০৯:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬
অনলাইন শিক্ষার নতুন যুগ: সংকটেও স্বস্তি, আগের বিশৃঙ্খলা এখন নিয়ন্ত্রিত বাস্তবতা জাপান সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত, তাইওয়ান কেবল অজুহাত প্রস্তুত করছে ৯২% মানুষ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অনলাইনে সংরক্ষণ করছে, সাইবার নিরাপত্তায় বাড়ছে সতর্কতা ওজন কমানোর বিজ্ঞাপনের আড়ালে ওষুধের প্রচার? নতুন বিতর্কে স্বাস্থ্যখাত সংরক্ষিত বন নয়, কৃষিজমিই ভরসা—বন্য বিড়াল রক্ষায় নতুন গবেষণার বার্তা যুদ্ধের প্রভাবে আবার শক্তিশালী ডলার, নিরাপদ বিনিয়োগে ফিরে আসছে হলিউড অভিনেত্রী মেরি বেথ হার্ট আর নেই, আলঝেইমারসে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ৭৯ বছর বয়সে মৃত্যু চীনের টেলিকম খাতে বিনিয়োগ কমছে, চাপে জেডটিই মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে শ্রীলঙ্কায় বিদ্যুতের দাম প্রায় ৪০% বৃদ্ধি, আরও বাড়ার আশঙ্কা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ধাক্কায় যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম ৪ ডলার ছাড়াল, চাপে ভোক্তা অর্থনীতি

টলস্টয়ের স্মৃতি (পর্ব- ১ ১)

  • Sarakhon Report
  • ০৩:৫০:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৪
  • 101

ম্যাকসিম গোর্কী

একুশ

তিনি সাইপ্রেস গাছের ছায়ায় একটি পাথরের বেঞ্চিতে বসেছিলেন। তাঁকে অত্যন্ত ক্ষীণ, ক্ষুদ্র, এবং বৃদ্ধ দেখাচ্ছে। তবু যেন তাঁকে ইহুদিদের দেবতার মতো লাগে। তিনি ঈষৎ ক্লান্ত হয়ে পাখীর গানের সংগে সুর মিলিয়ে শিস দিয়ে নিজেকে একটু হালকা করার চেষ্ট। করছেন। ঘন পাতার অন্ধকারে পাখী ডাকছে: তিনি তাঁর তীক্ষ্ণ ক্ষুদ্র চক্ষু দু’টোকে পাকিয়ে একবার উপরের দিকে উঁকি দিয়ে দেখলেন, তারপর ছোটো ছেলের মতো ঠোঁট দু’টোকে কুঁচকে অপটুভাবে শিস দিতে লাগলেন।

“ঐ একরত্তি প্রাণী, কিন্তু কী ভীষণ রাগ। ভয়ানক চটে গেছে, কি পাখী বলোতো?”

‘স্যাফিঞ্চ’। আমি তাঁকে স্যাফিঞ্চ পাখীর গুণাগুণের কথা বললাম। বললাম এর চরিত্রগত ঈর্ষার দিকটা।

তিনি বললেন “সারা জীবন ধরে একটা মাত্র গান গাইলো। তবু কিনা তার হিংসে। অথচ মানুষ, যার হৃদয়ে হাজারো গান রয়েছে, সে যখন হিংসে করে, তখন হয় তার নিন্দে। এ কি উচিত?” তিনি চিন্তাজড়িত সুরে কথাগুলি বললেন, যেন নিজেকে প্রশ্ন করছেন।

“এমন অনেক মুহূর্ত আসে পুরুষের, যখন সে মেয়েদের এমন অনেক কথাই বলে ফেলে, যেগুলো মেয়েদের জানা উচিত নয়। পুরুষেরা বলে আর ভুলে যায়, কিন্তু মেয়েরা ভোলে না। সম্ভবত ঈর্ষা আসে নিজের আত্মাকে অধঃপতিত করার, -হীন হবার, হাস্যাপদ হবার ভীতি থেকে। তাই না? যে-মেয়ে পুরুষকে পুরুষের…. দিয়ে ধ’রে রাখে, সে বিপজ্জনক নয়। কিন্তু সেই মেয়ে হোলো বিপজ্জনক, যে ধ’রে রাখে পুরুষকে পুরুষের আত্মা দিয়ে…।”

এবার আমি যখন তাঁর ‘ক্রুয়েৎসার সোনাটা’র উল্লেখ ক’রে তাঁর কথার স্বতঃবিরুদ্ধতা দেখিয়ে দিলাম, তখন তাঁর গুল্ফ ভেদ ক’রে মৃদু হাসির আলোক ঝিলিক দিয়ে গেল। তিনি বললেন:

“কিন্তু আমি তো স্যাফিঞ্চ পাখী নই।”

একদিন সন্ধ্যায় বেড়াতে বেড়াতে অকস্মাৎ তিনি ব’লে উঠলেন:

“মানুষ ভূমিকম্প, মহামারী, ব্যাধির বিভীষিকা এবং আত্মার সকল প্রকার যন্ত্রণা সত্ত্বেও বেঁচে থাকে। কিন্তু তার সব সময়ের সব চেয়ে বড়ো বেদনা হোলো, হয়েছে, এবং হবে-তার শোয়ার ঘরের ট্র্যাজেডিটা।”

 

অনলাইন শিক্ষার নতুন যুগ: সংকটেও স্বস্তি, আগের বিশৃঙ্খলা এখন নিয়ন্ত্রিত বাস্তবতা

টলস্টয়ের স্মৃতি (পর্ব- ১ ১)

০৩:৫০:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৪

ম্যাকসিম গোর্কী

একুশ

তিনি সাইপ্রেস গাছের ছায়ায় একটি পাথরের বেঞ্চিতে বসেছিলেন। তাঁকে অত্যন্ত ক্ষীণ, ক্ষুদ্র, এবং বৃদ্ধ দেখাচ্ছে। তবু যেন তাঁকে ইহুদিদের দেবতার মতো লাগে। তিনি ঈষৎ ক্লান্ত হয়ে পাখীর গানের সংগে সুর মিলিয়ে শিস দিয়ে নিজেকে একটু হালকা করার চেষ্ট। করছেন। ঘন পাতার অন্ধকারে পাখী ডাকছে: তিনি তাঁর তীক্ষ্ণ ক্ষুদ্র চক্ষু দু’টোকে পাকিয়ে একবার উপরের দিকে উঁকি দিয়ে দেখলেন, তারপর ছোটো ছেলের মতো ঠোঁট দু’টোকে কুঁচকে অপটুভাবে শিস দিতে লাগলেন।

“ঐ একরত্তি প্রাণী, কিন্তু কী ভীষণ রাগ। ভয়ানক চটে গেছে, কি পাখী বলোতো?”

‘স্যাফিঞ্চ’। আমি তাঁকে স্যাফিঞ্চ পাখীর গুণাগুণের কথা বললাম। বললাম এর চরিত্রগত ঈর্ষার দিকটা।

তিনি বললেন “সারা জীবন ধরে একটা মাত্র গান গাইলো। তবু কিনা তার হিংসে। অথচ মানুষ, যার হৃদয়ে হাজারো গান রয়েছে, সে যখন হিংসে করে, তখন হয় তার নিন্দে। এ কি উচিত?” তিনি চিন্তাজড়িত সুরে কথাগুলি বললেন, যেন নিজেকে প্রশ্ন করছেন।

“এমন অনেক মুহূর্ত আসে পুরুষের, যখন সে মেয়েদের এমন অনেক কথাই বলে ফেলে, যেগুলো মেয়েদের জানা উচিত নয়। পুরুষেরা বলে আর ভুলে যায়, কিন্তু মেয়েরা ভোলে না। সম্ভবত ঈর্ষা আসে নিজের আত্মাকে অধঃপতিত করার, -হীন হবার, হাস্যাপদ হবার ভীতি থেকে। তাই না? যে-মেয়ে পুরুষকে পুরুষের…. দিয়ে ধ’রে রাখে, সে বিপজ্জনক নয়। কিন্তু সেই মেয়ে হোলো বিপজ্জনক, যে ধ’রে রাখে পুরুষকে পুরুষের আত্মা দিয়ে…।”

এবার আমি যখন তাঁর ‘ক্রুয়েৎসার সোনাটা’র উল্লেখ ক’রে তাঁর কথার স্বতঃবিরুদ্ধতা দেখিয়ে দিলাম, তখন তাঁর গুল্ফ ভেদ ক’রে মৃদু হাসির আলোক ঝিলিক দিয়ে গেল। তিনি বললেন:

“কিন্তু আমি তো স্যাফিঞ্চ পাখী নই।”

একদিন সন্ধ্যায় বেড়াতে বেড়াতে অকস্মাৎ তিনি ব’লে উঠলেন:

“মানুষ ভূমিকম্প, মহামারী, ব্যাধির বিভীষিকা এবং আত্মার সকল প্রকার যন্ত্রণা সত্ত্বেও বেঁচে থাকে। কিন্তু তার সব সময়ের সব চেয়ে বড়ো বেদনা হোলো, হয়েছে, এবং হবে-তার শোয়ার ঘরের ট্র্যাজেডিটা।”