১০:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
বন্ধ বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্র, পুরো উৎপাদন থেমে গেল বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গঠনে বিএনপির সামনে কঠিন পরীক্ষা, বলছে ক্রাইসিস গ্রুপ ইসরায়েলি হামলায় নিহত লেবাননের সাংবাদিক আমাল খলিল, আহত জেইনাব ফারাজ বাংলাদেশের দ্রুত প্রবৃদ্ধিতে জ্বালানির চাহিদা বেড়েছে, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে: এডিবি বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করলেন মুস্তাফিজের পাঁচ উইকেট, শান্তর সেঞ্চুরি ঢাকায় পরীক্ষামূলক ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিং চালুর সিদ্ধান্ত ইরানে নতুন ক্ষমতার সমীকরণ: সর্বোচ্চ নেতার আড়ালে জেনারেলদের দখল লেবানন–ইসরায়েল আলোচনা: শান্তির পথ নাকি জাতীয় আদর্শের সঙ্গে আপস? তীব্র তাপপ্রবাহে ভিক্টোরিয়ার উড়ন্ত শিয়াল বিপর্যয়, শত শত নয় হাজারো প্রাণ বাঁচাল জরুরি অভিযান হরমুজ প্রণালীতে শক্তি প্রদর্শন নিয়ে ইরানের গর্ব

মায়া সভ্যতার ইতিহাস (পর্ব-৩৪)

  • Sarakhon Report
  • ০৬:২৪:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৪
  • 142

সুবীর বন্দ্যোপাধ্যায়

বিদেশি পর্যটকদের আক্রমণ, অত্যাচার সত্ত্বেও মায়াদের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যপূর্ণ জীবনযাত্রা ছিল মোটামুটিভাবে সংরক্ষিত। ইউকাতান গোষ্ঠীভুক্ত মায়াদের পূর্বপুরুষ যেখানে ছিলেন শিকারি, কৃষক, মৎসজীবী সেখানে আজকের প্রজন্মের মায়ারা অনেকটাই মূল ঐতিহ্য থেকে বিচ্যুত। আজকের মায়াদের একটা অংশ শহরাঞ্চলের বিভিন্ন অসংগঠিত ক্ষেত্রে কাজ করেন। কেউ কেউ পর্যটন সক্রান্ত নানা কাজে নিযুক্ত।

তিন লক্ষ ৩৫ হাজার-এর থেকেও বেশি ইউকাতানবাসী ইউকাতেক মায়া ভাষায় কথা বলে এবং এর অনেকেই স্প্যানিশকে দ্বিতীয় ভাষা হিসাবে ব্যবহার করেন। তবে সাধারণভাবে মায়াদের মধ্যে অনেকেই এখনো ঐতিহ্যপূর্ণ সাবেকি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বহন করে চলে। বিশেষ করে মেয়েরা তাদের প্রাক্-কলম্বিয়ান পর্বে টিপা ঐতিহ্য বহন করে যদিও একথা উল্লেখ করা যায় মধ্য আমেরিকার অন্যান্য অঞ্চলের মায়ারা অন্যান্য অংশের জনগোষ্ঠীর সঙ্গে বিশেষ সংস্পর্শে আসে না। কিন্তু পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত মায়ারা বাইরের লোক বা বহিরাগতদের সঙ্গে মেলামেশা করে।

মায়া অঞ্চলের ভারতীয় বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠী মায়াদের পূর্বপুরুষের মত শস্যকেই প্রধান খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করে। এক নজরে মায়াদের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীকে ভাগ করলে দেখা যায় মায়াদের প্রধান গোষ্ঠী হল মায়াআদি (Maya Proper)। মায়াদের এই অংশটির ইউকাতান অঞ্চলে প্রাধান্য ছিল। হুয়াসতেক গোষ্ঠীর মায়াদের বসবাস ছিল উত্তর ভেরাক্রজ অঞ্চলে।

তেনতাল (Tzental) গোষ্ঠীদের প্রধান অঞ্চলটির নাম হল তাবাসকো (Tabasco), চিয়াপাস, কিচে, কাকচিকেল (Cakchiquel) এবং পোকোমান মায়ারা আধিপত্য ছড়িয়েছিল গুয়াতেমালার মালভূমি অঞ্চলে। এদের মধ্যে কেবলমাত্র হুয়াসতেক (Huastec) ছাড়া মায়াদের অন্যান্য গোষ্ঠী একটি দীর্ঘ ভৌগোলিক অঞ্চলে নিজেদের মধ্যে থাকা সংস্কৃতিটি বজায় রেখেছিল। এই মায়া-সংস্কৃতিই হল সবচেয়ে বৈশিষ্ট্যপূর্ণ। নিউ ওয়ালব (New Walob) অঞ্চলের সবচেয়ে প্রশংসিত সংস্কৃতি।

মায়াদের শাসনতান্ত্রিক ব্যবস্থা সম্পর্কে যতখানি জানা যায় তাতে এই পদ্ধতি হল প্রধানত স্তরভিত্তিক সরকার, আজ থেকে খ্রিস্টপূর্ব ৩০০ শতকে অভিজাত এবং বাজা এই সরকারকে পরিচালনা করত। ২০০-৯০০ শতকে এই সরকারি ব্যবস্থা আরো নির্দিষ্ট আকার ধারণ করেছিল। এই শাসনতান্ত্রিক ব্যবস্থা কয়েকটি স্বাধীন রাজ্য নিয়ে গঠিত হয়েছিল। প্রতিটি রাজ্যে ছিল একটি করে গ্রামীণ কৃষি ব্যবস্থার প্রেক্ষাপট।

পাশাপাশি ছিল শহর। শাসনতান্ত্রিক কাঠামোর এই ইমারত আনুমানিক ৯০০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ক্রমশ দুর্বল হতে শুরু করে। দক্ষিণ মায়াদের শহরগুলি ক্রমশ ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। উত্তর মায়াসমাজ তলতেক (Toltec) সমাজের সঙ্গে সংম্পৃক্ত হয়েছিল। ১২০০ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ মায়া-শাসন বা সাম্রাজ্য কার্যত ধ্বংস হতে শুরু করে। এর মধ্যে কিছু অঞ্চল স্প্যানিশ অভিযান পর্যন্ত টিকে থাকার চেষ্টা করেছিল।

(চলবে)

মায়া সভ্যতার ইতিহাস (পর্ব-৩৩)

মায়া সভ্যতার ইতিহাস (পর্ব-৩৩)

জনপ্রিয় সংবাদ

বন্ধ বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্র, পুরো উৎপাদন থেমে গেল

মায়া সভ্যতার ইতিহাস (পর্ব-৩৪)

০৬:২৪:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৪

সুবীর বন্দ্যোপাধ্যায়

বিদেশি পর্যটকদের আক্রমণ, অত্যাচার সত্ত্বেও মায়াদের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যপূর্ণ জীবনযাত্রা ছিল মোটামুটিভাবে সংরক্ষিত। ইউকাতান গোষ্ঠীভুক্ত মায়াদের পূর্বপুরুষ যেখানে ছিলেন শিকারি, কৃষক, মৎসজীবী সেখানে আজকের প্রজন্মের মায়ারা অনেকটাই মূল ঐতিহ্য থেকে বিচ্যুত। আজকের মায়াদের একটা অংশ শহরাঞ্চলের বিভিন্ন অসংগঠিত ক্ষেত্রে কাজ করেন। কেউ কেউ পর্যটন সক্রান্ত নানা কাজে নিযুক্ত।

তিন লক্ষ ৩৫ হাজার-এর থেকেও বেশি ইউকাতানবাসী ইউকাতেক মায়া ভাষায় কথা বলে এবং এর অনেকেই স্প্যানিশকে দ্বিতীয় ভাষা হিসাবে ব্যবহার করেন। তবে সাধারণভাবে মায়াদের মধ্যে অনেকেই এখনো ঐতিহ্যপূর্ণ সাবেকি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বহন করে চলে। বিশেষ করে মেয়েরা তাদের প্রাক্-কলম্বিয়ান পর্বে টিপা ঐতিহ্য বহন করে যদিও একথা উল্লেখ করা যায় মধ্য আমেরিকার অন্যান্য অঞ্চলের মায়ারা অন্যান্য অংশের জনগোষ্ঠীর সঙ্গে বিশেষ সংস্পর্শে আসে না। কিন্তু পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত মায়ারা বাইরের লোক বা বহিরাগতদের সঙ্গে মেলামেশা করে।

মায়া অঞ্চলের ভারতীয় বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠী মায়াদের পূর্বপুরুষের মত শস্যকেই প্রধান খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করে। এক নজরে মায়াদের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীকে ভাগ করলে দেখা যায় মায়াদের প্রধান গোষ্ঠী হল মায়াআদি (Maya Proper)। মায়াদের এই অংশটির ইউকাতান অঞ্চলে প্রাধান্য ছিল। হুয়াসতেক গোষ্ঠীর মায়াদের বসবাস ছিল উত্তর ভেরাক্রজ অঞ্চলে।

তেনতাল (Tzental) গোষ্ঠীদের প্রধান অঞ্চলটির নাম হল তাবাসকো (Tabasco), চিয়াপাস, কিচে, কাকচিকেল (Cakchiquel) এবং পোকোমান মায়ারা আধিপত্য ছড়িয়েছিল গুয়াতেমালার মালভূমি অঞ্চলে। এদের মধ্যে কেবলমাত্র হুয়াসতেক (Huastec) ছাড়া মায়াদের অন্যান্য গোষ্ঠী একটি দীর্ঘ ভৌগোলিক অঞ্চলে নিজেদের মধ্যে থাকা সংস্কৃতিটি বজায় রেখেছিল। এই মায়া-সংস্কৃতিই হল সবচেয়ে বৈশিষ্ট্যপূর্ণ। নিউ ওয়ালব (New Walob) অঞ্চলের সবচেয়ে প্রশংসিত সংস্কৃতি।

মায়াদের শাসনতান্ত্রিক ব্যবস্থা সম্পর্কে যতখানি জানা যায় তাতে এই পদ্ধতি হল প্রধানত স্তরভিত্তিক সরকার, আজ থেকে খ্রিস্টপূর্ব ৩০০ শতকে অভিজাত এবং বাজা এই সরকারকে পরিচালনা করত। ২০০-৯০০ শতকে এই সরকারি ব্যবস্থা আরো নির্দিষ্ট আকার ধারণ করেছিল। এই শাসনতান্ত্রিক ব্যবস্থা কয়েকটি স্বাধীন রাজ্য নিয়ে গঠিত হয়েছিল। প্রতিটি রাজ্যে ছিল একটি করে গ্রামীণ কৃষি ব্যবস্থার প্রেক্ষাপট।

পাশাপাশি ছিল শহর। শাসনতান্ত্রিক কাঠামোর এই ইমারত আনুমানিক ৯০০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ক্রমশ দুর্বল হতে শুরু করে। দক্ষিণ মায়াদের শহরগুলি ক্রমশ ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। উত্তর মায়াসমাজ তলতেক (Toltec) সমাজের সঙ্গে সংম্পৃক্ত হয়েছিল। ১২০০ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ মায়া-শাসন বা সাম্রাজ্য কার্যত ধ্বংস হতে শুরু করে। এর মধ্যে কিছু অঞ্চল স্প্যানিশ অভিযান পর্যন্ত টিকে থাকার চেষ্টা করেছিল।

(চলবে)

মায়া সভ্যতার ইতিহাস (পর্ব-৩৩)

মায়া সভ্যতার ইতিহাস (পর্ব-৩৩)