০৬:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
অধিকার রক্ষায় আপোষহীন থাকার অঙ্গীকার বিএনপির, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের আহ্বান ফখরুলের চট্টগ্রাম বন্দরে আবারও অচলাবস্থা, অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে থমকে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর আইসিসির কড়া বার্তা, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জনে পাকিস্তানের কাছে প্রমাণ দাবি শ্লীলতাহানির অভিযোগে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত মার্কিন শুল্কঝড়ে ধাক্কা, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে জার্মান রপ্তানি তলানিতে ভারত–যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক সমঝোতা, ট্রাম্পের চাপের পর বাণিজ্যে নতুন মোড় ইসলামাবাদের শিয়া মসজিদে আত্মঘাতী হামলা, দায় স্বীকার দায়েশের; মূল পরিকল্পনাকারী গ্রেপ্তার ইসলামাবাদে মানব বোমা হামলায় মৃতের সংখ্যা ৩৬, হাজারো মানুষের অশ্রুসিক্ত বিদায় নরওয়েকে বেইজিংয়ের তীব্র সমালোচনা, সম্পর্ক ক্ষতির আশঙ্কা চীনা নৌবাহিনীতে কি যুক্ত হয়েছে বিশ্বের দ্রুততম ওয়াইজে–১৫ ক্ষেপণাস্ত্র, নতুন ছবিতে মিলল ইঙ্গিত

নীলের বিশ্বায়ন – নীল ও ঔপনিবেশিক বাংলায় গোয়েন্দাগিরি (পর্ব-২৬)

  • Sarakhon Report
  • ১০:০০:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ জুন ২০২৪
  • 100

পিয়ের পল দারাক ও ভেলাম ভান সেন্দেল

অনুবাদ : ফওজুল করিম


নীল প্রস্তুত করতে প্রয়োজন বিশেষ দক্ষতা ও হাতেনাতে কাজের অভিজ্ঞতা। সেনেগালের জন্য অভিজ্ঞ নীলকর খুঁজে যাওয়ার কাজটি ছিল দুরূহ। ফ্রান্সের নীল সংক্রান্ত মন্ত্রি ১৮২২ সালের সেপ্টেম্বরে গভর্ণর রজারকে লিখেছিলেনঃ

“আপনার জন্য ভাল একজন নীলকর খুঁজে বের করার কাজ এখনো চালিয়ে যাচ্ছি। মনে হয় বাংলাদেশ থেকেই নীলকর নিতে হবে। তবে তা না পাওয়া গেলে অগত্যা ফ্রান্সের নীলকর দিয়ে কাজ চালাতে হবে। সেন্ট ডোমিঙ্গোর (হাইতি) সাবেক এক বাসিন্দা এসেছিল এই কাজের জন্যে” সে বলছে সে নাকি সেখানে একটি নীলকুঠি চালাত। অনেক খোঁজাখুঁজির পর ১৮২৫ সালের দিকে সরকার নীল চাষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন কৃষিবিদকে নিয়োগ দান করেন। চার বছর তিনি সেনেগালে থাকবেন। তাঁর বার্ষিক বেতন সাড়ে ৭ হাজার ফ্রাঁ, উপনিবেশের অন্য যে কোনো কৃষি কর্মচারীর চাইতে যার বেতন বেশি। দু’ বছর পর সরকার আরও কিছু নীলকুঠি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়।

এইসঙ্গে সরকার একজন রসায়নবিদ নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেন। রসায়নবিদের নাম মিঃ দেজোন। তিনি বেতন পেতেন নীল কৃষিবিদ হিসাবে। আফ্রিকান শ্রমিকদের কাজ দেখাশোনা করার জন্য ম্যানেজার আর ফোরম্যান হিসাবে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল মূলটো আর ইউরোপিয়ানদের। শ্রমিকদের অনেকেই ছিল বিদেশী। মিঃ দেজোনের স্থলাভিষিক্ত হন মিঃ দেশুটিনা যিনি ছিলেন বঙ্গদেশের ফরাসী নীলকর। খুব একটা কর্মোদ্যম ছিল না তার কিন্তু তিনি ছিলেন কাজকর্মে সুশৃঙ্খল।

পরের কয়েক বছর পরিস্থিতি দেখেশুনে মনে হল সেনেগালে নীলচাষ সফল হবে এবং আন্তর্জাতিক নীলের ব্যবসার কিছুটা হলেও ফ্রান্স ফেরত পাবে। ফ্রান্সের এই ইচ্ছে রূপ পেল ১৮২৫ সালে পাশ করা একটি আইনের মাধ্যমে। এই আইন অনুসারে ফ্রান্সের নয় এমন কোনো দেশের জাহাজে ফ্রান্সে নীল আমদানী করা হলে সে নীলের উপর উচ্চ হারে কর আরোপ করতে পারবে সরকার। এই আইন কর্তৃপক্ষের জন্য বিশেষ চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশ্বের নীল ব্যবসা কুক্ষিগত করার জন্য বৃটেনের অপচেষ্টার বিরুদ্ধে ফ্রান্সের ভীতি বিশেষ জোরদার ছিল না।

জনপ্রিয় সংবাদ

অধিকার রক্ষায় আপোষহীন থাকার অঙ্গীকার বিএনপির, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের আহ্বান ফখরুলের

নীলের বিশ্বায়ন – নীল ও ঔপনিবেশিক বাংলায় গোয়েন্দাগিরি (পর্ব-২৬)

১০:০০:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ জুন ২০২৪

পিয়ের পল দারাক ও ভেলাম ভান সেন্দেল

অনুবাদ : ফওজুল করিম


নীল প্রস্তুত করতে প্রয়োজন বিশেষ দক্ষতা ও হাতেনাতে কাজের অভিজ্ঞতা। সেনেগালের জন্য অভিজ্ঞ নীলকর খুঁজে যাওয়ার কাজটি ছিল দুরূহ। ফ্রান্সের নীল সংক্রান্ত মন্ত্রি ১৮২২ সালের সেপ্টেম্বরে গভর্ণর রজারকে লিখেছিলেনঃ

“আপনার জন্য ভাল একজন নীলকর খুঁজে বের করার কাজ এখনো চালিয়ে যাচ্ছি। মনে হয় বাংলাদেশ থেকেই নীলকর নিতে হবে। তবে তা না পাওয়া গেলে অগত্যা ফ্রান্সের নীলকর দিয়ে কাজ চালাতে হবে। সেন্ট ডোমিঙ্গোর (হাইতি) সাবেক এক বাসিন্দা এসেছিল এই কাজের জন্যে” সে বলছে সে নাকি সেখানে একটি নীলকুঠি চালাত। অনেক খোঁজাখুঁজির পর ১৮২৫ সালের দিকে সরকার নীল চাষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন কৃষিবিদকে নিয়োগ দান করেন। চার বছর তিনি সেনেগালে থাকবেন। তাঁর বার্ষিক বেতন সাড়ে ৭ হাজার ফ্রাঁ, উপনিবেশের অন্য যে কোনো কৃষি কর্মচারীর চাইতে যার বেতন বেশি। দু’ বছর পর সরকার আরও কিছু নীলকুঠি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়।

এইসঙ্গে সরকার একজন রসায়নবিদ নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেন। রসায়নবিদের নাম মিঃ দেজোন। তিনি বেতন পেতেন নীল কৃষিবিদ হিসাবে। আফ্রিকান শ্রমিকদের কাজ দেখাশোনা করার জন্য ম্যানেজার আর ফোরম্যান হিসাবে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল মূলটো আর ইউরোপিয়ানদের। শ্রমিকদের অনেকেই ছিল বিদেশী। মিঃ দেজোনের স্থলাভিষিক্ত হন মিঃ দেশুটিনা যিনি ছিলেন বঙ্গদেশের ফরাসী নীলকর। খুব একটা কর্মোদ্যম ছিল না তার কিন্তু তিনি ছিলেন কাজকর্মে সুশৃঙ্খল।

পরের কয়েক বছর পরিস্থিতি দেখেশুনে মনে হল সেনেগালে নীলচাষ সফল হবে এবং আন্তর্জাতিক নীলের ব্যবসার কিছুটা হলেও ফ্রান্স ফেরত পাবে। ফ্রান্সের এই ইচ্ছে রূপ পেল ১৮২৫ সালে পাশ করা একটি আইনের মাধ্যমে। এই আইন অনুসারে ফ্রান্সের নয় এমন কোনো দেশের জাহাজে ফ্রান্সে নীল আমদানী করা হলে সে নীলের উপর উচ্চ হারে কর আরোপ করতে পারবে সরকার। এই আইন কর্তৃপক্ষের জন্য বিশেষ চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশ্বের নীল ব্যবসা কুক্ষিগত করার জন্য বৃটেনের অপচেষ্টার বিরুদ্ধে ফ্রান্সের ভীতি বিশেষ জোরদার ছিল না।