১০:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
এলপিজি আমদানিতে ২৭০ দিনের ঋণসুবিধা অনুমোদন, ডলার সংকট মোকাবিলায় নতুন সিদ্ধান্ত চট্টগ্রামে পুলিশ হত্যাকাণ্ড: ১০ জনের যাবজ্জীবন পর্যটনে গতির নতুন অধ্যায় আবুধাবি, ২০৩০ লক্ষ্য ছোঁয়ার পথে এগোচ্ছে আমিরাত ধস নামা আবর্জনার পাহাড়ে নিভছে আশার আলো, সেবুতে মৃতের সংখ্যা বাড়ল শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে হঠাৎ বাংলাদেশ ব্যাংকে মির্জা আব্বাস মোংলায় খালেদা জিয়ার মাগফিরাত মাহফিলে হামলা, খাবার লুট, আহত দুই চার মিশনের প্রেস কর্মকর্তা প্রত্যাহার, দেশে ফেরার নির্দেশ সরকারের নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়: বদিউল আলম মজুমদার আগামী নির্বাচনে নারীদের সমর্থন জামায়াতের দিকে যাবে: শফিকুর রহমান কুসুমপুর বাজারে পরিচ্ছন্নতা অভিযানের ঘোষণায় উচ্ছেদ আতঙ্ক, উদ্বিগ্ন ব্যবসায়ীরা

ড.ইউনুসের চীন সফর: রাজনৈতিক সরকার না আসা অবধি চীন কি সর্তক অবস্থানে?

  • Sarakhon Report
  • ০৩:২৬:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ মার্চ ২০২৫
  • 155

সারাক্ষণ রিপোর্ট

চীনের কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থসহায়তা নিয়ে বাংলাদেশের মধ্যে আশাবাদ ও সংশয়, দুটিই চলছে। গত দুই অর্থবছরে চীনের কাছ থেকে নতুন কোনো ঋণচুক্তি হয়নি। তবু আসন্ন সফরে বড় ধরনের সহায়তা আসবে—এমন প্রত্যাশা করছেন অনেকে। আবার অনেকে মনে করছেন, নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার না আসা পর্যন্ত চীন কিছুটা সতর্ক অবস্থান ধরে রাখতে পারে।

সরকারি সফরে চীন যাচ্ছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস চারদিনের এক সরকারি সফরে ২৬ মার্চ চীন যাচ্ছেন। সফরের অংশ হিসেবে ২৮ মার্চ তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হওয়ার কথা রয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মোহাম্মদ রফিকুল আলম জানিয়েছেন, সফরের বিস্তারিত পরবর্তীতে জানানো হবে। তবে প্রাথমিক সূচি অনুযায়ী, ২৬ মার্চ বিকেলে ঢাকা ত্যাগ করে ২৭ মার্চ বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়ার বার্ষিক সম্মেলনে বক্তৃতা দেবেন প্রধান উপদেষ্টা। পাশাপাশি চীনের স্টেট কাউন্সিলের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার সাক্ষাৎও নির্ধারিত আছে।

চীনের সঙ্গে ঋণচুক্তির স্থবিরতা

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) চীনের সঙ্গে নতুন কোনো ঋণচুক্তি হয়নি। বরং আগে প্রতিশ্রুত ঋণের অর্থছাড় এসেছে মাত্র ২৭ কোটি ডলারের কম। বাংলাদেশে চীনের ঋণ সহায়তা সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্য হ্রাস পেয়েছে।

  • গত অর্থবছর শেষে চীনের মোট অর্থসহায়তার প্রতিশ্রুতি ছিল ১,০৪৬ কোটি ডলার।
  • এর মধ্যে প্রায় ৭৩৩ কোটি ডলার আগেই ছাড় হয়েছিলো।
  • গত অর্থবছরে ছাড় হয়েছিল মাত্র ৪১ কোটি ডলারের কিছু কম।
  • চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে কোনো নতুন প্রতিশ্রুতি না এলেও প্রায় ২৭ কোটি ডলার ছাড় হয়েছে।

অনেক প্রকল্পে চীন আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে। এর মধ্যে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ, সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং স্থাপন, বিদ্যুৎ বিভাগের বিভিন্ন প্রকল্প, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও রাজশাহী ওয়াসার সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট—এসব প্রধান উদাহরণ। তবে এসব প্রকল্পের ঋণচুক্তি হয়েছে আগের অর্থবছরগুলোতে।

রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব

বিশ্লেষকেরা মনে করেন, টানা চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতাসীন শেখ হাসিনা সরকারের ভঙ্গুর পরিস্থিতি আগেভাগেই বুঝতে পেরেছিল বেইজিং। ফলে গত বছরের জুলাইয়ে শেখ হাসিনার চীন সফরেও বড় কোনো ঋণচুক্তি সই হয়নি। পরবর্তীতে ক্ষমতা হারানোর পর অন্তর্বর্তী সরকারের নীতিনির্ধারকেরা চীনের কাছ থেকে ৭ বিলিয়ন ডলার সহায়তার মৌখিক আশ্বাস পাওয়ার কথা বললেও আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়নি। এখন অনেকেই আশা করছেন, প্রধান উপদেষ্টার এই সফরে চীন বড় অর্থসহায়তার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, নির্বাচিত সরকার না আসা পর্যন্ত চীন রক্ষণশীল মনোভাব নিতেও পারে।

একজন অনামা কূটনীতিক মন্তব্য করেছেন, ‘যেকোনো দেশ বড় ধরনের বিনিয়োগের আগে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নির্বাচিত সরকারের উপস্থিতিকে গুরুত্ব দেয়। ফলে বড় অঙ্কের কোনো সহায়তা না এলে অবাক হওয়ার কিছু নেই।’

জনপ্রিয় সংবাদ

এলপিজি আমদানিতে ২৭০ দিনের ঋণসুবিধা অনুমোদন, ডলার সংকট মোকাবিলায় নতুন সিদ্ধান্ত

ড.ইউনুসের চীন সফর: রাজনৈতিক সরকার না আসা অবধি চীন কি সর্তক অবস্থানে?

০৩:২৬:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ মার্চ ২০২৫

সারাক্ষণ রিপোর্ট

চীনের কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থসহায়তা নিয়ে বাংলাদেশের মধ্যে আশাবাদ ও সংশয়, দুটিই চলছে। গত দুই অর্থবছরে চীনের কাছ থেকে নতুন কোনো ঋণচুক্তি হয়নি। তবু আসন্ন সফরে বড় ধরনের সহায়তা আসবে—এমন প্রত্যাশা করছেন অনেকে। আবার অনেকে মনে করছেন, নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার না আসা পর্যন্ত চীন কিছুটা সতর্ক অবস্থান ধরে রাখতে পারে।

সরকারি সফরে চীন যাচ্ছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস চারদিনের এক সরকারি সফরে ২৬ মার্চ চীন যাচ্ছেন। সফরের অংশ হিসেবে ২৮ মার্চ তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হওয়ার কথা রয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মোহাম্মদ রফিকুল আলম জানিয়েছেন, সফরের বিস্তারিত পরবর্তীতে জানানো হবে। তবে প্রাথমিক সূচি অনুযায়ী, ২৬ মার্চ বিকেলে ঢাকা ত্যাগ করে ২৭ মার্চ বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়ার বার্ষিক সম্মেলনে বক্তৃতা দেবেন প্রধান উপদেষ্টা। পাশাপাশি চীনের স্টেট কাউন্সিলের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার সাক্ষাৎও নির্ধারিত আছে।

চীনের সঙ্গে ঋণচুক্তির স্থবিরতা

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) চীনের সঙ্গে নতুন কোনো ঋণচুক্তি হয়নি। বরং আগে প্রতিশ্রুত ঋণের অর্থছাড় এসেছে মাত্র ২৭ কোটি ডলারের কম। বাংলাদেশে চীনের ঋণ সহায়তা সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্য হ্রাস পেয়েছে।

  • গত অর্থবছর শেষে চীনের মোট অর্থসহায়তার প্রতিশ্রুতি ছিল ১,০৪৬ কোটি ডলার।
  • এর মধ্যে প্রায় ৭৩৩ কোটি ডলার আগেই ছাড় হয়েছিলো।
  • গত অর্থবছরে ছাড় হয়েছিল মাত্র ৪১ কোটি ডলারের কিছু কম।
  • চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে কোনো নতুন প্রতিশ্রুতি না এলেও প্রায় ২৭ কোটি ডলার ছাড় হয়েছে।

অনেক প্রকল্পে চীন আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে। এর মধ্যে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ, সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং স্থাপন, বিদ্যুৎ বিভাগের বিভিন্ন প্রকল্প, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও রাজশাহী ওয়াসার সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট—এসব প্রধান উদাহরণ। তবে এসব প্রকল্পের ঋণচুক্তি হয়েছে আগের অর্থবছরগুলোতে।

রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব

বিশ্লেষকেরা মনে করেন, টানা চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতাসীন শেখ হাসিনা সরকারের ভঙ্গুর পরিস্থিতি আগেভাগেই বুঝতে পেরেছিল বেইজিং। ফলে গত বছরের জুলাইয়ে শেখ হাসিনার চীন সফরেও বড় কোনো ঋণচুক্তি সই হয়নি। পরবর্তীতে ক্ষমতা হারানোর পর অন্তর্বর্তী সরকারের নীতিনির্ধারকেরা চীনের কাছ থেকে ৭ বিলিয়ন ডলার সহায়তার মৌখিক আশ্বাস পাওয়ার কথা বললেও আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়নি। এখন অনেকেই আশা করছেন, প্রধান উপদেষ্টার এই সফরে চীন বড় অর্থসহায়তার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, নির্বাচিত সরকার না আসা পর্যন্ত চীন রক্ষণশীল মনোভাব নিতেও পারে।

একজন অনামা কূটনীতিক মন্তব্য করেছেন, ‘যেকোনো দেশ বড় ধরনের বিনিয়োগের আগে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নির্বাচিত সরকারের উপস্থিতিকে গুরুত্ব দেয়। ফলে বড় অঙ্কের কোনো সহায়তা না এলে অবাক হওয়ার কিছু নেই।’