১০:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা: শান্তির চুক্তি, নাকি দীর্ঘ ভুল বোঝাবুঝির সূচনা? উচ্ছ্বসিত যুক্তরাষ্ট্র, নকআউট নিশ্চিত করে বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালের স্বপ্ন সুপার সাব উন্ডাভের জোড়া গোলে জার্মানির নাটকীয় জয়, শেষ ষোলো নিশ্চিত ইমিগ্রেশনের বিশ্বকাপ: ৪৮ দলের মঞ্চে বদলে যাচ্ছে জাতীয় পরিচয়ের গল্প বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়, পাকিস্তানকে হারিয়ে সেমিফাইনালের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখল টাইগ্রেসরা যুক্তরাজ্যে হাসনাত আবদুল্লাহসহ এনসিপির চার নেতার বিরুদ্ধে মামলা নেদারল্যান্ডসের দাপুটে জয়, সুইডেনকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে গ্রুপের শীর্ষে এআই যুগে ‘ভিন্নভাবে চিন্তা করা’ মস্তিষ্কের উত্থান ২০২৬ বিশ্বকাপ ঘিরে এশিয়াজুড়ে ফুটবল উন্মাদনা, আলোচনায় মেসি-জাপান-দক্ষিণ কোরিয়া জন্মের সময় সন্তানের পাশে থাকতে চান ডোকু, বিশ্বকাপ ছাড়ার ইচ্ছা ঘিরে বিতর্ক

বিজ্ঞানের ইতিহাসে বৈপ্লবিক পরিবর্তন

১৬শ শতকে জ্যোতির্বিদ নিকোলাস কপারনিকাসের আবিষ্কারের আগে পৃথিবীকে মনে করা হতো মহাবিশ্বের স্থির কেন্দ্র। তাঁর গবেষণার পর প্রমাণিত হয়, পৃথিবী আসলে মহাশূন্যে ঘূর্ণায়মান একাধিক গ্রহের মধ্যে একটি। একইভাবে ১৮শ শতকে রসায়নবিদ অঁতোয়ান ল্যাভয়সিয়ে-র আগে “অক্সিজেন” বা “কার্বন”-এর মতো মৌলিক উপাদানের ধারণা ছিল না; তাঁর কাজের পর এসব ধারণা ছাড়া রসায়ন বোঝা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

এই উদাহরণগুলো ১৯৬০-এর দশকে দার্শনিক থমাস কুনের প্রস্তাবিত “প্যারাডাইম শিফট” বা বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির মৌলিক পরিবর্তনের ধারণাকে শক্ত ভিত্তি দেয়। কুনের মতে, নতুন তত্ত্ব শুধু পুরনো তত্ত্বকে প্রতিস্থাপন করে না—এটি বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের গঠন সম্পর্কে মৌলিক ধারণাকেই বদলে দেয়। তাঁর ব্যাখ্যায় বিজ্ঞানকে দেখা যায় দুটি পর্যায়ে—“স্বাভাবিক” বিজ্ঞান, যেখানে বিদ্যমান জ্ঞান ও পদ্ধতি দিয়ে পরিচিত ক্ষেত্রের সমস্যা সমাধান করা হয়; আর “বিপ্লবী” পর্যায়, যেখানে সম্পূর্ণ ধ্যানধারণা বদলে যায়।

স্বাভাবিক বিজ্ঞান ও হাবল টেলিস্কোপ

স্বাভাবিক বিজ্ঞান একঘেয়ে বা তুচ্ছ নয়। ১৯৮০-এর দশকে মার্কিন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা যখন ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল বৈজ্ঞানিক যন্ত্র—হাবল স্পেস টেলিস্কোপ—প্রস্তাব করেন, তখন এর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল একটি স্বাভাবিক বৈজ্ঞানিক প্রশ্নের সমাধান: মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের গতি নির্ধারণ করা, যা “হাবল ধ্রুবক” নামে পরিচিত।

হাবল টেলিস্কোপ এই কাজে সফল হয়। কিন্তু পরবর্তীতে বিজ্ঞানীরা মহাবিশ্বের পটভূমি বিকিরণ বিশ্লেষণ করে হাবল ধ্রুবক নির্ধারণের আরেকটি পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন। এই নতুন পদ্ধতিতে পাওয়া মান আগের তুলনায় অনেক কম। দুই পদ্ধতির এই অমিলকে বলা হচ্ছে “হাবল টেনশন”। কুনের ধারণা অনুযায়ী, এটি এমন এক ব্যতিক্রম যা হয়তো নতুন কোনো প্যারাডাইম শিফটের পূর্বাভাস হতে পারে।

প্যারাডাইম শিফটের আকর্ষণ ও বাস্তবতা

“প্যারাডাইম শিফট” ধারণাটি প্রায়ই অতিরিক্তভাবে ব্যবহৃত হয়—যেমন প্রসাধনী বা জীবনধারার ক্ষেত্রে—তবুও এটি এখনও আকর্ষণীয়। বিশেষ করে মহাবিশ্বের মতো বিশাল কিন্তু দৈনন্দিন জীবনে প্রভাবহীন ক্ষেত্রে এ ধরনের পরিবর্তন এক ধরনের রোমাঞ্চ যোগ করে।

তবে কুনের মতে, এ ধরনের পরিবর্তন ঘটেছে কিনা তা নিশ্চিতভাবে বোঝা যায় কেবল পরবর্তীতে। কোনো ব্যতিক্রম নতুন প্যারাডাইম সৃষ্টি করবে কিনা, তা চলমান অবস্থায় “স্বাভাবিক” বৈজ্ঞানিক সমস্যার সাথে আলাদা করে চেনা যায় না।

বিজ্ঞানের অভিযোজন ক্ষমতা

আজকের বিজ্ঞান অতীতের তুলনায় অনেক বেশি প্রাতিষ্ঠানিক ও নিয়মতান্ত্রিক। ফলে নতুন ধারণা—যত বড়ই হোক—অনেক সময় বিদ্যমান কাঠামোর মধ্যেই স্থান পেয়ে যায়, প্যারাডাইম সম্পূর্ণ বদলানোর প্রয়োজন হয় না। অনেকের মতে, বিজ্ঞানের এই অভিযোজন ক্ষমতা কুনের সময়ের তুলনায় আরও বেড়েছে।

এটি খারাপ কিছু নয়। প্রযুক্তিগত উন্নতির জন্য সবসময় প্যারাডাইম শিফট প্রয়োজন হয় না। তবুও অনেক বিজ্ঞানী ও পর্যবেক্ষক চান, “হাবল টেনশন” প্রমাণ করুক যে বড় পরিবর্তন এখনও সম্ভব—এবং বিজ্ঞান এখনও রোমাঞ্চকরভাবে পুরনো ধারণা ভেঙে নতুন পথে হাঁটতে সক্ষম।

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা: শান্তির চুক্তি, নাকি দীর্ঘ ভুল বোঝাবুঝির সূচনা?

বিজ্ঞানের ইতিহাসে বৈপ্লবিক পরিবর্তন

০৫:৪৬:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ অগাস্ট ২০২৫

১৬শ শতকে জ্যোতির্বিদ নিকোলাস কপারনিকাসের আবিষ্কারের আগে পৃথিবীকে মনে করা হতো মহাবিশ্বের স্থির কেন্দ্র। তাঁর গবেষণার পর প্রমাণিত হয়, পৃথিবী আসলে মহাশূন্যে ঘূর্ণায়মান একাধিক গ্রহের মধ্যে একটি। একইভাবে ১৮শ শতকে রসায়নবিদ অঁতোয়ান ল্যাভয়সিয়ে-র আগে “অক্সিজেন” বা “কার্বন”-এর মতো মৌলিক উপাদানের ধারণা ছিল না; তাঁর কাজের পর এসব ধারণা ছাড়া রসায়ন বোঝা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

এই উদাহরণগুলো ১৯৬০-এর দশকে দার্শনিক থমাস কুনের প্রস্তাবিত “প্যারাডাইম শিফট” বা বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির মৌলিক পরিবর্তনের ধারণাকে শক্ত ভিত্তি দেয়। কুনের মতে, নতুন তত্ত্ব শুধু পুরনো তত্ত্বকে প্রতিস্থাপন করে না—এটি বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের গঠন সম্পর্কে মৌলিক ধারণাকেই বদলে দেয়। তাঁর ব্যাখ্যায় বিজ্ঞানকে দেখা যায় দুটি পর্যায়ে—“স্বাভাবিক” বিজ্ঞান, যেখানে বিদ্যমান জ্ঞান ও পদ্ধতি দিয়ে পরিচিত ক্ষেত্রের সমস্যা সমাধান করা হয়; আর “বিপ্লবী” পর্যায়, যেখানে সম্পূর্ণ ধ্যানধারণা বদলে যায়।

স্বাভাবিক বিজ্ঞান ও হাবল টেলিস্কোপ

স্বাভাবিক বিজ্ঞান একঘেয়ে বা তুচ্ছ নয়। ১৯৮০-এর দশকে মার্কিন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা যখন ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল বৈজ্ঞানিক যন্ত্র—হাবল স্পেস টেলিস্কোপ—প্রস্তাব করেন, তখন এর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল একটি স্বাভাবিক বৈজ্ঞানিক প্রশ্নের সমাধান: মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের গতি নির্ধারণ করা, যা “হাবল ধ্রুবক” নামে পরিচিত।

হাবল টেলিস্কোপ এই কাজে সফল হয়। কিন্তু পরবর্তীতে বিজ্ঞানীরা মহাবিশ্বের পটভূমি বিকিরণ বিশ্লেষণ করে হাবল ধ্রুবক নির্ধারণের আরেকটি পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন। এই নতুন পদ্ধতিতে পাওয়া মান আগের তুলনায় অনেক কম। দুই পদ্ধতির এই অমিলকে বলা হচ্ছে “হাবল টেনশন”। কুনের ধারণা অনুযায়ী, এটি এমন এক ব্যতিক্রম যা হয়তো নতুন কোনো প্যারাডাইম শিফটের পূর্বাভাস হতে পারে।

প্যারাডাইম শিফটের আকর্ষণ ও বাস্তবতা

“প্যারাডাইম শিফট” ধারণাটি প্রায়ই অতিরিক্তভাবে ব্যবহৃত হয়—যেমন প্রসাধনী বা জীবনধারার ক্ষেত্রে—তবুও এটি এখনও আকর্ষণীয়। বিশেষ করে মহাবিশ্বের মতো বিশাল কিন্তু দৈনন্দিন জীবনে প্রভাবহীন ক্ষেত্রে এ ধরনের পরিবর্তন এক ধরনের রোমাঞ্চ যোগ করে।

তবে কুনের মতে, এ ধরনের পরিবর্তন ঘটেছে কিনা তা নিশ্চিতভাবে বোঝা যায় কেবল পরবর্তীতে। কোনো ব্যতিক্রম নতুন প্যারাডাইম সৃষ্টি করবে কিনা, তা চলমান অবস্থায় “স্বাভাবিক” বৈজ্ঞানিক সমস্যার সাথে আলাদা করে চেনা যায় না।

বিজ্ঞানের অভিযোজন ক্ষমতা

আজকের বিজ্ঞান অতীতের তুলনায় অনেক বেশি প্রাতিষ্ঠানিক ও নিয়মতান্ত্রিক। ফলে নতুন ধারণা—যত বড়ই হোক—অনেক সময় বিদ্যমান কাঠামোর মধ্যেই স্থান পেয়ে যায়, প্যারাডাইম সম্পূর্ণ বদলানোর প্রয়োজন হয় না। অনেকের মতে, বিজ্ঞানের এই অভিযোজন ক্ষমতা কুনের সময়ের তুলনায় আরও বেড়েছে।

এটি খারাপ কিছু নয়। প্রযুক্তিগত উন্নতির জন্য সবসময় প্যারাডাইম শিফট প্রয়োজন হয় না। তবুও অনেক বিজ্ঞানী ও পর্যবেক্ষক চান, “হাবল টেনশন” প্রমাণ করুক যে বড় পরিবর্তন এখনও সম্ভব—এবং বিজ্ঞান এখনও রোমাঞ্চকরভাবে পুরনো ধারণা ভেঙে নতুন পথে হাঁটতে সক্ষম।