০৫:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
এআই বনাম মানব মস্তিষ্ক: পরিসরে মিল, নকশায় মৌলিক পার্থক্য লন্ডনে আর্ডম্যান অ্যানিমেশনের জাদু: ওয়ালেস ও গ্রোমিট-এর রহস্যময় জগৎ উন্মোচিত এআই ভিডিও নিয়ে হলিউডে তীব্র বিতর্ক: ব্রাড পিট ও টম ক্রুজের ফাইট আসল সিনেমার মতো দেখাল কি! ফারাহ খান মুগ্ধ রণবীর আলাহবাদিয়ার বাড়ি দেখে: ‘পডকাস্ট করলে অ্যান্টিলিয়া কিনে ফেলা যায়’ নীলগিরিতে চা-বাগান থেকে কংক্রিট: রিয়েল এস্টেটের দখলে পাহাড়, পরিবেশে গভীর সংকট অ্যাইস মঞ্চে আনন্দের লহরী: অলিম্পিক স্বর্ণজয়ী অ্যালিসা লিউয়ের দারুন নৃত্য ভাষা শিক্ষার পরিবর্তে আঞ্চলিক বিশেষজ্ঞ বাড়ানোর পথে চায়না রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ চার বছরে: প্রাণহানি, দখল ও সহায়তার হিসাব ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে নির্বাচনে নামবেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন পেপু 

মায়া সভ্যতার ইতিহাস (পর্ব-৩৭)

  • Sarakhon Report
  • ০৬:০১:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৪
  • 111

সুবীর বন্দ্যোপাধ্যায়

অনেক ক্ষেত্রে গুহার নাম অনুযায়ীই নিকটতম বসতির নামকরণ করা হয়েছে। এমন তথ্যও আছে যা থেকে আমরা জানতে পারি যে তোতজিল (Tzotzil) এবং ইউকাতেক (Yucatec) গোষ্ঠীর মায়ারা নিয়মিতভাবে গুহায় যায় তীর্থ ভ্রমণের মন নিয়ে। তারা বিশ্বাস করে গুহা দর্শন থেকে তীর্থ দর্শনের পুণ্য অর্জন করা যায়। ব্রাডির (Brady) গবেষণা থেকে আমরা আরো জানতে পারি নাজ তিউনিক (Naj Tunich) এবং ক্লাসিক মায়া-সমাজের ছায়াঘেরা গুহার মুখে মরশুম অনুযায়ী ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করা হত। এইসব অনুষ্ঠানের নেতৃত্ব দিত লোকাচার বিশেষজ্ঞ পুরোহিতরা।

অন্যান্য কিছু লোকাচার: মায়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে উল্লেখিত লোকাচার, রীতি ছাড়াও কিছু অন্যান্য লোকাচার বা ধর্মীয় রীতি-অনুষ্ঠানের সন্ধান পাওয়া যায়। এর’ মধ্যে অন্যতম একটি হল বীজ বপন এবং ফসলের চাষ সংক্রান্ত। এর সঙ্গে রয়েছে শিকার ধরা এবং মাছ চাষ। এই ফসল ফলানো, মাছ ধরার সময় মায়ারা অনেক সময় এমন কিছু কাজ করার অনুমতি নেয় যা গাছ বা শস্যের বীজ বপনে সাহায্য করে পরিবেশ রক্ষার অনুকূল আবহাওয়া তৈরি করে এবং আত্মার কাছে প্রার্থনা করে এই কাজ সুষ্ঠুভাবে শেষ হওয়ার জন্য।

মায়ারা একথা অন্যদের বলে যে আত্মা সব সময় বাড়ি তৈরির কাজ বা অন্য কোনো বিশেষ কাজ করলে খুশী হয় এবং সমগ্র কাজের ক্ষেত্রে সুফল দেয়। সবচেয়ে আনন্দের কথা হল আত্মা নাকি প্রায় সব বস্তুর মধ্যেই থাকে। যেমন অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত মুখোশ, সংগীত ও বাজনার নানা ধরনের যন্ত্র ইত্যাদি। এমনকি মায়ারা একথাও মনে করে এবং বিশ্বাস করে যে তাদের প্রতিটি প্রজন্ম পরের প্রজন্মকে এই বার্তাই পৌঁছে দেয় যে আত্মার জন্যই এই প্রজন্ম গড়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে। এবং এরজন্য আত্মার পূজো-অর্চনা করতে হবে। এই পূজা-আচার-এর ধরণ হল এরকম।

কিছু বিশেষ ধরনের পবিত্র কাজ করা, নির্দিষ্ট কিছু প্রার্থনা বিশেষ স্বরভঙ্গি দিয়ে উচ্চারণ এবং এই অনুষ্ঠানে বিশেষ কিছু মানুষকে অংশগ্রহণ করানোর ব্যবস্থা করা। এইসব লোকাচার বা রীতি-অনুষ্ঠানের সময়ও নানারকমের হতে পারে। কয়েক মিনিট, কয়েক ঘণ্টা, কয়েক দিন এসবই নির্ভর করবে কী ধরনের লোকাচার পালন করা হচ্ছে। আবার অংশগ্রহণকারীর বহর হতে পারে একটি পরিবার, একটি গোষ্ঠী বা পুরো গ্রামের মানুষ।

পূজার ধরণ হতে পারে গভীর ধ্যান বা দৈহিক সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকা। আবার লোকাচার এরকমও হয় বরণ, পূজা-অর্চনার পর সবাইতে খাদ্য বা মদ জাতীয় কিছু বিতরণ করা হয়। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে প্রাচীন বা ক্লাসিক মায়া যুগেও পূজা, লোকাচার অনুষ্ঠানের সঙ্গে মদ-সুরার একটা সম্পর্ক ছিল। এইসঙ্গে গান যন্ত্রসংগীতও থাকতে পারে। আবার কিছু পুজা-লোকাচার পালনের ঠিক পরেই শুরু হয় শিকার, বীজ বপন বা মাছ ধরার কাজ।

(চলবে)

মায়া সভ্যতার ইতিহাস (পর্ব-৩৬)

মায়া সভ্যতার ইতিহাস (পর্ব-৩৬)

জনপ্রিয় সংবাদ

এআই বনাম মানব মস্তিষ্ক: পরিসরে মিল, নকশায় মৌলিক পার্থক্য

মায়া সভ্যতার ইতিহাস (পর্ব-৩৭)

০৬:০১:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৪

সুবীর বন্দ্যোপাধ্যায়

অনেক ক্ষেত্রে গুহার নাম অনুযায়ীই নিকটতম বসতির নামকরণ করা হয়েছে। এমন তথ্যও আছে যা থেকে আমরা জানতে পারি যে তোতজিল (Tzotzil) এবং ইউকাতেক (Yucatec) গোষ্ঠীর মায়ারা নিয়মিতভাবে গুহায় যায় তীর্থ ভ্রমণের মন নিয়ে। তারা বিশ্বাস করে গুহা দর্শন থেকে তীর্থ দর্শনের পুণ্য অর্জন করা যায়। ব্রাডির (Brady) গবেষণা থেকে আমরা আরো জানতে পারি নাজ তিউনিক (Naj Tunich) এবং ক্লাসিক মায়া-সমাজের ছায়াঘেরা গুহার মুখে মরশুম অনুযায়ী ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করা হত। এইসব অনুষ্ঠানের নেতৃত্ব দিত লোকাচার বিশেষজ্ঞ পুরোহিতরা।

অন্যান্য কিছু লোকাচার: মায়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে উল্লেখিত লোকাচার, রীতি ছাড়াও কিছু অন্যান্য লোকাচার বা ধর্মীয় রীতি-অনুষ্ঠানের সন্ধান পাওয়া যায়। এর’ মধ্যে অন্যতম একটি হল বীজ বপন এবং ফসলের চাষ সংক্রান্ত। এর সঙ্গে রয়েছে শিকার ধরা এবং মাছ চাষ। এই ফসল ফলানো, মাছ ধরার সময় মায়ারা অনেক সময় এমন কিছু কাজ করার অনুমতি নেয় যা গাছ বা শস্যের বীজ বপনে সাহায্য করে পরিবেশ রক্ষার অনুকূল আবহাওয়া তৈরি করে এবং আত্মার কাছে প্রার্থনা করে এই কাজ সুষ্ঠুভাবে শেষ হওয়ার জন্য।

মায়ারা একথা অন্যদের বলে যে আত্মা সব সময় বাড়ি তৈরির কাজ বা অন্য কোনো বিশেষ কাজ করলে খুশী হয় এবং সমগ্র কাজের ক্ষেত্রে সুফল দেয়। সবচেয়ে আনন্দের কথা হল আত্মা নাকি প্রায় সব বস্তুর মধ্যেই থাকে। যেমন অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত মুখোশ, সংগীত ও বাজনার নানা ধরনের যন্ত্র ইত্যাদি। এমনকি মায়ারা একথাও মনে করে এবং বিশ্বাস করে যে তাদের প্রতিটি প্রজন্ম পরের প্রজন্মকে এই বার্তাই পৌঁছে দেয় যে আত্মার জন্যই এই প্রজন্ম গড়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে। এবং এরজন্য আত্মার পূজো-অর্চনা করতে হবে। এই পূজা-আচার-এর ধরণ হল এরকম।

কিছু বিশেষ ধরনের পবিত্র কাজ করা, নির্দিষ্ট কিছু প্রার্থনা বিশেষ স্বরভঙ্গি দিয়ে উচ্চারণ এবং এই অনুষ্ঠানে বিশেষ কিছু মানুষকে অংশগ্রহণ করানোর ব্যবস্থা করা। এইসব লোকাচার বা রীতি-অনুষ্ঠানের সময়ও নানারকমের হতে পারে। কয়েক মিনিট, কয়েক ঘণ্টা, কয়েক দিন এসবই নির্ভর করবে কী ধরনের লোকাচার পালন করা হচ্ছে। আবার অংশগ্রহণকারীর বহর হতে পারে একটি পরিবার, একটি গোষ্ঠী বা পুরো গ্রামের মানুষ।

পূজার ধরণ হতে পারে গভীর ধ্যান বা দৈহিক সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকা। আবার লোকাচার এরকমও হয় বরণ, পূজা-অর্চনার পর সবাইতে খাদ্য বা মদ জাতীয় কিছু বিতরণ করা হয়। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে প্রাচীন বা ক্লাসিক মায়া যুগেও পূজা, লোকাচার অনুষ্ঠানের সঙ্গে মদ-সুরার একটা সম্পর্ক ছিল। এইসঙ্গে গান যন্ত্রসংগীতও থাকতে পারে। আবার কিছু পুজা-লোকাচার পালনের ঠিক পরেই শুরু হয় শিকার, বীজ বপন বা মাছ ধরার কাজ।

(চলবে)

মায়া সভ্যতার ইতিহাস (পর্ব-৩৬)

মায়া সভ্যতার ইতিহাস (পর্ব-৩৬)