০৫:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
শিশু নির্যাতনের তথ্য গোপন নাকি আইনের বাধ্যবাধকতা? ধর্মীয় স্বীকারোক্তি নিয়ে নতুন বিতর্ক নতুন সহযোগিতার দর্শন: বিভক্ত বিশ্বে টিকে থাকার একমাত্র পথ বিলুপ্তির দ্বার থেকে ফিরে সোনালি বানরের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন হরিয়ানায় এস আই আর, ফরম না দিলে বাদ পড়তে পারে নাম প্রবীণদের খাবার পৌঁছে দেওয়ার সেবায় সংকট, অপেক্ষার তালিকায় লাখো মানুষ যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনে চিকিৎসা শিক্ষার নতুন দিগন্ত, গড়ে উঠছে ২৫০ শয্যার আধুনিক শিক্ষণ হাসপাতাল আমেরিকার উপশহরে বয়স্কদের আধিপত্য, বদলে যাচ্ছে জনসংখ্যা ও আবাসনের চিত্র বিশ্বজুড়ে স্থানীয় কনটেন্টের জয়জয়কার, বদলে যাচ্ছে বিনোদনের মানচিত্র বিশ্বজুড়ে বাড়ছে স্থানীয় কনটেন্টের জনপ্রিয়তা, চাপে বৈশ্বিক বিনোদন আধিপত্য এশিয়ায় ডিম উৎপাদনের উত্থান, বাড়ছে প্রাণিকল্যাণ নিয়ে বিতর্ক

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-৫৩)

  • Sarakhon Report
  • ১২:০০:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৪
  • 102
শশাঙ্ক মণ্ডল
 লবণ

তৃতীয় অধ্যায়

প্রায়ই অসংখ্য চোরাই নৌকা বে-আইনি লবণসহ নদীতে ধরা পড়ত। কোম্পানীর রাজস্ব যাতে কেউ ফাঁকি না দিতে পারে এর জন্য সল্ট দারোগা সর্বদা খোঁজখবর নিত। গোয়েন্দা নিয়োগ করা হত দেশের মধ্যে কোথায় চাষিরা বেআইনি ভাবে লবণ তৈরি করছে তার খোঁজ নেবার জন্য। কোম্পানির নিয়োজিত মালঙ্গীরা ছাড়া কেউ লবণ তৈরি করতে পারত না আর সরকারি ডিলার ছাড়া কেউ লবণ বিক্রয় করতে পারত না।
সুন্দরবনের ভূমি লবণাক্ত- অতি সহজে এখানে লবণ তৈরি করা যায়। প্রজারা তাদের প্রয়োজনীয় লবণটুকু তৈরি করতে পারবে না এটা সহজে তারা মেনে নিতে পারেনি। প্রায়ই চাষিরা বে-আইনিভাবে লবণ তৈরি করত। প্রজাদের এসব বেআইনি কাজের জন্য জমিদারদের শাস্তি পেতে হত। লবণের জন্য ‘নজয়েস’ আইন করা হল। গোপনীয়ভাবে লবণ দারোগারা পুলিশের দারোগার সাহায্যক্রমে সেই লবণ ধরিবেক এবং সেই বিষয়ে রাজবিচারে দোষী সাব্যস্ত হইলে জমিদারের ৫০০ টাকা দণ্ড হইবেক।
লবণ দারোগারা সেই লবণ ধৃতকরণের জন্য পারিতোষিক পাইবেন। – সংবাদ প্রভাকরের সম্পাদকীয় ৩০.৩.১৮৩১ এজেন্সির সুপাররা প্রায়ই তদন্তে বের হতেন তাঁর এলাকায় বেআইনিভাবে লবণ তৈরি হচ্ছে কিনা এবং ডিলাররা ঠিকমত মাল বিক্রয় করছে কিনা তা জানার জন্য। বাগুন্ডির সুপার ৭ই নভেম্বর ১৮৪৮ খ্রীষ্টাব্দে তাঁর Tour-diary তে লিখছেন ‘I examined, I believe, all these aurangs (Taffals) on the tide Rangabelia Gosaba Suvendukhali, Pathankhali and Durgamandap and saw nothing calculated to lead me to suppose illicit manufacture was carried on at either of these places or its immediate vicinity.’
অনেকসময় সুন্দরবনের জমিদাররা নিজেদের এলাকায় বসবাসে প্রজাদের উৎসাহিত এবং আকৃষ্ট করার জন্য লবণ তৈরির ব্যাপারে প্রায়ই উৎসাহ দিত। লবণ চৌকিগুলির সুপারের পক্ষ থেকে থানার দারোগাদের প্রায়ই নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে চোরাই লবণ উদ্ধার করার সময় তাঁর সঙ্গে থাকার জন্য। অনেক সময় থানার দারোগার সাহায্য ছাড়াই এঁদের গৃহস্থের বাড়িতে ঢুকে লবণ উদ্ধার করতে দেখা যাচ্ছে।
এসব অফিসাররা সে যুগে অত্যন্ত ক্ষমতাবান ছিলেন। অতীতে যশোরে হেঙ্কেল সাহেবের সঙ্গে সল্ট এজেন্ট ইস্ট এর মনোমালিন্যের খবর আমরা জানি, সল্ট এজেন্টের অত্যাচার এর ব্যাপারে হেঙ্কেল শুধু প্রতিবাদ করেননি-ইস্টএর পিওন ও কর্মচারীদের তিনি বন্দি করেছিলেন। ১৮৪৫ খ্রীষ্টাব্দে লক্ষ করা যাচ্ছে বারাসতের জয়েন্ট ম্যাজিস্ট্রেট H. Magte বাগুন্ডীর লবণ চৌকির সুপারকে নির্দেশ দিচ্ছেন- থানার দারোগাদের ওপর হুকুম না দেবার জন্য কারণ থানার দারোগারা তার অধীনস্থ কর্মচারী নন।
জনপ্রিয় সংবাদ

শিশু নির্যাতনের তথ্য গোপন নাকি আইনের বাধ্যবাধকতা? ধর্মীয় স্বীকারোক্তি নিয়ে নতুন বিতর্ক

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-৫৩)

১২:০০:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৪
শশাঙ্ক মণ্ডল
 লবণ

তৃতীয় অধ্যায়

প্রায়ই অসংখ্য চোরাই নৌকা বে-আইনি লবণসহ নদীতে ধরা পড়ত। কোম্পানীর রাজস্ব যাতে কেউ ফাঁকি না দিতে পারে এর জন্য সল্ট দারোগা সর্বদা খোঁজখবর নিত। গোয়েন্দা নিয়োগ করা হত দেশের মধ্যে কোথায় চাষিরা বেআইনি ভাবে লবণ তৈরি করছে তার খোঁজ নেবার জন্য। কোম্পানির নিয়োজিত মালঙ্গীরা ছাড়া কেউ লবণ তৈরি করতে পারত না আর সরকারি ডিলার ছাড়া কেউ লবণ বিক্রয় করতে পারত না।
সুন্দরবনের ভূমি লবণাক্ত- অতি সহজে এখানে লবণ তৈরি করা যায়। প্রজারা তাদের প্রয়োজনীয় লবণটুকু তৈরি করতে পারবে না এটা সহজে তারা মেনে নিতে পারেনি। প্রায়ই চাষিরা বে-আইনিভাবে লবণ তৈরি করত। প্রজাদের এসব বেআইনি কাজের জন্য জমিদারদের শাস্তি পেতে হত। লবণের জন্য ‘নজয়েস’ আইন করা হল। গোপনীয়ভাবে লবণ দারোগারা পুলিশের দারোগার সাহায্যক্রমে সেই লবণ ধরিবেক এবং সেই বিষয়ে রাজবিচারে দোষী সাব্যস্ত হইলে জমিদারের ৫০০ টাকা দণ্ড হইবেক।
লবণ দারোগারা সেই লবণ ধৃতকরণের জন্য পারিতোষিক পাইবেন। – সংবাদ প্রভাকরের সম্পাদকীয় ৩০.৩.১৮৩১ এজেন্সির সুপাররা প্রায়ই তদন্তে বের হতেন তাঁর এলাকায় বেআইনিভাবে লবণ তৈরি হচ্ছে কিনা এবং ডিলাররা ঠিকমত মাল বিক্রয় করছে কিনা তা জানার জন্য। বাগুন্ডির সুপার ৭ই নভেম্বর ১৮৪৮ খ্রীষ্টাব্দে তাঁর Tour-diary তে লিখছেন ‘I examined, I believe, all these aurangs (Taffals) on the tide Rangabelia Gosaba Suvendukhali, Pathankhali and Durgamandap and saw nothing calculated to lead me to suppose illicit manufacture was carried on at either of these places or its immediate vicinity.’
অনেকসময় সুন্দরবনের জমিদাররা নিজেদের এলাকায় বসবাসে প্রজাদের উৎসাহিত এবং আকৃষ্ট করার জন্য লবণ তৈরির ব্যাপারে প্রায়ই উৎসাহ দিত। লবণ চৌকিগুলির সুপারের পক্ষ থেকে থানার দারোগাদের প্রায়ই নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে চোরাই লবণ উদ্ধার করার সময় তাঁর সঙ্গে থাকার জন্য। অনেক সময় থানার দারোগার সাহায্য ছাড়াই এঁদের গৃহস্থের বাড়িতে ঢুকে লবণ উদ্ধার করতে দেখা যাচ্ছে।
এসব অফিসাররা সে যুগে অত্যন্ত ক্ষমতাবান ছিলেন। অতীতে যশোরে হেঙ্কেল সাহেবের সঙ্গে সল্ট এজেন্ট ইস্ট এর মনোমালিন্যের খবর আমরা জানি, সল্ট এজেন্টের অত্যাচার এর ব্যাপারে হেঙ্কেল শুধু প্রতিবাদ করেননি-ইস্টএর পিওন ও কর্মচারীদের তিনি বন্দি করেছিলেন। ১৮৪৫ খ্রীষ্টাব্দে লক্ষ করা যাচ্ছে বারাসতের জয়েন্ট ম্যাজিস্ট্রেট H. Magte বাগুন্ডীর লবণ চৌকির সুপারকে নির্দেশ দিচ্ছেন- থানার দারোগাদের ওপর হুকুম না দেবার জন্য কারণ থানার দারোগারা তার অধীনস্থ কর্মচারী নন।