০২:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
প্রজেক্ট হেইল মেরি’ ৩০ কোটি ডলার ছাড়াল: ২০২৬-এর প্রথম সত্যিকারের ব্লকবাস্টার পেল হলিউড লুসাকায় আধা টন হাতির দাঁত জব্দ: জাম্বিয়ায় আন্তর্জাতিক হাতির দাঁত পাচার চক্র ভেঙে দেওয়া হয়েছে আইওএস ২৭-এ গুগল ও অ্যান্থ্রপিকসহ প্রতিদ্বন্দ্বী এআই সিস্টেমে উন্মুক্ত হবে সিরি নিয়াসিন সাপ্লিমেন্টে অতিরিক্ত ভরসা নয়, বিপদে ফেলতে পারে লিভার ও রক্তে শর্করা দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবাদের স্বাধীনতা সংকুচিত, নতুন নিয়মে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠরোধের অভিযোগ টেস্ট ভেন্যু বাছাইয়ে বিতর্ক: ঐতিহ্য উপেক্ষা, প্রশ্নের মুখে ভারতের ক্রিকেট নীতি বৈদেশিক ঋণের চাপে অর্থনীতি, সমান তালে আসছে ঋণ ও পরিশোধ টঙ্গীর ফ্লাইওভারে দাউদাউ আগুনে পুড়ল চলন্ত গাড়ি, আতঙ্কে থমকে গেল ব্যস্ত সড়ক ভোটের টানে ঘরে ফিরতে মরিয়া বঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকরা, ভয়ের ছায়া নাম কাটার আতঙ্ক আসামে ভোটের আগে কংগ্রেসের ‘পাঁচ গ্যারান্টি’, ১০০ দিনে জুবিন গার্গ হত্যার বিচার প্রতিশ্রুতি

নীলের বিশ্বায়ন – নীল ও ঔপনিবেশিক বাংলায় গোয়েন্দাগিরি (পর্ব-৩৫)

  • Sarakhon Report
  • ১০:০০:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুলাই ২০২৪
  • 75

পিয়ের পল দারাক ও ভেলাম ভান সেন্দেল

অনুবাদ : ফওজুল করিম


বঙ্গদেশে নীলের চাষাবাদ ও নীল প্রস্তুতকরণ রিপোর্ট

নৌবাহিনী ও উপনিবেশের মাননীয় মন্ত্রীর সমীপে

নীল ভারতে প্রস্তুত হলেও এ অঞ্চলে নীলের তেমন একটা কদর ছিল না। ১৭৯০ সালের আগে তো নয়ই। নীলের চাহিদার দিকে নজর রেখেই প্রস্তুত করা হত নীল। সে আমলে ব্যাপকভাবে নীল চাষ করা হত শুধুমাত্র দুই আমেরিকাতে। শতাব্দীকাল পূর্বে ফরাসীরা নীল চাষের প্রবর্তন করে সেন্ট ডোমিঙ্গোতে। ফরাসীদের হাতে ওই সব দেশে নীল তাদের প্রধান ব্যবসায়ে পরিণত হয়। সেন্ট ডোমিঙ্গোতে তখন বছরে নীল উৎপাদন হত দশ লাখ পাউন্ড। ফ্রান্সের মোট নীলের চাহিদার চেয়ে এ উৎপাদন বেশি। তাই অতিরিক্ত নীল বিক্রী করা হত ইংরাজদের কাছে। ইংরাজরা তখন জ্যামেইকার নীল উৎপাদনের চেষ্টা করছিল ঠিকই কিন্তু তাদের সে চেষ্টা ফলপ্রসূ হয়নি।

সেন্ট ডোমিঙ্গোতে বিপ্লবের পর সেখানে নীল উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। ইউরোপে নীলের চাহিদা ছিল এতই ব্যাপক যে আমেরিকার বিভিন্ন স্থানে নীল চাষ করেও শুধু বৃটেনের চাহিদাই মিটানো যেত না। শিল্প প্রধান দেশ হিসাবে ইংল্যান্ড নীলের চাহিদা উপলব্ধি করত প্রচন্ডভাবে।

নীলের অভাবে ইংল্যাণ্ডের শিল্প কি প্রচন্ড সংকটে পড়তে পারে এ কথা চিন্তা করে তারা ভারতে নীলচাষের একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন করল। ভারতে নীলচাষে আগ্রহী এমন লোকদের মোটা অঙ্কের ঋণ ও সব রকম সুযোগ-সুবিধা দেয়া হল। দরখাস্ত কারীদের প্রথম সারিতে ছিল সেন্ট ডোমিঙ্গো থেকে আসা ফরাসী নাগরিকবৃন্দ। তাদের জন্য এমন সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা হয় যে মনে হয় নীল চাষের জন্য এর চেয়ে সুবিধাজনক জায়গা জগতে আর মিলবে না।

বৃটিশ সরকারের প্রদেয় সুযোগ-সুবিধার আধিক্যে ঈপ্সিত ফল পাওয়া গেলঃ অনুকূল জলবায়ু নদীমাতৃক দেশে প্রতি বছর বন্যা হওয়ার ফলে উর্বরা জমি, ঘন জনবসতি ও প্রচুর পরিমাণে কর্মক্ষম ভারবাহী পশু। তাদের আশা পূরণ হল। ইংল্যান্ডের শিল্পের জন্য অত্যাবশ্যকীয় রঞ্জকের পরিবর্তে তারা এমন নীল ব্যবহার করতে লাগল যা একান্তভাবে তাদের উপনিবেশেই তৈরি।

 

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রজেক্ট হেইল মেরি’ ৩০ কোটি ডলার ছাড়াল: ২০২৬-এর প্রথম সত্যিকারের ব্লকবাস্টার পেল হলিউড

নীলের বিশ্বায়ন – নীল ও ঔপনিবেশিক বাংলায় গোয়েন্দাগিরি (পর্ব-৩৫)

১০:০০:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুলাই ২০২৪

পিয়ের পল দারাক ও ভেলাম ভান সেন্দেল

অনুবাদ : ফওজুল করিম


বঙ্গদেশে নীলের চাষাবাদ ও নীল প্রস্তুতকরণ রিপোর্ট

নৌবাহিনী ও উপনিবেশের মাননীয় মন্ত্রীর সমীপে

নীল ভারতে প্রস্তুত হলেও এ অঞ্চলে নীলের তেমন একটা কদর ছিল না। ১৭৯০ সালের আগে তো নয়ই। নীলের চাহিদার দিকে নজর রেখেই প্রস্তুত করা হত নীল। সে আমলে ব্যাপকভাবে নীল চাষ করা হত শুধুমাত্র দুই আমেরিকাতে। শতাব্দীকাল পূর্বে ফরাসীরা নীল চাষের প্রবর্তন করে সেন্ট ডোমিঙ্গোতে। ফরাসীদের হাতে ওই সব দেশে নীল তাদের প্রধান ব্যবসায়ে পরিণত হয়। সেন্ট ডোমিঙ্গোতে তখন বছরে নীল উৎপাদন হত দশ লাখ পাউন্ড। ফ্রান্সের মোট নীলের চাহিদার চেয়ে এ উৎপাদন বেশি। তাই অতিরিক্ত নীল বিক্রী করা হত ইংরাজদের কাছে। ইংরাজরা তখন জ্যামেইকার নীল উৎপাদনের চেষ্টা করছিল ঠিকই কিন্তু তাদের সে চেষ্টা ফলপ্রসূ হয়নি।

সেন্ট ডোমিঙ্গোতে বিপ্লবের পর সেখানে নীল উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। ইউরোপে নীলের চাহিদা ছিল এতই ব্যাপক যে আমেরিকার বিভিন্ন স্থানে নীল চাষ করেও শুধু বৃটেনের চাহিদাই মিটানো যেত না। শিল্প প্রধান দেশ হিসাবে ইংল্যান্ড নীলের চাহিদা উপলব্ধি করত প্রচন্ডভাবে।

নীলের অভাবে ইংল্যাণ্ডের শিল্প কি প্রচন্ড সংকটে পড়তে পারে এ কথা চিন্তা করে তারা ভারতে নীলচাষের একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন করল। ভারতে নীলচাষে আগ্রহী এমন লোকদের মোটা অঙ্কের ঋণ ও সব রকম সুযোগ-সুবিধা দেয়া হল। দরখাস্ত কারীদের প্রথম সারিতে ছিল সেন্ট ডোমিঙ্গো থেকে আসা ফরাসী নাগরিকবৃন্দ। তাদের জন্য এমন সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা হয় যে মনে হয় নীল চাষের জন্য এর চেয়ে সুবিধাজনক জায়গা জগতে আর মিলবে না।

বৃটিশ সরকারের প্রদেয় সুযোগ-সুবিধার আধিক্যে ঈপ্সিত ফল পাওয়া গেলঃ অনুকূল জলবায়ু নদীমাতৃক দেশে প্রতি বছর বন্যা হওয়ার ফলে উর্বরা জমি, ঘন জনবসতি ও প্রচুর পরিমাণে কর্মক্ষম ভারবাহী পশু। তাদের আশা পূরণ হল। ইংল্যান্ডের শিল্পের জন্য অত্যাবশ্যকীয় রঞ্জকের পরিবর্তে তারা এমন নীল ব্যবহার করতে লাগল যা একান্তভাবে তাদের উপনিবেশেই তৈরি।