সৌদি জেট জ্বালানি সরবরাহের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম। রয়্যাল এয়ার ফোর্স সৌদি যুদ্ধবিমানে আকাশপথে জ্বালানি সরবরাহের অভিযান চালাবে বলে জানান তিনি, “প্রতিরক্ষামূলক আকাশপথ জ্বালানি সরবরাহের এই অনুরোধে আমি সম্মত হয়েছি।”
এই সহায়তা সময়সীমাবদ্ধ এবং নিয়মিত পর্যালোচনার আওতায় থাকবে বলে জানানো হয়েছে। ইয়েমেনের হুথি বাহিনী সম্প্রতি সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামরিক তৎপরতা জোরদার করেছে, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্য করে, শনিবারের এক হামলা সৌদি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিহত করে। আকাশ হামলার পাশাপাশি হুথিরা লোহিত সাগরের কৌশলগত মোকা বন্দর ও একাধিক দ্বীপ দখল করে নিয়েছে, যা তাদের জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণের সক্ষমতা বাড়িয়ে দিয়েছে।
বাব-এল-মান্দেব প্রণালী দিয়ে বিশ্ব বাণিজ্যের প্রায় ১২ শতাংশ পরিবহন হয়, আর হুথিরা এখন এই কৌশলগত প্রণালীর তীরবর্তী এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেছে। বার্নহাম বলেন, এই সামরিক চুক্তির লক্ষ্য “এই বাণিজ্যপথগুলো খোলা রাখা।”
এই সৌদি জেট জ্বালানি সহায়তার আওতায় একটি ভয়েজার জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান মোতায়েন করবে ব্রিটেন, এবং এই অভিযান সম্পূর্ণভাবে প্রতিরক্ষামূলক, সৌদি ভূখণ্ড রক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণাত্মক অভিযানের অংশ নয়। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এই সহায়তা কার্যকর হওয়ার কথা। যুক্তরাজ্য ও সৌদি আরবের কয়েক দশকের সামরিক মিত্রতার পটভূমিতে এই সিদ্ধান্ত নতুন কিছু নয়, তবে লোহিত সাগরে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে এটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।
লোহিত সাগর ও বাব-এল-মান্দেবের এই সংকট বাংলাদেশের রপ্তানি-আমদানি বাণিজ্যের জন্যও উদ্বেগের কারণ, কেননা এই পথ দিয়ে ইউরোপগামী পোশাক শিল্পের বড় অংশ চলাচল করে। এই সৌদি জেট জ্বালানি চুক্তির পেছনের সংকট থেকেই শিপিং খরচ ও বিমা প্রিমিয়াম বেড়ে যাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে দেশের রপ্তানি প্রতিযোগিতা সক্ষমতায়।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, হুথিদের হাতে মোকা বন্দর ও একাধিক দ্বীপ চলে যাওয়ার পর লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। বহু আন্তর্জাতিক শিপিং প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে আফ্রিকার দক্ষিণ উপকূল ঘুরে বিকল্প পথ ব্যবহার করছে, যাতে সময় ও জ্বালানি খরচ দুটোই বেড়ে যাচ্ছে উল্লেখযোগ্য হারে। পোশাক শিল্পের ওপর নির্ভরশীল বাংলাদেশের মতো অর্থনীতির জন্য এই বাড়তি ব্যয় ক্রেতাদের সঙ্গে দর কষাকষির ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















