০২:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
কাবুল ‘অক্ষম’ না ‘অনিচ্ছুক’: পাকিস্তানের নিরাপত্তা সংকট ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্ন সেপ্টেম্বরের অপেক্ষা: মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রকৃত ঝুঁকি এখনও সামনে খুলনার মসজিদে ফজরের নামাজের সময় গুলিবর্ষণ, আহত ২ পাকিস্তানে এক ফোঁটা পানিও যেতে দেব না, দাবি ভারতের; নতুন করে বাড়ছে পানি সংকটের আশঙ্কা ২০২৭ সিনেট নির্বাচন ঘিরে পিটিআইর শঙ্কা, আরও শক্তিশালী হতে পারে ‘হাইব্রিড ব্যবস্থা’ পাকিস্তানের বাজেট নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া, খুশি বস্ত্রখাত, উদ্বেগে পোলট্রি ও শ্রমিক সংগঠন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তি ঘিরে উত্তেজনা, তেহরানে বিক্ষোভের মধ্যেই বাড়ছে সমঝোতার আশা প্রকাশ রাজের সমর্থনে বেঙ্গালুরুতে বিক্ষোভ, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন জোরালো উত্তর ওয়াজিরিস্তানে অভিযানে ২১ জঙ্গি নিহত, চার শীর্ষ নেতার মৃত্যুর দাবি পাকিস্তানের যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি সমঝোতা চূড়ান্তের পথে, স্বাক্ষরের তারিখ নিয়ে মতপার্থক্য

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-১৭৪)

  • Sarakhon Report
  • ১১:০০:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ অক্টোবর ২০২৪
  • 144

শ্রী নিখিলনাথ রায়

প্রথমতঃ তিনি মাসিক ৮০০০ টাকা বৃত্তি পাইতেন; পরে উহা কমিতে কমিতে ১০০০ টাকায় পরিণত হয়। যিনি নিজে লক্ষাধিক মুদ্রার সম্পত্তি দেবসেবায় নিদ্দেশ করিয়াছিলেন, তিনি যে কিজন্য গবর্ণমেন্টের নিকট বৃত্তিপ্রার্থিনী হইলেন, ইহা নিতান্ত রহস্তময় সন্দেহ নাই। দেবতার জন্ম যে সম্পত্তি অর্পিত হইয়াছে, তাহার দ্বারা তিনি আত্মোদর পূরণের পক্ষপাতিনী ছিলেন না, ইহা ব্যতীত আর কি বলা যাইতে পারে? এইরূপে কঠোর ব্রহ্মচর্য্য অবলম্বন পূর্ব্বক দেবসেবায়, ব্রাহ্মণসেবায়, ও দীনপ্রতিপালনে আপনার জীবনকে উৎসর্গীকৃত করিয়া রাণী ভবানী ৭৯ বৎসর বয়সে বড়নগরে ভাগীরথীতীরে বিশ্বজননী ভবানীসহ চিরসম্মিলিত হন।

যিনি হিন্দুবিধবার অত্যুচ্চ আদর্শ দেখাইয়া, স্বীয় পবিত্র নামকে প্রাতঃস্মরণীয় করিয়া গিয়াছেন, তাঁহার সেই আদর্শ দিন’ ‘দিন বঙ্গভূমি হইতে লয় পাইতে বসিয়াছে। বঙ্গদেশে কত রাণী কত মহারাণী জন্মগ্রহণ করিয়াছেন, কিন্তু রাণী ভবানীর ন্যায় এমন সনাতন আদর্শ আর কখনও শুনিতে বা দেখিতে পাওয়া গেল না। বর্তমান সময়ে একজনমাত্র তাঁহার আদর্শ চরিত্রের অনুকরণে আপনার পবিত্র নাম প্রচার করিয়া গিয়াছেন। তাঁহার নাম মহারাণী শরৎসুন্দরী। সেই দ্বিতীয়া ভবানীর পবিত্র চরিত্র কিছুদিনের জন্য।

বঙ্গভূমিতে হিন্দুবিধবা-নামে এক শিব প্রতিষ্ঠা করিয়াছিলেন। এইরূপ কথিত আছে যে, উত্তর ভবানীশ্বর মন্দিরই এক সময়েই নিম্মিত হয়। বড়নগরের ভবানীশ্বর-মন্দিরে যে শিলালিপি ছিল, তাহার অন্তর্ধান ঘটিয়াছে; সুতরাং কোন অব্দে তাহা নির্মিত হয়, বলিতে পারা যায় না। কাশীর ভবানীশ্বর মন্দিরে এইরূপ লিখিত আছে:-

“বাণব্যাহৃতিরাগেন্দুসমিতে শকবৎসরে।
নিবাসনগরে শ্রীমদ্বিশ্বনাথন্ত্য সন্নিধৌ॥
ধরামরেন্দ্রবারেন্দ্রগৌড়ভূমীন্দ্রভামিনী।
নির্ঘুমে প্রভবানী ঐভবানীশ্বরমন্দিরম্ উক্ত শ্লোক হইতে কাশীর ভবানীশ্বরমন্দিরের নির্মাণকাল : ২৭৫ শাকাব্দ হইতেছে। যদি একসময়ে উভয় ভবানীশ্বর মন্দিরের নির্মাণ: হইয়া থাকে, তাহা হইলে বড়নগরস্থ ভবানীশ্বর-মন্দিরের নির্মাণাব্দও ১৬৭৫ শক হয়। খোদিত শিলাখণ্ড না থাকায়, ইহার প্রকৃত সময়- নির্ণয় করা দুঃসাধ্য। এই বৃহৎ মন্দিরের চতুঃপার্শ্বে বারাণ্ডা; বারাণ্ডায় আটটি প্রবেশপথ আছে। ইহার নির্মাণকাৰ্য্য অতীব প্রশংসনীয়।
জনপ্রিয় সংবাদ

কাবুল ‘অক্ষম’ না ‘অনিচ্ছুক’: পাকিস্তানের নিরাপত্তা সংকট ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্ন

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-১৭৪)

১১:০০:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ অক্টোবর ২০২৪

শ্রী নিখিলনাথ রায়

প্রথমতঃ তিনি মাসিক ৮০০০ টাকা বৃত্তি পাইতেন; পরে উহা কমিতে কমিতে ১০০০ টাকায় পরিণত হয়। যিনি নিজে লক্ষাধিক মুদ্রার সম্পত্তি দেবসেবায় নিদ্দেশ করিয়াছিলেন, তিনি যে কিজন্য গবর্ণমেন্টের নিকট বৃত্তিপ্রার্থিনী হইলেন, ইহা নিতান্ত রহস্তময় সন্দেহ নাই। দেবতার জন্ম যে সম্পত্তি অর্পিত হইয়াছে, তাহার দ্বারা তিনি আত্মোদর পূরণের পক্ষপাতিনী ছিলেন না, ইহা ব্যতীত আর কি বলা যাইতে পারে? এইরূপে কঠোর ব্রহ্মচর্য্য অবলম্বন পূর্ব্বক দেবসেবায়, ব্রাহ্মণসেবায়, ও দীনপ্রতিপালনে আপনার জীবনকে উৎসর্গীকৃত করিয়া রাণী ভবানী ৭৯ বৎসর বয়সে বড়নগরে ভাগীরথীতীরে বিশ্বজননী ভবানীসহ চিরসম্মিলিত হন।

যিনি হিন্দুবিধবার অত্যুচ্চ আদর্শ দেখাইয়া, স্বীয় পবিত্র নামকে প্রাতঃস্মরণীয় করিয়া গিয়াছেন, তাঁহার সেই আদর্শ দিন’ ‘দিন বঙ্গভূমি হইতে লয় পাইতে বসিয়াছে। বঙ্গদেশে কত রাণী কত মহারাণী জন্মগ্রহণ করিয়াছেন, কিন্তু রাণী ভবানীর ন্যায় এমন সনাতন আদর্শ আর কখনও শুনিতে বা দেখিতে পাওয়া গেল না। বর্তমান সময়ে একজনমাত্র তাঁহার আদর্শ চরিত্রের অনুকরণে আপনার পবিত্র নাম প্রচার করিয়া গিয়াছেন। তাঁহার নাম মহারাণী শরৎসুন্দরী। সেই দ্বিতীয়া ভবানীর পবিত্র চরিত্র কিছুদিনের জন্য।

বঙ্গভূমিতে হিন্দুবিধবা-নামে এক শিব প্রতিষ্ঠা করিয়াছিলেন। এইরূপ কথিত আছে যে, উত্তর ভবানীশ্বর মন্দিরই এক সময়েই নিম্মিত হয়। বড়নগরের ভবানীশ্বর-মন্দিরে যে শিলালিপি ছিল, তাহার অন্তর্ধান ঘটিয়াছে; সুতরাং কোন অব্দে তাহা নির্মিত হয়, বলিতে পারা যায় না। কাশীর ভবানীশ্বর মন্দিরে এইরূপ লিখিত আছে:-

“বাণব্যাহৃতিরাগেন্দুসমিতে শকবৎসরে।
নিবাসনগরে শ্রীমদ্বিশ্বনাথন্ত্য সন্নিধৌ॥
ধরামরেন্দ্রবারেন্দ্রগৌড়ভূমীন্দ্রভামিনী।
নির্ঘুমে প্রভবানী ঐভবানীশ্বরমন্দিরম্ উক্ত শ্লোক হইতে কাশীর ভবানীশ্বরমন্দিরের নির্মাণকাল : ২৭৫ শাকাব্দ হইতেছে। যদি একসময়ে উভয় ভবানীশ্বর মন্দিরের নির্মাণ: হইয়া থাকে, তাহা হইলে বড়নগরস্থ ভবানীশ্বর-মন্দিরের নির্মাণাব্দও ১৬৭৫ শক হয়। খোদিত শিলাখণ্ড না থাকায়, ইহার প্রকৃত সময়- নির্ণয় করা দুঃসাধ্য। এই বৃহৎ মন্দিরের চতুঃপার্শ্বে বারাণ্ডা; বারাণ্ডায় আটটি প্রবেশপথ আছে। ইহার নির্মাণকাৰ্য্য অতীব প্রশংসনীয়।