০৭:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
মেসির বাবার ‘মৃত্যুসংবাদ’ ছড়িয়ে চাকরি হারালেন উপস্থাপক নতুন যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি ইসরায়েলের, তবু লেবাননে থাকবে সেনা যুক্তরাষ্ট্রের দাপুটে জয়, অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপের নকআউটের পথে পোচেত্তিনোর দল ইকুয়েডরের আন্দিজে ভাষার মেলবন্ধন: কিচওয়া ও স্প্যানিশে গড়ে উঠেছে অনন্য কথনভঙ্গি সিউলের হান নদীর তীরে খুলছে ছয় সুইমিং পুল, গরমে স্বস্তি পেতে ভিড়ের অপেক্ষা ওজন কমানোর ওষুধ নিয়ে নতুন তথ্য: উপকারের পাশাপাশি বাড়ছে সতর্কতার বার্তা নতুন জলবায়ু পূর্বাভাসে বড় পরিবর্তন, বাতিল হলো সবচেয়ে বিতর্কিত উষ্ণায়ন দৃশ্যপট ভারতীয় রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার ও দূতাবাস বন্ধের দাবিতে প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ মার্কিন-ইরান শান্তি চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা, আবারও বাড়ল তেলের দাম তিন বছর পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে উদ্ধার সিলেটের অপহৃত স্কুলছাত্রী, গ্রেপ্তার গৃহশিক্ষক

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি- ৩০)

স্বাধীনতার পরও বেশ কিছুদিন ক্বাসিদার চল ছিল। এখন তা বিলুপ্ত। কারণ, পুরনো মহল্লাগুলি নেই।

বাইরের মহল্লার সঙ্গে আমাদের মহল্লার কাসিদার প্রতিযোগিতা হতো। বাইরে যারা আসত ওরা খবর দিয়ে আসত আজ আমরা আসব, তোমাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার জন্য।

আমাদের মহল্লায় দুটো দল হতো-একটা বড়দের, আরেকটা ছোটদের। বড়দের দলের নেতা ছিলেন আমার দাদাভাই নাজির হোসেন, আর ছোটদের। দলের নেতা ছিলাম আমি। আমরা বাড়ি বাড়ি যেতাম, কাসিদা গেয়ে একটাকা বা আটআনা বা চারআনা চাঁদা তুলতাম।

পরে সে-টাকা দিয়ে আবার সাতাশ রমজানের রাতে পোলাও রান্না করে নিজেরা খেতাম, মহল্লায়। বিলাতাম। মহল্লায় পুরো মাস ঘুরে ঘুরে চলত। আমাদের এই চাঁদা সংগ্রহের অভিযান।

আমাদের মতো আরেক ধরনের লোক ছিল যারা মহল্লার মধ্যে ঘুরে ঘুরে ‘উঠো রোজদারো, সেহরিকা ওয়াক্ত হো গিয়া’, ‘উঠো রোজদারো, চার বাজ গায়া’, কিংবা ‘উঠো রোজদারো, সেহেরিকা ওয়াক্ত খাতাম হো নে চালা’, বলে চেঁচিয়ে ঘুম থেকে তুলত লোকদের। ওদের হাতে থাকত টিনের একটা চোঙ। গ্রামগঞ্জে অনেক লোককে এরকম চোঙ হাতে নিয়ে ওষুধ বিক্রি করতে দেখা যায় এখনো।”

স্বাধীনতার পরও বেশ কিছুদিন ক্বাসিদার চল ছিল। এখন তা বিলুপ্ত। কারণ, পুরনো মহল্লাগুলি নেই। কৃৎকৌশল উন্নতির কারণে বাইরে থেকে ডেকে কাউকে আর জাগিয়ে দিতে হয় না।

(চলবে)

 

জনপ্রিয় সংবাদ

মেসির বাবার ‘মৃত্যুসংবাদ’ ছড়িয়ে চাকরি হারালেন উপস্থাপক

পুরান ঢাকার অতীত দিনের কথা ( কিস্তি- ৩০)

০৭:০০:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ জুলাই ২০২৫

স্বাধীনতার পরও বেশ কিছুদিন ক্বাসিদার চল ছিল। এখন তা বিলুপ্ত। কারণ, পুরনো মহল্লাগুলি নেই।

বাইরের মহল্লার সঙ্গে আমাদের মহল্লার কাসিদার প্রতিযোগিতা হতো। বাইরে যারা আসত ওরা খবর দিয়ে আসত আজ আমরা আসব, তোমাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার জন্য।

আমাদের মহল্লায় দুটো দল হতো-একটা বড়দের, আরেকটা ছোটদের। বড়দের দলের নেতা ছিলেন আমার দাদাভাই নাজির হোসেন, আর ছোটদের। দলের নেতা ছিলাম আমি। আমরা বাড়ি বাড়ি যেতাম, কাসিদা গেয়ে একটাকা বা আটআনা বা চারআনা চাঁদা তুলতাম।

পরে সে-টাকা দিয়ে আবার সাতাশ রমজানের রাতে পোলাও রান্না করে নিজেরা খেতাম, মহল্লায়। বিলাতাম। মহল্লায় পুরো মাস ঘুরে ঘুরে চলত। আমাদের এই চাঁদা সংগ্রহের অভিযান।

আমাদের মতো আরেক ধরনের লোক ছিল যারা মহল্লার মধ্যে ঘুরে ঘুরে ‘উঠো রোজদারো, সেহরিকা ওয়াক্ত হো গিয়া’, ‘উঠো রোজদারো, চার বাজ গায়া’, কিংবা ‘উঠো রোজদারো, সেহেরিকা ওয়াক্ত খাতাম হো নে চালা’, বলে চেঁচিয়ে ঘুম থেকে তুলত লোকদের। ওদের হাতে থাকত টিনের একটা চোঙ। গ্রামগঞ্জে অনেক লোককে এরকম চোঙ হাতে নিয়ে ওষুধ বিক্রি করতে দেখা যায় এখনো।”

স্বাধীনতার পরও বেশ কিছুদিন ক্বাসিদার চল ছিল। এখন তা বিলুপ্ত। কারণ, পুরনো মহল্লাগুলি নেই। কৃৎকৌশল উন্নতির কারণে বাইরে থেকে ডেকে কাউকে আর জাগিয়ে দিতে হয় না।

(চলবে)