০১:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
ঢাকার বাস টার্মিনাল এখনই সরছে না, বাইরে থাকবে ডিপো—জানালেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী জাবিতে মাদককাণ্ড: দুই ছাত্রীকে দুই বছরের জন্য বহিষ্কার, একজনের বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশ চীনের ইভি যুদ্ধে নতুন অস্ত্র: নিজস্ব স্মার্ট-ড্রাইভিং চিপে ঝুঁকছে গাড়ি নির্মাতারা নরেন্দ্র মোদি ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১৬ মাস পর মুখোমুখি, জি৭ সম্মেলনে পাশাপাশি আসন জি৭ সম্মেলনে রাশিয়ার ওপর আরও চাপের সিদ্ধান্ত, ট্রাম্প-জেলেনস্কি বৈঠকে ইউক্রেন ইস্যুতে নতুন বার্তা উপজেলায় এমপিদের জন্য ‘পরিদর্শন কক্ষ’, প্রতিটি উপজেলায় বরাদ্দ ৬ লাখ টাকা চীনের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত, মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে শি জিনপিংয়ের বৈঠক মুহাররমের চাঁদ দেখা যায়নি, পাকিস্তানে ২৬ জুন পালিত হবে আশুরা রয়টার্স এর প্রতিবেদনঃ বাংলাদেশ ভারতের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাকে দিল্লি বিমানবন্দরে ‘জিজ্ঞাসাবাদ’ করার প্রতিবাদ জানিয়েছে লালমনিরহাটে শিশু হত্যাকাণ্ড ঘিরে সংঘর্ষ: এসপি-ওসিসহ আহত ২০, আটক প্রধান সন্দেহভাজন

পল্লী কবি জসীমউদ্দীনের স্মৃতিকথা (পর্ব-১৭৪)

  • Sarakhon Report
  • ১১:০০:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ এপ্রিল ২০২৫
  • 285

বড়ু

“ঘরে ত আছে লো, ও বউ লো কৌটা ভরা সিন্দুর লো, তুমি উহাই দেইখা পাশইরো রামসাধুরে।” “ও কৌটার সিন্দুর লো, শাউড়ি আমি বাতাসে উড়াব লো, আমি তবু যাব রামসাধুর তালাশেরে।”

এই রামসাধু কে জানি না। সে হয়তো অধিকাংশ পুরুষজাতিরই প্রতীক। পঞ্চফুলের ভোমর হইয়া সে এক ফুলে মন মজিয়া আছে। শাশুড়ির উপদেশমতো পেটরা গহন আর কৌটা ভরা সিন্দুক দেখিয়া কি বালিকা বধু তার মনের দুঃখ পাশরিয়া থাকিতে পারে? পেটরার অষ্ট অলঙ্কার সব লুটেরে বিলাইয়া দিবে। কৌটার সিন্দুর সে বাতাসে উড়াইয়া দিবে। তবু সে রামসাধুর তালাশে বাহির হইয়া যাইবে।

সেদিন আরও দুই-তিনটি গান হইল। একটি গানের প্রথম পদটি মনে আছে:

“আরে শ্যাম, গাঙে আইলরে নতুন পানি।”

এরপর প্রায়ই আমি বড়ুদের বাড়ি যাইতাম। মনে মনে কত কথা তাহাকে বলিব বলিয়া কল্পনা করিয়া যাইতাম। কিন্তু ছোট তাহাদের বাড়ি। ও-ঘরে চাচি, ওখানে দাদি। আজেবাজে গল্প করিয়া চলিয়া আসিতাম। মনের কথা মনেই থাকিত। বাড়ি আসিয়া ভাবিতাম, কি

কথাই-বা তাহাকে বলিতে পারিতাম। সে অপরের স্ত্রী। তাকে একান্তে বলিবার মতো কোনো কথাই তো আমার ছিল না।

আমি তখন কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে এম এ পড়ি। ছুটি ফুরাইয়া গেলে কলিকাতা চলিয়া যাইতাম। পূজার ছুটিতে আবার দেশে আসিয়া বড়ুদের বাড়ি আসিতাম। এবার বস্তুর চেহারাটি আরও সুন্দর হইয়াছে। কত দেশে সুন্দর কন্যার কাহিনী খুঁজিয়া বেড়াই। আমার দেশে আমারই গাঁয় এমন সুন্দর কন্যা। এই চাঁদ আমারই আঙিনায় আসিয়া খেলা করিয়াছিল। তখন হাত বাড়াইলেই ধরিতে পারিতাম। আজকের চাঁদ যে কত দূরের আকাশে। কোনোরকমেই তাকে হাতে নাগাল পাইতে পারি না। একদিন বস্তুকে একান্তে পাইয়া বলিলাম, “বস্তু, আগে যদি জানিতাম তোকে আমার এত ভালো লাগিবে, তবে কি তোরে অপরের ঘরনী হইতে দিতাম।” বজ্র ম্লান হাসিয়া বলিল, “ভাই। ওকথা বলিবেন না। উহাতে গুনা হয়।”

বড়ুর বর আব্বাস কুড়ের হদ্দ। একদিন যদি কাপড় বুনায় তো তিনদিন ঘুরিয়া বেড়ায়। অথবা ঘরের মেঝেয় পড়িয়া ঘুমায়। বড়ু তেনা কাড়াইয়া বসিয়া থাকে। গামলাতে তার সদ্যভরা নলিগুলির সুতা শুকাইয়া যায়। তবু সে কাপড় বুনাইতে বসে না, এমন সুন্দরী বউ-এর জন্য স্বামীর যে তপস্যা করার প্রয়োজন সে তাহা মনেও আনে না। কোনোদিন তাহারা খায়-কোনোদিন খায় না। এজন্য স্বামীর প্রতি বস্তুর কোনোই অভিযোগ নাই।

চলবে…..

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকার বাস টার্মিনাল এখনই সরছে না, বাইরে থাকবে ডিপো—জানালেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী

পল্লী কবি জসীমউদ্দীনের স্মৃতিকথা (পর্ব-১৭৪)

১১:০০:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ এপ্রিল ২০২৫

বড়ু

“ঘরে ত আছে লো, ও বউ লো কৌটা ভরা সিন্দুর লো, তুমি উহাই দেইখা পাশইরো রামসাধুরে।” “ও কৌটার সিন্দুর লো, শাউড়ি আমি বাতাসে উড়াব লো, আমি তবু যাব রামসাধুর তালাশেরে।”

এই রামসাধু কে জানি না। সে হয়তো অধিকাংশ পুরুষজাতিরই প্রতীক। পঞ্চফুলের ভোমর হইয়া সে এক ফুলে মন মজিয়া আছে। শাশুড়ির উপদেশমতো পেটরা গহন আর কৌটা ভরা সিন্দুক দেখিয়া কি বালিকা বধু তার মনের দুঃখ পাশরিয়া থাকিতে পারে? পেটরার অষ্ট অলঙ্কার সব লুটেরে বিলাইয়া দিবে। কৌটার সিন্দুর সে বাতাসে উড়াইয়া দিবে। তবু সে রামসাধুর তালাশে বাহির হইয়া যাইবে।

সেদিন আরও দুই-তিনটি গান হইল। একটি গানের প্রথম পদটি মনে আছে:

“আরে শ্যাম, গাঙে আইলরে নতুন পানি।”

এরপর প্রায়ই আমি বড়ুদের বাড়ি যাইতাম। মনে মনে কত কথা তাহাকে বলিব বলিয়া কল্পনা করিয়া যাইতাম। কিন্তু ছোট তাহাদের বাড়ি। ও-ঘরে চাচি, ওখানে দাদি। আজেবাজে গল্প করিয়া চলিয়া আসিতাম। মনের কথা মনেই থাকিত। বাড়ি আসিয়া ভাবিতাম, কি

কথাই-বা তাহাকে বলিতে পারিতাম। সে অপরের স্ত্রী। তাকে একান্তে বলিবার মতো কোনো কথাই তো আমার ছিল না।

আমি তখন কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে এম এ পড়ি। ছুটি ফুরাইয়া গেলে কলিকাতা চলিয়া যাইতাম। পূজার ছুটিতে আবার দেশে আসিয়া বড়ুদের বাড়ি আসিতাম। এবার বস্তুর চেহারাটি আরও সুন্দর হইয়াছে। কত দেশে সুন্দর কন্যার কাহিনী খুঁজিয়া বেড়াই। আমার দেশে আমারই গাঁয় এমন সুন্দর কন্যা। এই চাঁদ আমারই আঙিনায় আসিয়া খেলা করিয়াছিল। তখন হাত বাড়াইলেই ধরিতে পারিতাম। আজকের চাঁদ যে কত দূরের আকাশে। কোনোরকমেই তাকে হাতে নাগাল পাইতে পারি না। একদিন বস্তুকে একান্তে পাইয়া বলিলাম, “বস্তু, আগে যদি জানিতাম তোকে আমার এত ভালো লাগিবে, তবে কি তোরে অপরের ঘরনী হইতে দিতাম।” বজ্র ম্লান হাসিয়া বলিল, “ভাই। ওকথা বলিবেন না। উহাতে গুনা হয়।”

বড়ুর বর আব্বাস কুড়ের হদ্দ। একদিন যদি কাপড় বুনায় তো তিনদিন ঘুরিয়া বেড়ায়। অথবা ঘরের মেঝেয় পড়িয়া ঘুমায়। বড়ু তেনা কাড়াইয়া বসিয়া থাকে। গামলাতে তার সদ্যভরা নলিগুলির সুতা শুকাইয়া যায়। তবু সে কাপড় বুনাইতে বসে না, এমন সুন্দরী বউ-এর জন্য স্বামীর যে তপস্যা করার প্রয়োজন সে তাহা মনেও আনে না। কোনোদিন তাহারা খায়-কোনোদিন খায় না। এজন্য স্বামীর প্রতি বস্তুর কোনোই অভিযোগ নাই।

চলবে…..