০৮:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ভারত এগিয়ে, কিন্তু বিদ্যুৎ গ্রিডে বাড়ছে চাপ প্রজ্ঞাপন জারি: জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বাস-মিনিবাসের ভাড়া কিলোমিটারে ১৭ পয়সা বৃদ্ধি ২০ তলা থেকে সাইকেলসহ নানা জিনিস ছুড়ে দিলেন ব্যক্তি, ৬ ঘণ্টার পুলিশি অভিযানে আটক চাঁদের আলোয় সায়েন্স সেন্টারে এক রাতের নাচ-গান, সিঙ্গাপুরে ‘মুনবিটস: আফটারডার্ক’ একা থাকা ৭২ বছরের বৃদ্ধের মৃত্যু, দরজার নিচ দিয়ে রক্ত গড়িয়ে আসতেই মিলল মরদেহ টোকিওর কাছে টাইফুন দুজুয়ানের আঘাত, নিহত ৯, নিখোঁজ ৪ এল নিনোর তাপে ভারতে ফেব্রুয়ারির মধ্যে ১৫ হাজার ৮০০ মৃত্যুর শঙ্কা ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনো, চূড়ায় ওঠার আগেই ভাঙল রেকর্ড চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে স্কুলে গুলি, ওপেনএআইকে নতুন স্কুল গড়ে দিতে মামলা ১৮৯৭ থেকে পথিকের আশ্রয়, আধুনিক জীবনের ক্লান্তি কাটাতে নতুন করে জেগে উঠছে আর্কটিকের ছোট্ট দ্বীপ

টোকিওর কাছে টাইফুন দুজুয়ানের আঘাত, নিহত ৯, নিখোঁজ ৪

জাপানের রাজধানী টোকিওর আশপাশের কান্তো অঞ্চলে টাইফুন দুজুয়ানের ভারী বৃষ্টিতে অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন। নিখোঁজ আছেন আরও চারজন। জাপানের সংবাদপত্র দ্য জাপান টাইমস স্থানীয় কর্তৃপক্ষের হিসাব উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে। চিবা জেলায় ছয়জন ও কানাগাওয়া জেলায় তিনজনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। বুধবার নতুন করে দুটি মৃত্যু নিশ্চিত হয়। টাইফুনটি সোমবার কান্তো অঞ্চলের দিকে আসে। এতে ভূমিধস ও বন্যা দেখা দেয়। জাপানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে জানিয়েছে, চিবা, কানাগাওয়া ও ইবারাকি জেলায় প্রায় ৫০০ বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টাইফুন দুজুয়ানের আঘাত এসেছে জাপানের “সিলভার উইক” ছুটির মধ্যে।

নিহতদের কয়েকজনের পরিচয় মিলেছে। চিবার ইনজাই শহরের ষাটোর্ধ্ব এক ব্যক্তিকে ডুবে যাওয়া একটি গাড়ির কাছে পাওয়া যায়। হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। কামোগাওয়া শহরে ভূমিধসে ষাট ও সত্তরের কোঠার দুই ব্যক্তি নিখোঁজ। কানাগাওয়ার মিউরা শহরে কাদা ঢুকে পড়া একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে ত্রিশের কোঠার এক নারীর মরদেহ পাওয়া গেছে। ইয়োকোসুকা শহরের সত্তরোর্ধ্ব এক নারী ও মিউরার বিশের কোঠার আরেক নারী বাড়িতে ভূমিধসে চাপা পড়ে নিখোঁজ। এর আগে সপ্তাহান্তে দক্ষিণের মিয়াজাকি জেলায়ও ভূমিধসে একজনের মৃত্যু হয়। ইয়োকোহামায় জ্বালানি কোম্পানি এনিওসের একটি শোধনাগারে তেল ছড়িয়ে পড়ার খবরও দিয়েছে পরিবহন মন্ত্রণালয়।Typhoon Dujuan in Japan: Landslides and Floods Leave 4 Dead

জাপানের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, বছরের ২৫তম নামকরণ করা এই ঝড় মঙ্গলবার রাতে জাপানের প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূল থেকে উত্তর-পূর্বে সরে গেছে। কিন্তু যাওয়ার আগে পূর্ব জাপানের কিছু এলাকায় রেকর্ড বৃষ্টি ঝরিয়েছে। কোথাও কোথাও ৪৮ ঘণ্টায় ৮০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হয়েছে। এটি অনেক এলাকার কয়েক মাসের স্বাভাবিক বৃষ্টির সমান। জাপান দুর্যোগ মোকাবিলায় বিশ্বের অন্যতম প্রস্তুত দেশ। তবু এমন তীব্র বৃষ্টির সামনে পাহাড়ি ঢাল ও উপকূলীয় জনপদ অসহায় হয়ে পড়ে। জলবায়ু বিজ্ঞানীরা বলছেন, উষ্ণ সমুদ্র ঝড়কে আরও বেশি জলীয় বাষ্প জোগায়, ফলে একই শক্তির ঝড় আগের চেয়ে বেশি বৃষ্টি ঝরায়। তাই বৃষ্টির তীব্রতা বাড়ছে। টাইফুন দুজুয়ানের আঘাত সেই প্রবণতারই সর্বশেষ উদাহরণ।

বাংলাদেশের জন্য জাপানের এই অভিজ্ঞতা শিক্ষণীয়। বঙ্গোপসাগরের উপকূলে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় বাংলাদেশ আশ্রয়কেন্দ্র ও আগাম সতর্কতায় বড় সাফল্য দেখিয়েছে। কিন্তু অল্প সময়ে অতি ভারী বৃষ্টি থেকে ভূমিধসের ঝুঁকি এখনো বড় দুর্বলতা। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের পাহাড়ি ঢালে, রোহিঙ্গা শিবিরে এবং পার্বত্য জেলাগুলোতে প্রায় প্রতি বর্ষায় ভূমিধসে প্রাণহানি হয়। জাপানের মতো উন্নত দেশেও যখন কাদা ঘরে ঢুকে মানুষ মারা যায়, তখন বাংলাদেশের পাহাড়ি বসতির ঝুঁকি আরও স্পষ্ট হয়। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষ সরানো ও নির্মাণে কড়াকড়ি তাই জরুরি। টাইফুন দুজুয়ানের আঘাত মনে করিয়ে দেয়, আগাম সতর্কতা শুধু বাতাসের জন্য নয়, অতিবৃষ্টি ও ভূমিধসের জন্যও দরকার। পাহাড় কেটে বসতি গড়ার প্রবণতা বন্ধ না হলে প্রতি বর্ষায় একই খবর আসবে।

ঝড় চলে গেছে, কিন্তু মিউরা ও কামোগাওয়ায় উদ্ধারকর্মীরা এখনো কাদা সরাচ্ছেন। ছুটির সপ্তাহে যাঁরা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে ঘরে ছিলেন, তাঁদের কয়েকজন এখনো ফেরেননি।

জনপ্রিয় সংবাদ

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ভারত এগিয়ে, কিন্তু বিদ্যুৎ গ্রিডে বাড়ছে চাপ

টোকিওর কাছে টাইফুন দুজুয়ানের আঘাত, নিহত ৯, নিখোঁজ ৪

০৭:৫৬:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাপানের রাজধানী টোকিওর আশপাশের কান্তো অঞ্চলে টাইফুন দুজুয়ানের ভারী বৃষ্টিতে অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন। নিখোঁজ আছেন আরও চারজন। জাপানের সংবাদপত্র দ্য জাপান টাইমস স্থানীয় কর্তৃপক্ষের হিসাব উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে। চিবা জেলায় ছয়জন ও কানাগাওয়া জেলায় তিনজনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। বুধবার নতুন করে দুটি মৃত্যু নিশ্চিত হয়। টাইফুনটি সোমবার কান্তো অঞ্চলের দিকে আসে। এতে ভূমিধস ও বন্যা দেখা দেয়। জাপানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে জানিয়েছে, চিবা, কানাগাওয়া ও ইবারাকি জেলায় প্রায় ৫০০ বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টাইফুন দুজুয়ানের আঘাত এসেছে জাপানের “সিলভার উইক” ছুটির মধ্যে।

নিহতদের কয়েকজনের পরিচয় মিলেছে। চিবার ইনজাই শহরের ষাটোর্ধ্ব এক ব্যক্তিকে ডুবে যাওয়া একটি গাড়ির কাছে পাওয়া যায়। হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। কামোগাওয়া শহরে ভূমিধসে ষাট ও সত্তরের কোঠার দুই ব্যক্তি নিখোঁজ। কানাগাওয়ার মিউরা শহরে কাদা ঢুকে পড়া একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে ত্রিশের কোঠার এক নারীর মরদেহ পাওয়া গেছে। ইয়োকোসুকা শহরের সত্তরোর্ধ্ব এক নারী ও মিউরার বিশের কোঠার আরেক নারী বাড়িতে ভূমিধসে চাপা পড়ে নিখোঁজ। এর আগে সপ্তাহান্তে দক্ষিণের মিয়াজাকি জেলায়ও ভূমিধসে একজনের মৃত্যু হয়। ইয়োকোহামায় জ্বালানি কোম্পানি এনিওসের একটি শোধনাগারে তেল ছড়িয়ে পড়ার খবরও দিয়েছে পরিবহন মন্ত্রণালয়।Typhoon Dujuan in Japan: Landslides and Floods Leave 4 Dead

জাপানের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, বছরের ২৫তম নামকরণ করা এই ঝড় মঙ্গলবার রাতে জাপানের প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূল থেকে উত্তর-পূর্বে সরে গেছে। কিন্তু যাওয়ার আগে পূর্ব জাপানের কিছু এলাকায় রেকর্ড বৃষ্টি ঝরিয়েছে। কোথাও কোথাও ৪৮ ঘণ্টায় ৮০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হয়েছে। এটি অনেক এলাকার কয়েক মাসের স্বাভাবিক বৃষ্টির সমান। জাপান দুর্যোগ মোকাবিলায় বিশ্বের অন্যতম প্রস্তুত দেশ। তবু এমন তীব্র বৃষ্টির সামনে পাহাড়ি ঢাল ও উপকূলীয় জনপদ অসহায় হয়ে পড়ে। জলবায়ু বিজ্ঞানীরা বলছেন, উষ্ণ সমুদ্র ঝড়কে আরও বেশি জলীয় বাষ্প জোগায়, ফলে একই শক্তির ঝড় আগের চেয়ে বেশি বৃষ্টি ঝরায়। তাই বৃষ্টির তীব্রতা বাড়ছে। টাইফুন দুজুয়ানের আঘাত সেই প্রবণতারই সর্বশেষ উদাহরণ।

বাংলাদেশের জন্য জাপানের এই অভিজ্ঞতা শিক্ষণীয়। বঙ্গোপসাগরের উপকূলে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় বাংলাদেশ আশ্রয়কেন্দ্র ও আগাম সতর্কতায় বড় সাফল্য দেখিয়েছে। কিন্তু অল্প সময়ে অতি ভারী বৃষ্টি থেকে ভূমিধসের ঝুঁকি এখনো বড় দুর্বলতা। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের পাহাড়ি ঢালে, রোহিঙ্গা শিবিরে এবং পার্বত্য জেলাগুলোতে প্রায় প্রতি বর্ষায় ভূমিধসে প্রাণহানি হয়। জাপানের মতো উন্নত দেশেও যখন কাদা ঘরে ঢুকে মানুষ মারা যায়, তখন বাংলাদেশের পাহাড়ি বসতির ঝুঁকি আরও স্পষ্ট হয়। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষ সরানো ও নির্মাণে কড়াকড়ি তাই জরুরি। টাইফুন দুজুয়ানের আঘাত মনে করিয়ে দেয়, আগাম সতর্কতা শুধু বাতাসের জন্য নয়, অতিবৃষ্টি ও ভূমিধসের জন্যও দরকার। পাহাড় কেটে বসতি গড়ার প্রবণতা বন্ধ না হলে প্রতি বর্ষায় একই খবর আসবে।

ঝড় চলে গেছে, কিন্তু মিউরা ও কামোগাওয়ায় উদ্ধারকর্মীরা এখনো কাদা সরাচ্ছেন। ছুটির সপ্তাহে যাঁরা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে ঘরে ছিলেন, তাঁদের কয়েকজন এখনো ফেরেননি।