০২:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
এশীয় ক্রিকেট কাউন্সিলে পাকিস্তানের বড় জয়, ভারতকে হারিয়ে তিন পদই দখলে সীমান্তে উত্তেজনা কমাতে ভারত-চীন বৈঠক, বেইজিং যাচ্ছেন অজিত ডোভাল বিজেপির ‘জেন জি’ প্রচারে কটাক্ষ, ‘ভাইরাস-ককরোচ’ মন্তব্য টেনে নিশানা সৌরভ দাসের ঝিনাইদহে ২০০ শিশুর চিকিৎসায় হিমশিম হাসপাতাল, লোডশেডিংয়ে দুর্ভোগ চরম ঢাকার কূটনৈতিক জোনে নিরাপত্তা জোরদার, দূতাবাসে অর্থ দাবির ই-মেইল ডেঙ্গুতে আরও ৫ মৃত্যু, চলতি বছরে প্রাণহানি বেড়ে ৮২ চুয়াডাঙ্গায় প্রণোদনার ৫৪ বস্তা সার গায়েব, স্বাক্ষর নিয়েও সার পেলেন না কৃষকরা গ্যাস সংকটে ছয় মাসের জন্য কারখানা বন্ধ করল ফু-ওয়াং ফুডস গ্যাসের তীব্র সংকটে রাজধানীতে গাড়ির দীর্ঘ সারি, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় চালকেরা ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে নতুন চার্জ, বাড়বে বাংলাদেশের খরচ

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-১৭৪)

  • Sarakhon Report
  • ১১:০০:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ অক্টোবর ২০২৪
  • 155

শ্রী নিখিলনাথ রায়

প্রথমতঃ তিনি মাসিক ৮০০০ টাকা বৃত্তি পাইতেন; পরে উহা কমিতে কমিতে ১০০০ টাকায় পরিণত হয়। যিনি নিজে লক্ষাধিক মুদ্রার সম্পত্তি দেবসেবায় নিদ্দেশ করিয়াছিলেন, তিনি যে কিজন্য গবর্ণমেন্টের নিকট বৃত্তিপ্রার্থিনী হইলেন, ইহা নিতান্ত রহস্তময় সন্দেহ নাই। দেবতার জন্ম যে সম্পত্তি অর্পিত হইয়াছে, তাহার দ্বারা তিনি আত্মোদর পূরণের পক্ষপাতিনী ছিলেন না, ইহা ব্যতীত আর কি বলা যাইতে পারে? এইরূপে কঠোর ব্রহ্মচর্য্য অবলম্বন পূর্ব্বক দেবসেবায়, ব্রাহ্মণসেবায়, ও দীনপ্রতিপালনে আপনার জীবনকে উৎসর্গীকৃত করিয়া রাণী ভবানী ৭৯ বৎসর বয়সে বড়নগরে ভাগীরথীতীরে বিশ্বজননী ভবানীসহ চিরসম্মিলিত হন।

যিনি হিন্দুবিধবার অত্যুচ্চ আদর্শ দেখাইয়া, স্বীয় পবিত্র নামকে প্রাতঃস্মরণীয় করিয়া গিয়াছেন, তাঁহার সেই আদর্শ দিন’ ‘দিন বঙ্গভূমি হইতে লয় পাইতে বসিয়াছে। বঙ্গদেশে কত রাণী কত মহারাণী জন্মগ্রহণ করিয়াছেন, কিন্তু রাণী ভবানীর ন্যায় এমন সনাতন আদর্শ আর কখনও শুনিতে বা দেখিতে পাওয়া গেল না। বর্তমান সময়ে একজনমাত্র তাঁহার আদর্শ চরিত্রের অনুকরণে আপনার পবিত্র নাম প্রচার করিয়া গিয়াছেন। তাঁহার নাম মহারাণী শরৎসুন্দরী। সেই দ্বিতীয়া ভবানীর পবিত্র চরিত্র কিছুদিনের জন্য।

বঙ্গভূমিতে হিন্দুবিধবা-নামে এক শিব প্রতিষ্ঠা করিয়াছিলেন। এইরূপ কথিত আছে যে, উত্তর ভবানীশ্বর মন্দিরই এক সময়েই নিম্মিত হয়। বড়নগরের ভবানীশ্বর-মন্দিরে যে শিলালিপি ছিল, তাহার অন্তর্ধান ঘটিয়াছে; সুতরাং কোন অব্দে তাহা নির্মিত হয়, বলিতে পারা যায় না। কাশীর ভবানীশ্বর মন্দিরে এইরূপ লিখিত আছে:-

“বাণব্যাহৃতিরাগেন্দুসমিতে শকবৎসরে।
নিবাসনগরে শ্রীমদ্বিশ্বনাথন্ত্য সন্নিধৌ॥
ধরামরেন্দ্রবারেন্দ্রগৌড়ভূমীন্দ্রভামিনী।
নির্ঘুমে প্রভবানী ঐভবানীশ্বরমন্দিরম্ উক্ত শ্লোক হইতে কাশীর ভবানীশ্বরমন্দিরের নির্মাণকাল : ২৭৫ শাকাব্দ হইতেছে। যদি একসময়ে উভয় ভবানীশ্বর মন্দিরের নির্মাণ: হইয়া থাকে, তাহা হইলে বড়নগরস্থ ভবানীশ্বর-মন্দিরের নির্মাণাব্দও ১৬৭৫ শক হয়। খোদিত শিলাখণ্ড না থাকায়, ইহার প্রকৃত সময়- নির্ণয় করা দুঃসাধ্য। এই বৃহৎ মন্দিরের চতুঃপার্শ্বে বারাণ্ডা; বারাণ্ডায় আটটি প্রবেশপথ আছে। ইহার নির্মাণকাৰ্য্য অতীব প্রশংসনীয়।
জনপ্রিয় সংবাদ

এশীয় ক্রিকেট কাউন্সিলে পাকিস্তানের বড় জয়, ভারতকে হারিয়ে তিন পদই দখলে

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-১৭৪)

১১:০০:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ অক্টোবর ২০২৪

শ্রী নিখিলনাথ রায়

প্রথমতঃ তিনি মাসিক ৮০০০ টাকা বৃত্তি পাইতেন; পরে উহা কমিতে কমিতে ১০০০ টাকায় পরিণত হয়। যিনি নিজে লক্ষাধিক মুদ্রার সম্পত্তি দেবসেবায় নিদ্দেশ করিয়াছিলেন, তিনি যে কিজন্য গবর্ণমেন্টের নিকট বৃত্তিপ্রার্থিনী হইলেন, ইহা নিতান্ত রহস্তময় সন্দেহ নাই। দেবতার জন্ম যে সম্পত্তি অর্পিত হইয়াছে, তাহার দ্বারা তিনি আত্মোদর পূরণের পক্ষপাতিনী ছিলেন না, ইহা ব্যতীত আর কি বলা যাইতে পারে? এইরূপে কঠোর ব্রহ্মচর্য্য অবলম্বন পূর্ব্বক দেবসেবায়, ব্রাহ্মণসেবায়, ও দীনপ্রতিপালনে আপনার জীবনকে উৎসর্গীকৃত করিয়া রাণী ভবানী ৭৯ বৎসর বয়সে বড়নগরে ভাগীরথীতীরে বিশ্বজননী ভবানীসহ চিরসম্মিলিত হন।

যিনি হিন্দুবিধবার অত্যুচ্চ আদর্শ দেখাইয়া, স্বীয় পবিত্র নামকে প্রাতঃস্মরণীয় করিয়া গিয়াছেন, তাঁহার সেই আদর্শ দিন’ ‘দিন বঙ্গভূমি হইতে লয় পাইতে বসিয়াছে। বঙ্গদেশে কত রাণী কত মহারাণী জন্মগ্রহণ করিয়াছেন, কিন্তু রাণী ভবানীর ন্যায় এমন সনাতন আদর্শ আর কখনও শুনিতে বা দেখিতে পাওয়া গেল না। বর্তমান সময়ে একজনমাত্র তাঁহার আদর্শ চরিত্রের অনুকরণে আপনার পবিত্র নাম প্রচার করিয়া গিয়াছেন। তাঁহার নাম মহারাণী শরৎসুন্দরী। সেই দ্বিতীয়া ভবানীর পবিত্র চরিত্র কিছুদিনের জন্য।

বঙ্গভূমিতে হিন্দুবিধবা-নামে এক শিব প্রতিষ্ঠা করিয়াছিলেন। এইরূপ কথিত আছে যে, উত্তর ভবানীশ্বর মন্দিরই এক সময়েই নিম্মিত হয়। বড়নগরের ভবানীশ্বর-মন্দিরে যে শিলালিপি ছিল, তাহার অন্তর্ধান ঘটিয়াছে; সুতরাং কোন অব্দে তাহা নির্মিত হয়, বলিতে পারা যায় না। কাশীর ভবানীশ্বর মন্দিরে এইরূপ লিখিত আছে:-

“বাণব্যাহৃতিরাগেন্দুসমিতে শকবৎসরে।
নিবাসনগরে শ্রীমদ্বিশ্বনাথন্ত্য সন্নিধৌ॥
ধরামরেন্দ্রবারেন্দ্রগৌড়ভূমীন্দ্রভামিনী।
নির্ঘুমে প্রভবানী ঐভবানীশ্বরমন্দিরম্ উক্ত শ্লোক হইতে কাশীর ভবানীশ্বরমন্দিরের নির্মাণকাল : ২৭৫ শাকাব্দ হইতেছে। যদি একসময়ে উভয় ভবানীশ্বর মন্দিরের নির্মাণ: হইয়া থাকে, তাহা হইলে বড়নগরস্থ ভবানীশ্বর-মন্দিরের নির্মাণাব্দও ১৬৭৫ শক হয়। খোদিত শিলাখণ্ড না থাকায়, ইহার প্রকৃত সময়- নির্ণয় করা দুঃসাধ্য। এই বৃহৎ মন্দিরের চতুঃপার্শ্বে বারাণ্ডা; বারাণ্ডায় আটটি প্রবেশপথ আছে। ইহার নির্মাণকাৰ্য্য অতীব প্রশংসনীয়।