০২:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
জৈবপ্রযুক্তির নতুন বিশ্বযুদ্ধে ভারতের সামনে যে ঐতিহাসিক সুযোগ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা স্থগিত , অনিশ্চয়তায় সমঝোতা ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে কুড়িগ্রামের চরে গৃহহীন ৩০ পরিবার, ঝুঁকিতে আরও শতাধিক আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ২৩ জুন ঘিরে সুনির্দিষ্ট হুমকি নেই, বললেন ডিএমপি কমিশনার শ্রমিক শ্রেণির ক্ষোভ, ভাঙা আস্থা এবং ব্রিটিশ রাজনীতির নতুন সন্ধিক্ষণ মার্কিন-ইরান সমঝোতার পরও অশান্ত মধ্যপ্রাচ্য, লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত অন্তত ১৬ হোটেলের চেয়েও ব্যয়বহুল আশ্রয়শিবির! যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসন নিয়ে নতুন বিতর্ক জনাথন ডেভিডের হ্যাটট্রিকে কাতারকে উড়িয়ে কানাডার ঐতিহাসিক ৬-০ জয় মেক্সিকোর ঐতিহাসিক জয়, সবার আগে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে স্বাগতিকরা নতুন সমঝোতার পথে ওয়াশিংটন-তেহরান: কেন কূটনীতির ভাষাই হয়ে উঠেছিল সবচেয়ে বড় বাধা

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-১০৬)

  • Sarakhon Report
  • ১২:০০:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৪
  • 100
শশাঙ্ক মণ্ডল

কৃষি ও কৃষক

চতুর্থ অধ্যায়

বরিশাল জেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে হিন্দু জমিদারদের প্রাধান্য ছিল, চাষিদের তলাকার অংশে মুসলমান কৃষকদের প্রাধান্য ছিল।  কৃষকপ্রজা পার্টির সে যুগে বরিশালের কৃষকদের মধ্যে বিশাল প্রভাব ছিল; তারা ১৯৪০- ৪২ এর দিকে ঋণসালিসি বোর্ডের কাছে হাজার হাজার কৃষকের ঋণ মকুবের ব্যাপারে আবেদন করছেন তা লক্ষ করা গেল। এ সময়ে বাউফল, পটুয়াখালি থানায় যথাক্রমে ৩৩১৩ এবং ১৮৯০টি আবেদনপত্র খতিয়ে দেখছেন ঋণসালিসি বোর্ড তা সরকারি নথিতে লক্ষ করা যাচ্ছে। কৃষকনেতা খন্দকার উকীলউদ্দিন, সুরেন সরকারের নেতৃত্বে বাগেরহাট মহকুমার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের পাশাপাশি বরিশালের লাগোয়া এলাকায় কৃষক আন্দোলন গড়ে তোলার প্রচেষ্টা লক্ষ করা যাচ্ছিল ১৯৪৫ সালের দিকে।

অবশ্য এটা মনে রাখা দরকার বিস্তীর্ণ সুন্দরবনের কৃষকদের মধ্যে তেভাগা আন্দোলন বিশেষ ব্যাপকতা সৃষ্টি করেছিল নির্দিষ্ট কয়েকটি অঞ্চলে। এই আন্দোলন বাংলাদেশের সামগ্রিক কৃষক আন্দোলনে একটা বলিষ্ঠ ছাপ রাখতে পেরেছিল। সরকারের পক্ষ থেকে প্রথমে এই আন্দোলনের তীব্রতা অনুধাবন করতে পারেনি। তা ছাড়া ‘৪৭ এর পট পরিবর্তনের মুখে প্রশাসন থমকে যায় কিন্তু স্বাধীনতা-পরবর্তীকালে তেভাগা আন্দোলন দমনে পুলিশি আক্রমণ উভয় দেশেই তীব্র হয়ে ওঠে।

স্বাধীনতার প্রাকমুহূর্তে সেদিনকার লীগ সরকার তেভাগা আন্দোলনের ভয়ঙ্করতা লক্ষ করে বাধ্য হয়েছিল বর্গাদার বিল পাশ করতে। এর ফলে চাষিদের মনে কিছুটা আশার সৃষ্টি হয়- নতুন সরকার চাষির স্বার্থে কাজ করবে- এ ধরণের মনোভাব সৃষ্টি হয় উভয় দেশে। ইতিমধ্যে ভারতের স্বাধীনতা লাভ এটা বাস্তব হয়ে উঠল। সরকারি কর্তৃপক্ষ কৃষক আন্দোলনের নেতাদের ডাকলেন নতুন পরিস্থিতিকে মেনে নিতে এবং বিভিন্ন মহকুমা শাসকদের পক্ষ থেকে বলা হল আন্দোলনের জন্য চাষিদের যে ক্ষতি হয়েছে সরকার সেজন্য ঋণ দিতে চায় এবং এই ঋণ কৃষক সমিতির নেতাদের সুপারিশের ভিত্তিতে দেওয়া হবে।

কৃষক সমিতির নেতারা বিভিন্ন স্থানে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা সরকারি দপ্তরে পাঠালেন ঋণের জন্য এবং তারই ভিত্তিতে চাষিরা কিছু সরকারি সাহায্য পেল। কৃষকরা লক্ষ করল- জমি বন্ধক ছাড়া সর্ব প্রথম তারা সরকারি ঋণের সুযোগ পেল এবং তা কৃষক সমিতির নেতাদের কথামত। কৃষকদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস জাগল, যুগযুগান্তের ‘হীনমন্যতাবোধ চাষিদের জীবন থেকে কিছুটা অপসারিত হল এবং সে একতাবদ্ধ হলে অনেক কিছু সে করতে পারে এ ধারণা জাগল। আর শিক্ষিত মধ্যবিত্ত বুদ্ধিজীবীরা কৃষিসংস্কারের গুরুত্ব উপলব্ধি করলেন।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

জৈবপ্রযুক্তির নতুন বিশ্বযুদ্ধে ভারতের সামনে যে ঐতিহাসিক সুযোগ

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-১০৬)

১২:০০:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৪
শশাঙ্ক মণ্ডল

কৃষি ও কৃষক

চতুর্থ অধ্যায়

বরিশাল জেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে হিন্দু জমিদারদের প্রাধান্য ছিল, চাষিদের তলাকার অংশে মুসলমান কৃষকদের প্রাধান্য ছিল।  কৃষকপ্রজা পার্টির সে যুগে বরিশালের কৃষকদের মধ্যে বিশাল প্রভাব ছিল; তারা ১৯৪০- ৪২ এর দিকে ঋণসালিসি বোর্ডের কাছে হাজার হাজার কৃষকের ঋণ মকুবের ব্যাপারে আবেদন করছেন তা লক্ষ করা গেল। এ সময়ে বাউফল, পটুয়াখালি থানায় যথাক্রমে ৩৩১৩ এবং ১৮৯০টি আবেদনপত্র খতিয়ে দেখছেন ঋণসালিসি বোর্ড তা সরকারি নথিতে লক্ষ করা যাচ্ছে। কৃষকনেতা খন্দকার উকীলউদ্দিন, সুরেন সরকারের নেতৃত্বে বাগেরহাট মহকুমার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের পাশাপাশি বরিশালের লাগোয়া এলাকায় কৃষক আন্দোলন গড়ে তোলার প্রচেষ্টা লক্ষ করা যাচ্ছিল ১৯৪৫ সালের দিকে।

অবশ্য এটা মনে রাখা দরকার বিস্তীর্ণ সুন্দরবনের কৃষকদের মধ্যে তেভাগা আন্দোলন বিশেষ ব্যাপকতা সৃষ্টি করেছিল নির্দিষ্ট কয়েকটি অঞ্চলে। এই আন্দোলন বাংলাদেশের সামগ্রিক কৃষক আন্দোলনে একটা বলিষ্ঠ ছাপ রাখতে পেরেছিল। সরকারের পক্ষ থেকে প্রথমে এই আন্দোলনের তীব্রতা অনুধাবন করতে পারেনি। তা ছাড়া ‘৪৭ এর পট পরিবর্তনের মুখে প্রশাসন থমকে যায় কিন্তু স্বাধীনতা-পরবর্তীকালে তেভাগা আন্দোলন দমনে পুলিশি আক্রমণ উভয় দেশেই তীব্র হয়ে ওঠে।

স্বাধীনতার প্রাকমুহূর্তে সেদিনকার লীগ সরকার তেভাগা আন্দোলনের ভয়ঙ্করতা লক্ষ করে বাধ্য হয়েছিল বর্গাদার বিল পাশ করতে। এর ফলে চাষিদের মনে কিছুটা আশার সৃষ্টি হয়- নতুন সরকার চাষির স্বার্থে কাজ করবে- এ ধরণের মনোভাব সৃষ্টি হয় উভয় দেশে। ইতিমধ্যে ভারতের স্বাধীনতা লাভ এটা বাস্তব হয়ে উঠল। সরকারি কর্তৃপক্ষ কৃষক আন্দোলনের নেতাদের ডাকলেন নতুন পরিস্থিতিকে মেনে নিতে এবং বিভিন্ন মহকুমা শাসকদের পক্ষ থেকে বলা হল আন্দোলনের জন্য চাষিদের যে ক্ষতি হয়েছে সরকার সেজন্য ঋণ দিতে চায় এবং এই ঋণ কৃষক সমিতির নেতাদের সুপারিশের ভিত্তিতে দেওয়া হবে।

কৃষক সমিতির নেতারা বিভিন্ন স্থানে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা সরকারি দপ্তরে পাঠালেন ঋণের জন্য এবং তারই ভিত্তিতে চাষিরা কিছু সরকারি সাহায্য পেল। কৃষকরা লক্ষ করল- জমি বন্ধক ছাড়া সর্ব প্রথম তারা সরকারি ঋণের সুযোগ পেল এবং তা কৃষক সমিতির নেতাদের কথামত। কৃষকদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস জাগল, যুগযুগান্তের ‘হীনমন্যতাবোধ চাষিদের জীবন থেকে কিছুটা অপসারিত হল এবং সে একতাবদ্ধ হলে অনেক কিছু সে করতে পারে এ ধারণা জাগল। আর শিক্ষিত মধ্যবিত্ত বুদ্ধিজীবীরা কৃষিসংস্কারের গুরুত্ব উপলব্ধি করলেন।