০৪:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
পোষা প্রাণীর জন্য ভিডিও এখন বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়, স্ক্রিনে মজেছে বিড়াল-কুকুর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ধাক্কা: সার-সংকটের শঙ্কায় বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহ, ক্ষুধার ঝুঁকিতে দরিদ্র দেশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জোয়ারে ওরাকলের বড় উত্থান, ২০২৭ সালের আগেই আয়ে নতুন রেকর্ডের ইঙ্গিত পিরিয়ড ট্যাক্সের বিরুদ্ধে তরুণ আইনজীবী মাহনূর ওমরের লড়াই, পাকিস্তানে শুরু নতুন জাতীয় বিতর্ক ১.৭৫ ট্রিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য: বিশ্বের বৃহত্তম শেয়ার বাজারে নামতে প্রস্তুত ইলন মাস্কের স্পেসএক্স ক্রিপ্টো দুনিয়ায় দ্রুত উত্থান ‘স্টেবলকয়েন’-এর, ডলার নির্ভর এই মুদ্রা ঘিরে বাড়ছে ঝুঁকি ও সম্ভাবনার বিতর্ক ইরানপন্থী সমাবেশের আশঙ্কা, লন্ডনে ফিলিস্তিনপন্থী মিছিল নিষিদ্ধ করলেন ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোমানিয়ায় মার্কিন সেনা উপস্থিতি বাড়ানোর অনুমোদন হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ; তেল ছাড়তে প্রস্তুত জাপান ও জার্মানি সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের জামিন, মুক্তিতে বাধা নেই

আধুনিক বাংলা আবৃত্তির দীপ্ত নক্ষত্র রয়া চৌধুরী

“যদি আর বাঁশি না বাজে” – কণ্ঠে কবির আত্মার অনুরণন

বাংলা আবৃত্তির অঙ্গনে আলোড়ন তুলেছেন খ্যাতনামা আবৃত্তিশিল্পী রয়া চৌধুরী। সম্প্রতি তিনি নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে কাজী নজরুল ইসলামের ঐতিহাসিক বক্তৃতা “যদি আর বাঁশি না বাজে” আবৃত্তি করে প্রকাশ করেন। কবির জীবনের শেষ বক্তৃতা হিসেবে পরিচিত এই ভাষণের আবেগময় পরিবেশনা এতটাই মুগ্ধতা ছড়িয়েছে যে ইতিমধ্যেই পাঁচ লক্ষের বেশি মানুষ তা দেখেছেন ও শেয়ার করেছেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেগের ঢেউ

রয়ার এই আবৃত্তিকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় দারুণ সাড়া পড়েছে। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, “এ যেন কালের কণ্ঠে কবির ফিরে আসা” কিংবা “রয়ার কণ্ঠে বিদ্রোহীর আত্মা কথা বলছে”। রয়া নিজেও আবেগ আপ্লুত হয়ে লিখেছেন, “এমন সহজ ভাষায়, এমন আবেগ দিয়ে কেউ ভাষণ দিতে পারেন, তা জানা ছিল না।”

এই বক্তৃতাটি নজরুল দিয়েছিলেন ১৯৪১ সালের ৬ এপ্রিল, বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতির রজতজয়ন্তী উপলক্ষে মুসলিম ইনস্টিটিউটে। দুরারোগ্য ব্যাধিতে বাকরুদ্ধ হয়ে যাওয়ার আগে এটি ছিল তাঁর শেষ ভাষণ। প্রেম, বিদ্রোহ, বেদনা, আত্মসমর্পণ—সবকিছুর সম্মিলিত বহিঃপ্রকাশ এই ছয় মিনিটের বক্তৃতায়। রয়ার অনবদ্য কণ্ঠস্বর এবং আবৃত্তির গভীরতা একে আজকের প্রজন্মের কাছেও করে তুলেছে প্রাসঙ্গিক।

বিদ্রোহের শতবর্ষে বিদ্রোহীর প্রতি শ্রদ্ধা

“আমি প্রেম দিতে এসেছিলাম, প্রেম পেতে এসেছিলাম”—এই একটি বাক্যই আজও আমাদের ভাবনায় নাড়া দেয়। রয়া চৌধুরীর আবৃত্তি সেই প্রেম ও প্রতিবাদেরই চিরন্তন ভাষা। নজরুলের জন্মদিনকে সামনে রেখে এই আবৃত্তি যেন কবির প্রতি এক অভিনব শ্রদ্ধার্ঘ্য।

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও সম্মাননায় সমৃদ্ধ রয়া চৌধুরী

রয়া চৌধুরী শুধু আবৃত্তির কণ্ঠশিল্পী নন, তিনি আবৃত্তিকে আত্মার প্রকাশে রূপ দিয়েছেন। সম্প্রতি তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির ফ্র্যাঙ্কলিন টাউনশিপ থেকে ‘সার্টিফিকেট অব রেকগনিশন’ সম্মাননায় ভূষিত হন। ফ্র্যাঙ্কলিন টাউনশিপের মেয়র ফিলিপ ক্রেমার তাঁর আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক অবদানকে স্বীকৃতি দিয়ে এই সম্মাননা প্রদান করেন।

পুরস্কারের ঝুলিতে একের পর এক সফলতা

রয়া চৌধুরী ইতোমধ্যেই পেয়েছেন—

  • ভারতের ২১তম টেলি সিনে অ্যাওয়ার্ড
  • বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল ফেম অ্যাওয়ার্ড
  • বেস্ট রেসিটেশন আর্টিস্ট অ্যাওয়ার্ড
  • বাংলাদেশ অ্যাচিভারস অ্যাওয়ার্ড
  • চারদিকে সেলফ-রিলায়ান্ট অ্যাওয়ার্ড

এই সব সম্মানই প্রমাণ করে, রয়ার আবৃত্তি শুধু শব্দ নয়—তা সময়, আত্মা এবং জাতিসত্তার সাথে যুক্ত এক শিল্পচর্চা। রয়া চৌধুরী হয়ে উঠেছেন আধুনিক বাংলা আবৃত্তি জগতের অন্যতম উজ্জ্বল এবং সম্মানিত নাম।

জনপ্রিয় সংবাদ

পোষা প্রাণীর জন্য ভিডিও এখন বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়, স্ক্রিনে মজেছে বিড়াল-কুকুর

আধুনিক বাংলা আবৃত্তির দীপ্ত নক্ষত্র রয়া চৌধুরী

১০:০০:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ মে ২০২৫

“যদি আর বাঁশি না বাজে” – কণ্ঠে কবির আত্মার অনুরণন

বাংলা আবৃত্তির অঙ্গনে আলোড়ন তুলেছেন খ্যাতনামা আবৃত্তিশিল্পী রয়া চৌধুরী। সম্প্রতি তিনি নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে কাজী নজরুল ইসলামের ঐতিহাসিক বক্তৃতা “যদি আর বাঁশি না বাজে” আবৃত্তি করে প্রকাশ করেন। কবির জীবনের শেষ বক্তৃতা হিসেবে পরিচিত এই ভাষণের আবেগময় পরিবেশনা এতটাই মুগ্ধতা ছড়িয়েছে যে ইতিমধ্যেই পাঁচ লক্ষের বেশি মানুষ তা দেখেছেন ও শেয়ার করেছেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেগের ঢেউ

রয়ার এই আবৃত্তিকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় দারুণ সাড়া পড়েছে। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, “এ যেন কালের কণ্ঠে কবির ফিরে আসা” কিংবা “রয়ার কণ্ঠে বিদ্রোহীর আত্মা কথা বলছে”। রয়া নিজেও আবেগ আপ্লুত হয়ে লিখেছেন, “এমন সহজ ভাষায়, এমন আবেগ দিয়ে কেউ ভাষণ দিতে পারেন, তা জানা ছিল না।”

এই বক্তৃতাটি নজরুল দিয়েছিলেন ১৯৪১ সালের ৬ এপ্রিল, বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতির রজতজয়ন্তী উপলক্ষে মুসলিম ইনস্টিটিউটে। দুরারোগ্য ব্যাধিতে বাকরুদ্ধ হয়ে যাওয়ার আগে এটি ছিল তাঁর শেষ ভাষণ। প্রেম, বিদ্রোহ, বেদনা, আত্মসমর্পণ—সবকিছুর সম্মিলিত বহিঃপ্রকাশ এই ছয় মিনিটের বক্তৃতায়। রয়ার অনবদ্য কণ্ঠস্বর এবং আবৃত্তির গভীরতা একে আজকের প্রজন্মের কাছেও করে তুলেছে প্রাসঙ্গিক।

বিদ্রোহের শতবর্ষে বিদ্রোহীর প্রতি শ্রদ্ধা

“আমি প্রেম দিতে এসেছিলাম, প্রেম পেতে এসেছিলাম”—এই একটি বাক্যই আজও আমাদের ভাবনায় নাড়া দেয়। রয়া চৌধুরীর আবৃত্তি সেই প্রেম ও প্রতিবাদেরই চিরন্তন ভাষা। নজরুলের জন্মদিনকে সামনে রেখে এই আবৃত্তি যেন কবির প্রতি এক অভিনব শ্রদ্ধার্ঘ্য।

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও সম্মাননায় সমৃদ্ধ রয়া চৌধুরী

রয়া চৌধুরী শুধু আবৃত্তির কণ্ঠশিল্পী নন, তিনি আবৃত্তিকে আত্মার প্রকাশে রূপ দিয়েছেন। সম্প্রতি তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির ফ্র্যাঙ্কলিন টাউনশিপ থেকে ‘সার্টিফিকেট অব রেকগনিশন’ সম্মাননায় ভূষিত হন। ফ্র্যাঙ্কলিন টাউনশিপের মেয়র ফিলিপ ক্রেমার তাঁর আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক অবদানকে স্বীকৃতি দিয়ে এই সম্মাননা প্রদান করেন।

পুরস্কারের ঝুলিতে একের পর এক সফলতা

রয়া চৌধুরী ইতোমধ্যেই পেয়েছেন—

  • ভারতের ২১তম টেলি সিনে অ্যাওয়ার্ড
  • বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল ফেম অ্যাওয়ার্ড
  • বেস্ট রেসিটেশন আর্টিস্ট অ্যাওয়ার্ড
  • বাংলাদেশ অ্যাচিভারস অ্যাওয়ার্ড
  • চারদিকে সেলফ-রিলায়ান্ট অ্যাওয়ার্ড

এই সব সম্মানই প্রমাণ করে, রয়ার আবৃত্তি শুধু শব্দ নয়—তা সময়, আত্মা এবং জাতিসত্তার সাথে যুক্ত এক শিল্পচর্চা। রয়া চৌধুরী হয়ে উঠেছেন আধুনিক বাংলা আবৃত্তি জগতের অন্যতম উজ্জ্বল এবং সম্মানিত নাম।