০৬:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬
ভারত–পাকিস্তান সংঘর্ষের কুয়াশা: প্রকৃত বিজয়ী কে ভারত রাজনীতিতে মোদির পুনরুত্থান, বিরোধীদের ছাপিয়ে নতুন আত্মবিশ্বাস সাভারে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ অটোরিকশা চালকদের গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের পিছু হটা, কিন্তু ভাঙা আস্থা কি আর জোড়া লাগবে আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচন কীভাবে অংশগ্রহণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে? গাজায় শান্তির দ্বিতীয় ধাপ কেন থমকে আছে, ট্রাম্পের বোর্ড কি আসল সংকট থেকে দৃষ্টি ঘোরাচ্ছে মোদির নতুন বাস্তববাদ, চাপেই বদলের রাজনীতি শি জিনপিং কি দেং শিয়াওপিংয়ের উত্তরাধিকারী, নাকি সংস্কারের বিপরীত স্রোত চীনের বিয়ের বাজারে ভাইরাল পোস্টে উন্মোচিত কঠিন বাস্তবতা ফরিদপুরে অবৈধ অস্ত্র তৈরির কারখানা ভাঙল যৌথ বাহিনী, একজন গ্রেপ্তার

আসিয়ান এখন আর কেবল বৈশ্বিক পুঁজির নীরব গ্রাহক নয়

দীর্ঘদিন বিদেশি মুদ্রা প্রবাহে স্বস্তি পেলেও ২০২৪ সালে ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ফিলিপাইন—যাদের সংক্ষেপে আসিয়ান–৫ বলা হয়—একত্রে ৪ বিলিয়ন ডলার নিট মূলধন বহির্গমন রেকর্ড করেছে। ২০১৭ সাল থেকে পোর্টফোলিও বিনিয়োগ ধারাবাহিকভাবে কমতে শুরু করে; কোভিড–পরবর্তী দুর্বল বৈদেশিক বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ও বৈশ্বিক আর্থিক কড়াকড়ি এই চাপ আরও বাড়ায়।

মূলধন বহির্গমনের উৎস

  • ২০১৬–১৯ সালে আসিয়ান–৫ গড়ে ৩২ বিলিয়ন ডলার বার্ষিক মূলধন-বৈদেশিক লেনদেন উদ্বৃত্ত দেখালেও ২০২৪-এ তা ৪ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতিতে নেমে আসে।
    •২০২০-এর পর থেকে ‘ঝুঁকি-বিমুখ’ মনোভাব ও সুদহার বৃদ্ধির ফলে পোর্টফোলিও বিনিয়োগে টানা নিট বহির্গমন হচ্ছে।
    • থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া সর্বোচ্চ মূলধন হারাচ্ছে; বিপরীতে ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনাম এখনও উল্লেখযোগ্য বৈদেশিক পুঁজি আকর্ষণ করছে।

এফডিআই-এর স্থিতিস্থাপকতা

  • ‘চায়না-প্লাস-ওয়ান’কৌশল ও বেল্ট-অ্যান্ড-রোড প্রকল্পের কারণে প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) তুলনামূলকভাবে দৃঢ় রয়েছে। ২০২৩ সালে চীন এফডিআই উৎসের তালিকায় তৃতীয় স্থানে উঠে এসে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াকে ছাড়িয়ে যায়।
    •বৈশ্বিক বহুজাতিকরা আসিয়ানকে নতুন উৎপাদন সরবরাহশৃঙ্খল, বৈদ্যুতিক গাড়ি শিল্প ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির কেন্দ্র হিসেবে দেখছে।
    • তবু গত দশকে এফডিআই-এর গড় মুনাফার হার ১০.১ শতাংশ থেকে ৭.৭ শতাংশে নেমে এসেছে; ২০২১-এর ১৭৩ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্প অর্থায়ন ২০২৩-এ ৬৫ বিলিয়নে সংকুচিত হয়েছে।

ভূমিকা বদলে যাচ্ছে আসিয়ানের

  • ৬০০ মিলিয়ন ভোক্তার বাজার,কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং পর্যটন-লজিস্টিকস সুবিধা আসিয়ানকে বৈশ্বিক বাণিজ্যের সেতুতে পরিণত করেছে।
    • মুক্ত বাণিজ্য উদ্যোগের ফলে আঞ্চলিক দেশগুলো নিজেদের মধ্যেও বেশি এফডিআই বিনিয়োগ করছে।
    • সিঙ্গাপুর শুরু থেকেই উচ্চমূল্য সংযোজিত খাতে এফডিআই আকর্ষণ করলেও ২০১৮-এর পর থেকে পোর্টফোলিও মূলধনের দ্রুত বহির্গমনের মুখে পড়েছে।

বিনিময়হার ও তারল্য-সংকট

গত বছর থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় মুদ্রাবাজার অস্থিরতা তীব্র হয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি কমাতে আসিয়ানে অবস্থান সংক্ষিপ্ত করছেন, ফলে ছোট-মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য অর্থায়ন আরও কঠিন হয়ে উঠছে।

পথ বের করতে হলে

  • পুঁজিবাজার গভীর করতে আইনি ও নিয়ন্ত্রক সংস্কার জরুরি—বিনিয়োগকারী সুরক্ষা,স্বচ্ছতা, দ্রুত তালিকাভুক্তি প্রক্রিয়া এবং দক্ষ সিএফওদের নিয়োগে জোর দিতে হবে।
    • আসিয়ান এক্সচেঞ্জেস ও ট্রেডিং লিংকের মতো উদ্যোগ ভাঙা-বিক্রি বাজারকে এক করে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ জাগাতে পারে, তবে আইনি বৈষম্য ও শাসনব্যবস্থা-সংক্রান্ত প্রতিকূলতা অতিক্রম করা বড় চ্যালেঞ্জ।

দ্বৈত ধারার অগ্নিপরীক্ষা

দীর্ঘমেয়াদি এফডিআই প্রবাহ বজায় রাখার পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদি মূলধন পলায়ন ঠেকাতে না পারলে বাজার-পরিবেশ নড়বড়ে থাকবে। একদিকে বৈশ্বিক সরবরাহশৃঙ্খলে আসিয়ানের গুরুত্ব বাড়ছে, অন্যদিকে আঞ্চলিক পুঁজিবাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনাও সমান জরুরি—এ দুটি একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।

শক্তিশালী করপোরেট শাসন, উন্নত পুঁজিবাজার অবকাঠামো ও সমন্বিত নীতি-ব্যবস্থা ছাড়া এই লক্ষ্য পূরণ হবে না। আসিয়ান আর নীরব দর্শক নয়; সক্রিয় অংশীজন হিসেবে বৈশ্বিক পুঁজিবাজারে তার আসন পাকাপোক্ত করতে হলে বাস্তব সংস্কার অবধারিত।

আসিয়ান-৫ এবং সিঙ্গাপুরের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিশোধ ভারসাম্য বিবরণী, আইএমএফ প্রতিবেদন এবং ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল সেটেলমেন্টস-এর বৈদেশিক মুদ্রা উপাত্ত থেকে সংগৃহীত।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারত–পাকিস্তান সংঘর্ষের কুয়াশা: প্রকৃত বিজয়ী কে

আসিয়ান এখন আর কেবল বৈশ্বিক পুঁজির নীরব গ্রাহক নয়

০২:৩০:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ জুন ২০২৫

দীর্ঘদিন বিদেশি মুদ্রা প্রবাহে স্বস্তি পেলেও ২০২৪ সালে ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ফিলিপাইন—যাদের সংক্ষেপে আসিয়ান–৫ বলা হয়—একত্রে ৪ বিলিয়ন ডলার নিট মূলধন বহির্গমন রেকর্ড করেছে। ২০১৭ সাল থেকে পোর্টফোলিও বিনিয়োগ ধারাবাহিকভাবে কমতে শুরু করে; কোভিড–পরবর্তী দুর্বল বৈদেশিক বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ও বৈশ্বিক আর্থিক কড়াকড়ি এই চাপ আরও বাড়ায়।

মূলধন বহির্গমনের উৎস

  • ২০১৬–১৯ সালে আসিয়ান–৫ গড়ে ৩২ বিলিয়ন ডলার বার্ষিক মূলধন-বৈদেশিক লেনদেন উদ্বৃত্ত দেখালেও ২০২৪-এ তা ৪ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতিতে নেমে আসে।
    •২০২০-এর পর থেকে ‘ঝুঁকি-বিমুখ’ মনোভাব ও সুদহার বৃদ্ধির ফলে পোর্টফোলিও বিনিয়োগে টানা নিট বহির্গমন হচ্ছে।
    • থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া সর্বোচ্চ মূলধন হারাচ্ছে; বিপরীতে ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনাম এখনও উল্লেখযোগ্য বৈদেশিক পুঁজি আকর্ষণ করছে।

এফডিআই-এর স্থিতিস্থাপকতা

  • ‘চায়না-প্লাস-ওয়ান’কৌশল ও বেল্ট-অ্যান্ড-রোড প্রকল্পের কারণে প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) তুলনামূলকভাবে দৃঢ় রয়েছে। ২০২৩ সালে চীন এফডিআই উৎসের তালিকায় তৃতীয় স্থানে উঠে এসে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াকে ছাড়িয়ে যায়।
    •বৈশ্বিক বহুজাতিকরা আসিয়ানকে নতুন উৎপাদন সরবরাহশৃঙ্খল, বৈদ্যুতিক গাড়ি শিল্প ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির কেন্দ্র হিসেবে দেখছে।
    • তবু গত দশকে এফডিআই-এর গড় মুনাফার হার ১০.১ শতাংশ থেকে ৭.৭ শতাংশে নেমে এসেছে; ২০২১-এর ১৭৩ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্প অর্থায়ন ২০২৩-এ ৬৫ বিলিয়নে সংকুচিত হয়েছে।

ভূমিকা বদলে যাচ্ছে আসিয়ানের

  • ৬০০ মিলিয়ন ভোক্তার বাজার,কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং পর্যটন-লজিস্টিকস সুবিধা আসিয়ানকে বৈশ্বিক বাণিজ্যের সেতুতে পরিণত করেছে।
    • মুক্ত বাণিজ্য উদ্যোগের ফলে আঞ্চলিক দেশগুলো নিজেদের মধ্যেও বেশি এফডিআই বিনিয়োগ করছে।
    • সিঙ্গাপুর শুরু থেকেই উচ্চমূল্য সংযোজিত খাতে এফডিআই আকর্ষণ করলেও ২০১৮-এর পর থেকে পোর্টফোলিও মূলধনের দ্রুত বহির্গমনের মুখে পড়েছে।

বিনিময়হার ও তারল্য-সংকট

গত বছর থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় মুদ্রাবাজার অস্থিরতা তীব্র হয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি কমাতে আসিয়ানে অবস্থান সংক্ষিপ্ত করছেন, ফলে ছোট-মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য অর্থায়ন আরও কঠিন হয়ে উঠছে।

পথ বের করতে হলে

  • পুঁজিবাজার গভীর করতে আইনি ও নিয়ন্ত্রক সংস্কার জরুরি—বিনিয়োগকারী সুরক্ষা,স্বচ্ছতা, দ্রুত তালিকাভুক্তি প্রক্রিয়া এবং দক্ষ সিএফওদের নিয়োগে জোর দিতে হবে।
    • আসিয়ান এক্সচেঞ্জেস ও ট্রেডিং লিংকের মতো উদ্যোগ ভাঙা-বিক্রি বাজারকে এক করে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ জাগাতে পারে, তবে আইনি বৈষম্য ও শাসনব্যবস্থা-সংক্রান্ত প্রতিকূলতা অতিক্রম করা বড় চ্যালেঞ্জ।

দ্বৈত ধারার অগ্নিপরীক্ষা

দীর্ঘমেয়াদি এফডিআই প্রবাহ বজায় রাখার পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদি মূলধন পলায়ন ঠেকাতে না পারলে বাজার-পরিবেশ নড়বড়ে থাকবে। একদিকে বৈশ্বিক সরবরাহশৃঙ্খলে আসিয়ানের গুরুত্ব বাড়ছে, অন্যদিকে আঞ্চলিক পুঁজিবাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনাও সমান জরুরি—এ দুটি একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।

শক্তিশালী করপোরেট শাসন, উন্নত পুঁজিবাজার অবকাঠামো ও সমন্বিত নীতি-ব্যবস্থা ছাড়া এই লক্ষ্য পূরণ হবে না। আসিয়ান আর নীরব দর্শক নয়; সক্রিয় অংশীজন হিসেবে বৈশ্বিক পুঁজিবাজারে তার আসন পাকাপোক্ত করতে হলে বাস্তব সংস্কার অবধারিত।

আসিয়ান-৫ এবং সিঙ্গাপুরের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিশোধ ভারসাম্য বিবরণী, আইএমএফ প্রতিবেদন এবং ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল সেটেলমেন্টস-এর বৈদেশিক মুদ্রা উপাত্ত থেকে সংগৃহীত।