হিন্দু নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি আইসিসি সভায় ভোটে বাংলাদেশের বিপক্ষে রায়, বিশ্বকাপ নিয়ে অনিশ্চয়তা বলিউডে ‘সাম্প্রদায়িক বৈষম্যের’ ইঙ্গিত দিয়ে সমালোচনার মুখে নতুন বয়ান এআর রহমানের ডেভিড–ভিক্টোরিয়ার ব্র্যান্ড বনাম পরিবারের সম্পর্ক, বিস্ফোরক অভিযোগে মুখ খুললেন ব্রুকলিন বেকহাম আমিরাতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ভিসায় নতুন শর্ত, দিতে হতে পারে বড় অঙ্কের বন্ড

জীবন যখন বদলে যেতে থাকে

  • Sarakhon Report
  • ০৯:৪৭:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ জুন ২০২৪
  • 158

শিবলী আহম্মেদ সুজন

তিনমাস হল একটি পত্রিকা অফিসে চাকুরী পেয়েছে জাহিদ।বাসা থেকে জাহিদ অফিসের জন্য বের হয়ে রিক্সা নিয়ে মিরপুর চৌদ্দ নম্বরে বাস স্ট্যান্ডে এসে নামলো। রিক্সা থেকে নেমে দেখতে পেল তীব্র গরমের কারণে উওর সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে ট্যাংকার দিয়ে রাস্তায় পানি ছিটানো হচ্ছে। 

রিক্সাওয়ালা বলে উঠলো… ওপরওয়ালা রহম না করলে এইসব কইরা কি আর গরম কমান যাইবো! এই কথাটা শুনে জাহিদ একটা মুচকি হাসি দিল।রিক্সাওয়ালার কথা শুনে জাহিদ মনে হয় একটু মজাই পেয়েছে।

জাহিদ পঁচিশ বছর বয়সী।বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান।সিরাজগঞ্জ জেলার তামাই গ্রামে বাড়ি। তামাই গ্রামে বাড়ি হলেও জাহিদের জন্ম ঢাকাতে। ছোটবেলা থেকে ঢাকাতেই বড় হয়েছে জাহিদ। জাহিদ খুবই শান্ত স্বভাবের ও সবসময় চুপচাপ থাকতে পছন্দ করে। কথা একটু কম বলে,কথায় আছে না বোবার কোন শত্রু নেই।হয়তো এই উক্তিটিই বিশ্বাস করে জাহিদ। প্রায় দু’বছর হল জাহিদ ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেছে। যখন কোথাও ইন্টারভিউ দিয়েও চাকুরী হচ্ছিল না তখন এক বড় ভাইয়ের মাধ্যমে পত্রিকা অফিসে চাকুরী হয় জাহিদের।

একজন বেশ সিনিয়র সাংবাদিক,যিনি জাহিদের পত্রিকার সম্পাদক। খুবই ভালো একজন মানুষ। জ্ঞানী এবং অত্যন্ত গুনী ব্যক্তি। জাহিদের ছোটবেলা থেকে টুকটাক লেখালেখির অভ্যাস থাকলেও নিউজ কিভাবে লিখতে হয় এটা জাহিদের জানা ছিল না। সম্পাদক সাহেবই হাতে কলমে জাহিদকে সব শিখিয়েছেন।  সম্পাদক সাহেব শুধু যে নিউজ নিয়েই কথা বলেন এমনটা মোটেও না, তিনি অনেক ভালো ও বাস্তবতার কথাও বলেন। তার সম্পাদকের কাছ থেকে জাহিদ জানতে পেরেছে জীবনের মানে কি? সম্পাদকের একটি উক্তি যেমন-একটা সময় পরে যখন তোমার বয়স চল্লিশের উপরে হয়ে যাবে তখন বন্ধুবান্ধব কাউকেই তোমার পাশে পাবে না।তখন তোমার কাজই হবে তোমার জীবনের একমাত্র সঙ্গী। সম্পাদকের কথা মন্ত্রমুগ্ধের মত খুব মনোযোগ সহকারে শোনে জাহিদ।

জাহিদ সবসময়ই চেষ্টা করেন সম্পাদকের কথাগুলোকে নিজের জীবনে কাজে লাগানোর।বাসে জানালার পাশের সিটে বসেছে জাহিদ।বাস চলতে শুরু করেছে,সিগনালে বাস থেমেছে। জাহিদ জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখতে পেল মোটরসাইকেল আরোহী ও একজন পথচারী একেঅপরের সাথে ঝগড়া করছে। জাহিদ মনে মনে বলে,আহারে! ঢাকার জীবন,মানুষ কত তুচ্ছ কারণে একে-অপরের সাথে ঝগড়া করে।

 

বাস আবারও চলতে শুরু করল,জাহিদ জানালার বাইরে তাকিয়ে ভাবছে,বয়স বাড়ার সাথে সাথে মানুষের জীবনযাত্রা ও গতিপথ পরিবর্তন হতে শুরু করে। বন্ধুবান্ধব ,আড্ডা,কত কিছুই যেন জীবন থেকে হারিয়ে যায়। অথচ একটা সময় ছিল,যখন সন্ধ্যা হলেই ডেন্টালে এসে বন্ধুরা একসাথে জড় হতাম। আড্ডা আর গান জুড়ে দিতাম।আর কত যে দুষ্টমি! সময়ের সাথে আজ সবকিছুই যেন হারিয়ে গেছে। জাহিদ ভাবছে তাহলে তার সম্পাদকই ঠিক। তার কথাগুলোই কি সত্য? জানালার বাহিরে তাকিয়ে বিভিন্ন কথা ভাবছে জাহিদ। বাসের হেল্পার জিজ্ঞেস করল ,ভাইজান আপনি নামবেন কই?আনমনা জাহিদ হঠাৎ উওরে বলে উঠলো গোরস্থান………

জনপ্রিয় সংবাদ

পাকিস্তানের ইতিহাসে প্রথমবার পাঁচ লাখ রুপির গণ্ডি ছাড়াল সোনার দাম

জীবন যখন বদলে যেতে থাকে

০৯:৪৭:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ জুন ২০২৪

শিবলী আহম্মেদ সুজন

তিনমাস হল একটি পত্রিকা অফিসে চাকুরী পেয়েছে জাহিদ।বাসা থেকে জাহিদ অফিসের জন্য বের হয়ে রিক্সা নিয়ে মিরপুর চৌদ্দ নম্বরে বাস স্ট্যান্ডে এসে নামলো। রিক্সা থেকে নেমে দেখতে পেল তীব্র গরমের কারণে উওর সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে ট্যাংকার দিয়ে রাস্তায় পানি ছিটানো হচ্ছে। 

রিক্সাওয়ালা বলে উঠলো… ওপরওয়ালা রহম না করলে এইসব কইরা কি আর গরম কমান যাইবো! এই কথাটা শুনে জাহিদ একটা মুচকি হাসি দিল।রিক্সাওয়ালার কথা শুনে জাহিদ মনে হয় একটু মজাই পেয়েছে।

জাহিদ পঁচিশ বছর বয়সী।বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান।সিরাজগঞ্জ জেলার তামাই গ্রামে বাড়ি। তামাই গ্রামে বাড়ি হলেও জাহিদের জন্ম ঢাকাতে। ছোটবেলা থেকে ঢাকাতেই বড় হয়েছে জাহিদ। জাহিদ খুবই শান্ত স্বভাবের ও সবসময় চুপচাপ থাকতে পছন্দ করে। কথা একটু কম বলে,কথায় আছে না বোবার কোন শত্রু নেই।হয়তো এই উক্তিটিই বিশ্বাস করে জাহিদ। প্রায় দু’বছর হল জাহিদ ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেছে। যখন কোথাও ইন্টারভিউ দিয়েও চাকুরী হচ্ছিল না তখন এক বড় ভাইয়ের মাধ্যমে পত্রিকা অফিসে চাকুরী হয় জাহিদের।

একজন বেশ সিনিয়র সাংবাদিক,যিনি জাহিদের পত্রিকার সম্পাদক। খুবই ভালো একজন মানুষ। জ্ঞানী এবং অত্যন্ত গুনী ব্যক্তি। জাহিদের ছোটবেলা থেকে টুকটাক লেখালেখির অভ্যাস থাকলেও নিউজ কিভাবে লিখতে হয় এটা জাহিদের জানা ছিল না। সম্পাদক সাহেবই হাতে কলমে জাহিদকে সব শিখিয়েছেন।  সম্পাদক সাহেব শুধু যে নিউজ নিয়েই কথা বলেন এমনটা মোটেও না, তিনি অনেক ভালো ও বাস্তবতার কথাও বলেন। তার সম্পাদকের কাছ থেকে জাহিদ জানতে পেরেছে জীবনের মানে কি? সম্পাদকের একটি উক্তি যেমন-একটা সময় পরে যখন তোমার বয়স চল্লিশের উপরে হয়ে যাবে তখন বন্ধুবান্ধব কাউকেই তোমার পাশে পাবে না।তখন তোমার কাজই হবে তোমার জীবনের একমাত্র সঙ্গী। সম্পাদকের কথা মন্ত্রমুগ্ধের মত খুব মনোযোগ সহকারে শোনে জাহিদ।

জাহিদ সবসময়ই চেষ্টা করেন সম্পাদকের কথাগুলোকে নিজের জীবনে কাজে লাগানোর।বাসে জানালার পাশের সিটে বসেছে জাহিদ।বাস চলতে শুরু করেছে,সিগনালে বাস থেমেছে। জাহিদ জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখতে পেল মোটরসাইকেল আরোহী ও একজন পথচারী একেঅপরের সাথে ঝগড়া করছে। জাহিদ মনে মনে বলে,আহারে! ঢাকার জীবন,মানুষ কত তুচ্ছ কারণে একে-অপরের সাথে ঝগড়া করে।

 

বাস আবারও চলতে শুরু করল,জাহিদ জানালার বাইরে তাকিয়ে ভাবছে,বয়স বাড়ার সাথে সাথে মানুষের জীবনযাত্রা ও গতিপথ পরিবর্তন হতে শুরু করে। বন্ধুবান্ধব ,আড্ডা,কত কিছুই যেন জীবন থেকে হারিয়ে যায়। অথচ একটা সময় ছিল,যখন সন্ধ্যা হলেই ডেন্টালে এসে বন্ধুরা একসাথে জড় হতাম। আড্ডা আর গান জুড়ে দিতাম।আর কত যে দুষ্টমি! সময়ের সাথে আজ সবকিছুই যেন হারিয়ে গেছে। জাহিদ ভাবছে তাহলে তার সম্পাদকই ঠিক। তার কথাগুলোই কি সত্য? জানালার বাহিরে তাকিয়ে বিভিন্ন কথা ভাবছে জাহিদ। বাসের হেল্পার জিজ্ঞেস করল ,ভাইজান আপনি নামবেন কই?আনমনা জাহিদ হঠাৎ উওরে বলে উঠলো গোরস্থান………