প্রেম, যৌনতা ও রোমান্স নিয়ে শোভা দে-র নতুন ভাবনা
যদি আপনি এতই তরুণ হন যে ডেভিড রিউবেনের ১৯৬৯ সালের বিখ্যাত বই Everything You Always Wanted to Know About Sex but Were Afraid to Ask পড়ে ওঠা হয়নি, এবং কামসূত্রও এখনো হাতে নেওয়া হয়নি, তাহলে শোভা দে-র নতুন বইটি আপনার আগ্রহের হতে পারে। বইটির নাম The Sensual Self: Explorations of Love, Sex & Romance। গত সপ্তাহে লেখিকা তাঁর প্রকাশককে আমাকে একটি কপি পাঠাতে বলেন, এবং আমি কয়েকদিন ধরে সেটি মনোযোগ দিয়ে পড়েছি।
প্রেম ও আনন্দের এক খোলামেলা পাঠ
এই বইটিকে আমি বলব একধরনের নির্দেশিকা—প্রেম করার কৌশল ও তার সূক্ষ্ম আনন্দের দিকনির্দেশনা। কীভাবে করতে হবে, কীভাবে নয়, এবং কীভাবে আনন্দ বাড়ানো যায়—এসব নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে। কিছু অধ্যায় হয়তো পারিবারিক পত্রিকায় প্রকাশের উপযুক্ত নয়, তবে অধিকাংশই নিখাদ আনন্দদায়ক ও মজার পাঠ।
শোভা দে এখানে নারীর প্রতি আচরণ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করেছেন। তিনি লিখেছেন, “নারীদের উচিত নিজেকে মূল্যবান, সম্মানিত ও ভালোবাসায় পূর্ণ মনে করা। পুরুষরা প্রায়ই ধরে নেয়, যে নারী তাদের সঙ্গে শোওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সে যেন তার কৃতজ্ঞতায় মাথা নোয়ানো উপাসক—যেন সে সৌভাগ্যবান, কারণ তাকে নির্বাচিত করা হয়েছে অসংখ্য প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারিয়ে।”

‘সুহাগ রাত’: অতিরঞ্জিত এক ধারণা
উত্তর ভারতে যাকে ‘সুহাগ রাত’ বলা হয়, তা নিয়ে শোভা দে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, “এই রাতটিকে অযথা রোমান্টিক করা হয় এবং এর গুরুত্ব বাড়িয়ে দেখা হয়, অথচ বাস্তবে এটি প্রায়ই এক ভীত, অজ্ঞ তরুণীর জন্য ‘বৈধ যৌনতার’ বলিদান। মেয়েটি যেন এক ফাঁদে আটকানো প্রাণী—পালাতে পারে না, ভয় পেয়ে চিৎকার করতে পারে না, অনেক সময় প্রহারও সহ্য করতে হয়।”
তিনি প্রশ্ন তুলেছেন—স্ত্রীরা কি প্রথম রাতকে ঘৃণা করে? এই প্রশ্নটি বেশিরভাগ পুরুষের মনেই আসে না।
প্রেমের শিল্প ও আকর্ষণের সূক্ষ্ম কৌশল
বইটিতে রয়েছে অসংখ্য আকর্ষণীয় পরামর্শ। যেমন, “অন্তর্বাস খোলা এক সূক্ষ্ম শিল্প,” লিখেছেন শোভা। তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, “কখন এবং কীভাবে ওড়না বা পল্লব সরাতে হবে, তা শেখা যায়… কৌশল হলো, যেন সেটি দুর্ঘটনাবশত মনে হয়। সময়টাই আসল ব্যাপার। তারপর আলতো ভঙ্গিতে সেই পল্লব তুলে আবার কাঁধে ফেলা—এটাই প্রকৃত শিল্প।”
শোভা প্রশ্ন তুলেছেন, আজকের জেনারেশন জেডের মানুষরা কি এখনো এমন সূক্ষ্ম কৌশলে ভালোবাসা প্রকাশ করতে জানে?
ভালোবাসার অগ্রাধিকার কোথায়?
তিনি সমালোচনামূলকভাবে বলেছেন, “অধিকাংশ দম্পতি প্রেমকে একঘেয়ে নিয়মে পরিণত করেছে। গৃহস্থালি ও সামাজিক দায়িত্বের ফাঁকে প্রেমের সময় গুঁজে দেওয়া হয়। অথচ প্রেম হওয়া উচিত জীবনের প্রথম অগ্রাধিকার।”
তিনি আরও লিখেছেন, “আমার বয়সী নারীরা সূক্ষ্মতা, ধৈর্য ও পরিপক্বতাকে ভালোবাসে। এটি শুধু শারীরিক নয়—এ এক মানসিক পরিপূর্ণতার অংশ।”

চুম্বন: অবমূল্যায়িত এক ভালোবাসার কাজ
বইটির একটি সম্পূর্ণ অধ্যায় উৎসর্গ করা হয়েছে চুম্বনকে। তাঁর মতে, “চুম্বন হলো প্রেমের অন্যতম অবমূল্যায়িত প্রকাশভঙ্গি। আমরা প্রায়ই এর সৌন্দর্যকে উপেক্ষা করি। অথচ একটি সঠিক চুম্বনই নিজে থেকেই পূর্ণাঙ্গ প্রেমের প্রকাশ হতে পারে।”
হাত ধরা: এক নিঃশব্দ সম্পর্কের প্রকাশ
শোভা দে মনে করেন, হাত ধরা কেবল একটি সাধারণ অঙ্গভঙ্গি নয়, বরং তা গভীর অন্তরঙ্গতার প্রতীক। তিনি লিখেছেন, “হাত ধরা একটি ঘনিষ্ঠ অভিজ্ঞতা। হাত ধরার অসংখ্য ধরন আছে। যখন দুজন মানুষ একে অপরের আঙুলে আঙুল জড়িয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে হাঁটে, তখন তাদের অনুভূতি প্রকাশে শব্দের প্রয়োজন হয় না।”
তবে আফসোসের বিষয়—ভারতে প্রকাশ্যে হাত ধরা এখনো বিরল দৃশ্য।
খাবার ও যৌনতার গভীর সম্পর্ক
শোভা দে একটি দারুণ পর্যবেক্ষণ করেছেন—“খাবার ও যৌনতা পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। দুটিই জাগায় আনন্দ ও ক্ষুধা। যে মানুষ খাবারে আগ্রহী নয়, সে ভালো প্রেমিকও হতে পারে না। যে মুখে কী দিচ্ছে তা লক্ষ্য করে না, তাকে শয্যাতেও বিশ্বাস করা যায় না।”
লেখক করণ ঠাপার এই অংশে নিজের মন্তব্য যোগ করেছেন, “আমি খাবার ভালোবাসি। চোখ ও জিভ—দুটো দিয়েই আমি খাই!”
সাহসী লেখনীর স্পর্শে শোভা দে
শোভা দে-র লেখার পরিসর বিস্তৃত। তিনি লিখেছেন বিভিন্ন যৌন আচরণ নিয়ে—‘কিঙ্কি’ সম্পর্ক থেকে দলগত অভিজ্ঞতা, ভুয়া অর্গাজম থেকে শুরু করে নারীর শরীরসংক্রান্ত বিষয় পর্যন্ত। প্রতিটি লেখাই তাঁর স্বাক্ষরধর্মী ভঙ্গিতে রচিত—ছোট ছোট বাক্য, সোজাসাপটা মন্তব্য, প্রলুব্ধকর প্রশ্ন এবং তীক্ষ্ণ উপসংহার।
আপনি যদি মনে করেন এই বিষয়গুলো সম্পর্কে আপনার জানার কিছু বাকি নেই—তবুও এই বই আপনাকে নতুন ও বিস্ময়কর অভিজ্ঞতা দেবে।
লেখক: করণ থাপার, একজন খ্যাতিমান লেখক, তার উল্লেখ যোগ্য বই Devil’s Advocate: The Untold Story
করণ থাপার 



















