সারাক্ষণ ডেস্ক
প্রথম আলোর একটি শিরোনাম “ব্যাংকের ৬৬% নারী কর্মী সঠিক মূল্যায়ন পান না “
দেশের ব্যাংক খাতের ৬৬ শতাংশ বা দুই-তৃতীয়াংশ নারী কর্মী মনে করেন যে তাঁরা কর্মক্ষেত্রে সঠিক মূল্যায়ন পান না। নারী ব্যাংকাররা জানান, কাজের দক্ষতা অর্জনে তাঁদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের অভাব রয়েছে; আবার প্রায়ই আরোপিত কাজের বিষয়ে তাঁদের সঠিকভাবে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয় না। এ ছাড়া তাঁদের ঘরে-বাইরে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যেতে হয়; যা তাঁদের কর্মস্থলে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা হিসেবে কাজ করে।
বিশ্বব্যাংকের বেসরকারি খাতবিষয়ক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশনের (আইএফসি) এক জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ‘দক্ষিণ এশিয়ার উদীয়মান দেশগুলোতে ব্যাংকিং খাতে নারীদের অগ্রগতি’ শীর্ষক এই জরিপের ফল সম্প্রতি প্রকাশ করা হয়।
আইএফসি ২০২২ ও ২০২৩ সালে বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কা—এই তিন দেশের ২০টি বেসরকারি ব্যাংকের নারী কর্মীদের ওপর জরিপটি পরিচালনা করে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সাতটি বেসরকারি ব্যাংকের ১ হাজার ২৮৩ জন কর্মীর কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে নারী ৪৩৬ জন ও পুরুষ ৮৪৭ জন। ব্যাংক সাতটি হচ্ছে ব্র্যাক, ইস্টার্ণ, মিউচুয়াল ট্রাস্ট, সিটি, প্রাইম ও বহুজাতিক স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড।
যুগান্তরের একটি শিরোনাম “শেখ হাসিনার সঙ্গে চুক্তি নিয়ে যে কারণে মোদির ওপর ক্ষুব্ধ মমতা”
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লি সফরে শনিবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে ১০টি বিষয়ে সমঝোতা স্মারক সইয়ের পাশাপাশি ফারাক্কা চুক্তির নবায়ন করা হয়েছে। এতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ওপর ক্ষেপেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। এটাকে ‘বাংলা বিক্রির পরিকল্পনা’ হিসেবে অভিহিত করে মমতার দল তৃণমূল কংগ্রেস বলেছে, রাজ্যের বুকে রাজ্যকে এড়িয়ে এবং স্বার্থ বিঘ্নিত হয় এমন কোনো কাজ করতে দেওয়া হবে না।
আনন্দবাজারের খবরে বলা হয়, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ফারাক্কা-গঙ্গা চুক্তিতে রাজ্য সরকারও পক্ষ। কিন্তু নবায়ন করার বিষয়ে রাজ্য সরকারকে কিছুই জানানো হয়নি। যা অত্যন্ত খারাপ। পাশাপাশি বলা হয়েছে, এই চুক্তি বাবদ রাজ্য সরকারের যে পাওনা টাকা, তাও বকেয়া রয়েছে। গঙ্গার ড্রেজিংয়ের কাজ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। যা বাংলায় বন্যা এবং ভাঙনের প্রাথমিক কারণ হয়ে উঠেছে।
১৯৯৬ সালে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গার পানি নিয়ে চুক্তি হয়। তাতে একাধিক রাজ্য সরকারও শরিক। যে চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে ২০২৬ সালে। সে কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তৃণমূল বলছে, ২০১৭ সালে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারও ফারাক্কার বাঁধের বিরোধিতা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, বেড়িবাঁধ দিয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।
মালদহ, মুর্শিদাবাদ, নদিয়ার একাংশে গঙ্গাভাঙন নিয়ে ২০২২ সালে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে চিঠি লিখেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই চিঠির প্রসঙ্গ তুলে তৃণমূল বলেছে, দুই বছর আগে মমতাও বলেছিলেন, ফারাক্কা ব্যারেজের জন্যই বাংলার বিস্তীর্ণ এলাকাকে ভাঙনের মুখে পড়তে হচ্ছে। যার ফলে মানুষের ভিটেমাটি যেমন যাচ্ছে, তেমনই ক্ষতি হচ্ছে চাষেরও।
পশ্চিমবঙ্গের শাসক দলের পক্ষ থেকে খানিকটা হুঁশিয়ারির সুরেই তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তির কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, সংবিধান অনুযায়ী অন্য দেশের সঙ্গে কোনো বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষরিত করার অধিকার কেন্দ্রের রয়েছে। কিন্তু কেন্দ্রকে এটাও বুঝতে হবে, রাজ্য সরকার সহযোগিতা না করলে তিস্তা পানিবণ্টনের মতো চুক্তি থমকে থাকে। তিস্তা পানিবণ্টন নিয়ে রাজ্য সরকারের অবস্থানের পর কেন্দ্রও সম্মত হয়েছে, বাংলাকে এড়িয়ে গিয়ে তারা কিছু করবে না।
এদিকে ভারতের ১৮তম লোকসভা নির্বাচনের পর প্রথম অধিবেশন আগামীকাল সোমবার (২৪ জুন) শুরু হচ্ছে। এবার শক্তিশালী বিরোধী দলের আসনে বসতে যাচ্ছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোট। এই জোটের গুরুত্বপূর্ণ শরিক মমতার দল তৃণমূল কংগ্রেস। ২৯ জন এমপি নিয়ে দলটি এবার লোকসভায় যাচ্ছে। ফারাক্কা চুক্তি ইস্যুতে তারা সংসদে সরব হবেন বলে ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন। এই ইস্যুতে লোকসভা অধিবেশন শুরুতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে।
ইত্তেফাক এর একটি শিরোনাম “হজ চলাকালীন মারা গেছেন কমপক্ষে ১৩০১ জন: সৌদি আরব”
চলতি বছর হজে গিয়ে তাপপ্রবাহ ও অসহনীয় গরমে এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে এক হাজার ৩০১ জন হজযাত্রীর। মারা যাওয়া এসব মানুষের বেশিরভাগই ছিলেন অননুমোদিত হজযাত্রী।
সোমবার (২৪ জুন) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের হজের সময় কমপক্ষে ১৩০১ জন মারা গেছেন বলে সৌদি আরব জানিয়েছে। মৃতদের বেশিরভাগই ছিলেন অননুমোদিত হজযাত্রী যারা তীব্র গরমে দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটেছিলেন।
মূলত তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যেই এবারের হজ অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং এসময় মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটিতে তাপমাত্রা কখনো কখনো ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গিয়েছিল।
সরকারি সৌদি বার্তাসংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, যারা মারা গেছে তাদের তিন-চতুর্থাংশেরও সেখানে থাকার আনুষ্ঠানিক অনুমতি ছিল না এবং তারা পর্যাপ্ত আশ্রয় ও উপকরণ ছাড়াই সরাসরি সূর্যের তাপের মধ্যে হেঁটেছেন।
এছাড়া যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে কয়েকজন বয়স্ক বা দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থ ব্যক্তি ছিলেন বলেও বার্তাসংস্থাটি জানিয়েছে।
সৌদি আরবের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফাহাদ আল-জালাজেল বলেছেন, তীব্র তাপপ্রবাহের বিপদ এবং তাপ সম্পর্কিত চাপ হজযাত্রীরা কীভাবে প্রশমিত করতে পারেন সে সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল।
তিনি বলেন, হজের সময় হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য অবকাঠামোগুলোতে প্রায় ৫ লাখ হজযাত্রীর চিকিৎসা করা হয়েছে, যার মধ্যে ১ লাখ ৪০ হাজারেরও বেশি হজযাত্রী রয়েছেন যাদের হজ করার পারমিট ছিল না। এমনকি অসুস্থ হয়ে পড়াদের কেউ কেউ এখনো তাপ ক্লান্তির জন্য হাসপাতালে রয়েছেন।
বণিক বার্তার একটি শিরোনাম “সিলেট বিভাগে বন্যা-পরবর্তী রোগের প্রাদুর্ভাবের শঙ্কা”
বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করেছে সিলেট বিভাগে। একই সঙ্গে স্পষ্ট হচ্ছে বন্যা-পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি। কয়েক দফা বন্যায় ব্যাহত হয়েছে বিভাগের বিভিন্ন অঞ্চলের স্বাভাবিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম। কোথাও কোথাও প্লাবিত হয়েছে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র। ফলে সে সময় দেয়া যায়নি চিকিৎসাসেবা। পানি কমতে শুরু করলেও বন্যা-পরবর্তী রোগ বাড়ছে। যদিও এর সঠিক পরিসংখ্যান জানাতে পারেনি সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। তবে পরিস্থিতির জটিলতা প্রকাশ্যে আসতে আরো কয়েক দিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
তারা বলছেন, বন্যার পানি নেমে গেলে স্বাভাবিকভাবেই রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ে। তবে যেসব প্রস্তুতি থাকার কথা, তা নেয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় ওষুধের যে মজুদ রয়েছে, তাতে সংকট হবে না। পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে তা বোঝার জন্য আরো কয়েক দিন সময় লাগবে। কেননা এখন আশ্রয় কেন্দ্র থেকে মানুষ বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে।
জানা যায়, বন্যায় সবচেয়ে বেশি বিপর্যয়ে পড়ে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলা। বিভাগের বেশির ভাগ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল। পানিবন্দি হয়ে পড়ে ১৫ লাখের বেশি মানুষ। বিশেষ করে সিলেট ও সুনামগঞ্জের প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়। কোনো কোনো অঞ্চলে প্লাবিত হয়েছে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো। এ কারণে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির টিকা। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে নিরাপত্তার অংশ হিসেবে সরানো হয় টিকা। দুর্গত এলাকায় বাড়তে শুরু করেছে আঘাতজনিত, শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়ার রোগী সংখ্যাও। এরই মধ্যে সিলেটের গোয়াইনঘাটে শ্বাসকষ্টের রোগী বাড়তে শুরু করেছে। তবে শুরুতে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে অক্সিজেন সরবরাহে সমস্যা দেখা দিলেও এখন স্বাভাবিক।
সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিভাগের চারটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র, ৬৬টি কমিউনিটি ক্লিনিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব কমিউনিটি ক্লিনিকের ৫১টি সিলেটে, ১৩টি সুনামগঞ্জে, পাঁচটি মৌলভীবাজারে ও একটি হবিগঞ্জে। বন্যাকবলিতদের স্বাস্থ্যসেবা দিতে সিলেট বিভাগে ৪০০ মেডিকেল টিম কাজ করছে। এর মধ্যে সিলেটে ১২৬টি, সুনামগঞ্জে ৯৯, হবিগঞ্জে ৯৪ ও মৌলভীবাজারে ৭৪টি রয়েছে। প্রথম দিকে সিলেট জেলার তিনটি উপজেলায় হাসপাতাল চত্বর প্লাবিত হওয়ায় কয়েকদিন ব্যাহত হয় নিয়মিত চিকিৎসাসেবা। সিলেটের পরে সবচেয়ে বেশি বন্যাকবলিত হয় সুনামগঞ্জ। জেলার ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিচতলা ও কৈতক ২০ শয্যার হাসপাতাল প্লাবিত হয়।
সিলেট বিভাগীয় পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সিলেট জেলার ২৬টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র পানিতে নিমজ্জিত হয়। এর মধ্যে ১০টি কেন্দ্র শতভাগ নিমজ্জিত হয়। চারটি কেন্দ্রের সিংহভাগই প্লাবিত হয়। তবে তাৎক্ষণিক ওষুধপত্রসহ পণ্য অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়। এতে সেবা কার্যক্রম সাময়িক বাধাগ্রস্ত হয়। এছাড়া সুনামগঞ্জ জেলার ২১টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র প্লাবিত হয়। যার মধ্যে পাঁচটি শতভাগ প্লাবিত হয়েছে। বাকিগুলোর সিংহভাগই প্লাবিত হয়। এসব কেন্দ্রে নৌকায় করে সেবা নিতে আসছেন সেবাগ্রহীতারা। চলমান বন্যায় সিলেট জেলার ২৬টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র প্লাবিত হওয়ায় সাময়িকভাবে সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হলেও এখন অবস্থার উন্নতি হয়েছে বলে বণিক বার্তাকে জানিয়েছেন সিলেট জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক তপন কান্তি ঘোষ।
বন্যার পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে সংক্রামক ও ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন রোগতত্ত্ব ও জনস্বাস্থ্যবিদরা। তারা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় সংকট সৃষ্টি হবে। পুষ্টির অভাব দেখা দেবে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক অক্সফোর্ড অ্যাকাডেমি জার্নাল ও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পেডিয়াট্রিক ইনফেকশাস ডিজিজেস জার্নাল বলছে, বন্যা চলমান সময়ে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যু, সাপের দংশনের ঘটনা, বিভিন্ন রাসায়নিক পানিতে মিশে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হবে। বন্যা-পরবর্তী ১০ দিনে বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়ার কারণে সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়তে পারে। নিউমোনিয়া, শ্বাসনতন্ত্রের রোগ, ডায়রিয়া, কলেরা, গ্যাস্ট্রিক দেখা দিতে পারে। দুর্গত এলাকার মানুষ মানসিক ব্যাধিতেও আক্রান্ত হতে পারে। বন্যার কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় ওষুধ সংকট দেখা দিতে পারে বলেও জানিয়েছেন স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিতরা।
২০২২ সালে সিলেট বিভাগে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। সে সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর যে তথ্য দিয়েছিল তাতে দেখা যায়, সিলেট, ময়মনসিংহ, রংপুর ও চট্টগ্রামের ৩১ জেলায় ডায়রিয়া, শ্বাসনতন্ত্রের প্রদাহজনিত রোগ (আরটিআই), বজ্রপাত, সর্প দংশন, পানিতে ডোবা, চর্মরোগ, চোখের প্রদাহ, আঘাতপ্রাপ্ত ও অন্যান্য কারণে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়। আক্রান্ত হয় ১০ হাজারের বেশি মানুষ।
ওই সময়ের মতো বর্তমানে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ না হলেও পানি নামার পর স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা। সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি শিশু, কিশোরী ও নারীদের ১১টি মারাত্মক সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ টিকা নিয়মিতভাবে প্রয়োগ করা হয়। তবে চলমান বন্যা পরিস্থিতির কারণে টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হচ্ছে।
ভারি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জে বন্যায় হাজার হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য বলছে, অন্তত ২০টি কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র প্লাবিত হয়। পানিবন্দি মানুষ পড়ে বিশুদ্ধ পানির সংকটে।
জেলার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. শুকদেব সাহা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বন্যার পানি সুনামগঞ্জের ১২টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রতিটির ক্যাম্পাস প্লাবিত হয়। ছাতক-দোয়ারাবাজার উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র ও কমিউনিটি ক্লিনিক পানিতে প্লাবিত হয়। এর মধ্যে দোয়ারাবাজার উপজেলার নয়টি ও ছাতকের ১০টি কমিউনিটি ক্লিনিক প্লাবিত হয়। ওষুধের যে মজুদ রয়েছে তাতে সংকট এখনো দেখা যায়নি। বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রসহ জেলায় শতাধিক চিকিৎসা দল কাজ করছে।’
অন্যদিকে সুনামগঞ্জ জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় জানিয়েছে, বন্যায় জেলার তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলার ২০টির বেশি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মৌলভীবাজারে বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলা জুড়ি, কুলাউড়া ও বড়লেখা। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, তিনটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মধ্যে কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিচতলা পানিতে প্লাবিত হয়। জেলায় ৬৭টি ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মধ্যে কয়েকটি প্লাবিত হয়। জেলার চারটি কমিউনিটি ক্লিনিকে পানি প্রবেশ করায় কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এর মধ্যে সদর উপজেলায় দুটি ও জুড়ি উপজেলায় দুটি। জেলায় ৭৪টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে।
সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. আনিসুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘২০২২ সালে যখন সিলেটে বন্যা হয়েছিল, তখন অনেক বেশি ক্ষতি হয়েছিল। এবারের বন্যা ততটা ভয়াবহ নয়। তবে আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। বন্যায় স্বাভাবিকভাবেই শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া, পেটের পীড়া দেখা দেয়। বিভাগের কয়েকটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র পানিতে প্লাবিত হয়েছিল। তবে বেশিক্ষণ স্বাস্থ্যসেবা যেন ব্যাহত না হয় এজন্য আমাদের সচেষ্ট কার্যক্রম ছিল। ওষুধের মজুদ যা রয়েছে তাতে সংকট দেখা দেবে না। রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়তে পারে। মানুষ আশ্রয় কেন্দ্র থেকে বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছে। তারা যেন অসুস্থতার মধ্যে না পড়ে, এজন্য আমরা সচেতনতা কার্যক্রম চালাচ্ছি। বন্যা-পরবর্তী রোগ বাড়লে যেন প্রয়োজনীয় চিকিৎসা অব্যাহত রাখা যায়, সে প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে।’
The Daily Star বাংলার একটি শিরোনাম “৪ বছরে বাংলাদেশকে ২০.৮ বিলিয়ন ডলার ঋণ দেবে এডিবি”
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) আগামী চার বছরে বাংলাদেশকে ২০.৮ বিলিয়ন ডলার ঋণ দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ ঋণ অর্থনীতির গতি বাড়িয়ে দিয়ে দশ বছরেরও কম সময়ের মধ্যে বাংলাদেশকে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে ভূমিকা রাখবে।
প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) লাইন-৫ (দক্ষিণ রুট); দক্ষিণ এশিয়া উপ-আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার আওতায় ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ে ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট ও দক্ষিণ করিডোর উন্নয়ন প্রকল্প (ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়ক); এবং ঢাকা পাওয়ার সিস্টেম সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্প।
এই প্রকল্পগুলো চূড়ান্ত করতে আজ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে বৈঠক করবে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ।
Sarakhon Report 



















