০৭:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬
সুদের ঝড়ের আগেই প্রস্তুতি: কেন এশিয়ার রিয়েল এস্টেট খাত এখন বেশি আত্মবিশ্বাসী গৃহকর্মীর প্রতি আপনার আচরণেই সন্তানের মানবিকতার পাঠ লেখা হয় ইরানে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষযাত্রা, তেহরানে তৃতীয় দিনেও লাখো মানুষের ঢল আপডেটে কমল স্বর্ণের দাম, ভরিতে ৩,২৬৬ টাকা কমাল বাজুস হাইলাইট: ১১ জুলাইয়ের মধ্যে সব ক্লিনিকে লেবার রুম স্থাপন না করলে লাইসেন্স বাতিল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী নেইমারের বিদায় ঘোষণায় ব্রাজিল ফুটবলে নতুন অধ্যায়, বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে শেষ হলো জাতীয় দলের পথচলা ইংল্যান্ডের রুদ্ধশ্বাস জয়, মেক্সিকোকে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে সাফল্যের প্রকৃত মানদণ্ড কি সম্পদ, নাকি জীবনকে অর্থপূর্ণ করে তোলার ক্ষমতা? হালান্ড বনাম ভিনিসিয়ুস, বিশ্বকাপে ব্রাজিল-নরওয়ে মহারণে চোখ শেষ ষোলোর লড়াইয়ে মাছের জিন গবেষণায় নতুন দিগন্ত, উন্নত চাষে বদলাচ্ছে জলজ খাদ্যের ভবিষ্যৎ

রাজকীয় বেইজিং এমব্রয়ডারি

  • Sarakhon Report
  • ০৪:০১:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৪
  • 106

ডিসেম্বর ৬, সিএমজি বাংলা ডেস্ক: বেইজিং এমব্রয়ডারি চীনের নকশাকারুশিল্পের এক অনন্য ধারা। এই শিল্প ইমপেরিয়াল এমব্রয়ডারি বা রাজকীয় এমব্রয়ডারি নামেও পরিচিত।

একসময় সম্রাটের পরিবারের সদস্যরা ছাড়া এই ধরনের এমব্রয়ডারি করা পোশাক কারও ব্যবহার করার অনুমতি ছিল না। তবে আধুনিক চীনে এই ধরনের এমব্রয়ডারি যে কোন মানুষই ব্যবহার করতে পারেন। এই বিশেষ ধরনের এমব্রয়ডারি অবৈষয়িক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় রয়েছে। এই ঐতিহ্যের একজন ধারক চিন সিন।

দক্ষিণ চীনের কুয়াংসি চুয়াং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে ১৯৭৭ সালে জন্ম গ্রহণ করেন চিন সিন। ইয়াও জাতির নারীদের নকশী কাজের দক্ষতার কথা সর্বজনবিদিত।

চিন নিজেও ছোটবেলা থেকে ইয়াও এমব্রয়ডারি কাজে দক্ষ হয়ে ওঠেন। গ্রামের মেয়েরা সকলেই ছিলেন সেলাই ও নকশীকাজে পারদর্শী। ২০০৩ সালে তিনি চাকরি ছেড়ে এমব্রয়ডারি বিষয়ে আরও লেখাপড়া করার সিদ্ধান্ত নেন।  বেইজিং শহরে আসেন এবং  ইমপেরিয়াল এমব্রয়ডারি শেখা শুরু করেন।

বেইজিং এমব্রয়ডারি অত্যন্ত জমকালো ও অভিজাত। এই এমব্রয়ডারিতে ড্রাগন ও অন্যান্য নকশার বিশেষ অন্তর্নিহিত তাৎপর্য রয়েছে। থাং রাজবংশের সময় (৬১৮-৯০৭ খ্রিস্টাব্দ) এই ধরনের নকশিকাজের সূচনা হয়। অষ্টাদশ শতকে ছিং রাজবংশের সময় এই নকশী কাজ সারা বিশ্বে খ্যাতি পায়।

শিল্প বিষয়ে তার তেমন কোন ধারণা ছিল না। তবে তিনি এ বিষয়ে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। ২০০৫ সালে তিনি বেইজিং এমব্রয়ডারি নিয়ে নিজস্ব ব্যবসা শুরু করেন। ২০০৮ সালে তিনি নিজস্ব কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। । ২০১০ সালে চিন বেইজিং এমব্রয়ডারির একজন ইনহেরিটর ইয়ু মেইইয়িং এর কাছে শিক্ষানবিশ হিসেবে ভর্তি হন। তিনি বেইজিং এমব্রয়ডারিতে নিজেকে দক্ষ করে তোলেন। বর্তমানে তিনি নিজেই বেইজিং এমব্রয়ডারির একজন ইনহেরিটর। তিনি শুধু ঐতিহ্যবাহী শিল্পকেই ধরে রাখছেন না, পাশাপাশি আধুনিক ধারাও এতে যোগ করেছেন।

তিনি এমব্রয়ডারি করা পর্দা, টি টেবল ম্যাট, স্কার্ফ, টুপি, হ্যান্ডব্যাগ, টাই ইত্যাদি তৈরি করেন যেন আধুনিক জীবনেও এগুলো ব্যবহার করা যায়।

চিন সিন বলেন তিনি চান  আরও বেশি মানুষ বেইজিং এমব্রয়ডারি বিষয়ে জানতে পারুক এর সৌন্দর্য উপলব্ধি করুক। তার ভবিষ্যত পরিকল্পনা হলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই নকশী কারুশিল্পকে জনপ্রিয় করে তোলা

শান্তা/ফয়সল

জনপ্রিয় সংবাদ

সুদের ঝড়ের আগেই প্রস্তুতি: কেন এশিয়ার রিয়েল এস্টেট খাত এখন বেশি আত্মবিশ্বাসী

রাজকীয় বেইজিং এমব্রয়ডারি

০৪:০১:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৪

ডিসেম্বর ৬, সিএমজি বাংলা ডেস্ক: বেইজিং এমব্রয়ডারি চীনের নকশাকারুশিল্পের এক অনন্য ধারা। এই শিল্প ইমপেরিয়াল এমব্রয়ডারি বা রাজকীয় এমব্রয়ডারি নামেও পরিচিত।

একসময় সম্রাটের পরিবারের সদস্যরা ছাড়া এই ধরনের এমব্রয়ডারি করা পোশাক কারও ব্যবহার করার অনুমতি ছিল না। তবে আধুনিক চীনে এই ধরনের এমব্রয়ডারি যে কোন মানুষই ব্যবহার করতে পারেন। এই বিশেষ ধরনের এমব্রয়ডারি অবৈষয়িক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় রয়েছে। এই ঐতিহ্যের একজন ধারক চিন সিন।

দক্ষিণ চীনের কুয়াংসি চুয়াং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে ১৯৭৭ সালে জন্ম গ্রহণ করেন চিন সিন। ইয়াও জাতির নারীদের নকশী কাজের দক্ষতার কথা সর্বজনবিদিত।

চিন নিজেও ছোটবেলা থেকে ইয়াও এমব্রয়ডারি কাজে দক্ষ হয়ে ওঠেন। গ্রামের মেয়েরা সকলেই ছিলেন সেলাই ও নকশীকাজে পারদর্শী। ২০০৩ সালে তিনি চাকরি ছেড়ে এমব্রয়ডারি বিষয়ে আরও লেখাপড়া করার সিদ্ধান্ত নেন।  বেইজিং শহরে আসেন এবং  ইমপেরিয়াল এমব্রয়ডারি শেখা শুরু করেন।

বেইজিং এমব্রয়ডারি অত্যন্ত জমকালো ও অভিজাত। এই এমব্রয়ডারিতে ড্রাগন ও অন্যান্য নকশার বিশেষ অন্তর্নিহিত তাৎপর্য রয়েছে। থাং রাজবংশের সময় (৬১৮-৯০৭ খ্রিস্টাব্দ) এই ধরনের নকশিকাজের সূচনা হয়। অষ্টাদশ শতকে ছিং রাজবংশের সময় এই নকশী কাজ সারা বিশ্বে খ্যাতি পায়।

শিল্প বিষয়ে তার তেমন কোন ধারণা ছিল না। তবে তিনি এ বিষয়ে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। ২০০৫ সালে তিনি বেইজিং এমব্রয়ডারি নিয়ে নিজস্ব ব্যবসা শুরু করেন। ২০০৮ সালে তিনি নিজস্ব কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। । ২০১০ সালে চিন বেইজিং এমব্রয়ডারির একজন ইনহেরিটর ইয়ু মেইইয়িং এর কাছে শিক্ষানবিশ হিসেবে ভর্তি হন। তিনি বেইজিং এমব্রয়ডারিতে নিজেকে দক্ষ করে তোলেন। বর্তমানে তিনি নিজেই বেইজিং এমব্রয়ডারির একজন ইনহেরিটর। তিনি শুধু ঐতিহ্যবাহী শিল্পকেই ধরে রাখছেন না, পাশাপাশি আধুনিক ধারাও এতে যোগ করেছেন।

তিনি এমব্রয়ডারি করা পর্দা, টি টেবল ম্যাট, স্কার্ফ, টুপি, হ্যান্ডব্যাগ, টাই ইত্যাদি তৈরি করেন যেন আধুনিক জীবনেও এগুলো ব্যবহার করা যায়।

চিন সিন বলেন তিনি চান  আরও বেশি মানুষ বেইজিং এমব্রয়ডারি বিষয়ে জানতে পারুক এর সৌন্দর্য উপলব্ধি করুক। তার ভবিষ্যত পরিকল্পনা হলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই নকশী কারুশিল্পকে জনপ্রিয় করে তোলা

শান্তা/ফয়সল