০১:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের ফাঁদে আমেরিকা: দ্রুত বিজয়ের ধারণা কি বদলাতে হবে? শত বছর পর নতুন বন্য বিড়ালের সন্ধান, বলিভিয়ার জঙ্গলে মিলল ক্ষুদ্র প্রজাতি টানা বৃষ্টিতে ঢাকার সড়কে জলাবদ্ধতা, চরম দুর্ভোগে অফিসগামী ও শিক্ষার্থীরা বৃষ্টিতে ঢাকার বাতাসে স্বস্তি, নামল দূষণের মাত্রা দুবাইয়ের নতুন জলশহরে বদলে যাচ্ছে বিলাসী জীবনের ধারণা, ৩ বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টে তারই ইঙ্গিত জাঞ্জিবারে দ্বিতীয় ‘রাশিদ ভিলেজ’ প্রকল্প চালুর নির্দেশ শেখ হামদানের মস্কো অঞ্চলে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় নিহত ২, রুশ রাজধানীর তেল শোধনাগারেও আঘাত ভারত-আমিরাত সম্পর্ক আরও জোরদারে মোদি-শেখ মোহামেদের আলোচনা দুবাইয়ের ফ্যাশনে নতুন মোড়, শোর চেয়ে এখন বড় হচ্ছে ব্যবসা ম্যাকলমোর বিতর্কে অবস্থান বদল, কনসার্টে ক্ষমা চাইলেন এড শিরান

লে পেনের দাপট, বিভক্ত মধ্যপন্থীরা—ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বাড়ছে শঙ্কা

ফ্রান্সের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে একটি বড় রাজনৈতিক প্রশ্ন—এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর উত্তরসূরি কে হবেন, তা নয়; বরং মেরিন লে পেনকে কে ঠেকাতে পারবেন?

আগামী বছরের এপ্রিল ও মে মাসে দুই দফায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা। সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতার কারণে টানা তৃতীয় মেয়াদে প্রার্থী হতে পারবেন না ম্যাক্রোঁ। ফলে তাঁর রাজনৈতিক মধ্যপন্থার পরবর্তী অধ্যায় কী হবে, সেটিও এখন বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।

এ মুহূর্তে জনমত জরিপে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন ডানপন্থী জনতুষ্টিবাদী দল ন্যাশনাল র‍্যালির নেতা মেরিন লে পেন। সাম্প্রতিক পাঁচটি জরিপে প্রথম দফায় তাঁর সমর্থন ৩২ থেকে ৩৬ শতাংশের মধ্যে। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক প্রধানমন্ত্রী এদুয়ার ফিলিপের চেয়ে তিনি অন্তত ১৩ শতাংশ পয়েন্ট এগিয়ে। দ্বিতীয় দফার তিনটি সম্ভাব্য হিসাবেও লে পেনকে জয়ী দেখানো হয়েছে। একটি জরিপে ফিলিপকে তিনি ৫৫-৪৫ শতাংশ ব্যবধানে হারাতে পারেন বলে ধারণা করা হয়েছে।

তবে এত আগে করা ফরাসি নির্বাচনী জরিপ অতীতে অনেকবার ভুল প্রমাণিত হয়েছে। ২০১৭ সালে ম্যাক্রোঁ নির্বাচিত হওয়ার আগে এই পর্যায়ে খুব কম জরিপেই তাঁকে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হয়েছিল। ১৯৯৪ সালে এদুয়ার বালাদুর এবং ২০১৬ সালে আলাঁ জুপের মতো তৎকালীন জনপ্রিয় প্রার্থীরাও পরে নির্বাচনী দৌড় থেকে ছিটকে পড়েছিলেন।

তারপরও লে পেনের বর্তমান অবস্থানকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। প্রায় তিন বছর ধরে প্রথম দফার জরিপে তাঁর সমর্থন একবার ছাড়া কখনোই ৩০ শতাংশের নিচে নামেনি। ম্যাক্রোঁর দল রেনেসাঁর সাবেক মন্ত্রী ক্লেমঁ বোনের ভাষায়, এবারের নির্বাচন আগেরগুলোর চেয়ে আলাদা—কারণ এবার লে পেনের জয়ের সম্ভাবনাকে বাস্তব বলে মনে হচ্ছে।

সবচেয়ে বড় দুর্বলতা মধ্যপন্থীদের বিভাজন

লে পেনকে ঠেকানোর জন্য যে রাজনৈতিক শিবিরের ওপর সবচেয়ে বেশি নির্ভর করতে হবে, সেই বিস্তৃত মধ্যপন্থী শিবিরই এখন সবচেয়ে বেশি বিভক্ত।

ফ্রান্সের রাজনৈতিক কেন্দ্র বলতে একদিকে মধ্য-বাম সোশ্যালিস্টদের, অন্যদিকে মধ্য-ডান রিপাবলিকানদের বোঝায়। এই বিস্তৃত পরিসরে এখন অন্তত ১৫ জন সম্ভাব্য প্রার্থী রয়েছেন। এর মধ্যে পাঁচজন অক্টোবরে সোশ্যালিস্ট পার্টির প্রাথমিক বাছাইয়ে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। আরও কয়েকজন প্রার্থী হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

এত বেশি প্রার্থী থাকায় প্রথম দফায় মধ্যপন্থীদের ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ফলে দ্বিতীয় দফায় জায়গা পাওয়ার আগেই তাদের অনেকেই বাদ পড়ে যেতে পারেন। এমনকি শেষ পর্যন্ত ফ্রান্সের ভোটারদের সামনে মধ্যপন্থী কোনো প্রার্থী নয়, বরং দুই বিপরীত মেরুর প্রার্থী—লে পেন ও বামপন্থী জনতুষ্টিবাদী নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ—বেছে নেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

এই সংকট অবশ্য শুধু ফ্রান্সের নয়। ইউরোপের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দেশেই জনতুষ্টিবাদী ডানপন্থার উত্থান ঘটছে। তবে হাঙ্গেরি, নেদারল্যান্ডস, পোল্যান্ড ও রোমানিয়ায় মধ্যপন্থী রাজনীতিকরা বিভিন্ন কৌশলে এমন শক্তিকে পরাজিত করতে পেরেছেন।

জনপ্রিয় হতে হলে শুধু মধ্যপন্থী হলেই হচ্ছে না

এই দেশগুলোর অভিজ্ঞতায় তিনটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে দেখা যাচ্ছে।

প্রথমত, প্রার্থীদের হতে হয়েছে অত্যন্ত সক্রিয় ও প্রাণবন্ত। হাঙ্গেরিতে ভিক্টর অরবানকে পরাজিত করা মধ্য-ডানপন্থী উদার নেতা পিটার মাগিয়ার এবং নেদারল্যান্ডসের মধ্য-বাম উদারপন্থী নেতা রব ইয়েটেন মাঠপর্যায়ে ব্যাপক প্রচার চালিয়েছেন। মাগিয়ার দুই বছর ধরে প্রায় পুরো দেশ ঘুরেছেন; কোনো কোনো দিনে সাতটি পর্যন্ত শহরে বক্তব্য দিয়েছেন।

দ্বিতীয়ত, সফল মধ্যপন্থী নেতাদের অনেকেই নিজেদের প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার বাইরে থাকা বিদ্রোহী হিসেবে তুলে ধরতে পেরেছেন। ম্যাক্রোঁ নিজে অভিজাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করা এবং সরকারের সাবেক মন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও ২০১৭ সালে নিজেকে প্রচলিত দলগুলোর বিরুদ্ধে নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন।

মাগিয়ার আবার দীর্ঘদিন ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে যুক্ত থাকার পর সেই দলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়ে নিজেকে ভেতরের একজন বিদ্রোহী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। রোমানিয়ার প্রেসিডেন্ট নিকুশোর দানও বুখারেস্টের মেয়র থাকলেও পুরোনো রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নিজেকে দূরে রেখে নির্বাচনে সুবিধা পেয়েছিলেন।

তৃতীয়ত, ভোটারদের কাছে সহজে বোঝানো যায় এমন প্রতীকী উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নেদারল্যান্ডসে ইয়েটেনের ১০টি নতুন শহর তৈরির প্রস্তাব দেশটির আবাসন সংকট মোকাবিলার প্রতিশ্রুতি হিসেবে মানুষের কাছে সহজে পৌঁছেছিল। রোমানিয়ায় দান দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান বোঝাতে বিতর্কিত সরকারি প্রকল্পের নির্মাণকাজ থামাতে সরাসরি ঘটনাস্থলে হাজির হয়েছিলেন।

অর্থাৎ, শুধু নীতির কথা বললেই হচ্ছে না। ভোটারদের কাছে সহজ ভাষায় বার্তা পৌঁছানো, মাঠে থাকা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহজে ছড়িয়ে পড়ার মতো রাজনৈতিক বার্তা তৈরি করাও এখন গুরুত্বপূর্ণ।

লে পেন ও মেলঁশোঁ এগিয়ে কেন

ফ্রান্সের মধ্যপন্থীদের দুর্ভাগ্য হলো, এই বৈশিষ্ট্যগুলোর অনেকটাই সবচেয়ে ভালোভাবে ধারণ করছেন লে পেন ও মেলঁশোঁ।

সাম্প্রতিক এক প্রেসিডেন্ট বিতর্কে এই দুজনই সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছেন। ৭৫ বছর বয়সী মেলঁশোঁ চতুর্থবারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়ছেন। তিনি সহজে মনে থাকার মতো রাজনৈতিক বাক্য তৈরি করতে পারদর্শী। দেশের সরকারি ঋণ সংকট মোকাবিলায় তাঁর একটি প্রস্তাবের ভাষাও ছিল অত্যন্ত তীক্ষ্ণ—“পুড়িয়ে দাও”।

লে পেনের বয়স ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তাঁকে নতুন মুখ হিসেবে তুলে ধরার সুযোগ কমিয়ে দিয়েছে। তাঁর সহযোগী জর্ডান বারদেলার তুলনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে তরুণদের কাছে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে লে পেনকে তুলনামূলকভাবে কম আকর্ষণীয় মনে করা হয়।

তবু তাঁর বড় শক্তি হলো নিজেকে প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার বাইরে থাকা প্রার্থী হিসেবে উপস্থাপন করতে পারা। জনসমক্ষে মুসলিম নারীদের হিজাব নিষিদ্ধ করার মতো প্রস্তাবও তিনি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। এসব অবস্থানের সঙ্গে অনেকের তীব্র মতবিরোধ থাকলেও রাজনৈতিক বার্তাটি সহজে বোঝা যায়—এটাই তাঁর বড় সুবিধা।

মধ্যপন্থীদের সমস্যা নেতৃত্বের সংকটেও

মধ্যপন্থী শিবিরের প্রার্থীদের মধ্যে কয়েকজন সরাসরি ম্যাক্রোঁ সরকারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এদুয়ার ফিলিপ ও গ্যাব্রিয়েল আতাল দুজনই সাবেক প্রধানমন্ত্রী। ব্রুনো রেতাইয়ো সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং রিপাবলিকানদের প্রার্থী।

তাই তাঁদের পক্ষে নিজেদের ‘ব্যবস্থার বাইরে থাকা’ প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরা কঠিন। ম্যাক্রোঁর সঙ্গে না থাকা তুলনামূলকভাবে স্বতন্ত্র মুখ রাফায়েল গ্লুকসম্যান সোশ্যালিস্ট পার্টির প্রাথমিক বাছাইয়ে অংশ নিচ্ছেন। কিন্তু জরিপে তিনি এখন চতুর্থ অবস্থানে রয়েছেন।

ফিলিপের অবশ্য কিছু সুবিধা আছে। তিনি আবারও ল্য আভরের মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন, ফলে জাতীয় রাজনীতির বাইরে একটি আঞ্চলিক রাজনৈতিক ভিত্তিও রয়েছে। অভিজ্ঞতার দিক থেকেও তিনি এগিয়ে। তাঁর দল মনে করে, কঠিন সময়ে রাজনৈতিক পরিপক্বতা ও গ্রহণযোগ্যতা এখনো গুরুত্বপূর্ণ।

ফিলিপ মধ্য-ডানপন্থী অর্থনৈতিক নীতির সমর্থক এবং ফ্রান্সের সরকারি অর্থব্যবস্থা ঠিক করতে নাগরিকদের আরও বেশি কাজ করতে হবে—এ কথা তিনি স্পষ্টভাবে বলেন। কিন্তু তাঁর সমস্যা হলো, তাঁর সঙ্গে সহজে মনে থাকার মতো কোনো স্লোগান বা রাজনৈতিক ধারণা জুড়ে দেওয়া কঠিন।

জুলাইয়ে প্যারিসে তাঁর প্রথম নির্বাচনী সমাবেশে তিনি এক ঘণ্টারও বেশি সময় বক্তৃতা করেন। কিন্তু এত দীর্ঘ বক্তব্যের পরও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে সরকারি প্রশাসনের দক্ষতা বাড়ানোর মতো একটি তুলনামূলক জটিল বিষয় নিয়ে কথা বলার পর্যায়ে পৌঁছান মাত্র।

৩৭ বছর বয়সী গ্যাব্রিয়েল আতালের মধ্যে অবশ্য রাজনৈতিক চটপটেভাব আছে। তিনি দ্রুত মনে থাকার মতো মন্তব্য করতে পারেন এবং নির্বাচনী লড়াই উপভোগও করছেন বলে তাঁর ঘনিষ্ঠরা মনে করেন। কিন্তু তিনিও এখনো জরিপে বড় ধরনের উত্থান ঘটাতে পারেননি। একই অবস্থা রেতাইয়োরও।

এক প্রার্থী হওয়ার সময় কি ফুরিয়ে আসছে?

মধ্যপন্থী শিবিরের সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—তারা কি একজন শক্তিশালী প্রার্থীর পেছনে একত্র হতে পারবে?

ফিলিপের এক সমর্থকের মতে, এখন আর প্রাথমিক বাছাইয়ের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ প্রার্থী ঠিক করার সময় নেই। তবে জরিপের ফলাফল ও রাজনৈতিক সমর্থন দুর্বল প্রার্থীদের সরে দাঁড়ানোর জন্য চাপ তৈরি করতে পারে। কিন্তু সেই প্রক্রিয়ায় কয়েক মাস লেগে যেতে পারে।

সোশ্যালিস্টরা শেষ পর্যন্ত নিজেদের প্রার্থীর পেছনে দাঁড়াবে। কেউ কেউ আশা করছেন, অভিজ্ঞ কোনো প্রবীণ রাজনীতিক এসে পুরো পরিস্থিতি নিজের হাতে নিতে পারেন। ডানদিকে দোমিনিক দ্য ভিলপ্যাঁ থেকে বামদিকে ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ—বিভিন্ন নাম আলোচনায় থাকলেও তাঁদের কাউকেই এখন পর্যন্ত এমন ঐকমত্যের নেতা হিসেবে দেখা যাচ্ছে না।

ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিন লাগার্দের নামও একসময় আলোচনায় এসেছিল। তবে তিনি বলেছেন, এমন কোনো সম্ভাবনা এখন তাঁর আলোচনার বিষয় নয়।

সমস্যা হলো, নির্বাচনের সময় দ্রুত এগিয়ে আসছে।

ভোটারদের আস্থা হারাচ্ছে কেন্দ্র

ফ্রান্সের মধ্যপন্থী ও মধ্য-বাম ভোটারদের নিয়ে ব্রিটিশ রাজনৈতিক কৌশলবিদ ক্লেয়ার আইন্সলি ও ডেবরা ম্যাটিনসনের একটি অপ্রকাশিত মতামত-গবেষণায় মধ্যপন্থী রাজনীতির প্রতি গভীর আস্থাহীনতার চিত্র উঠে এসেছে।

গবেষণায় দেখা যায়, অনেক ভোটার মনে করছেন রাজনৈতিক কেন্দ্র এখন ফাঁপা ও প্রাণহীন। কিন্তু তাঁরা কোথায় যাবেন, সেটিও পরিষ্কার নয়।

অন্যদিকে জনতুষ্টিবাদী শক্তিগুলো নিজেদের মধ্যে গতি, স্পষ্টতা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের দৃঢ়তা দেখাতে পারছে। মধ্যপন্থীদের ঘাটতি হচ্ছে নতুনত্ব, তীক্ষ্ণ বার্তা এবং ঐক্যের।

ফলে ফ্রান্সের রাজনৈতিক কেন্দ্রের সামনে সময় খুবই কম। আগামী কয়েক মাসে যদি তারা একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াইয়েই ব্যস্ত থাকে, তাহলে লে পেনের পথ আরও সহজ হয়ে যেতে পারে।

ফ্রান্সের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লড়াই তাই শুধু লে পেন বনাম তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীদের নয়। এটি একই সঙ্গে একটি প্রশ্নের উত্তর খোঁজার লড়াই—দেশটির মধ্যপন্থী রাজনীতি কি নিজেদের বিভাজন কাটিয়ে এমন একজন প্রার্থী ও এমন একটি রাজনৈতিক বার্তা তৈরি করতে পারবে, যা জনতুষ্টিবাদী ডান ও বাম—দুই মেরুকেই ঠেকাতে সক্ষম?

বর্তমান জরিপ বলছে, অন্তত এই মুহূর্তে সেই উত্তর নিশ্চিত নয়।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের ফাঁদে আমেরিকা: দ্রুত বিজয়ের ধারণা কি বদলাতে হবে?

লে পেনের দাপট, বিভক্ত মধ্যপন্থীরা—ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বাড়ছে শঙ্কা

১১:৪২:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফ্রান্সের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে একটি বড় রাজনৈতিক প্রশ্ন—এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর উত্তরসূরি কে হবেন, তা নয়; বরং মেরিন লে পেনকে কে ঠেকাতে পারবেন?

আগামী বছরের এপ্রিল ও মে মাসে দুই দফায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা। সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতার কারণে টানা তৃতীয় মেয়াদে প্রার্থী হতে পারবেন না ম্যাক্রোঁ। ফলে তাঁর রাজনৈতিক মধ্যপন্থার পরবর্তী অধ্যায় কী হবে, সেটিও এখন বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।

এ মুহূর্তে জনমত জরিপে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন ডানপন্থী জনতুষ্টিবাদী দল ন্যাশনাল র‍্যালির নেতা মেরিন লে পেন। সাম্প্রতিক পাঁচটি জরিপে প্রথম দফায় তাঁর সমর্থন ৩২ থেকে ৩৬ শতাংশের মধ্যে। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক প্রধানমন্ত্রী এদুয়ার ফিলিপের চেয়ে তিনি অন্তত ১৩ শতাংশ পয়েন্ট এগিয়ে। দ্বিতীয় দফার তিনটি সম্ভাব্য হিসাবেও লে পেনকে জয়ী দেখানো হয়েছে। একটি জরিপে ফিলিপকে তিনি ৫৫-৪৫ শতাংশ ব্যবধানে হারাতে পারেন বলে ধারণা করা হয়েছে।

তবে এত আগে করা ফরাসি নির্বাচনী জরিপ অতীতে অনেকবার ভুল প্রমাণিত হয়েছে। ২০১৭ সালে ম্যাক্রোঁ নির্বাচিত হওয়ার আগে এই পর্যায়ে খুব কম জরিপেই তাঁকে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হয়েছিল। ১৯৯৪ সালে এদুয়ার বালাদুর এবং ২০১৬ সালে আলাঁ জুপের মতো তৎকালীন জনপ্রিয় প্রার্থীরাও পরে নির্বাচনী দৌড় থেকে ছিটকে পড়েছিলেন।

তারপরও লে পেনের বর্তমান অবস্থানকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। প্রায় তিন বছর ধরে প্রথম দফার জরিপে তাঁর সমর্থন একবার ছাড়া কখনোই ৩০ শতাংশের নিচে নামেনি। ম্যাক্রোঁর দল রেনেসাঁর সাবেক মন্ত্রী ক্লেমঁ বোনের ভাষায়, এবারের নির্বাচন আগেরগুলোর চেয়ে আলাদা—কারণ এবার লে পেনের জয়ের সম্ভাবনাকে বাস্তব বলে মনে হচ্ছে।

সবচেয়ে বড় দুর্বলতা মধ্যপন্থীদের বিভাজন

লে পেনকে ঠেকানোর জন্য যে রাজনৈতিক শিবিরের ওপর সবচেয়ে বেশি নির্ভর করতে হবে, সেই বিস্তৃত মধ্যপন্থী শিবিরই এখন সবচেয়ে বেশি বিভক্ত।

ফ্রান্সের রাজনৈতিক কেন্দ্র বলতে একদিকে মধ্য-বাম সোশ্যালিস্টদের, অন্যদিকে মধ্য-ডান রিপাবলিকানদের বোঝায়। এই বিস্তৃত পরিসরে এখন অন্তত ১৫ জন সম্ভাব্য প্রার্থী রয়েছেন। এর মধ্যে পাঁচজন অক্টোবরে সোশ্যালিস্ট পার্টির প্রাথমিক বাছাইয়ে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। আরও কয়েকজন প্রার্থী হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

এত বেশি প্রার্থী থাকায় প্রথম দফায় মধ্যপন্থীদের ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ফলে দ্বিতীয় দফায় জায়গা পাওয়ার আগেই তাদের অনেকেই বাদ পড়ে যেতে পারেন। এমনকি শেষ পর্যন্ত ফ্রান্সের ভোটারদের সামনে মধ্যপন্থী কোনো প্রার্থী নয়, বরং দুই বিপরীত মেরুর প্রার্থী—লে পেন ও বামপন্থী জনতুষ্টিবাদী নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ—বেছে নেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

এই সংকট অবশ্য শুধু ফ্রান্সের নয়। ইউরোপের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দেশেই জনতুষ্টিবাদী ডানপন্থার উত্থান ঘটছে। তবে হাঙ্গেরি, নেদারল্যান্ডস, পোল্যান্ড ও রোমানিয়ায় মধ্যপন্থী রাজনীতিকরা বিভিন্ন কৌশলে এমন শক্তিকে পরাজিত করতে পেরেছেন।

জনপ্রিয় হতে হলে শুধু মধ্যপন্থী হলেই হচ্ছে না

এই দেশগুলোর অভিজ্ঞতায় তিনটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে দেখা যাচ্ছে।

প্রথমত, প্রার্থীদের হতে হয়েছে অত্যন্ত সক্রিয় ও প্রাণবন্ত। হাঙ্গেরিতে ভিক্টর অরবানকে পরাজিত করা মধ্য-ডানপন্থী উদার নেতা পিটার মাগিয়ার এবং নেদারল্যান্ডসের মধ্য-বাম উদারপন্থী নেতা রব ইয়েটেন মাঠপর্যায়ে ব্যাপক প্রচার চালিয়েছেন। মাগিয়ার দুই বছর ধরে প্রায় পুরো দেশ ঘুরেছেন; কোনো কোনো দিনে সাতটি পর্যন্ত শহরে বক্তব্য দিয়েছেন।

দ্বিতীয়ত, সফল মধ্যপন্থী নেতাদের অনেকেই নিজেদের প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার বাইরে থাকা বিদ্রোহী হিসেবে তুলে ধরতে পেরেছেন। ম্যাক্রোঁ নিজে অভিজাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করা এবং সরকারের সাবেক মন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও ২০১৭ সালে নিজেকে প্রচলিত দলগুলোর বিরুদ্ধে নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন।

মাগিয়ার আবার দীর্ঘদিন ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে যুক্ত থাকার পর সেই দলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়ে নিজেকে ভেতরের একজন বিদ্রোহী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। রোমানিয়ার প্রেসিডেন্ট নিকুশোর দানও বুখারেস্টের মেয়র থাকলেও পুরোনো রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নিজেকে দূরে রেখে নির্বাচনে সুবিধা পেয়েছিলেন।

তৃতীয়ত, ভোটারদের কাছে সহজে বোঝানো যায় এমন প্রতীকী উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নেদারল্যান্ডসে ইয়েটেনের ১০টি নতুন শহর তৈরির প্রস্তাব দেশটির আবাসন সংকট মোকাবিলার প্রতিশ্রুতি হিসেবে মানুষের কাছে সহজে পৌঁছেছিল। রোমানিয়ায় দান দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান বোঝাতে বিতর্কিত সরকারি প্রকল্পের নির্মাণকাজ থামাতে সরাসরি ঘটনাস্থলে হাজির হয়েছিলেন।

অর্থাৎ, শুধু নীতির কথা বললেই হচ্ছে না। ভোটারদের কাছে সহজ ভাষায় বার্তা পৌঁছানো, মাঠে থাকা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহজে ছড়িয়ে পড়ার মতো রাজনৈতিক বার্তা তৈরি করাও এখন গুরুত্বপূর্ণ।

লে পেন ও মেলঁশোঁ এগিয়ে কেন

ফ্রান্সের মধ্যপন্থীদের দুর্ভাগ্য হলো, এই বৈশিষ্ট্যগুলোর অনেকটাই সবচেয়ে ভালোভাবে ধারণ করছেন লে পেন ও মেলঁশোঁ।

সাম্প্রতিক এক প্রেসিডেন্ট বিতর্কে এই দুজনই সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছেন। ৭৫ বছর বয়সী মেলঁশোঁ চতুর্থবারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়ছেন। তিনি সহজে মনে থাকার মতো রাজনৈতিক বাক্য তৈরি করতে পারদর্শী। দেশের সরকারি ঋণ সংকট মোকাবিলায় তাঁর একটি প্রস্তাবের ভাষাও ছিল অত্যন্ত তীক্ষ্ণ—“পুড়িয়ে দাও”।

লে পেনের বয়স ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তাঁকে নতুন মুখ হিসেবে তুলে ধরার সুযোগ কমিয়ে দিয়েছে। তাঁর সহযোগী জর্ডান বারদেলার তুলনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে তরুণদের কাছে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে লে পেনকে তুলনামূলকভাবে কম আকর্ষণীয় মনে করা হয়।

তবু তাঁর বড় শক্তি হলো নিজেকে প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার বাইরে থাকা প্রার্থী হিসেবে উপস্থাপন করতে পারা। জনসমক্ষে মুসলিম নারীদের হিজাব নিষিদ্ধ করার মতো প্রস্তাবও তিনি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। এসব অবস্থানের সঙ্গে অনেকের তীব্র মতবিরোধ থাকলেও রাজনৈতিক বার্তাটি সহজে বোঝা যায়—এটাই তাঁর বড় সুবিধা।

মধ্যপন্থীদের সমস্যা নেতৃত্বের সংকটেও

মধ্যপন্থী শিবিরের প্রার্থীদের মধ্যে কয়েকজন সরাসরি ম্যাক্রোঁ সরকারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এদুয়ার ফিলিপ ও গ্যাব্রিয়েল আতাল দুজনই সাবেক প্রধানমন্ত্রী। ব্রুনো রেতাইয়ো সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং রিপাবলিকানদের প্রার্থী।

তাই তাঁদের পক্ষে নিজেদের ‘ব্যবস্থার বাইরে থাকা’ প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরা কঠিন। ম্যাক্রোঁর সঙ্গে না থাকা তুলনামূলকভাবে স্বতন্ত্র মুখ রাফায়েল গ্লুকসম্যান সোশ্যালিস্ট পার্টির প্রাথমিক বাছাইয়ে অংশ নিচ্ছেন। কিন্তু জরিপে তিনি এখন চতুর্থ অবস্থানে রয়েছেন।

ফিলিপের অবশ্য কিছু সুবিধা আছে। তিনি আবারও ল্য আভরের মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন, ফলে জাতীয় রাজনীতির বাইরে একটি আঞ্চলিক রাজনৈতিক ভিত্তিও রয়েছে। অভিজ্ঞতার দিক থেকেও তিনি এগিয়ে। তাঁর দল মনে করে, কঠিন সময়ে রাজনৈতিক পরিপক্বতা ও গ্রহণযোগ্যতা এখনো গুরুত্বপূর্ণ।

ফিলিপ মধ্য-ডানপন্থী অর্থনৈতিক নীতির সমর্থক এবং ফ্রান্সের সরকারি অর্থব্যবস্থা ঠিক করতে নাগরিকদের আরও বেশি কাজ করতে হবে—এ কথা তিনি স্পষ্টভাবে বলেন। কিন্তু তাঁর সমস্যা হলো, তাঁর সঙ্গে সহজে মনে থাকার মতো কোনো স্লোগান বা রাজনৈতিক ধারণা জুড়ে দেওয়া কঠিন।

জুলাইয়ে প্যারিসে তাঁর প্রথম নির্বাচনী সমাবেশে তিনি এক ঘণ্টারও বেশি সময় বক্তৃতা করেন। কিন্তু এত দীর্ঘ বক্তব্যের পরও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে সরকারি প্রশাসনের দক্ষতা বাড়ানোর মতো একটি তুলনামূলক জটিল বিষয় নিয়ে কথা বলার পর্যায়ে পৌঁছান মাত্র।

৩৭ বছর বয়সী গ্যাব্রিয়েল আতালের মধ্যে অবশ্য রাজনৈতিক চটপটেভাব আছে। তিনি দ্রুত মনে থাকার মতো মন্তব্য করতে পারেন এবং নির্বাচনী লড়াই উপভোগও করছেন বলে তাঁর ঘনিষ্ঠরা মনে করেন। কিন্তু তিনিও এখনো জরিপে বড় ধরনের উত্থান ঘটাতে পারেননি। একই অবস্থা রেতাইয়োরও।

এক প্রার্থী হওয়ার সময় কি ফুরিয়ে আসছে?

মধ্যপন্থী শিবিরের সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—তারা কি একজন শক্তিশালী প্রার্থীর পেছনে একত্র হতে পারবে?

ফিলিপের এক সমর্থকের মতে, এখন আর প্রাথমিক বাছাইয়ের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ প্রার্থী ঠিক করার সময় নেই। তবে জরিপের ফলাফল ও রাজনৈতিক সমর্থন দুর্বল প্রার্থীদের সরে দাঁড়ানোর জন্য চাপ তৈরি করতে পারে। কিন্তু সেই প্রক্রিয়ায় কয়েক মাস লেগে যেতে পারে।

সোশ্যালিস্টরা শেষ পর্যন্ত নিজেদের প্রার্থীর পেছনে দাঁড়াবে। কেউ কেউ আশা করছেন, অভিজ্ঞ কোনো প্রবীণ রাজনীতিক এসে পুরো পরিস্থিতি নিজের হাতে নিতে পারেন। ডানদিকে দোমিনিক দ্য ভিলপ্যাঁ থেকে বামদিকে ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ—বিভিন্ন নাম আলোচনায় থাকলেও তাঁদের কাউকেই এখন পর্যন্ত এমন ঐকমত্যের নেতা হিসেবে দেখা যাচ্ছে না।

ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিন লাগার্দের নামও একসময় আলোচনায় এসেছিল। তবে তিনি বলেছেন, এমন কোনো সম্ভাবনা এখন তাঁর আলোচনার বিষয় নয়।

সমস্যা হলো, নির্বাচনের সময় দ্রুত এগিয়ে আসছে।

ভোটারদের আস্থা হারাচ্ছে কেন্দ্র

ফ্রান্সের মধ্যপন্থী ও মধ্য-বাম ভোটারদের নিয়ে ব্রিটিশ রাজনৈতিক কৌশলবিদ ক্লেয়ার আইন্সলি ও ডেবরা ম্যাটিনসনের একটি অপ্রকাশিত মতামত-গবেষণায় মধ্যপন্থী রাজনীতির প্রতি গভীর আস্থাহীনতার চিত্র উঠে এসেছে।

গবেষণায় দেখা যায়, অনেক ভোটার মনে করছেন রাজনৈতিক কেন্দ্র এখন ফাঁপা ও প্রাণহীন। কিন্তু তাঁরা কোথায় যাবেন, সেটিও পরিষ্কার নয়।

অন্যদিকে জনতুষ্টিবাদী শক্তিগুলো নিজেদের মধ্যে গতি, স্পষ্টতা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের দৃঢ়তা দেখাতে পারছে। মধ্যপন্থীদের ঘাটতি হচ্ছে নতুনত্ব, তীক্ষ্ণ বার্তা এবং ঐক্যের।

ফলে ফ্রান্সের রাজনৈতিক কেন্দ্রের সামনে সময় খুবই কম। আগামী কয়েক মাসে যদি তারা একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াইয়েই ব্যস্ত থাকে, তাহলে লে পেনের পথ আরও সহজ হয়ে যেতে পারে।

ফ্রান্সের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লড়াই তাই শুধু লে পেন বনাম তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীদের নয়। এটি একই সঙ্গে একটি প্রশ্নের উত্তর খোঁজার লড়াই—দেশটির মধ্যপন্থী রাজনীতি কি নিজেদের বিভাজন কাটিয়ে এমন একজন প্রার্থী ও এমন একটি রাজনৈতিক বার্তা তৈরি করতে পারবে, যা জনতুষ্টিবাদী ডান ও বাম—দুই মেরুকেই ঠেকাতে সক্ষম?

বর্তমান জরিপ বলছে, অন্তত এই মুহূর্তে সেই উত্তর নিশ্চিত নয়।