০৬:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
২০২৭ সালে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ইন্দোনেশিয়ার, কমছে বাজেট ঘাটতিও চীনে ভক্সওয়াগেনের ঘুরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনায় নতুন শঙ্কা, কমছে বিক্রি ডানপন্থী উত্থানে এশিয়ায় অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাইল্যান্ডে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের নতুন উদ্যোগ, তবু বড় প্রশ্নে অবৈধ অস্ত্রের সহজলভ্যতা রেকিয়াভিকে ‘যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে’: পারমাণবিক অস্ত্র বিলোপের স্বপ্নে রিগ্যান-গর্বাচেভ গ্যাস সংকটে হবিগঞ্জে ১৭১ কারখানা বন্ধ, কর্মহীন লক্ষাধিক শ্রমিক কুষ্টিয়ায় বালুবাহী যান পদ্মায়, নিখোঁজ ৮ বছরের শিশু ১৫ আগস্ট ঘিরে ঢাকায় কঠোর নিরাপত্তা, মাঠে ডিএমপির বিশেষ ইউনিট নেপালের নতুন রাজনৈতিক তারকার আলো কেন ম্লান হয়ে আসছে সেন্ট্রাল পার্কে শেক্সপিয়রের ‘শীতের কাহিনি’, পুরোনো আবহে নতুন মুগ্ধতা

রণক্ষেত্রে (পর্ব-৩৩)

  • Sarakhon Report
  • ০৮:০০:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৫
  • 224

আর্কাদি গাইদার

পঞ্চম পরিচ্ছেদ

‘তুমি খাদের ডাইনে উৎরাইয়ের মাথায় যাও,’ চুবুক আমাকে হুকুম করলেন। ‘শাকভ যাক বাঁয়ের উৎরাইয়ের মাথায়। আমি খাদের নিচে লামব, এক্কেবারে মাঝখানে। কিছু দেখতে পেলি অনি ইসারা করি জানাবে, কেমন?’

ধীরে ধীরে এগোতে লাগলুম আমরা। আধ ঘণ্টার মধ্যে শুমাকভকে দেখতে পেলুম আমার পেছনে বাঁয়ের উৎরাইয়ের মাথায়। মাথাটা সামনের দিকে এগিয়ে দিয়ে উবু হয়ে হাঁটছিল ও। সাধারণভাবে ওর মুখখানা দেখতে ছিল ভালোমানুষের মতো, কিন্তু দুষ্টুমিতে-ভরা। সেই মুখ এখন দেখাচ্ছিল গম্ভীর আর কঠিন।

এক জায়গায় খাদটা এসে বাঁক নিয়েছিল। সেখানে এসে স্মাকভ বা চুক কাউকে দেখতে পেলুম না। অবিশ্যি জানতুম, ওঁরা ওইখানেই কাছাকাছি কোথাও আছেন। আমারই মতো আন্তে-আস্তে এগোচ্ছেন ওঁরাও, তবে হয়তো ঝোপের আড়ালে পড়ে গেছেন এই-যা। আপাতদৃষ্টিতে বিচ্ছিন্ন মনে হলেও, একই কাজের দায়িত্ব আর একই রকম বিপদের ঝুঁকি যে আমাদের তিনজনকে কঠিন বন্ধনে আবদ্ধ করে রেখেছে এই চেতনা আমার মনে সাহস যোগাল। একটা জায়গায় এসে দেখলুম খাদটা চওড়া হয়ে গেছে। ঝোপ-জঙ্গলও আগের চেয়ে উঠেছে ঘন হয়ে। এরপরই এসে গেল আরেকটা বাঁক। আর সঙ্গে সঙ্গে আমাকে মাটিতে সটান শুয়ে পড়তে হল।

দেখলুম, ডানদিকের উৎরাইয়ের মাথার সমান্তরাল একটা চওড়া পাথরে-বাঁধানো রাস্তা ধরে বেশ বড় একটা ঘোড়সওয়ার-বাহিনী আমার থেকে শ-খানেক হাত দূর দিয়ে চলেছে।

কালো, মসৃণ, চকচকে ঘোড়াগুলো সওয়ার পিঠে নিয়ে বেশ তেজীভাবেই চলছিল। দলটার আগে-আগে যাচ্ছিল তিনজন কি চারজন অফিসার। ঠিক আমার সামনাসামনি এসে দলটা থামল, দলের সেনাপতি একটা ম্যাপ বের করে দেখতে লাগলেন।

পিছিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে খানিকটা নেমে এলুম আমি। তারপর আমাদের আগের ব্যবস্থামতো ওঁকে ইসারা করে জানানোর জন্যে চারিদিক তাকিয়ে চুবুককে খুজতে লাগলুম।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

২০২৭ সালে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ইন্দোনেশিয়ার, কমছে বাজেট ঘাটতিও

রণক্ষেত্রে (পর্ব-৩৩)

০৮:০০:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৫

আর্কাদি গাইদার

পঞ্চম পরিচ্ছেদ

‘তুমি খাদের ডাইনে উৎরাইয়ের মাথায় যাও,’ চুবুক আমাকে হুকুম করলেন। ‘শাকভ যাক বাঁয়ের উৎরাইয়ের মাথায়। আমি খাদের নিচে লামব, এক্কেবারে মাঝখানে। কিছু দেখতে পেলি অনি ইসারা করি জানাবে, কেমন?’

ধীরে ধীরে এগোতে লাগলুম আমরা। আধ ঘণ্টার মধ্যে শুমাকভকে দেখতে পেলুম আমার পেছনে বাঁয়ের উৎরাইয়ের মাথায়। মাথাটা সামনের দিকে এগিয়ে দিয়ে উবু হয়ে হাঁটছিল ও। সাধারণভাবে ওর মুখখানা দেখতে ছিল ভালোমানুষের মতো, কিন্তু দুষ্টুমিতে-ভরা। সেই মুখ এখন দেখাচ্ছিল গম্ভীর আর কঠিন।

এক জায়গায় খাদটা এসে বাঁক নিয়েছিল। সেখানে এসে স্মাকভ বা চুক কাউকে দেখতে পেলুম না। অবিশ্যি জানতুম, ওঁরা ওইখানেই কাছাকাছি কোথাও আছেন। আমারই মতো আন্তে-আস্তে এগোচ্ছেন ওঁরাও, তবে হয়তো ঝোপের আড়ালে পড়ে গেছেন এই-যা। আপাতদৃষ্টিতে বিচ্ছিন্ন মনে হলেও, একই কাজের দায়িত্ব আর একই রকম বিপদের ঝুঁকি যে আমাদের তিনজনকে কঠিন বন্ধনে আবদ্ধ করে রেখেছে এই চেতনা আমার মনে সাহস যোগাল। একটা জায়গায় এসে দেখলুম খাদটা চওড়া হয়ে গেছে। ঝোপ-জঙ্গলও আগের চেয়ে উঠেছে ঘন হয়ে। এরপরই এসে গেল আরেকটা বাঁক। আর সঙ্গে সঙ্গে আমাকে মাটিতে সটান শুয়ে পড়তে হল।

দেখলুম, ডানদিকের উৎরাইয়ের মাথার সমান্তরাল একটা চওড়া পাথরে-বাঁধানো রাস্তা ধরে বেশ বড় একটা ঘোড়সওয়ার-বাহিনী আমার থেকে শ-খানেক হাত দূর দিয়ে চলেছে।

কালো, মসৃণ, চকচকে ঘোড়াগুলো সওয়ার পিঠে নিয়ে বেশ তেজীভাবেই চলছিল। দলটার আগে-আগে যাচ্ছিল তিনজন কি চারজন অফিসার। ঠিক আমার সামনাসামনি এসে দলটা থামল, দলের সেনাপতি একটা ম্যাপ বের করে দেখতে লাগলেন।

পিছিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে খানিকটা নেমে এলুম আমি। তারপর আমাদের আগের ব্যবস্থামতো ওঁকে ইসারা করে জানানোর জন্যে চারিদিক তাকিয়ে চুবুককে খুজতে লাগলুম।