১১:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
বন্ধ বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্র, পুরো উৎপাদন থেমে গেল বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গঠনে বিএনপির সামনে কঠিন পরীক্ষা, বলছে ক্রাইসিস গ্রুপ ইসরায়েলি হামলায় নিহত লেবাননের সাংবাদিক আমাল খলিল, আহত জেইনাব ফারাজ বাংলাদেশের দ্রুত প্রবৃদ্ধিতে জ্বালানির চাহিদা বেড়েছে, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে: এডিবি বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করলেন মুস্তাফিজের পাঁচ উইকেট, শান্তর সেঞ্চুরি ঢাকায় পরীক্ষামূলক ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিং চালুর সিদ্ধান্ত ইরানে নতুন ক্ষমতার সমীকরণ: সর্বোচ্চ নেতার আড়ালে জেনারেলদের দখল লেবানন–ইসরায়েল আলোচনা: শান্তির পথ নাকি জাতীয় আদর্শের সঙ্গে আপস? তীব্র তাপপ্রবাহে ভিক্টোরিয়ার উড়ন্ত শিয়াল বিপর্যয়, শত শত নয় হাজারো প্রাণ বাঁচাল জরুরি অভিযান হরমুজ প্রণালীতে শক্তি প্রদর্শন নিয়ে ইরানের গর্ব

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-১৮৮)

  • Sarakhon Report
  • ১১:০৩:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০২৪
  • 88

শ্রী নিখিলনাথ রায়

পুত্রের দুরবস্থার কথা শুনিয়া পদ্মনাভ নিজে সমস্ত অর্থ পরিশোধ করিয়া নন্দকুমারকে লাঞ্ছনা হইতে অব্যাহতি প্রদান করেন। নন্দকুমারের শত্রুপক্ষীয়েরা বলিয়া থাকেন, পদ্মনাভ সেই সময়ে নন্দকুমারের প্রতি এতদূর বিরক্ত হইয়াছিলেন যে, তদবধি আর তাঁহার মুখদর্শন করিতেন না। এ কথার কোন মূল্য আছে খলিয়া আমাদের বিশ্বাস হয় না। কারণ যে পদ্মনাভ নিজেই রাজস্ব- বিভাগে কাৰ্য্য করিতেন, তিনি কি জানিতেন না যে, রাজস্ববিভাগের কাৰ্য্য করিতে গেলে, প্রভুর নিকট দেনাপাওনা প্রায়ই ঘটিয়া থাকে। হয়ত অনেক সময়ে তাঁহার নিজের নিকট সরকারী অর্থ পাওনা হইয়াছিল।
পুত্রের নিকট সরকারের অর্থ পাওনা ছিল বলিয়া তিনি পুত্রের মুখবর্শন করিতেন না, ইহা যাঁহাদের ইচ্ছা হই বিশ্বাস করিতে পারেন, আমরা কিন্তু কিছুতেই বিশ্বাস করিতে পারি না। নন্দকুমার কার্য্য হইতে অপসৃত হইয়া, নবাব শা আমেদ জঙ্গের নায়েব হোসেন কুলী খাঁর নিকট কাৰ্য্যপ্রার্থনায় উপস্থিত হন।
রায়- রায়ান নন্দকুমারের প্রতি অসন্তুষ্ট হওয়ায়, তিনি তাঁহার বিরুদ্ধে হোসেন কুলী খাঁকে লিখিয়া পাঠাইলে, হোসেন কুলী খাঁ তাঁহাকে কাৰ্য্য প্রদান করিতে অসম্মত হন। তাহার পর তিনি আলিবর্দী খাঁর প্রধান সেনাপতি মস্তফা খাঁর নিকট প্রায়ই যাতায়াত করিতেন। এই সময়ে মস্তফা খাঁর সহিত আলিবর্দ্দদীর বিবাদের সূচনা হয়। সরকারের নিকট মস্তফা খাঁর সৈন্যদিগের বেতন প্রাপ্য হওয়ায়, নবাব কতকগুলি জমিদারের। নিকট হইতে তাহা আদায় করিয়া লওয়ার জন্য মস্তফা খাঁকে আদেশ দেন।
সৈন্তদিগকে বেতন আদায়ের ভার দিলে কিরূপ ব্যাপার উপস্থিত হইতে পারে, তাহা সাধারণে অনায়াসে বুঝিতে পারেন। জমিদারেরা আপনাদিগের আসন্ন বিপদ দেখিয়া নন্দকুমারের শরণাপন্ন হন এবং তাঁহাকে তাঁহাদের জামীন হইবার জন্য অনুরোধ করেন। নন্দকুমার তাঁহাদিগের উপকার করিতে প্রতিশ্রুত হইয়া মস্তফা খাঁর নিকট তাঁহাদের জামীন হইলেন। মস্তফা খাঁর উদ্দেশ্য।
জনপ্রিয় সংবাদ

বন্ধ বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্র, পুরো উৎপাদন থেমে গেল

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-১৮৮)

১১:০৩:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০২৪

শ্রী নিখিলনাথ রায়

পুত্রের দুরবস্থার কথা শুনিয়া পদ্মনাভ নিজে সমস্ত অর্থ পরিশোধ করিয়া নন্দকুমারকে লাঞ্ছনা হইতে অব্যাহতি প্রদান করেন। নন্দকুমারের শত্রুপক্ষীয়েরা বলিয়া থাকেন, পদ্মনাভ সেই সময়ে নন্দকুমারের প্রতি এতদূর বিরক্ত হইয়াছিলেন যে, তদবধি আর তাঁহার মুখদর্শন করিতেন না। এ কথার কোন মূল্য আছে খলিয়া আমাদের বিশ্বাস হয় না। কারণ যে পদ্মনাভ নিজেই রাজস্ব- বিভাগে কাৰ্য্য করিতেন, তিনি কি জানিতেন না যে, রাজস্ববিভাগের কাৰ্য্য করিতে গেলে, প্রভুর নিকট দেনাপাওনা প্রায়ই ঘটিয়া থাকে। হয়ত অনেক সময়ে তাঁহার নিজের নিকট সরকারী অর্থ পাওনা হইয়াছিল।
পুত্রের নিকট সরকারের অর্থ পাওনা ছিল বলিয়া তিনি পুত্রের মুখবর্শন করিতেন না, ইহা যাঁহাদের ইচ্ছা হই বিশ্বাস করিতে পারেন, আমরা কিন্তু কিছুতেই বিশ্বাস করিতে পারি না। নন্দকুমার কার্য্য হইতে অপসৃত হইয়া, নবাব শা আমেদ জঙ্গের নায়েব হোসেন কুলী খাঁর নিকট কাৰ্য্যপ্রার্থনায় উপস্থিত হন।
রায়- রায়ান নন্দকুমারের প্রতি অসন্তুষ্ট হওয়ায়, তিনি তাঁহার বিরুদ্ধে হোসেন কুলী খাঁকে লিখিয়া পাঠাইলে, হোসেন কুলী খাঁ তাঁহাকে কাৰ্য্য প্রদান করিতে অসম্মত হন। তাহার পর তিনি আলিবর্দী খাঁর প্রধান সেনাপতি মস্তফা খাঁর নিকট প্রায়ই যাতায়াত করিতেন। এই সময়ে মস্তফা খাঁর সহিত আলিবর্দ্দদীর বিবাদের সূচনা হয়। সরকারের নিকট মস্তফা খাঁর সৈন্যদিগের বেতন প্রাপ্য হওয়ায়, নবাব কতকগুলি জমিদারের। নিকট হইতে তাহা আদায় করিয়া লওয়ার জন্য মস্তফা খাঁকে আদেশ দেন।
সৈন্তদিগকে বেতন আদায়ের ভার দিলে কিরূপ ব্যাপার উপস্থিত হইতে পারে, তাহা সাধারণে অনায়াসে বুঝিতে পারেন। জমিদারেরা আপনাদিগের আসন্ন বিপদ দেখিয়া নন্দকুমারের শরণাপন্ন হন এবং তাঁহাকে তাঁহাদের জামীন হইবার জন্য অনুরোধ করেন। নন্দকুমার তাঁহাদিগের উপকার করিতে প্রতিশ্রুত হইয়া মস্তফা খাঁর নিকট তাঁহাদের জামীন হইলেন। মস্তফা খাঁর উদ্দেশ্য।