১০:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
নিয়াসিন সাপ্লিমেন্টে অতিরিক্ত ভরসা নয়, বিপদে ফেলতে পারে লিভার ও রক্তে শর্করা দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবাদের স্বাধীনতা সংকুচিত, নতুন নিয়মে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠরোধের অভিযোগ টেস্ট ভেন্যু বাছাইয়ে বিতর্ক: ঐতিহ্য উপেক্ষা, প্রশ্নের মুখে ভারতের ক্রিকেট নীতি বৈদেশিক ঋণের চাপে অর্থনীতি, সমান তালে আসছে ঋণ ও পরিশোধ টঙ্গীর ফ্লাইওভারে দাউদাউ আগুনে পুড়ল চলন্ত গাড়ি, আতঙ্কে থমকে গেল ব্যস্ত সড়ক ভোটের টানে ঘরে ফিরতে মরিয়া বঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকরা, ভয়ের ছায়া নাম কাটার আতঙ্ক আসামে ভোটের আগে কংগ্রেসের ‘পাঁচ গ্যারান্টি’, ১০০ দিনে জুবিন গার্গ হত্যার বিচার প্রতিশ্রুতি পাকিস্তানের বিশ্বস্বীকৃতি: ভারতের পররাষ্ট্রনীতির বড় ব্যর্থতা—জয়রাম রমেশের তীব্র আক্রমণ ভারতীয় রাজনীতিতে বড় চাল, বাংলায় ২৮৪ প্রার্থী ঘোষণা কংগ্রেসের—হেভিওয়েটদের নামেই জমল লড়াই সব আসনে ‘আমি-ই প্রার্থী’ বার্তা মমতার, ভোটের আগে আবেগঘন প্রচার তৃণমূলের

নীলের বিশ্বায়ন – নীল ও ঔপনিবেশিক বাংলায় গোয়েন্দাগিরি (পর্ব-২৬)

  • Sarakhon Report
  • ১০:০০:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ জুন ২০২৪
  • 122

পিয়ের পল দারাক ও ভেলাম ভান সেন্দেল

অনুবাদ : ফওজুল করিম


নীল প্রস্তুত করতে প্রয়োজন বিশেষ দক্ষতা ও হাতেনাতে কাজের অভিজ্ঞতা। সেনেগালের জন্য অভিজ্ঞ নীলকর খুঁজে যাওয়ার কাজটি ছিল দুরূহ। ফ্রান্সের নীল সংক্রান্ত মন্ত্রি ১৮২২ সালের সেপ্টেম্বরে গভর্ণর রজারকে লিখেছিলেনঃ

“আপনার জন্য ভাল একজন নীলকর খুঁজে বের করার কাজ এখনো চালিয়ে যাচ্ছি। মনে হয় বাংলাদেশ থেকেই নীলকর নিতে হবে। তবে তা না পাওয়া গেলে অগত্যা ফ্রান্সের নীলকর দিয়ে কাজ চালাতে হবে। সেন্ট ডোমিঙ্গোর (হাইতি) সাবেক এক বাসিন্দা এসেছিল এই কাজের জন্যে” সে বলছে সে নাকি সেখানে একটি নীলকুঠি চালাত। অনেক খোঁজাখুঁজির পর ১৮২৫ সালের দিকে সরকার নীল চাষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন কৃষিবিদকে নিয়োগ দান করেন। চার বছর তিনি সেনেগালে থাকবেন। তাঁর বার্ষিক বেতন সাড়ে ৭ হাজার ফ্রাঁ, উপনিবেশের অন্য যে কোনো কৃষি কর্মচারীর চাইতে যার বেতন বেশি। দু’ বছর পর সরকার আরও কিছু নীলকুঠি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়।

এইসঙ্গে সরকার একজন রসায়নবিদ নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেন। রসায়নবিদের নাম মিঃ দেজোন। তিনি বেতন পেতেন নীল কৃষিবিদ হিসাবে। আফ্রিকান শ্রমিকদের কাজ দেখাশোনা করার জন্য ম্যানেজার আর ফোরম্যান হিসাবে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল মূলটো আর ইউরোপিয়ানদের। শ্রমিকদের অনেকেই ছিল বিদেশী। মিঃ দেজোনের স্থলাভিষিক্ত হন মিঃ দেশুটিনা যিনি ছিলেন বঙ্গদেশের ফরাসী নীলকর। খুব একটা কর্মোদ্যম ছিল না তার কিন্তু তিনি ছিলেন কাজকর্মে সুশৃঙ্খল।

পরের কয়েক বছর পরিস্থিতি দেখেশুনে মনে হল সেনেগালে নীলচাষ সফল হবে এবং আন্তর্জাতিক নীলের ব্যবসার কিছুটা হলেও ফ্রান্স ফেরত পাবে। ফ্রান্সের এই ইচ্ছে রূপ পেল ১৮২৫ সালে পাশ করা একটি আইনের মাধ্যমে। এই আইন অনুসারে ফ্রান্সের নয় এমন কোনো দেশের জাহাজে ফ্রান্সে নীল আমদানী করা হলে সে নীলের উপর উচ্চ হারে কর আরোপ করতে পারবে সরকার। এই আইন কর্তৃপক্ষের জন্য বিশেষ চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশ্বের নীল ব্যবসা কুক্ষিগত করার জন্য বৃটেনের অপচেষ্টার বিরুদ্ধে ফ্রান্সের ভীতি বিশেষ জোরদার ছিল না।

জনপ্রিয় সংবাদ

নিয়াসিন সাপ্লিমেন্টে অতিরিক্ত ভরসা নয়, বিপদে ফেলতে পারে লিভার ও রক্তে শর্করা

নীলের বিশ্বায়ন – নীল ও ঔপনিবেশিক বাংলায় গোয়েন্দাগিরি (পর্ব-২৬)

১০:০০:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ জুন ২০২৪

পিয়ের পল দারাক ও ভেলাম ভান সেন্দেল

অনুবাদ : ফওজুল করিম


নীল প্রস্তুত করতে প্রয়োজন বিশেষ দক্ষতা ও হাতেনাতে কাজের অভিজ্ঞতা। সেনেগালের জন্য অভিজ্ঞ নীলকর খুঁজে যাওয়ার কাজটি ছিল দুরূহ। ফ্রান্সের নীল সংক্রান্ত মন্ত্রি ১৮২২ সালের সেপ্টেম্বরে গভর্ণর রজারকে লিখেছিলেনঃ

“আপনার জন্য ভাল একজন নীলকর খুঁজে বের করার কাজ এখনো চালিয়ে যাচ্ছি। মনে হয় বাংলাদেশ থেকেই নীলকর নিতে হবে। তবে তা না পাওয়া গেলে অগত্যা ফ্রান্সের নীলকর দিয়ে কাজ চালাতে হবে। সেন্ট ডোমিঙ্গোর (হাইতি) সাবেক এক বাসিন্দা এসেছিল এই কাজের জন্যে” সে বলছে সে নাকি সেখানে একটি নীলকুঠি চালাত। অনেক খোঁজাখুঁজির পর ১৮২৫ সালের দিকে সরকার নীল চাষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন কৃষিবিদকে নিয়োগ দান করেন। চার বছর তিনি সেনেগালে থাকবেন। তাঁর বার্ষিক বেতন সাড়ে ৭ হাজার ফ্রাঁ, উপনিবেশের অন্য যে কোনো কৃষি কর্মচারীর চাইতে যার বেতন বেশি। দু’ বছর পর সরকার আরও কিছু নীলকুঠি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়।

এইসঙ্গে সরকার একজন রসায়নবিদ নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেন। রসায়নবিদের নাম মিঃ দেজোন। তিনি বেতন পেতেন নীল কৃষিবিদ হিসাবে। আফ্রিকান শ্রমিকদের কাজ দেখাশোনা করার জন্য ম্যানেজার আর ফোরম্যান হিসাবে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল মূলটো আর ইউরোপিয়ানদের। শ্রমিকদের অনেকেই ছিল বিদেশী। মিঃ দেজোনের স্থলাভিষিক্ত হন মিঃ দেশুটিনা যিনি ছিলেন বঙ্গদেশের ফরাসী নীলকর। খুব একটা কর্মোদ্যম ছিল না তার কিন্তু তিনি ছিলেন কাজকর্মে সুশৃঙ্খল।

পরের কয়েক বছর পরিস্থিতি দেখেশুনে মনে হল সেনেগালে নীলচাষ সফল হবে এবং আন্তর্জাতিক নীলের ব্যবসার কিছুটা হলেও ফ্রান্স ফেরত পাবে। ফ্রান্সের এই ইচ্ছে রূপ পেল ১৮২৫ সালে পাশ করা একটি আইনের মাধ্যমে। এই আইন অনুসারে ফ্রান্সের নয় এমন কোনো দেশের জাহাজে ফ্রান্সে নীল আমদানী করা হলে সে নীলের উপর উচ্চ হারে কর আরোপ করতে পারবে সরকার। এই আইন কর্তৃপক্ষের জন্য বিশেষ চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশ্বের নীল ব্যবসা কুক্ষিগত করার জন্য বৃটেনের অপচেষ্টার বিরুদ্ধে ফ্রান্সের ভীতি বিশেষ জোরদার ছিল না।