০৮:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ভারত এগিয়ে, কিন্তু বিদ্যুৎ গ্রিডে বাড়ছে চাপ প্রজ্ঞাপন জারি: জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বাস-মিনিবাসের ভাড়া কিলোমিটারে ১৭ পয়সা বৃদ্ধি ২০ তলা থেকে সাইকেলসহ নানা জিনিস ছুড়ে দিলেন ব্যক্তি, ৬ ঘণ্টার পুলিশি অভিযানে আটক চাঁদের আলোয় সায়েন্স সেন্টারে এক রাতের নাচ-গান, সিঙ্গাপুরে ‘মুনবিটস: আফটারডার্ক’ একা থাকা ৭২ বছরের বৃদ্ধের মৃত্যু, দরজার নিচ দিয়ে রক্ত গড়িয়ে আসতেই মিলল মরদেহ টোকিওর কাছে টাইফুন দুজুয়ানের আঘাত, নিহত ৯, নিখোঁজ ৪ এল নিনোর তাপে ভারতে ফেব্রুয়ারির মধ্যে ১৫ হাজার ৮০০ মৃত্যুর শঙ্কা ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনো, চূড়ায় ওঠার আগেই ভাঙল রেকর্ড চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে স্কুলে গুলি, ওপেনএআইকে নতুন স্কুল গড়ে দিতে মামলা ১৮৯৭ থেকে পথিকের আশ্রয়, আধুনিক জীবনের ক্লান্তি কাটাতে নতুন করে জেগে উঠছে আর্কটিকের ছোট্ট দ্বীপ

চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে স্কুলে গুলি, ওপেনএআইকে নতুন স্কুল গড়ে দিতে মামলা

কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশ ওপেনএআই ও এর প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। প্রদেশটির দাবি, টাম্বলার রিজ শহরে স্কুলে গুলির ঘটনার পর ভেঙে ফেলা স্কুলের জায়গায় নতুন স্কুল গড়ার খরচ দিতে হবে ওপেনএআইকে। মার্কিন প্রযুক্তি সংবাদমাধ্যম আর্স টেকনিকা এ খবর দিয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে কানাডার ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ এই হামলায় আট জন নিহত হন। হামলাকারী ১৮ বছরের এক তরুণ স্কুলে পাঁচ শিশু ও এক শিক্ষা সহকারীকে হত্যা করে। এর আগে সে নিজের মা ও সৎভাইকে গুলি করে। হামলাকারীও পরে মারা যায়। অভিযোগ, হামলার পরিকল্পনায় সে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করেছিল। ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা এর আগে নিহতদের পরিবারও করেছে।

মামলায় বলা হয়েছে, টাম্বলার রিজ মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি ছিল শহরের ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। হামলার পর এটি হয়ে ওঠে “মানসিক আঘাতের প্রতীক”। প্রায় ১৬০ জন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মী ঘণ্টার পর ঘণ্টা শ্রেণিকক্ষ ও আলমারিতে আটকে ছিলেন। তাঁরা আর সেখানে ফিরতে পারেননি। তাই আগস্টে ভবনটি ভাঙা শুরু হয়। বছর শেষের মধ্যে নতুন জায়গায় স্কুল গড়ার আশা করছে স্থানীয় জনগোষ্ঠী। প্রদেশটি চায়, ওপেনএআই স্কুলের খরচসহ জরুরি সাড়াদানের সব ব্যয় বহন করুক। প্রদেশের যুক্তি, ঘটনাটি না ঘটলে এসব খরচ কখনো হতো না। ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা তাই শুধু ক্ষতিপূরণের নয়, দায় নির্ধারণেরও লড়াই। আদালতের কাছে তারা চ্যাটজিপিটিতে সহিংস কথোপকথন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ করার নির্দেশও চেয়েছে। হামলাকারীর চ্যাটের নথি জনসমক্ষে প্রকাশের আদেশও চাওয়া হয়েছে।Canadian province sues OpenAI in US over school shooting | South China  Morning Post

অভিযোগের কেন্দ্রে একটি সিদ্ধান্ত। ওপেনএআই আগেই জানতে পেরেছিল, হামলাকারী সহিংসতার পরিকল্পনায় চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করছে। কোম্পানির মানব পর্যালোচনা দল পুলিশকে জানানোর সুপারিশ করেছিল। কিন্তু সেই সুপারিশ উপেক্ষা করা হয়। ওপেনএআই বলছে, তখন তারা ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা রক্ষা করছিল। এখন পর্যন্ত চ্যাটের নথি শুধু কানাডার ফেডারেল পুলিশকে দেওয়া হয়েছে। ওপেনএআইয়ের এক মুখপাত্র বলেছেন, টাম্বলার রিজের ঘটনা ছিল “অবর্ণনীয় ট্র্যাজেডি”। তবে মামলা নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করেননি। ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা এখন এআই কোম্পানির দায় নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্কের নতুন দৃষ্টান্ত। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে চ্যাটজিপিটি-সংশ্লিষ্ট আরেকটি গুলির ঘটনায় স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চ্যাটের নথি প্রকাশ করেছিল। কানাডার পুলিশ এখনো তা করেনি।

এই প্রশ্ন বাংলাদেশের জন্যও প্রাসঙ্গিক। দেশে লাখো তরুণ প্রতিদিন চ্যাটজিপিটিসহ নানা এআই চ্যাটবট ব্যবহার করছে। কোনো ব্যবহারকারী সহিংসতা বা আত্মক্ষতির পরিকল্পনা করলে কোম্পানি কী করবে, কাকে জানাবে, সেই নিয়ম পরিষ্কার নয়। বিদেশি কোম্পানি বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কতটা সহযোগিতা করবে, সেটিও অনিশ্চিত। কানাডায় ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা যে রায়েই শেষ হোক, তা অন্য দেশের জন্যও দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। অনেক দেশ সেই রায় দেখে নিজেদের আইন সাজাবে। গোপনীয়তা আর জননিরাপত্তার ভারসাম্য কোথায় টানা হবে, সেই বিতর্কে ঢাকারও অবস্থান ঠিক করা দরকার। এআই নিয়ন্ত্রণের জাতীয় নীতিতে এই প্রশ্ন জায়গা পাওয়া উচিত।

টাম্বলার রিজের পুরোনো স্কুলভবন এখন ধ্বংসস্তূপ। নতুন স্কুলের ইট কে গাঁথবে, তা ঠিক করবে আদালত, আর সেই রায়ের দিকে তাকিয়ে আছে গোটা এআই শিল্প।

জনপ্রিয় সংবাদ

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ভারত এগিয়ে, কিন্তু বিদ্যুৎ গ্রিডে বাড়ছে চাপ

চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে স্কুলে গুলি, ওপেনএআইকে নতুন স্কুল গড়ে দিতে মামলা

০৭:৪৭:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশ ওপেনএআই ও এর প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। প্রদেশটির দাবি, টাম্বলার রিজ শহরে স্কুলে গুলির ঘটনার পর ভেঙে ফেলা স্কুলের জায়গায় নতুন স্কুল গড়ার খরচ দিতে হবে ওপেনএআইকে। মার্কিন প্রযুক্তি সংবাদমাধ্যম আর্স টেকনিকা এ খবর দিয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে কানাডার ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ এই হামলায় আট জন নিহত হন। হামলাকারী ১৮ বছরের এক তরুণ স্কুলে পাঁচ শিশু ও এক শিক্ষা সহকারীকে হত্যা করে। এর আগে সে নিজের মা ও সৎভাইকে গুলি করে। হামলাকারীও পরে মারা যায়। অভিযোগ, হামলার পরিকল্পনায় সে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করেছিল। ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা এর আগে নিহতদের পরিবারও করেছে।

মামলায় বলা হয়েছে, টাম্বলার রিজ মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি ছিল শহরের ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। হামলার পর এটি হয়ে ওঠে “মানসিক আঘাতের প্রতীক”। প্রায় ১৬০ জন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মী ঘণ্টার পর ঘণ্টা শ্রেণিকক্ষ ও আলমারিতে আটকে ছিলেন। তাঁরা আর সেখানে ফিরতে পারেননি। তাই আগস্টে ভবনটি ভাঙা শুরু হয়। বছর শেষের মধ্যে নতুন জায়গায় স্কুল গড়ার আশা করছে স্থানীয় জনগোষ্ঠী। প্রদেশটি চায়, ওপেনএআই স্কুলের খরচসহ জরুরি সাড়াদানের সব ব্যয় বহন করুক। প্রদেশের যুক্তি, ঘটনাটি না ঘটলে এসব খরচ কখনো হতো না। ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা তাই শুধু ক্ষতিপূরণের নয়, দায় নির্ধারণেরও লড়াই। আদালতের কাছে তারা চ্যাটজিপিটিতে সহিংস কথোপকথন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ করার নির্দেশও চেয়েছে। হামলাকারীর চ্যাটের নথি জনসমক্ষে প্রকাশের আদেশও চাওয়া হয়েছে।Canadian province sues OpenAI in US over school shooting | South China  Morning Post

অভিযোগের কেন্দ্রে একটি সিদ্ধান্ত। ওপেনএআই আগেই জানতে পেরেছিল, হামলাকারী সহিংসতার পরিকল্পনায় চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করছে। কোম্পানির মানব পর্যালোচনা দল পুলিশকে জানানোর সুপারিশ করেছিল। কিন্তু সেই সুপারিশ উপেক্ষা করা হয়। ওপেনএআই বলছে, তখন তারা ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা রক্ষা করছিল। এখন পর্যন্ত চ্যাটের নথি শুধু কানাডার ফেডারেল পুলিশকে দেওয়া হয়েছে। ওপেনএআইয়ের এক মুখপাত্র বলেছেন, টাম্বলার রিজের ঘটনা ছিল “অবর্ণনীয় ট্র্যাজেডি”। তবে মামলা নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করেননি। ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা এখন এআই কোম্পানির দায় নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্কের নতুন দৃষ্টান্ত। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে চ্যাটজিপিটি-সংশ্লিষ্ট আরেকটি গুলির ঘটনায় স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চ্যাটের নথি প্রকাশ করেছিল। কানাডার পুলিশ এখনো তা করেনি।

এই প্রশ্ন বাংলাদেশের জন্যও প্রাসঙ্গিক। দেশে লাখো তরুণ প্রতিদিন চ্যাটজিপিটিসহ নানা এআই চ্যাটবট ব্যবহার করছে। কোনো ব্যবহারকারী সহিংসতা বা আত্মক্ষতির পরিকল্পনা করলে কোম্পানি কী করবে, কাকে জানাবে, সেই নিয়ম পরিষ্কার নয়। বিদেশি কোম্পানি বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কতটা সহযোগিতা করবে, সেটিও অনিশ্চিত। কানাডায় ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা যে রায়েই শেষ হোক, তা অন্য দেশের জন্যও দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। অনেক দেশ সেই রায় দেখে নিজেদের আইন সাজাবে। গোপনীয়তা আর জননিরাপত্তার ভারসাম্য কোথায় টানা হবে, সেই বিতর্কে ঢাকারও অবস্থান ঠিক করা দরকার। এআই নিয়ন্ত্রণের জাতীয় নীতিতে এই প্রশ্ন জায়গা পাওয়া উচিত।

টাম্বলার রিজের পুরোনো স্কুলভবন এখন ধ্বংসস্তূপ। নতুন স্কুলের ইট কে গাঁথবে, তা ঠিক করবে আদালত, আর সেই রায়ের দিকে তাকিয়ে আছে গোটা এআই শিল্প।