ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এবার এক অভাবনীয় সমানে-সমান লড়াইয়ের দিকে যাচ্ছে। বিটিজি প্যাকচুয়াল-নেক্সাসের সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, দ্বিতীয় দফার সম্ভাব্য লড়াইয়ে বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা পেয়েছেন ৪৬ শতাংশ ভোট, আর তার প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারো পেয়েছেন ৪৫ শতাংশ। অন্যদিকে কুয়েস্তের জরিপে চিত্র উল্টো, সেখানে বলসোনারো এগিয়ে ৪২ শতাংশ ভোট নিয়ে, লুলা ৪১ শতাংশে।
আগামী ৪ অক্টোবর প্রথম দফা ভোট হবে, কোনো প্রার্থী ৫০ শতাংশের বেশি ভোট না পেলে শীর্ষ দুই প্রার্থী ২৫ অক্টোবর দ্বিতীয় দফায় লড়বেন। ফ্লাভিও বলসোনারো সাবেক কট্টর ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর ছেলে এবং একজন সিনেটর, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত।
লুলার জন্য এই নির্বাচন চতুর্থ মেয়াদের লড়াই, যদিও পরপর নয়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, জইর বলসোনারো নিজে ক্ষমতার অপব্যবহার ও ২০২২ সালের নির্বাচনী ফল উল্টে দেওয়ার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়ে নির্বাচনী আদালতের রায়ে অযোগ্য ঘোষিত হয়েছেন, ফলে তার ছেলেই এখন পরিবারের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বহন করছেন।
লুলা তার প্রচারণাকে ব্রাজিলের “সার্বভৌমত্ব” রক্ষার লড়াই হিসেবে তুলে ধরছেন, জুলাইয়ে ব্রাজিলীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্ককে নির্বাচনে হস্তক্ষেপের চেষ্টা বলে অভিহিত করে। এই ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন তাই কেবল অভ্যন্তরীণ রাজনীতির লড়াই নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণী প্রশ্নও।
লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম অর্থনীতিতে এই ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল বিশ্ব বাণিজ্য ও জলবায়ু কূটনীতিতে প্রভাব ফেলবে, কেননা ব্রাজিল বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কৃষি ও জ্বালানি রপ্তানিকারক দেশ। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল অর্থনীতির জন্যও এই নির্বাচন তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ বিশ্ববাণিজ্যে যুক্তরাষ্ট্র-লাতিন আমেরিকা সম্পর্কের টানাপোড়েন খাদ্যপণ্য ও জ্বালানির বৈশ্বিক দামে ঢেউ তুলতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে দুই শিবিরের এই সমানে-সমান অবস্থান দেখাচ্ছে, বলসোনারোপন্থী রাজনীতি বাবার অযোগ্যতার পরও ব্রাজিলে সমান শক্তিশালী রয়ে গেছে। অক্টোবরের ভোট তাই কেবল একজন প্রেসিডেন্ট নয়, বরং ব্রাজিলের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনাও ঠিক করে দেবে।
দুই জরিপের ভিন্ন ফলাফল নিজেই দেখাচ্ছে, ব্রাজিলের ভোটাররা কতটা বিভক্ত এবং জরিপ পদ্ধতির ওপর নির্ভর করে চিত্র কতটা বদলে যেতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, শেষ মুহূর্তের প্রচারণা, বিতর্ক অনুষ্ঠান ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনই শেষ পর্যন্ত ঠিক করে দেবে কে এগিয়ে থাকবেন। ফ্লাভিও বলসোনারোর প্রচারণা মূলত বাবার প্রতি সহানুভূতি ও ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ অবস্থানকে পুঁজি করে এগোচ্ছে, যেখানে লুলা তুলে ধরছেন অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















