০১:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
নীলগিরিতে চা-বাগান থেকে কংক্রিট: রিয়েল এস্টেটের দখলে পাহাড়, পরিবেশে গভীর সংকট অ্যাইস মঞ্চে আনন্দের লহরী: অলিম্পিক স্বর্ণজয়ী অ্যালিসা লিউয়ের দারুন নৃত্য ভাষা শিক্ষার পরিবর্তে আঞ্চলিক বিশেষজ্ঞ বাড়ানোর পথে চায়না রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ চার বছরে: প্রাণহানি, দখল ও সহায়তার হিসাব ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে নির্বাচনে নামবেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন পেপু  বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা পুনঃতদন্ত: নতুন কমিশন গঠন করবে সরকার ঢাকা চায় সম্মানজনক সমাধান ও সকলের সঙ্গে পারস্পরিক লাভজনক সম্পর্ক উচ্চ সুদ, জোরপূর্বক অর্থ আদায়, জ্বালানি সংকট অর্থনীতির জন্য ‘আত্মঘাতি’: ডিসিসিআই সভাপতি জরুরি ভিত্তিতে ২৭০১ পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-১৭৪)

  • Sarakhon Report
  • ১১:০০:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ অক্টোবর ২০২৪
  • 115

শ্রী নিখিলনাথ রায়

প্রথমতঃ তিনি মাসিক ৮০০০ টাকা বৃত্তি পাইতেন; পরে উহা কমিতে কমিতে ১০০০ টাকায় পরিণত হয়। যিনি নিজে লক্ষাধিক মুদ্রার সম্পত্তি দেবসেবায় নিদ্দেশ করিয়াছিলেন, তিনি যে কিজন্য গবর্ণমেন্টের নিকট বৃত্তিপ্রার্থিনী হইলেন, ইহা নিতান্ত রহস্তময় সন্দেহ নাই। দেবতার জন্ম যে সম্পত্তি অর্পিত হইয়াছে, তাহার দ্বারা তিনি আত্মোদর পূরণের পক্ষপাতিনী ছিলেন না, ইহা ব্যতীত আর কি বলা যাইতে পারে? এইরূপে কঠোর ব্রহ্মচর্য্য অবলম্বন পূর্ব্বক দেবসেবায়, ব্রাহ্মণসেবায়, ও দীনপ্রতিপালনে আপনার জীবনকে উৎসর্গীকৃত করিয়া রাণী ভবানী ৭৯ বৎসর বয়সে বড়নগরে ভাগীরথীতীরে বিশ্বজননী ভবানীসহ চিরসম্মিলিত হন।

যিনি হিন্দুবিধবার অত্যুচ্চ আদর্শ দেখাইয়া, স্বীয় পবিত্র নামকে প্রাতঃস্মরণীয় করিয়া গিয়াছেন, তাঁহার সেই আদর্শ দিন’ ‘দিন বঙ্গভূমি হইতে লয় পাইতে বসিয়াছে। বঙ্গদেশে কত রাণী কত মহারাণী জন্মগ্রহণ করিয়াছেন, কিন্তু রাণী ভবানীর ন্যায় এমন সনাতন আদর্শ আর কখনও শুনিতে বা দেখিতে পাওয়া গেল না। বর্তমান সময়ে একজনমাত্র তাঁহার আদর্শ চরিত্রের অনুকরণে আপনার পবিত্র নাম প্রচার করিয়া গিয়াছেন। তাঁহার নাম মহারাণী শরৎসুন্দরী। সেই দ্বিতীয়া ভবানীর পবিত্র চরিত্র কিছুদিনের জন্য।

বঙ্গভূমিতে হিন্দুবিধবা-নামে এক শিব প্রতিষ্ঠা করিয়াছিলেন। এইরূপ কথিত আছে যে, উত্তর ভবানীশ্বর মন্দিরই এক সময়েই নিম্মিত হয়। বড়নগরের ভবানীশ্বর-মন্দিরে যে শিলালিপি ছিল, তাহার অন্তর্ধান ঘটিয়াছে; সুতরাং কোন অব্দে তাহা নির্মিত হয়, বলিতে পারা যায় না। কাশীর ভবানীশ্বর মন্দিরে এইরূপ লিখিত আছে:-

“বাণব্যাহৃতিরাগেন্দুসমিতে শকবৎসরে।
নিবাসনগরে শ্রীমদ্বিশ্বনাথন্ত্য সন্নিধৌ॥
ধরামরেন্দ্রবারেন্দ্রগৌড়ভূমীন্দ্রভামিনী।
নির্ঘুমে প্রভবানী ঐভবানীশ্বরমন্দিরম্ উক্ত শ্লোক হইতে কাশীর ভবানীশ্বরমন্দিরের নির্মাণকাল : ২৭৫ শাকাব্দ হইতেছে। যদি একসময়ে উভয় ভবানীশ্বর মন্দিরের নির্মাণ: হইয়া থাকে, তাহা হইলে বড়নগরস্থ ভবানীশ্বর-মন্দিরের নির্মাণাব্দও ১৬৭৫ শক হয়। খোদিত শিলাখণ্ড না থাকায়, ইহার প্রকৃত সময়- নির্ণয় করা দুঃসাধ্য। এই বৃহৎ মন্দিরের চতুঃপার্শ্বে বারাণ্ডা; বারাণ্ডায় আটটি প্রবেশপথ আছে। ইহার নির্মাণকাৰ্য্য অতীব প্রশংসনীয়।
জনপ্রিয় সংবাদ

নীলগিরিতে চা-বাগান থেকে কংক্রিট: রিয়েল এস্টেটের দখলে পাহাড়, পরিবেশে গভীর সংকট

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-১৭৪)

১১:০০:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ অক্টোবর ২০২৪

শ্রী নিখিলনাথ রায়

প্রথমতঃ তিনি মাসিক ৮০০০ টাকা বৃত্তি পাইতেন; পরে উহা কমিতে কমিতে ১০০০ টাকায় পরিণত হয়। যিনি নিজে লক্ষাধিক মুদ্রার সম্পত্তি দেবসেবায় নিদ্দেশ করিয়াছিলেন, তিনি যে কিজন্য গবর্ণমেন্টের নিকট বৃত্তিপ্রার্থিনী হইলেন, ইহা নিতান্ত রহস্তময় সন্দেহ নাই। দেবতার জন্ম যে সম্পত্তি অর্পিত হইয়াছে, তাহার দ্বারা তিনি আত্মোদর পূরণের পক্ষপাতিনী ছিলেন না, ইহা ব্যতীত আর কি বলা যাইতে পারে? এইরূপে কঠোর ব্রহ্মচর্য্য অবলম্বন পূর্ব্বক দেবসেবায়, ব্রাহ্মণসেবায়, ও দীনপ্রতিপালনে আপনার জীবনকে উৎসর্গীকৃত করিয়া রাণী ভবানী ৭৯ বৎসর বয়সে বড়নগরে ভাগীরথীতীরে বিশ্বজননী ভবানীসহ চিরসম্মিলিত হন।

যিনি হিন্দুবিধবার অত্যুচ্চ আদর্শ দেখাইয়া, স্বীয় পবিত্র নামকে প্রাতঃস্মরণীয় করিয়া গিয়াছেন, তাঁহার সেই আদর্শ দিন’ ‘দিন বঙ্গভূমি হইতে লয় পাইতে বসিয়াছে। বঙ্গদেশে কত রাণী কত মহারাণী জন্মগ্রহণ করিয়াছেন, কিন্তু রাণী ভবানীর ন্যায় এমন সনাতন আদর্শ আর কখনও শুনিতে বা দেখিতে পাওয়া গেল না। বর্তমান সময়ে একজনমাত্র তাঁহার আদর্শ চরিত্রের অনুকরণে আপনার পবিত্র নাম প্রচার করিয়া গিয়াছেন। তাঁহার নাম মহারাণী শরৎসুন্দরী। সেই দ্বিতীয়া ভবানীর পবিত্র চরিত্র কিছুদিনের জন্য।

বঙ্গভূমিতে হিন্দুবিধবা-নামে এক শিব প্রতিষ্ঠা করিয়াছিলেন। এইরূপ কথিত আছে যে, উত্তর ভবানীশ্বর মন্দিরই এক সময়েই নিম্মিত হয়। বড়নগরের ভবানীশ্বর-মন্দিরে যে শিলালিপি ছিল, তাহার অন্তর্ধান ঘটিয়াছে; সুতরাং কোন অব্দে তাহা নির্মিত হয়, বলিতে পারা যায় না। কাশীর ভবানীশ্বর মন্দিরে এইরূপ লিখিত আছে:-

“বাণব্যাহৃতিরাগেন্দুসমিতে শকবৎসরে।
নিবাসনগরে শ্রীমদ্বিশ্বনাথন্ত্য সন্নিধৌ॥
ধরামরেন্দ্রবারেন্দ্রগৌড়ভূমীন্দ্রভামিনী।
নির্ঘুমে প্রভবানী ঐভবানীশ্বরমন্দিরম্ উক্ত শ্লোক হইতে কাশীর ভবানীশ্বরমন্দিরের নির্মাণকাল : ২৭৫ শাকাব্দ হইতেছে। যদি একসময়ে উভয় ভবানীশ্বর মন্দিরের নির্মাণ: হইয়া থাকে, তাহা হইলে বড়নগরস্থ ভবানীশ্বর-মন্দিরের নির্মাণাব্দও ১৬৭৫ শক হয়। খোদিত শিলাখণ্ড না থাকায়, ইহার প্রকৃত সময়- নির্ণয় করা দুঃসাধ্য। এই বৃহৎ মন্দিরের চতুঃপার্শ্বে বারাণ্ডা; বারাণ্ডায় আটটি প্রবেশপথ আছে। ইহার নির্মাণকাৰ্য্য অতীব প্রশংসনীয়।