০৭:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
জাপানে ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পের পর মেগা কম্পনের সতর্কতা, আতঙ্কের মধ্যেও সতর্ক থাকার নির্দেশ চীনের খাদ্য নিরাপত্তা অভিযানে সহিংসতা ও গোপন কার্যালয় উন্মোচন: রেকর্ড জরিমানার আড়ালে ভয়ঙ্কর চিত্র চীনের ‘সুপার পাউডার’ বিপ্লব: প্লাজমা মিল কি বদলে দেবে সামরিক প্রযুক্তির শক্তির ভারসাম্য? চীনের জ্বালানি কৌশল নতুন করে ভাবনায়, হরমুজ সংকটে আমদানি নির্ভরতার ঝুঁকি সামনে হরমুজে উত্তেজনা চরমে, যুদ্ধবিরতি ভাঙার মুখে: আলোচনায় ফিরবে কি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান? ক্যানসেল কালচার ছিল নির্মম—আর পুরোপুরি এলোমেলো মহারাজার মতো জীবন: ভারতের নতুন রাজপ্রাসাদে বিলাসবহুল থাকার অভিজ্ঞতা টিম কুক সরে দাঁড়াচ্ছেন, অ্যাপলের নতুন প্রধান জন টারনাস পাকিস্তান অপ্রত্যাশিত শান্তির মধ্যস্থতাকারী: ইরান যুদ্ধ আলোচনায় নতুন ভূমিকায় ইসলামাবাদ ভোটের আগেই তালিকা থেকে নাম বাদ, দ্রুত শুনানির নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

মায়া সভ্যতার ইতিহাস ( পর্ব-৯)

  • Sarakhon Report
  • ০৬:২৭:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  • 131

ড. সুবীর বন্দ্যোপাধ্যায়

দেবদেবী, ঈশ্বর প্রভৃতি

মায়াদের ধর্মীয় বিশ্বাসের মধ্যে রয়েছে এক সুন্দর লোকায়ত ধারণা। এই ধর্মীয় বিশ্বাস এবং লোকায়ত ধারণার ছাপ বা লক্ষণ আমরা দেখতে পাই তাদের দেবদেবীর নানা রূপ-এর মধ্যে। প্রথমেই জানিয়ে রাখা ভাল মায়া জনজাতির মধ্যে সর্বোচ্চ স্তর এবং মানের দেবতা হলেন হুনাব বা ‘হুনাব কু’।

এবং তারা বিশ্বাস করে এই হুনাবই প্রথমে এই পৃথিবীর জন্মদাতা। এই হুনাব আবার সৃষ্টি করেছিলেন ‘ইতজামনা’ (Itzamana)। এই ইতজামনা হলেন দেবতাদের মধ্যে প্রধান। অনেকটা প্রধান সচিবের মত। মায়া-ভাষায় ‘হুনাব কু’ (Hunab Ku)-এর অর্থ হল চিরকালীন ঈশ্বর।

এবার গোটা শব্দটি কেটে কেটে অর্থ করলে এমনও বলা যায় হন (Hun)-এর অর্থ হল কে (one) এবং আব (ab)-এর অর্থ হল হবার অবস্থান (state of being)। এবং কু (Ku)-এর অর্থ হল ঈশ্বর বা দেবতা। আবার ইতিহাসের অনুসন্ধান আমাদের জানাচ্ছে যে কু (Ku) হলেন পলিনেসিয়াবাসীদেরও দেবতাগণের একজন।

এই নামের মিল থেকে প্রত্নঐতিহাসিকগণ মনে করেন পলিনেসিয়া এবং মায়ারা হয়ত একসময় একই ধর্মে বিশ্বাস করতেন। ‘কু’ সম্পর্কে আবার একথা্য বলা হয় এই ‘কু’ হয়ত মূলত কোনো ব্যক্তির আকার নয়। বরং এই ‘কু’ হলেন একটি নীতি।

কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির আকার নয়। তাই ‘কু’ যতটা মানুষের মনে উচ্চারিত হন তার থেকে বেশি উচ্চারিত হন তারই ছেলে ইতজামনা। এক্ষেত্রে হিন্দুসমাজ-এর কথাও বিশেষভাবে খেয়াল করা দরকার যে হিন্দুধর্মেও মোটামুটিভাবে একই দেবতা কাজ করে।

এদের নাম হল ব্রহ্ম (Brahma)। ব্রহ্ম এমন উচ্চমার্গীয় স্তরে বিরাজ করেন যে তাঁকে সাধারণ মানুষ সচরাচর দৈনিক পূজার সঙ্গী করেন না। এই ক্ষেত্রে ব্রহ্মা হল একটি আদর্শগত নীতি। কোনো ব্যক্তির বহিঃপ্রকাশ নন। হিন্দুশাস্ত্র সাধারণভাবে বিশ্বাস করে যে এই ব্রহ্মাণ্ডে (Satchitananda) সৎচিন্তা আনন্দ রয়েছে।

(চলবে)

মায়া সভ্যতার ইতিহাস ( পর্ব-৮)

মায়া সভ্যতার ইতিহাস ( পর্ব-৮)

 

জনপ্রিয় সংবাদ

জাপানে ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পের পর মেগা কম্পনের সতর্কতা, আতঙ্কের মধ্যেও সতর্ক থাকার নির্দেশ

মায়া সভ্যতার ইতিহাস ( পর্ব-৯)

০৬:২৭:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪

ড. সুবীর বন্দ্যোপাধ্যায়

দেবদেবী, ঈশ্বর প্রভৃতি

মায়াদের ধর্মীয় বিশ্বাসের মধ্যে রয়েছে এক সুন্দর লোকায়ত ধারণা। এই ধর্মীয় বিশ্বাস এবং লোকায়ত ধারণার ছাপ বা লক্ষণ আমরা দেখতে পাই তাদের দেবদেবীর নানা রূপ-এর মধ্যে। প্রথমেই জানিয়ে রাখা ভাল মায়া জনজাতির মধ্যে সর্বোচ্চ স্তর এবং মানের দেবতা হলেন হুনাব বা ‘হুনাব কু’।

এবং তারা বিশ্বাস করে এই হুনাবই প্রথমে এই পৃথিবীর জন্মদাতা। এই হুনাব আবার সৃষ্টি করেছিলেন ‘ইতজামনা’ (Itzamana)। এই ইতজামনা হলেন দেবতাদের মধ্যে প্রধান। অনেকটা প্রধান সচিবের মত। মায়া-ভাষায় ‘হুনাব কু’ (Hunab Ku)-এর অর্থ হল চিরকালীন ঈশ্বর।

এবার গোটা শব্দটি কেটে কেটে অর্থ করলে এমনও বলা যায় হন (Hun)-এর অর্থ হল কে (one) এবং আব (ab)-এর অর্থ হল হবার অবস্থান (state of being)। এবং কু (Ku)-এর অর্থ হল ঈশ্বর বা দেবতা। আবার ইতিহাসের অনুসন্ধান আমাদের জানাচ্ছে যে কু (Ku) হলেন পলিনেসিয়াবাসীদেরও দেবতাগণের একজন।

এই নামের মিল থেকে প্রত্নঐতিহাসিকগণ মনে করেন পলিনেসিয়া এবং মায়ারা হয়ত একসময় একই ধর্মে বিশ্বাস করতেন। ‘কু’ সম্পর্কে আবার একথা্য বলা হয় এই ‘কু’ হয়ত মূলত কোনো ব্যক্তির আকার নয়। বরং এই ‘কু’ হলেন একটি নীতি।

কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির আকার নয়। তাই ‘কু’ যতটা মানুষের মনে উচ্চারিত হন তার থেকে বেশি উচ্চারিত হন তারই ছেলে ইতজামনা। এক্ষেত্রে হিন্দুসমাজ-এর কথাও বিশেষভাবে খেয়াল করা দরকার যে হিন্দুধর্মেও মোটামুটিভাবে একই দেবতা কাজ করে।

এদের নাম হল ব্রহ্ম (Brahma)। ব্রহ্ম এমন উচ্চমার্গীয় স্তরে বিরাজ করেন যে তাঁকে সাধারণ মানুষ সচরাচর দৈনিক পূজার সঙ্গী করেন না। এই ক্ষেত্রে ব্রহ্মা হল একটি আদর্শগত নীতি। কোনো ব্যক্তির বহিঃপ্রকাশ নন। হিন্দুশাস্ত্র সাধারণভাবে বিশ্বাস করে যে এই ব্রহ্মাণ্ডে (Satchitananda) সৎচিন্তা আনন্দ রয়েছে।

(চলবে)

মায়া সভ্যতার ইতিহাস ( পর্ব-৮)

মায়া সভ্যতার ইতিহাস ( পর্ব-৮)