১০:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
নিয়মিত ব্যস্ততা নয়, সুস্থ বার্ধক্যের আসল চাবিকাঠি জীবনের সঠিক ছন্দ নীরব বিপ্লবের আঘাত: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি নারীদের মধ্যবিত্ত কর্মজীবনের ভিত্তি নাড়িয়ে দেবে? হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ মানার আহ্বান, জয়শঙ্করকে কড়া বার্তা রুবিওর ব্রিটেনে ছুরি হামলার পর উত্তেজনা, উসকে দিচ্ছে কট্টর ডানপন্থী রাজনীতি ভারতে পাচার হওয়া ১৪ বাংলাদেশির দেশে ফেরা, বেনাপোল দিয়ে হস্তান্তর পাকিস্তানের উত্তর ওয়াজিরিস্তানে ৭২ ঘণ্টায় নিহত ২১ জঙ্গি, মোট নিহত ৪৮ লস অ্যাঞ্জেলেসে বিশ্বকাপের মঞ্চ মাতালেন লিসা, কেপপ ইতিহাসে নতুন অধ্যায় ইউটিউব থেকে হলিউড: নতুন প্রজন্মের পরিচালকরা কি বদলে দিচ্ছেন সিনেমার ভবিষ্যৎ? গুগলের নতুন এআই চিপে স্যামসাং? ‘আইসফিশ’ প্রকল্পে বড় চুক্তির আলোচনায় দুই প্রযুক্তি জায়ান্ট ইরান যুদ্ধের পর বদলে যাওয়া বাস্তবতা: চুক্তির দ্বারপ্রান্তে থেকেও কেন কঠিন অবস্থানে তেহরান

জীবন আমার বোন (পর্ব-৩৫)

  • Sarakhon Report
  • ১২:০০:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ জুন ২০২৪
  • 156

মাহমুদুল হককে বাদ দিয়ে বাংলা উপন্যাসকে ভাবা ভুল হবে। বাংলাদেশে কেন মাহমুদুল হক বহু পঠিত নয় বা তাঁকে নিয়ে কম আলোচনা হয় এ সত্যিই এক প্রশ্ন। 

মাহমুদুল হকের সাহিত্য নিসন্দেহে স্থান নিয়েছে চিরায়ত সাহিত্যের সারিতে। 

তার উপন্যাস জীবন আমার বোন শুধু সময়ের চিত্র নয়, ইতিহাসকে গল্পের মধ্যে দিয়ে আনা নয় সেখানে রয়ে গেছে আরো অনেক কিছু। 

তরুণ প্রজম্মের পাঠকের কাজে তাই তুলে দেয়া হলো মাহমুদুল হকের এই অনবদ্য উপন্যাস জীবন আমার বোন। আর আগের প্রজম্ম নিশ্চয়ই নতুন করে আরেকবার গ্রহন করুক এক অমৃত সাহিত্য। – সম্পাদক

মাহমুদুল হক

মুরাদকে চ’টে উঠতে দেখে খোকা হেসে ফেললো।

বললে, ‘অমন দাঁতমুখ সিটকে হাত-পা ছুড়িস না, তোকে উল্লুকের মতো দেখায়! আমার তো বারোটা বেজেই গেছে, এ আর নতুন কথা কি’ মুরাদ বললে, ‘বাজে কথা রাখ, রেসকোর্সে যাচ্ছিস তো কাল?’

‘কালকের কথা কাল হবে, তুই কি এখন উঠছিস?’

‘যেতে হবে না?’ চোখ নাচিয়ে মুরাদ বললে, ‘তোর কি, তুই শালা দিনের পর দিন ঢালাও বিছানায় বুদ্ধের শয়ান হ’য়ে থাকবি, আর পায়দল মেরে মেরে অন্যেরা তোর চেহারা মুবারক দেখে যাবে, আছিস বেশ। যাচ্ছিস তো? প্রত্যেকটা দিন এখন ইতিহাসের এক একটি পাতা; আমরা এক একজন এক একটা সাক্ষী হ’য়ে থাকবো। চ’লে আয় রেক্সে, এক সঙ্গে দল বেঁধে বের হওয়া যাবে।’

‘চেষ্টা ক’রে দেখবো।’

‘দিন দিন তুই শালার একটা কুনোব্যাঙ ঠুটো জগন্নাথ হ’য়ে যাচ্ছিস!’ যাবার জন্যে উঠে দাঁড়ালো মুরাদ, তারপর কিছু একটা ভেবে নিয়ে বললে, ‘দোহাই তোর, কালকে আয়-‘ খোকাকে খুব অসহায় মনে হয় এই সময়। ভিতরে ভিতরে একটা কিছু ছুরির মতো কাটছে তাকে, সুস্থির হ’তে পারছে না কিছুতেই; হাতের মুঠোয় এমন একটা কিছু চায় খুব ধারেকাছে যা নেই, কিংবা কোনোদিন আর তা পাওয়া যাবে না।

জানালার পর্দা সরিয়ে বাইরের দিকে তাকালো সে। রাস্তায় মিছিল; শ্লোগান ফেটে পড়ছে, রক্ত চাই রক্ত চাই! দুপুরের ঝিলমিলে রোদ, বাতাস এবং যাবতীয় নিঃশব্দ চারুময়তা থেকে থেকে কেঁপে উঠছে। জ্বরাক্রান্ত সময়ের গা থেকে ভাপ উঠছে, ঝাঁঝালো তাতানো দস্যুর মতো আকাশ রোষ কষায়িত নেত্রে অপলক চেয়ে আছে, যে কোনো মুহূর্তে ছুড়ে মারবে ঝনঝনে থালা, খোকা তার নিজের ভিতরে একটা অদ্ভুত ধরনের ভাঙন অনুভব করে।

‘আসাদের কথা তোর মনে আছে মুরাদ ?’

দূরাগত ধ্বনির মতো মুরাদের কানে বাজলো কথাটা। বেরুতে গিয়ে সে আবার ঘুরে দাঁড়ালো। বললে, ‘মনে থাকবে না কেন, সেই যে- ‘আপদ বালাই উল্টো হাঁটে দুরমুশ খাঁ ঠোকে জুতো, আসাদ শুধু ম্যাজিক দেখায়-

ফুশ-মন্তর দেখল্লি তো?’

জনপ্রিয় সংবাদ

নিয়মিত ব্যস্ততা নয়, সুস্থ বার্ধক্যের আসল চাবিকাঠি জীবনের সঠিক ছন্দ

জীবন আমার বোন (পর্ব-৩৫)

১২:০০:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ জুন ২০২৪

মাহমুদুল হককে বাদ দিয়ে বাংলা উপন্যাসকে ভাবা ভুল হবে। বাংলাদেশে কেন মাহমুদুল হক বহু পঠিত নয় বা তাঁকে নিয়ে কম আলোচনা হয় এ সত্যিই এক প্রশ্ন। 

মাহমুদুল হকের সাহিত্য নিসন্দেহে স্থান নিয়েছে চিরায়ত সাহিত্যের সারিতে। 

তার উপন্যাস জীবন আমার বোন শুধু সময়ের চিত্র নয়, ইতিহাসকে গল্পের মধ্যে দিয়ে আনা নয় সেখানে রয়ে গেছে আরো অনেক কিছু। 

তরুণ প্রজম্মের পাঠকের কাজে তাই তুলে দেয়া হলো মাহমুদুল হকের এই অনবদ্য উপন্যাস জীবন আমার বোন। আর আগের প্রজম্ম নিশ্চয়ই নতুন করে আরেকবার গ্রহন করুক এক অমৃত সাহিত্য। – সম্পাদক

মাহমুদুল হক

মুরাদকে চ’টে উঠতে দেখে খোকা হেসে ফেললো।

বললে, ‘অমন দাঁতমুখ সিটকে হাত-পা ছুড়িস না, তোকে উল্লুকের মতো দেখায়! আমার তো বারোটা বেজেই গেছে, এ আর নতুন কথা কি’ মুরাদ বললে, ‘বাজে কথা রাখ, রেসকোর্সে যাচ্ছিস তো কাল?’

‘কালকের কথা কাল হবে, তুই কি এখন উঠছিস?’

‘যেতে হবে না?’ চোখ নাচিয়ে মুরাদ বললে, ‘তোর কি, তুই শালা দিনের পর দিন ঢালাও বিছানায় বুদ্ধের শয়ান হ’য়ে থাকবি, আর পায়দল মেরে মেরে অন্যেরা তোর চেহারা মুবারক দেখে যাবে, আছিস বেশ। যাচ্ছিস তো? প্রত্যেকটা দিন এখন ইতিহাসের এক একটি পাতা; আমরা এক একজন এক একটা সাক্ষী হ’য়ে থাকবো। চ’লে আয় রেক্সে, এক সঙ্গে দল বেঁধে বের হওয়া যাবে।’

‘চেষ্টা ক’রে দেখবো।’

‘দিন দিন তুই শালার একটা কুনোব্যাঙ ঠুটো জগন্নাথ হ’য়ে যাচ্ছিস!’ যাবার জন্যে উঠে দাঁড়ালো মুরাদ, তারপর কিছু একটা ভেবে নিয়ে বললে, ‘দোহাই তোর, কালকে আয়-‘ খোকাকে খুব অসহায় মনে হয় এই সময়। ভিতরে ভিতরে একটা কিছু ছুরির মতো কাটছে তাকে, সুস্থির হ’তে পারছে না কিছুতেই; হাতের মুঠোয় এমন একটা কিছু চায় খুব ধারেকাছে যা নেই, কিংবা কোনোদিন আর তা পাওয়া যাবে না।

জানালার পর্দা সরিয়ে বাইরের দিকে তাকালো সে। রাস্তায় মিছিল; শ্লোগান ফেটে পড়ছে, রক্ত চাই রক্ত চাই! দুপুরের ঝিলমিলে রোদ, বাতাস এবং যাবতীয় নিঃশব্দ চারুময়তা থেকে থেকে কেঁপে উঠছে। জ্বরাক্রান্ত সময়ের গা থেকে ভাপ উঠছে, ঝাঁঝালো তাতানো দস্যুর মতো আকাশ রোষ কষায়িত নেত্রে অপলক চেয়ে আছে, যে কোনো মুহূর্তে ছুড়ে মারবে ঝনঝনে থালা, খোকা তার নিজের ভিতরে একটা অদ্ভুত ধরনের ভাঙন অনুভব করে।

‘আসাদের কথা তোর মনে আছে মুরাদ ?’

দূরাগত ধ্বনির মতো মুরাদের কানে বাজলো কথাটা। বেরুতে গিয়ে সে আবার ঘুরে দাঁড়ালো। বললে, ‘মনে থাকবে না কেন, সেই যে- ‘আপদ বালাই উল্টো হাঁটে দুরমুশ খাঁ ঠোকে জুতো, আসাদ শুধু ম্যাজিক দেখায়-

ফুশ-মন্তর দেখল্লি তো?’