০২:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
তৃণমূলে ভাঙনের জল্পনা, সুদীপকে কটাক্ষ মহুয়ার: ‘মুখোশ আর পরচুলা দুটোই খুলে গেল’ মমতার বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে নতুন মোড় ট্রাম্পের ঘোষণা, তবে ইরানের সংশয়: রবিবারই কি হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি? লন্ডনের সাউথলে ছুরিকাঘাতে নিহত ভারতীয় বংশোদ্ভূত যুবক, তদন্তে পুলিশ সরকারি সহায়তা ছাড়া কি ট্রিলিয়নিয়ার হতে পারতেন ইলন মাস্ক? চিয়ংসামের ভাঁজে লুকানো অভিবাসী জীবনের ইতিহাস, লস অ্যাঞ্জেলেসে বিরল প্রদর্শনী মিশেলিন গাইডের নতুন দিগন্ত: বিশ্বজুড়ে খাদ্যসংস্কৃতির মানচিত্রে যুক্ত হতে পারে ভারত ও আফ্রিকার দেশগুলো কাতারের ইতিহাসে প্রথম বিশ্বকাপ পয়েন্ট, শেষ মুহূর্তের গোলে সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে ড্র কুশনারের বিলাসবহুল রিসোর্ট প্রকল্প ঘিরে আলবেনিয়ায় জমি বিতর্ক, বিক্ষোভে উত্তাল উপকূল নারায়ণগঞ্জের ডিএনডি লেকে গোসলে নেমে একই পরিবারের তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্যু

নীলের বিশ্বায়ন – নীল ও ঔপনিবেশিক বাংলায় গোয়েন্দাগিরি (পর্ব-৩৫)

  • Sarakhon Report
  • ১০:০০:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুলাই ২০২৪
  • 99

পিয়ের পল দারাক ও ভেলাম ভান সেন্দেল

অনুবাদ : ফওজুল করিম


বঙ্গদেশে নীলের চাষাবাদ ও নীল প্রস্তুতকরণ রিপোর্ট

নৌবাহিনী ও উপনিবেশের মাননীয় মন্ত্রীর সমীপে

নীল ভারতে প্রস্তুত হলেও এ অঞ্চলে নীলের তেমন একটা কদর ছিল না। ১৭৯০ সালের আগে তো নয়ই। নীলের চাহিদার দিকে নজর রেখেই প্রস্তুত করা হত নীল। সে আমলে ব্যাপকভাবে নীল চাষ করা হত শুধুমাত্র দুই আমেরিকাতে। শতাব্দীকাল পূর্বে ফরাসীরা নীল চাষের প্রবর্তন করে সেন্ট ডোমিঙ্গোতে। ফরাসীদের হাতে ওই সব দেশে নীল তাদের প্রধান ব্যবসায়ে পরিণত হয়। সেন্ট ডোমিঙ্গোতে তখন বছরে নীল উৎপাদন হত দশ লাখ পাউন্ড। ফ্রান্সের মোট নীলের চাহিদার চেয়ে এ উৎপাদন বেশি। তাই অতিরিক্ত নীল বিক্রী করা হত ইংরাজদের কাছে। ইংরাজরা তখন জ্যামেইকার নীল উৎপাদনের চেষ্টা করছিল ঠিকই কিন্তু তাদের সে চেষ্টা ফলপ্রসূ হয়নি।

সেন্ট ডোমিঙ্গোতে বিপ্লবের পর সেখানে নীল উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। ইউরোপে নীলের চাহিদা ছিল এতই ব্যাপক যে আমেরিকার বিভিন্ন স্থানে নীল চাষ করেও শুধু বৃটেনের চাহিদাই মিটানো যেত না। শিল্প প্রধান দেশ হিসাবে ইংল্যান্ড নীলের চাহিদা উপলব্ধি করত প্রচন্ডভাবে।

নীলের অভাবে ইংল্যাণ্ডের শিল্প কি প্রচন্ড সংকটে পড়তে পারে এ কথা চিন্তা করে তারা ভারতে নীলচাষের একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন করল। ভারতে নীলচাষে আগ্রহী এমন লোকদের মোটা অঙ্কের ঋণ ও সব রকম সুযোগ-সুবিধা দেয়া হল। দরখাস্ত কারীদের প্রথম সারিতে ছিল সেন্ট ডোমিঙ্গো থেকে আসা ফরাসী নাগরিকবৃন্দ। তাদের জন্য এমন সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা হয় যে মনে হয় নীল চাষের জন্য এর চেয়ে সুবিধাজনক জায়গা জগতে আর মিলবে না।

বৃটিশ সরকারের প্রদেয় সুযোগ-সুবিধার আধিক্যে ঈপ্সিত ফল পাওয়া গেলঃ অনুকূল জলবায়ু নদীমাতৃক দেশে প্রতি বছর বন্যা হওয়ার ফলে উর্বরা জমি, ঘন জনবসতি ও প্রচুর পরিমাণে কর্মক্ষম ভারবাহী পশু। তাদের আশা পূরণ হল। ইংল্যান্ডের শিল্পের জন্য অত্যাবশ্যকীয় রঞ্জকের পরিবর্তে তারা এমন নীল ব্যবহার করতে লাগল যা একান্তভাবে তাদের উপনিবেশেই তৈরি।

 

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

তৃণমূলে ভাঙনের জল্পনা, সুদীপকে কটাক্ষ মহুয়ার: ‘মুখোশ আর পরচুলা দুটোই খুলে গেল’

নীলের বিশ্বায়ন – নীল ও ঔপনিবেশিক বাংলায় গোয়েন্দাগিরি (পর্ব-৩৫)

১০:০০:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুলাই ২০২৪

পিয়ের পল দারাক ও ভেলাম ভান সেন্দেল

অনুবাদ : ফওজুল করিম


বঙ্গদেশে নীলের চাষাবাদ ও নীল প্রস্তুতকরণ রিপোর্ট

নৌবাহিনী ও উপনিবেশের মাননীয় মন্ত্রীর সমীপে

নীল ভারতে প্রস্তুত হলেও এ অঞ্চলে নীলের তেমন একটা কদর ছিল না। ১৭৯০ সালের আগে তো নয়ই। নীলের চাহিদার দিকে নজর রেখেই প্রস্তুত করা হত নীল। সে আমলে ব্যাপকভাবে নীল চাষ করা হত শুধুমাত্র দুই আমেরিকাতে। শতাব্দীকাল পূর্বে ফরাসীরা নীল চাষের প্রবর্তন করে সেন্ট ডোমিঙ্গোতে। ফরাসীদের হাতে ওই সব দেশে নীল তাদের প্রধান ব্যবসায়ে পরিণত হয়। সেন্ট ডোমিঙ্গোতে তখন বছরে নীল উৎপাদন হত দশ লাখ পাউন্ড। ফ্রান্সের মোট নীলের চাহিদার চেয়ে এ উৎপাদন বেশি। তাই অতিরিক্ত নীল বিক্রী করা হত ইংরাজদের কাছে। ইংরাজরা তখন জ্যামেইকার নীল উৎপাদনের চেষ্টা করছিল ঠিকই কিন্তু তাদের সে চেষ্টা ফলপ্রসূ হয়নি।

সেন্ট ডোমিঙ্গোতে বিপ্লবের পর সেখানে নীল উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। ইউরোপে নীলের চাহিদা ছিল এতই ব্যাপক যে আমেরিকার বিভিন্ন স্থানে নীল চাষ করেও শুধু বৃটেনের চাহিদাই মিটানো যেত না। শিল্প প্রধান দেশ হিসাবে ইংল্যান্ড নীলের চাহিদা উপলব্ধি করত প্রচন্ডভাবে।

নীলের অভাবে ইংল্যাণ্ডের শিল্প কি প্রচন্ড সংকটে পড়তে পারে এ কথা চিন্তা করে তারা ভারতে নীলচাষের একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন করল। ভারতে নীলচাষে আগ্রহী এমন লোকদের মোটা অঙ্কের ঋণ ও সব রকম সুযোগ-সুবিধা দেয়া হল। দরখাস্ত কারীদের প্রথম সারিতে ছিল সেন্ট ডোমিঙ্গো থেকে আসা ফরাসী নাগরিকবৃন্দ। তাদের জন্য এমন সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা হয় যে মনে হয় নীল চাষের জন্য এর চেয়ে সুবিধাজনক জায়গা জগতে আর মিলবে না।

বৃটিশ সরকারের প্রদেয় সুযোগ-সুবিধার আধিক্যে ঈপ্সিত ফল পাওয়া গেলঃ অনুকূল জলবায়ু নদীমাতৃক দেশে প্রতি বছর বন্যা হওয়ার ফলে উর্বরা জমি, ঘন জনবসতি ও প্রচুর পরিমাণে কর্মক্ষম ভারবাহী পশু। তাদের আশা পূরণ হল। ইংল্যান্ডের শিল্পের জন্য অত্যাবশ্যকীয় রঞ্জকের পরিবর্তে তারা এমন নীল ব্যবহার করতে লাগল যা একান্তভাবে তাদের উপনিবেশেই তৈরি।