০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ মানার আহ্বান, জয়শঙ্করকে কড়া বার্তা রুবিওর ব্রিটেনে ছুরি হামলার পর উত্তেজনা, উসকে দিচ্ছে কট্টর ডানপন্থী রাজনীতি ভারতে পাচার হওয়া ১৪ বাংলাদেশির দেশে ফেরা, বেনাপোল দিয়ে হস্তান্তর পাকিস্তানের উত্তর ওয়াজিরিস্তানে ৭২ ঘণ্টায় নিহত ২১ জঙ্গি, মোট নিহত ৪৮ লস অ্যাঞ্জেলেসে বিশ্বকাপের মঞ্চ মাতালেন লিসা, কেপপ ইতিহাসে নতুন অধ্যায় ইউটিউব থেকে হলিউড: নতুন প্রজন্মের পরিচালকরা কি বদলে দিচ্ছেন সিনেমার ভবিষ্যৎ? গুগলের নতুন এআই চিপে স্যামসাং? ‘আইসফিশ’ প্রকল্পে বড় চুক্তির আলোচনায় দুই প্রযুক্তি জায়ান্ট ইরান যুদ্ধের পর বদলে যাওয়া বাস্তবতা: চুক্তির দ্বারপ্রান্তে থেকেও কেন কঠিন অবস্থানে তেহরান পশ্চিমবঙ্গে তল্লাশি বিতর্ক: অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে পুলিশি অভিযানে মমতার অভিযোগ পশ্চিমবঙ্গের নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রকে ঘিরে ইডির তল্লাশি

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-১৩৬)

  • Sarakhon Report
  • ১১:০০:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৪
  • 148

শ্রী নিখিলনাথ রায়

ক্রমে ক্রমে মৃত্যুর করাল ছায়া আলিবদ্দীকে অভিভূত করিয়া ফেলিল। তিনি ১১৬৯ হিজরীর ৯ই রজব তারিখে (১৭৫৬ খৃঃ অব্দের ৯ই এপ্রেল) চিরদিনের জন্য চক্ষু মুদিত করিলেন। বাঙ্গলার আদর্শ নবাব হিন্দুর পরম মিত্র, মহারাষ্ট্রীয় ও আফগানদিগের দর্পচূর্ণকারী, মহামহিমান্বিত আলিবন্দী খাঁ মহবংজঙ্গ অনন্তকালের জন্য মর্ত্যধাম পরিত্যাগ করিয়া, কোন্ অজ্ঞাত প্রদেশে চলিয়া গেলেন। তাঁহার অবসানে মুসলমান রাজলক্ষ্মীর কিরীট শিথিল হইতে আরম্ভ হইল এবং ইংরেজ রাজলক্ষ্মীর জ্যোতিঃ সহসা ভারতাকাশে বিকীর্ণ হইয়া পড়িল।

অনেক দিন হইতে ইংরেজেরা স্বর্ণপ্রসবিনী ভারতভূমির প্রতি যে আশায় সতৃষ্ণনয়নে দৃষ্টিপাত করিতেছিলেন, এতদিনে সে আশা ফলবতী হইতে চলিল। হতভাগ্য সিরাজ বুঝিতে পারিলেন না যে, তাঁহার ভাগ্যাকাশ: ঘোর অন্ধকারময় হইয়া উঠিতেছে! আলিবর্দ্দদীর মৃত্যুতে সমস্ত :বঙ্গরাজ্যের প্রজারা হাহাকার করিতে লাগিল; মহারাষ্ট্রীয় ও আফগান দস্যুভয়ে তাহাদের হৃদয় কম্পিত হইয়া উঠিল, সমগ্র বঙ্গরাজ্যে যেন কেমন একটা বিবাদের ছায়া ঘনীভূত হইতে লাগিল।

নবাবের মৃত্যুর অব্যবহিত পরে, তাঁহার আত্মীয় স্বজন ও অনুচরবর্গ সমবেত হইয়া, তাঁহার মৃতদেহ পবিত্রীকৃত করার পর, বস্ত্রদ্বারা আচ্ছাদিত করিয়া, রাত্রির অন্ধকার খাকিতে থাকিতে খোশবাগের সমাধিকাননে তাঁহার মাতার পদতলে আনিয়া উপস্থিত করে; পরে তথা হইতে যথাস্থানে সমাহিত করা হয়।আলিবদ্দীর সমাধির অব্যবহিত পূর্ব্বভাগে তাঁহার প্রিয়তম দৌহিত্র বাঙ্গালীর সুপরিচিত, নবাব সিরাজউদ্দৌলা শারিত রহিয়াছেন। তাঁহার বর্তমান সমাধি একরূপ মাটির সহিত মিশিয়াই আছে। তাহার উপর কোন প্রস্তরখণ্ড নাই, কেবল বিলাতী মৃত্তিকা দ্বারা তাহা লেপিত হইয়াছে।

সিরাজের শোচনীয় মৃত্যুর কথা বিশেষ করিয়া বলিবার প্রয়োজন নাই; কারণ বঙ্গবাসী মাত্রেই তাহা সবিশেষ অবগত আছেন। তথাপি সে সম্বন্ধে দুই চারিটি কথা বলা যাইতেছে।পলাশীযুদ্ধে পরাজিত হইয়া সিরাজ, বেগম লুৎফ উন্নেসার সহিত মুর্শিদাবাদ হইতে পলায়ন করেন এবং রাজমহলের নিকট ধৃত হইয়া পুন- রায় মুর্শিদাবাদে আনীত হন। তাহার পর হিজরী ১১৭০ অব্দের ১৫ই শওয়াল (১৭৫৭ খৃঃ অব্দের ৩রা জুলাই) তাঁহার শোচনীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ মানার আহ্বান, জয়শঙ্করকে কড়া বার্তা রুবিওর

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-১৩৬)

১১:০০:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৪

শ্রী নিখিলনাথ রায়

ক্রমে ক্রমে মৃত্যুর করাল ছায়া আলিবদ্দীকে অভিভূত করিয়া ফেলিল। তিনি ১১৬৯ হিজরীর ৯ই রজব তারিখে (১৭৫৬ খৃঃ অব্দের ৯ই এপ্রেল) চিরদিনের জন্য চক্ষু মুদিত করিলেন। বাঙ্গলার আদর্শ নবাব হিন্দুর পরম মিত্র, মহারাষ্ট্রীয় ও আফগানদিগের দর্পচূর্ণকারী, মহামহিমান্বিত আলিবন্দী খাঁ মহবংজঙ্গ অনন্তকালের জন্য মর্ত্যধাম পরিত্যাগ করিয়া, কোন্ অজ্ঞাত প্রদেশে চলিয়া গেলেন। তাঁহার অবসানে মুসলমান রাজলক্ষ্মীর কিরীট শিথিল হইতে আরম্ভ হইল এবং ইংরেজ রাজলক্ষ্মীর জ্যোতিঃ সহসা ভারতাকাশে বিকীর্ণ হইয়া পড়িল।

অনেক দিন হইতে ইংরেজেরা স্বর্ণপ্রসবিনী ভারতভূমির প্রতি যে আশায় সতৃষ্ণনয়নে দৃষ্টিপাত করিতেছিলেন, এতদিনে সে আশা ফলবতী হইতে চলিল। হতভাগ্য সিরাজ বুঝিতে পারিলেন না যে, তাঁহার ভাগ্যাকাশ: ঘোর অন্ধকারময় হইয়া উঠিতেছে! আলিবর্দ্দদীর মৃত্যুতে সমস্ত :বঙ্গরাজ্যের প্রজারা হাহাকার করিতে লাগিল; মহারাষ্ট্রীয় ও আফগান দস্যুভয়ে তাহাদের হৃদয় কম্পিত হইয়া উঠিল, সমগ্র বঙ্গরাজ্যে যেন কেমন একটা বিবাদের ছায়া ঘনীভূত হইতে লাগিল।

নবাবের মৃত্যুর অব্যবহিত পরে, তাঁহার আত্মীয় স্বজন ও অনুচরবর্গ সমবেত হইয়া, তাঁহার মৃতদেহ পবিত্রীকৃত করার পর, বস্ত্রদ্বারা আচ্ছাদিত করিয়া, রাত্রির অন্ধকার খাকিতে থাকিতে খোশবাগের সমাধিকাননে তাঁহার মাতার পদতলে আনিয়া উপস্থিত করে; পরে তথা হইতে যথাস্থানে সমাহিত করা হয়।আলিবদ্দীর সমাধির অব্যবহিত পূর্ব্বভাগে তাঁহার প্রিয়তম দৌহিত্র বাঙ্গালীর সুপরিচিত, নবাব সিরাজউদ্দৌলা শারিত রহিয়াছেন। তাঁহার বর্তমান সমাধি একরূপ মাটির সহিত মিশিয়াই আছে। তাহার উপর কোন প্রস্তরখণ্ড নাই, কেবল বিলাতী মৃত্তিকা দ্বারা তাহা লেপিত হইয়াছে।

সিরাজের শোচনীয় মৃত্যুর কথা বিশেষ করিয়া বলিবার প্রয়োজন নাই; কারণ বঙ্গবাসী মাত্রেই তাহা সবিশেষ অবগত আছেন। তথাপি সে সম্বন্ধে দুই চারিটি কথা বলা যাইতেছে।পলাশীযুদ্ধে পরাজিত হইয়া সিরাজ, বেগম লুৎফ উন্নেসার সহিত মুর্শিদাবাদ হইতে পলায়ন করেন এবং রাজমহলের নিকট ধৃত হইয়া পুন- রায় মুর্শিদাবাদে আনীত হন। তাহার পর হিজরী ১১৭০ অব্দের ১৫ই শওয়াল (১৭৫৭ খৃঃ অব্দের ৩রা জুলাই) তাঁহার শোচনীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।