০১:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের ফাঁদে আমেরিকা: দ্রুত বিজয়ের ধারণা কি বদলাতে হবে? শত বছর পর নতুন বন্য বিড়ালের সন্ধান, বলিভিয়ার জঙ্গলে মিলল ক্ষুদ্র প্রজাতি টানা বৃষ্টিতে ঢাকার সড়কে জলাবদ্ধতা, চরম দুর্ভোগে অফিসগামী ও শিক্ষার্থীরা বৃষ্টিতে ঢাকার বাতাসে স্বস্তি, নামল দূষণের মাত্রা দুবাইয়ের নতুন জলশহরে বদলে যাচ্ছে বিলাসী জীবনের ধারণা, ৩ বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টে তারই ইঙ্গিত জাঞ্জিবারে দ্বিতীয় ‘রাশিদ ভিলেজ’ প্রকল্প চালুর নির্দেশ শেখ হামদানের মস্কো অঞ্চলে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় নিহত ২, রুশ রাজধানীর তেল শোধনাগারেও আঘাত ভারত-আমিরাত সম্পর্ক আরও জোরদারে মোদি-শেখ মোহামেদের আলোচনা দুবাইয়ের ফ্যাশনে নতুন মোড়, শোর চেয়ে এখন বড় হচ্ছে ব্যবসা ম্যাকলমোর বিতর্কে অবস্থান বদল, কনসার্টে ক্ষমা চাইলেন এড শিরান

সৌদির পাশে তুরস্ক, হুথি হামলার মধ্যে প্রতিরক্ষা চুক্তির নতুন সমীকরণ

ইয়েমেনের হুথিদের ধারাবাহিক হামলার মধ্যে সৌদি আরবের সামরিক প্রয়োজন মেটাতে প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে তুরস্ক। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, সৌদি আরবের ভূখণ্ড, সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার ওপর হামলা অত্যন্ত গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের প্রয়োজন হলে তুরস্ক সামরিক ও কারিগরি সহায়তা দিতে প্রস্তুত।

শনিবার তুরস্কের সম্প্রচারমাধ্যম এনটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফিদান বলেন, সৌদি আরবের ওপর সাম্প্রতিক হামলার বিষয়টি তুরস্ক অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। তিনি বলেন, তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় তিন দেশ একে অন্যের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

ফিদানের ভাষায়, সৌদি আরবের কিছু সামরিক প্রয়োজন তৈরি হতে পারে, বিশেষ করে কিছু কারিগরি ক্ষেত্রে। এসব প্রয়োজন পূরণে তুরস্কের কোনো আপত্তি নেই।

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির গুরুত্ব

তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তান গত মাসে যে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে, সেটি ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নামে পরিচিত। চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো—তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

ফলে সৌদি আরবের ওপর হুথিদের হামলা যত বাড়ছে, ততই এই চুক্তির বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

তবে এখন পর্যন্ত পাকিস্তান জানিয়েছে, হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক প্রতিক্রিয়া দেখানোর বিষয়ে চুক্তির আওতায় ইসলামাবাদে কোনো আলোচনা হয়নি। একই সঙ্গে পাকিস্তান বলেছে, প্রয়োজনীয় সময় এলে তারা ব্যবস্থা নেবে।

অন্যদিকে তুরস্ক জানিয়েছে, এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কোনো বিদ্যমান জোটের বিকল্প হিসেবে তৈরি করা হয়নি। বরং প্রয়োজন হলে এর সদস্যসংখ্যা আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

সৌদি আরবে হুথিদের হামলা বাড়ছে

ইয়েমেনের সবচেয়ে জনবহুল এলাকাগুলো নিয়ন্ত্রণকারী হুথিরা জুলাই থেকে সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করেছে। গোষ্ঠীটি সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণার পর দেশটির বিভিন্ন শহর, জ্বালানি অবকাঠামো এবং সমুদ্রপথে হামলা চালিয়ে আসছে।

শনিবারও হুথিরা দাবি করেছে, তারা সৌদি রাজধানী রিয়াদের কয়েকটি ‘গুরুত্বপূর্ণ’ স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দরের কাছে আগুনের শিখা ও আকাশে বড় ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়।

এই হামলার ফলে শুধু সৌদি আরবের নিরাপত্তাই নয়, উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত থাকায় লোহিত সাগর হয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল রপ্তানির বিকল্প পথটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো বা সমুদ্রপথে বড় ধরনের হামলা হলে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারেও তার প্রভাব পড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে সৌদিকে টানতে চায় না তুরস্ক

ফিদান একই সঙ্গে সতর্ক করে বলেছেন, সৌদি আরবকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের অংশ বানানো গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর মতে, সৌদি আরব নিজে এই সংঘাতে জড়াতে চায় না।

তিনি জানান, যুদ্ধ বন্ধ করার লক্ষ্যে তুরস্ক বিভিন্ন পক্ষের কাছে কিছু প্রস্তাব দিয়েছে। তবে এসব প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সম্মতি প্রয়োজন।

ফিদান বলেন, সংকট সমাধানে একাধিক উদ্যোগ রয়েছে এবং নতুন কিছু প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। এখন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো সেগুলো গ্রহণ করবে কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, দীর্ঘদিন ধরে এই সংকটের অর্থনৈতিক প্রভাব সহ্য করা হলেও এখন পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যাচ্ছে, যেখানে এর প্রভাব আর সহজে সহনীয় থাকছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন

সৌদি আরবের ওপর হুথিদের হামলার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানও আলোচনায় এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবের পক্ষ থেকে হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক সহায়তার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছেন।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও হুথিদের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়েছিল। ওই সময় ওয়াশিংটন প্রায় দুই মাস হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়েছিল।

এখন সৌদি আরবের ওপর নতুন করে হামলা বাড়ায় দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। একদিকে সৌদি আরব সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে জড়াতে চায় না, অন্যদিকে তার ভূখণ্ড ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা অব্যাহত রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে সৌদি আরবের নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি কতটা কার্যকর হবে, তা এখন বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।

তুরস্কের সামরিক ভূমিকা কতটা বাড়বে?

তুরস্ক ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সেনাবাহিনীর অধিকারী। দেশটির সামরিক সক্ষমতা এবং প্রতিরক্ষা শিল্প সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্রুত বিস্তৃত হয়েছে। ফলে সৌদি আরবের সামরিক বা কারিগরি প্রয়োজন পূরণে তুরস্কের ভূমিকা বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে ফিদানের বক্তব্যে এখনই সৌদি আরবে তুরস্কের সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের ঘোষণা নেই। বরং তিনি বলেছেন, সৌদি আরবের প্রয়োজন অনুযায়ী সামরিক সহায়তা ও বিশেষ করে কারিগরি সহযোগিতা দেওয়ার বিষয়ে তুরস্ক প্রস্তুত।

এদিকে পাকিস্তানও এখন পর্যন্ত সরাসরি সামরিক প্রতিক্রিয়ার কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানিয়েছে। ফলে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি বাস্তবে কীভাবে প্রয়োগ করা হবে, সেটি এখনও স্পষ্ট নয়।

তবে সৌদি আরবের ওপর হামলা অব্যাহত থাকলে চুক্তির রাজনৈতিক ও সামরিক গুরুত্ব যে আরও বাড়বে, তা স্পষ্ট। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ, হুথিদের নতুন হামলা এবং হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতার মধ্যে তুরস্ক-সৌদি আরব-পাকিস্তান এই নতুন প্রতিরক্ষা সমীকরণ আঞ্চলিক নিরাপত্তার হিসাবও বদলে দিতে পারে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের ফাঁদে আমেরিকা: দ্রুত বিজয়ের ধারণা কি বদলাতে হবে?

সৌদির পাশে তুরস্ক, হুথি হামলার মধ্যে প্রতিরক্ষা চুক্তির নতুন সমীকরণ

১১:৪৬:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইয়েমেনের হুথিদের ধারাবাহিক হামলার মধ্যে সৌদি আরবের সামরিক প্রয়োজন মেটাতে প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে তুরস্ক। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, সৌদি আরবের ভূখণ্ড, সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার ওপর হামলা অত্যন্ত গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের প্রয়োজন হলে তুরস্ক সামরিক ও কারিগরি সহায়তা দিতে প্রস্তুত।

শনিবার তুরস্কের সম্প্রচারমাধ্যম এনটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফিদান বলেন, সৌদি আরবের ওপর সাম্প্রতিক হামলার বিষয়টি তুরস্ক অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। তিনি বলেন, তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় তিন দেশ একে অন্যের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

ফিদানের ভাষায়, সৌদি আরবের কিছু সামরিক প্রয়োজন তৈরি হতে পারে, বিশেষ করে কিছু কারিগরি ক্ষেত্রে। এসব প্রয়োজন পূরণে তুরস্কের কোনো আপত্তি নেই।

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির গুরুত্ব

তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তান গত মাসে যে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে, সেটি ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নামে পরিচিত। চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো—তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

ফলে সৌদি আরবের ওপর হুথিদের হামলা যত বাড়ছে, ততই এই চুক্তির বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

তবে এখন পর্যন্ত পাকিস্তান জানিয়েছে, হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক প্রতিক্রিয়া দেখানোর বিষয়ে চুক্তির আওতায় ইসলামাবাদে কোনো আলোচনা হয়নি। একই সঙ্গে পাকিস্তান বলেছে, প্রয়োজনীয় সময় এলে তারা ব্যবস্থা নেবে।

অন্যদিকে তুরস্ক জানিয়েছে, এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কোনো বিদ্যমান জোটের বিকল্প হিসেবে তৈরি করা হয়নি। বরং প্রয়োজন হলে এর সদস্যসংখ্যা আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

সৌদি আরবে হুথিদের হামলা বাড়ছে

ইয়েমেনের সবচেয়ে জনবহুল এলাকাগুলো নিয়ন্ত্রণকারী হুথিরা জুলাই থেকে সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করেছে। গোষ্ঠীটি সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণার পর দেশটির বিভিন্ন শহর, জ্বালানি অবকাঠামো এবং সমুদ্রপথে হামলা চালিয়ে আসছে।

শনিবারও হুথিরা দাবি করেছে, তারা সৌদি রাজধানী রিয়াদের কয়েকটি ‘গুরুত্বপূর্ণ’ স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দরের কাছে আগুনের শিখা ও আকাশে বড় ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়।

এই হামলার ফলে শুধু সৌদি আরবের নিরাপত্তাই নয়, উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত থাকায় লোহিত সাগর হয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল রপ্তানির বিকল্প পথটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো বা সমুদ্রপথে বড় ধরনের হামলা হলে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারেও তার প্রভাব পড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে সৌদিকে টানতে চায় না তুরস্ক

ফিদান একই সঙ্গে সতর্ক করে বলেছেন, সৌদি আরবকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের অংশ বানানো গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর মতে, সৌদি আরব নিজে এই সংঘাতে জড়াতে চায় না।

তিনি জানান, যুদ্ধ বন্ধ করার লক্ষ্যে তুরস্ক বিভিন্ন পক্ষের কাছে কিছু প্রস্তাব দিয়েছে। তবে এসব প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সম্মতি প্রয়োজন।

ফিদান বলেন, সংকট সমাধানে একাধিক উদ্যোগ রয়েছে এবং নতুন কিছু প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। এখন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো সেগুলো গ্রহণ করবে কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, দীর্ঘদিন ধরে এই সংকটের অর্থনৈতিক প্রভাব সহ্য করা হলেও এখন পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যাচ্ছে, যেখানে এর প্রভাব আর সহজে সহনীয় থাকছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন

সৌদি আরবের ওপর হুথিদের হামলার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানও আলোচনায় এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবের পক্ষ থেকে হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক সহায়তার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছেন।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও হুথিদের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়েছিল। ওই সময় ওয়াশিংটন প্রায় দুই মাস হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়েছিল।

এখন সৌদি আরবের ওপর নতুন করে হামলা বাড়ায় দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। একদিকে সৌদি আরব সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে জড়াতে চায় না, অন্যদিকে তার ভূখণ্ড ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা অব্যাহত রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে সৌদি আরবের নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি কতটা কার্যকর হবে, তা এখন বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।

তুরস্কের সামরিক ভূমিকা কতটা বাড়বে?

তুরস্ক ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সেনাবাহিনীর অধিকারী। দেশটির সামরিক সক্ষমতা এবং প্রতিরক্ষা শিল্প সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্রুত বিস্তৃত হয়েছে। ফলে সৌদি আরবের সামরিক বা কারিগরি প্রয়োজন পূরণে তুরস্কের ভূমিকা বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে ফিদানের বক্তব্যে এখনই সৌদি আরবে তুরস্কের সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের ঘোষণা নেই। বরং তিনি বলেছেন, সৌদি আরবের প্রয়োজন অনুযায়ী সামরিক সহায়তা ও বিশেষ করে কারিগরি সহযোগিতা দেওয়ার বিষয়ে তুরস্ক প্রস্তুত।

এদিকে পাকিস্তানও এখন পর্যন্ত সরাসরি সামরিক প্রতিক্রিয়ার কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানিয়েছে। ফলে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি বাস্তবে কীভাবে প্রয়োগ করা হবে, সেটি এখনও স্পষ্ট নয়।

তবে সৌদি আরবের ওপর হামলা অব্যাহত থাকলে চুক্তির রাজনৈতিক ও সামরিক গুরুত্ব যে আরও বাড়বে, তা স্পষ্ট। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ, হুথিদের নতুন হামলা এবং হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতার মধ্যে তুরস্ক-সৌদি আরব-পাকিস্তান এই নতুন প্রতিরক্ষা সমীকরণ আঞ্চলিক নিরাপত্তার হিসাবও বদলে দিতে পারে।